Tag: আন্তর্জাতিক রাজনীতি

  • গাজা সংকট মেটাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ‘বোর্ড অব পিস’-এ পুতিনকে আমন্ত্রণ ঘিরে জল্পনা

    গাজা সংকট মেটাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ‘বোর্ড অব পিস’-এ পুতিনকে আমন্ত্রণ ঘিরে জল্পনা

    এবিএনএ: গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘বোর্ড অব পিস’-এ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই পুতিনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে পুতিনকে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    জানা গেছে, বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। এতে সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে এই বোর্ড গাজার চলমান সংকট সমাধানে কাজ করবে। পরবর্তী ধাপে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বোর্ড অব পিসে সদস্য দেশগুলোর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। তবে কোনো দেশ যদি এক বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়, তাহলে তারা স্থায়ী সদস্যপদ পাবে—এমন প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের প্রচলিত শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ, ফলে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, ‘বিশ্বশান্তি এখন চরম ঝুঁকিতে’ বলে সতর্কবার্তা

    গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, ‘বিশ্বশান্তি এখন চরম ঝুঁকিতে’ বলে সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে কড়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের সম্মুখীন হতে পারে। যদি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সম্পূর্ণ বিক্রির বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা সম্মতি না দেয়, তাহলে আগামী জুন মাস থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    এই হুমকির ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেন, চীন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তার দাবি, কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ কার্যকর রাখতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক ট্রাম্পের এই অবস্থানকে নজিরবিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ ধরনের হুমকি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একান্তভাবেই গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণের।

    গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানী নুকে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’—এমন স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। রোববার এই বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    এবিএনএ: ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম ‘অপরাধী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

    শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবেই জড়িত। তার অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়ে দেশজুড়ে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

    খামেনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। তিনি বলেন, এই সহিংসতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়, বরং বহিরাগত শক্তির পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোর দিকে আঙুল তুলছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে।

    খামেনি তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে সীমান্তের বাইরে সামরিক সংঘাতে রূপ দিতে চায় না। তবে দেশি বা বিদেশি যেকোনো অপরাধীকে শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

    এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ড সফর করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।

    ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।

    গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সামরিক ‘রেকি মিশন’ শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে ও বিপক্ষে আলাদা বিল উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না—কারণ তিনি যা বলেন, সেটাকেই বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় লেসকুরে স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসী বা দখলমূলক উদ্যোগ নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

    লেসকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

    বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের কিছু বেশি। জনসংখ্যার সিংহভাগই ইনুইট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং এর বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।

    ভৌগোলিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দ্বীপটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে—যা ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

    এই বক্তব্যের পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

  • যুদ্ধ নয় সংযমের বার্তা: ইরানে হামলা না করার আশ্বাস, পাল্টা আঘাত থেকেও বিরত থাকতে বললেন ট্রাম্প

    যুদ্ধ নয় সংযমের বার্তা: ইরানে হামলা না করার আশ্বাস, পাল্টা আঘাত থেকেও বিরত থাকতে বললেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই—এমন বার্তা তেহরানকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় যেন কোনো পাল্টা হামলা না হয়, সে বিষয়ে সংযম দেখাতে ইরানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

    পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে তিনি ট্রাম্পের এই বার্তা পান।

    ইরানি রাষ্ট্রদূত জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা থেকে স্পষ্ট—ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না। বরং বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আরও কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মোঘাদাম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে এবং ধর্মীয় স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলেও জানান তিনি।

    সম্প্রতি ইরান নিয়ে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিলেও গত রাতে অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা দেখান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত থাকলেও ইরানের নেতৃত্ব তা পুরোপুরি বিশ্বাস করবে না। আলজাজিরাকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাসে আস্থা রাখা ইরানের জন্য সহজ নয়।

  • হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে শুধু নিজ ভূখণ্ড নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তেহরান এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান, সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলের ভৌগোলিক এলাকা ইরানের দৃষ্টিতে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ও কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। এক নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।

    নাসিরজাদেহ আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলায় সহযোগিতা করা কোনো দেশকেও ছাড় দেওয়া হবে না; তারাও ইরানের প্রতিরোধের আওতায় আসবে।

    তিনি দাবি করেন, গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষে সৃষ্ট ক্ষতি ইতোমধ্যে পুষিয়ে নিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

  • ইরানে বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি: চীনের নজরদারি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা

    ইরানে বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি: চীনের নজরদারি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থির পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো চীনা নাগরিকের হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ইরানের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও সেখানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ইরানে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তারা যেন দ্রুত চীনা দূতাবাস বা কনসুলার হটলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইরানের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

  • ট্রাম্পের হুমকিতে অনড় হাভানা: ‘কিউবা কারও নির্দেশে চলে না’—দিয়াজ-কানেলের কড়া জবাব

    ট্রাম্পের হুমকিতে অনড় হাভানা: ‘কিউবা কারও নির্দেশে চলে না’—দিয়াজ-কানেলের কড়া জবাব

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিয়েছে কিউবা। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—কোনো বিদেশি শক্তির চাপ বা নির্দেশ তারা গ্রহণ করবে না।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার সহায়তায় টিকে ছিল, যা এখন আর অব্যাহত থাকবে না।

    এই বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবা মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ। আমাদের কী করা উচিত, তা বাইরের কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায় কিউবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর থেকেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ তেল কিউবায় যেত, তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দেশটিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

    মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবান নাগরিকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। কিউবার দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে তাদের অন্তত ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    এদিকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকেও কিউবা নিয়ে কঠোর বক্তব্য আসছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো চুক্তির শর্ত বা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–কিউবা সম্পর্ককে আরও সংঘাতমুখী করে তুলছে।

  • চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেরি হলে কিউবাকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে এসেছে, যা এখন আর চলবে না।

    ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কিউবার দিকে আর কোনো তেল কিংবা অর্থ প্রবাহিত হবে না—সবকিছু শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। তিনি কিউবান নেতৃত্বকে ‘খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের চুক্তি বা কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

    এদিকে কিউবা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের সময় তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তাদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্মান জানানোর ঘোষণা দেন।

    ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানে ওই কিউবানদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার আর আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এখন দেশটির পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ এই হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিউবান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।