Tag: আন্তর্জাতিক রাজনীতি

  • মায়ের শেষ খবরটুকুও হয়তো জানব না— সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কায় ছেলে কিম আরিস

    মায়ের শেষ খবরটুকুও হয়তো জানব না— সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কায় ছেলে কিম আরিস

    এবিএনএ: মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর ছেলে কিম আরিস। দীর্ঘ সময় ধরে মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায়, এমনকি তিনি কবে মারা গেছেন সেটিও জানার সুযোগ নাও পেতে পারেন বলে উদ্বেগ জানান তিনি।

    সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেন, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তাঁর ৮০ বছর বয়সী মায়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কেবল পরোক্ষ ও খণ্ডিত তথ্যই পেয়েছেন। হৃদ্‌যন্ত্র, দাঁত ও হাড়জনিত সমস্যার কথা শোনা গেলেও নিশ্চিত কোনো খবর নেই। আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা কিংবা যোগাযোগের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

    জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেন, “দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কেউ তাকে দেখেনি। এমনও হতে পারে, তিনি আর বেঁচে নেই—আর আমি তা জানিও না।”

    মিয়ানমারের জান্তা সরকারের উদ্যোগে আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে কিম আরিস সন্দেহ প্রকাশ করলেও বলেন, এই প্রক্রিয়া যদি তাঁর মায়ের অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন আনে, সেটিই হবে একমাত্র ইতিবাচক দিক। তাঁর মতে, জান্তা নেতা মিন অং হ্লেইং রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সু চিকে মুক্তি বা গৃহবন্দিত্বে ব্যবহার করতে চাইতে পারেন।

    তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও জান্তা সরকারের কোনো মুখপাত্র সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অতীতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার নজির থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

    উল্লেখ্য, ২০১০ সালের নির্বাচনের পর মুক্তি পেয়ে দীর্ঘ গৃহবন্দিত্বের অবসান ঘটে অং সান সু চির। ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি দেশের কার্যত নেতৃত্বে আসেন। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

    কিম আরিস জানান, তাঁর বিশ্বাস সু চিকে রাজধানী নেপিদোতে আটক রাখা হয়েছে। সর্বশেষ চিঠিতে কারাগারের তীব্র গরম ও শীতের কষ্টের কথা উল্লেখ করেছিলেন সু চি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের সংকট গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়ে কিম আরিস বিশ্ব নেতাদের জান্তার ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কঠিন সমঝোতার ইঙ্গিত, রাশিয়াকে অঞ্চল ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

    ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কঠিন সমঝোতার ইঙ্গিত, রাশিয়াকে অঞ্চল ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির লক্ষ্যে রাশিয়ার কাছে কিছু অঞ্চল ছাড়তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জার্মান সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন কিয়েভের ওপর অবস্থান নরম করার কৌশল নিচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে সম্প্রতি দুর্নীতিসংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর জেলেনস্কির অভ্যন্তরীণ অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জার্মানিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। সেখানে যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির সর্বশেষ খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ডোনেটস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ইউক্রেনের কিয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মস্কোর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড়ের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে গণভোট ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২০ দফা পাল্টা প্রস্তাবও দিয়েছেন।

    এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা খুব দূরে নয়। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ চেক প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনকে নতুন কোনো আর্থিক সহায়তায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক আকাশ হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, এক রাতেই চার শতাধিক ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে কয়েকটি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এতে লাখো পরিবার বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে, যা আসন্ন শীতকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

  • ভারত সফরের আগে মোদির নেতৃত্বে মুগ্ধ পুতিন, দিল্লিতে প্রস্তুতি সর্বোচ্চ সতর্কতায়

    ভারত সফরের আগে মোদির নেতৃত্বে মুগ্ধ পুতিন, দিল্লিতে প্রস্তুতি সর্বোচ্চ সতর্কতায়

    এবিএনএ: দু’দিনের সরকারি সফরে এবার ভারতে পা রাখতে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফর শুরুর আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, মোদি কখনোই চাপের কাছে মাথানত করেন না; বরং নিজের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

    মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুতিন স্পষ্টভাবে জানান, “মোদি এমন নেতা নন, যিনি চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এবারের সফর নিয়ে তিনি বিশেষভাবে আশাবাদী। রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও সহযোগিতা এই সফরে নতুন গতি পাবে বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

    তিনি জানান, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরমাণু শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, বিমান প্রযুক্তি—এসব খাতে দু’দেশই ভবিষ্যতের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে যৌথভাবে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও সম্ভাবনাও এই বৈঠকের আলোচ্যসূচির মধ্যে থাকছে।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, “ভারত এখন দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি। ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তার বড় উদাহরণ। কিছু সমালোচনা থাকলেও সাফল্যই কথার প্রমাণ।”

    গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে মোদিকে নিজের গাড়িতে বসানোর ঘটনাটি স্মরণ করে পুতিন জানান, সেটি তাদের বন্ধুত্বেরই প্রতীক। পরিকল্পিত কিছু নয়, বরং দুই নেতার অনানুষ্ঠানিক আলাপের অংশ হিসেবেই তারা গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন।

    মোদির আমন্ত্রণেই এবার ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লি আসছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বিমান নামার কথা রাজধানীতে। তাকে ঘিরে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে পাঁচ-স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাশিয়ার প্রায় ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী আগেই দিল্লিতে পৌঁছে পুতিনের কনভয়ের সম্ভাব্য রুট পরিদর্শনও সম্পন্ন করেছেন। দিল্লি পুলিশ ও এনএসজির সঙ্গে যৌথভাবে চলছে টহল ও প্রস্তুতি।

    রুশ প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে এখন টানটান নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ব্যস্ততা।

  • বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে পারমাণবিক উত্তেজনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—আসলে কোন দেশের হাতে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র?

    আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীতে মোট নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। এর মধ্যে পারমাণবিক শক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে রাশিয়া।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯টি ওয়ারহেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০। এরপর চীন (৬০০), ফ্রান্স (২৯০), যুক্তরাজ্য (২২৫), ভারত (১৮০), পাকিস্তান (১৭০), ইসরায়েল (৯০) ও উত্তর কোরিয়া (৫০)।

    এসআইপিআরআই জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছর দেশটি গড়ে ১০০টির বেশি নতুন ওয়ারহেড তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হাতে থাকবে অন্তত ১ হাজার পারমাণবিক অস্ত্র।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পুরোনো কিছু ওয়ারহেড সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেললেও, সেগুলো এখনো পুনরায় সচল করা সম্ভব বলে জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’।

    গত সপ্তাহে রাশিয়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এমনকি পানির নিচে চলা এক ড্রোনও পরীক্ষা করেছে দেশটি, যা উপকূলীয় শহরে তেজস্ক্রিয় সুনামি তৈরি করতে পারে। পুতিনের দাবি, এই ড্রোন শনাক্ত বা প্রতিরোধ করা কার্যত অসম্ভব।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আমেরিকার পরীক্ষাগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ নয়, বরং অস্ত্রের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ। তিনি বলেন, “এগুলোকে আমরা বলি ‘নন-ক্রিটিক্যাল এক্সপ্লোশন’, অর্থাৎ যেখানে প্রকৃত পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ঘটানো হয় না।”

    এই মুহূর্তে বিশ্ব যেন আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়ায় দাঁড়িয়ে—যেখানে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

  • ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ:  ৩৩ বছর পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরছে ওয়াশিংটন।

    বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প এই নির্দেশ জারি করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অন্য দেশগুলো যখন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, “রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে।” তবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেননি। এতে স্পষ্ট নয় যে, তিনি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার কথা বলেছেন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লাইট টেস্টের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালে। সেই থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ১,০৩২টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই বছর তারা সর্বশেষ পরীক্ষা চালায় এবং পরে সিটিবিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কখনও তা অনুমোদন করেনি।

    বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, চীনের পারমাণবিক ভান্ডার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে চীনের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০টির কাছাকাছি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশ্বে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দোতে প্রথম ২০ কিলোটন শক্তির বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। একই বছরের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটে।

    এবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই পথেই হাঁটছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    এবিএনএ:  জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “মানুষ তার বাসস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সম্মান দিতে চাই, সেই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকেও সম্মান আশা করি।”

    স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় দেশ। তাদের ভূখণ্ড, জনসংখ্যা ও সম্পদ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সেই বাস্তবতা মেনে চলি এবং তাদের অবস্থান অনুযায়ী সম্মান জানাতে চাই। তবে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের একটি ছোট ভূখণ্ডকেও ভারতের উচিত সম্মানের সঙ্গে দেখা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে দুই দেশই উপকৃত হবে এবং একে অপরের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানিত হবে।”

    ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গত ১৫ মাসে আমাদের অবস্থান ও কার্যক্রমই তার প্রমাণ। আমরা জোরপূর্বক কিছু সমর্থন করি না এবং কাউকে দেশ ছাড়তেও বাধ্য করতে চাই না। কেউ যদি অবৈধভাবে কারও সম্পত্তি দখল করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষেই আমরা আছি।”

    সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো মার্কিন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, “এই প্রশ্নটি বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত এড়িয়ে যাচ্ছি।”

  • ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার ঝড়। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়েছে এবং মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এমন কোনো ফোনালাপই হয়নি।

    সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমার জানা মতে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়নি।”

    ট্রাম্পের দাবি ছিল, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির বিষয়টি শিগগিরই বন্ধ করবে ভারত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোদির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে নয়াদিল্লি জানায়, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু ভারত তার নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থ ও ভোক্তা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

    ভারত বর্তমানে রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনে আগ্রাসনের খরচ জোগাচ্ছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ভারত, চীন ও জাপান রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করুক, যাতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়।

    তবে দিল্লির বার্তা পরিষ্কার—ভারতের জ্বালানি নীতি ভারতের স্বার্থেই নির্ধারিত হবে, বাইরের চাপ নয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে মিসরে পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে মিসরে পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সামনে রেখে মিসরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে ইসরায়েল সফর শেষ করে তিনি মিসরের শার্ম আল-শেখে অবতরণ করেন।

    এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ২০ জন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

    সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই সফরকে বিশ্লেষকরা অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

    শার্ম আল-শেখে এই সম্মেলনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনে ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সফর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

  • বাংলাদেশ কখনো অবিচারের কাছে নত হয়নি, হবেও না: তারেক রহমান

    বাংলাদেশ কখনো অবিচারের কাছে নত হয়নি, হবেও না: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ সবসময় ন্যায়ের পথে অবিচল থেকেছে— এমন বার্তা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ অবিচার ও নিপীড়নের কাছে কখনো মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি গাজা অভিমুখে যাত্রা করা মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে অভিনন্দন জানান।

    তারেক রহমান বলেন, “গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলমের অংশগ্রহণ কেবল সংহতির প্রকাশ নয়; এটি ন্যায়ের পক্ষে বাংলাদেশের মানুষের বিবেকের এক দৃঢ় উচ্চারণ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের পতাকা হাতে শহিদুল আলম বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছেন, আমাদের জাতি অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াতে জানে না।”

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও আশ্বাস দেন, “বিএনপি সবসময় শহিদুল আলমের মতো সাহসী কণ্ঠদের পাশে থাকবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায়ের লড়াইয়ে বিএনপির সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”

    এই বার্তার মাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবিক অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘ইতিবাচক’ বার্তা দিলেন মোদি

    যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘ইতিবাচক’ বার্তা দিলেন মোদি

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী ও ভবিষ্যতমুখী।

    মোদি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ মন্তব্য ও ইতিবাচক মূল্যায়ন আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং একইভাবে তাকেও তা ফিরিয়ে দিচ্ছি।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সর্বাত্মক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা আগামী দিনে আরও গভীর হবে।

    তবে এ বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

    তবুও মোদি ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদ থেকেই মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, “আমি সবসময় মোদির বন্ধু থাকব।”

    যদিও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উষ্ণতা ফেরাতে সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে মোদির বেইজিং সফর ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ভারতকে কাছে রাখার প্রতিযোগিতা নতুন করে স্পষ্ট হচ্ছে।