Tag: আন্তর্জাতিক রাজনীতি

  • পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

    চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এই তিন নেতা একসাথে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে চীন তাদের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে—যার মধ্যে ছিল লেজার প্রযুক্তি, যা প্রতিপক্ষের বিদ্যুৎ লাইন বিকল করতে সক্ষম। এছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত সাবমেরিন ও মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়।

    কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করে শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এখনো শান্তি নাকি যুদ্ধের বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, “চীন অপ্রতিরোধ্য।” এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে শি-র পাশে ছিলেন পুতিন ও কিম।

    ট্রাম্প পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে লেখেন, “আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।” যদিও বার্তার শেষে তিনি চীনের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, “এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। শি, পুতিন ও কিম—কোনও নেতার মধ্যেই এমন ভাবনা ছিল না।”

  • পাকিস্তানের হুমকির জবাবে ভারতের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা

    পাকিস্তানের হুমকির জবাবে ভারতের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারমাণবিক হুমকির জবাবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করল ভারত। দেশটি বুধবার ওড়িশার চান্দিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি-৫ এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইলটি পরীক্ষার মাধ্যমে সব কার্যক্ষম ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূর্ণভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    অগ্নি-৫ মিসাইলটি তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (ডিআরডিও)। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলটি প্রায় ১.৫ টনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। হালকা উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য।

    এই মিসাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এমআইআরভি (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle) প্রযুক্তি। এর ফলে একটি মিসাইল থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়, যা কৌশলগত দিক থেকে ভারতের সামরিক শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করতে অগ্নি-৫ এ ব্যবহার করা হয়েছে রিং লেজার জাইরোস্কোপ-ভিত্তিক ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (RLG-INS) এবং মাইক্রো-ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (MINGS)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের নিজস্ব ন্যাভিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ও আমেরিকার জিপিএস।

    তিন ধাপের কঠিন জ্বালানি চালিত প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত এই মিসাইল একটি ক্যানিস্টারাইজড প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ফলে এটি সহজে সংরক্ষণযোগ্য এবং দ্রুত অপারেশনাল মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির প্রকাশ্যে বলেন, ভারত যদি ভবিষ্যতের যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন নেতাও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই হুমকির জবাব দিতে এবং নিজেদের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই ভারত অগ্নি-৫ মিসাইলের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে।

  • পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তীব্রতর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এক টেবিলে বসাতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। আর সেই বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে তিনজনই উপস্থিত থাকবেন।

    ওভাল অফিসে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি কাজ শুরু করেছি। পুতিন ও জেলেনস্কির বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর আমরা তিনজন মিলে বসব।”

    তিনি আরও জানান, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য। ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে শক্তিশালী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেব। শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, এবার সরাসরি শান্তিচুক্তিই হবে লক্ষ্য।”

    এর আগে বৈঠকের মাঝপথে পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন ট্রাম্প। ফোনালাপের পর বৈঠক আবার শুরু হয়। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বের ছয়টি যুদ্ধ থামিয়েছি। তবে এই যুদ্ধ সমাধান সবচেয়ে কঠিন। তবুও আমি আত্মবিশ্বাসী, আমরা পথ খুঁজে বের করব।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ থামাতে আপনার প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে উপস্থিত ছিলেন।

    ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছে আন্তর্জাতিক মহল—আসলেই কি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে?

  • পুতিনের ফোনে মোদিকে বার্তা: ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে ভারতের ভূমিকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

    পুতিনের ফোনে মোদিকে বার্তা: ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে ভারতের ভূমিকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

    এবিএনএ:  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। সোমবারের এই ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ, শান্তি প্রক্রিয়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল।

    এর আগে মাত্র কয়েকদিন আগে আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুতিন। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মোদি আলোচনায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—এই যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান অত্যন্ত জরুরি এবং ভারত সবধরনের শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে মোদি-পুতিন ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।

    পরে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মোদি লিখেছেন, “বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করায় কৃতজ্ঞ। ভারত সবসময়ই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং এ সম্পর্কিত সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এসেছে।”

    তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে এই ধরনের কূটনৈতিক আলাপচারি অব্যাহত থাকবে।

    উল্লেখ্য, দশ দিন আগেও মোদি-পুতিনের ফোনালাপ হয়েছিল, যেখানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ নিয়ে আলোচনা হয়।

    মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ভারত রাশিয়া থেকে ডিসকাউন্ট মূল্যে অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার তহবিল ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। এর জবাবে ভারত জানায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পুতিন-মোদি ফোনালাপের সময়ই খবর এসেছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শিগগিরই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যদিও আলাস্কার তথাকথিত ‘শান্তি সম্মেলনে’ তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এবার বৈঠকে জেলেনস্কির পাশে থাকবেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

  • আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    এবিএনএ:  আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বসছে বহুল আলোচিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার প্রথম দুই মিনিটেই তিনি বুঝে ফেলতে চান পুতিনের আসল পরিকল্পনা। যদি মনে হয় সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে তিনি আলোচনা মাঝপথেই থামিয়ে দিতে প্রস্তুত।

    এদিকে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতার আশঙ্কা, পুতিন হয়তো দীর্ঘ আলোচনা টেনে ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে রাশিয়ার বিজয়ের শর্তগুলোতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে কৌশলী মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে পারেন তিনি। এই বৈঠক হতে যাচ্ছে এমন এক জায়গায়—আলাস্কা—যেটি ১৮৬৭ সালে রাশিয়া ৭২ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়েও কথা বলতে চান।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের মনোভাব যাচাই করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। যদি চুক্তির সম্ভাবনা না দেখেন, তবে তিনি বৈঠক শেষ না করেই সরে আসবেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া উচিত, যাতে আলোচনার সময় হামলা বা ভূমি দখল না ঘটে। এই আলোচনায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

    হোয়াইট হাউস এই বৈঠক আয়োজন করছে বেশ তড়িঘড়ি করে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এখনো ঠিক হয়নি আলাস্কার কোন স্থানে বৈঠক হবে কিংবা কতক্ষণ চলবে। সমালোচকরা বলছেন, পুতিন প্রশংসা ও কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনের ওপর রুশ আগ্রাসনের জন্য কিয়েভকেই দায়ী করেছিলেন এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

    যুদ্ধের সমাধান বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্প কিছু না বললেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—চুক্তি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল উভয়ই তুঙ্গে বিশ্বজুড়ে।

  • ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি নিয়ে উত্তেজনা, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চয়তায়

    ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি নিয়ে উত্তেজনা, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চয়তায়

    এবিএনএ:  ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রতিনিধি মার্ক কার্নি জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং এটি আর সহ্য করা যাচ্ছে না। এজন্যই সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কানাডার।

    এই ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টা পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “ওয়াও! কানাডা এখন বলছে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এতে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করাটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ওহ কানাডা!!!”

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন তার প্রশাসন ‘লিবারেশন ডে’ নামে নতুন শুল্কনীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

    এই নীতিতে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি হয়নি, তাদের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে। যদি চুক্তি আজকের মধ্যে না হয়, তাহলে আগামী শুক্রবার থেকে কানাডার পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

    ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে চীন ও মেক্সিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এখনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

    এদিকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন মাত্রার কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    গাজায় খাদ্য ও মানবিক সংকটও দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। বুধবার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আরও সাতজন মারা গেছে।

    এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, “গাজায় বাস্তবেই মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আমি ইসরায়েলের সঙ্গে একত্রে কাজ করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।”

    মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ

    থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ

    এবিএনএ:  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন চার হাজারেরও বেশি।

    শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়, আর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। থাই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লক্ষ্যভিত্তিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এই হামলাকে “বেপরোয়া ও নৃশংস আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

    থাইল্যান্ডের উবন রাচাথানি ও সুরিন প্রদেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকালে। এই উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে সংঘর্ষ শুরু করার জন্য।

    এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই থাই বেসামরিক নাগরিক। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা গ্রহণ করবে না, বরং কেবলমাত্র দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়।

    চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    থাই সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রোন থেকে বোমা ফেলে পাহাড়ি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, এতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

    এপি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে শত শত পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্থায়ী ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক আশ্রয়প্রার্থী বলেন, “আমরা ভীত। বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি।”

    সীমান্ত সমস্যা এই অঞ্চলে বহু পুরনো। থাইল্যান্ড দাবি করে ফরাসি উপনিবেশ আমলে তাদের এলাকা কম্বোডিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া মনে করে ঐ অঞ্চল তাদেরই প্রাচীন মালিকানাধীন। এই ঐতিহাসিক ক্ষোভ দুই দেশকে নিয়মিত সংঘর্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক থিটিনান পংসুধিরাক বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্যেই ইতিহাসের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে। এবং সেই ইতিহাসই বর্তমানে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।”

    থাইল্যান্ডের অস্ত্রশক্তি ও সেনাসংখ্যা কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    এই চলমান উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও কীভাবে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার ওপর। তবে এখনই একটি মানবিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

  • ইরানের হুঁশিয়ারি: আবার নিষেধাজ্ঞা এলে ইউরোপের ভূমিকাই থাকবে না!

    ইরানের হুঁশিয়ারি: আবার নিষেধাজ্ঞা এলে ইউরোপের ভূমিকাই থাকবে না!

    এবিএনএ:  পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে ইরান এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা যদি পুনর্বহাল করা হয়, তবে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনার দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে।

    শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা শুরু করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইরান এখনও পর্যালোচনা করছে। আলোচনার সময়, স্থান, কাঠামো ও সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, আলোচনার পরিধি থাকবে কেবলমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আস্থা অর্জন, কোনোভাবেই সামরিক সক্ষমতা আলোচনায় আসবে না।

    গত জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রতি গভীর অনাস্থা প্রকাশ করে তেহরান, এবং ঘোষণা দেয় সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার।

    আরাগচি জানান, এখন থেকে আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে ‘নতুন কাঠামোতে’। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি আইএইএ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শন করতে চায়, তবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব হবে না।

    তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা ঝুঁকি বিবেচনায় শুধু ইরানেরই নয়, আইএইএর পরিদর্শকদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। সুরক্ষার দিক বিবেচনায় প্রতিটি পরিদর্শনের জন্য আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আরাগচি বলেন, ‘আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় দেব না। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটে, তবে তাদের আর কোনো অংশীদারিত্ব থাকবে না ইরানের পারমাণবিক ভবিষ্যতে।’

  • ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে দরিদ্র দেশগুলোর কোটি টাকার লবিং যুদ্ধ!

    ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে দরিদ্র দেশগুলোর কোটি টাকার লবিং যুদ্ধ!

    এবিএনএ: বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কয়েকটি দেশ মার্কিন প্রভাবশালী রাজনীতিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ লবিস্টদের মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করছে। তাদের উদ্দেশ্য— ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা বজায় রাখা বা পুনরুদ্ধার করা।

    সোমালিয়া, হাইতি, ইয়েমেনসহ অন্তত ১১টি দেশ ইতোমধ্যে ট্রাম্প-সম্পর্কিত লবিস্টদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব দেশের বেশিরভাগই মার্কিন ত্রাণ সংস্থা ইউএসএইড-এর পূর্বতন সুবিধাভোগী। ট্রাম্প জানুয়ারিতে পুনরায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পরই ইউএসএইড বন্ধের ঘোষণা দেন, যা গত সপ্তাহে কার্যকর হয়েছে।

    গ্লোবাল উইটনেসের তদন্ত বলছে, ইউএসএইড বন্ধ হওয়ার পর কিছু দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে খনিজ সম্পদ, ব্যবহার করে রাজনৈতিক লবিংয়ে জড়িয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো উল্লেখযোগ্য, যারা মার্কিন খনিজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ১৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ লবিং ফার্ম ব্যালার্ড পার্টনার্সের সঙ্গে ১২ লাখ ডলারের চুক্তি করে কঙ্গো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে চাইছে।

    উল্লেখ্য, ব্যালার্ড পার্টনার্স ২০১৬ সাল থেকেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ, এমনকি তাঁর নির্বাচনী প্রচারে অন্যতম বড় দাতা হিসেবেও পরিচিত।

    এদিকে, সোমালিয়া ও ইয়েমেন বিজিআর গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স নামক লবিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে যথাক্রমে ৫.৫ লাখ ও ৩.৭২ লাখ ডলারে। বিজিআরের সাবেক অংশীদার শন ডাফি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

    বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চুক্তিগুলো মানবিক সাহায্যের বদলে প্রাকৃতিক সম্পদের বিনিময়ে হতে পারে, যা দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আরও দুর্বল করে তুলবে। গ্লোবাল উইটনেসের ট্রানজিশন মিনারেল বিভাগের প্রধান এমিলি স্টুয়ার্ট বলেন, “এই দেশগুলো এখন আরও বেশি মরিয়া। ফলে তারা তাদের মূল্যবান সম্পদ শোষণের ঝুঁকিতে পড়ছে।”

    বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে, ধনী দেশগুলোর সঙ্গে দরিদ্র দেশগুলোর এমন সম্পর্ক নতুন করে ভাবনার জন্ম দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

  • মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য! এবার প্রকাশ্যে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গোপন অডিও, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ট্রাম্প গত বছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই কথাগুলো বলেছিলেন। সিএনএনের হাতে এসেছে সেই বৈঠকের রেকর্ড করা অডিও, যা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অডিওতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোয় বোমা ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও হুঁশিয়ারি দেন যে, তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে বেইজিংও সেই একই পরিণতির শিকার হবে।

    এদিকে, এই অডিও ফাঁসের পরই রাশিয়া ফের এক ভয়াবহ হামলা চালায় ইউক্রেনের ওপর। দেশটির বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৮টি ড্রোন১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যদিও কিয়েভ দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও রাশিয়া তা এখনো গ্রহণ করেনি।

    এদিকে, কিছুদিন আগে পেন্টাগনের ইউক্রেন সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প পুনরায় তা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

    এই অডিও ফাঁস এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়ও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।