Tag: আন্তর্জাতিক রাজনীতি

  • ভালোবাসা দিবসে ব্যঙ্গের তীর: মাদুরোকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে কার্ড ছড়াল হোয়াইট হাউস

    ভালোবাসা দিবসে ব্যঙ্গের তীর: মাদুরোকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে কার্ড ছড়াল হোয়াইট হাউস

    এবিএনএ: ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ডিজিটাল কার্ড প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে হোয়াইট হাউস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কার্ডে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে উদ্দেশ্য করে রসিকতার সুরে লেখা হয়েছে, “আপনি আমার হৃদয় হরণ করেছেন।” একটি কার্ডে হাতকড়া পরা ও চোখ ঢাকা অবস্থার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়, যার ক্যাপশনে ছিল— “শুধু আপনার জন্য তৈরি করা।”

    এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এমন ব্যঙ্গাত্মক বার্তাকে কূটনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সময় ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। তার উত্তরসূরি জো বাইডেন–এর আমলেও সেই টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল।

    ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে হোয়াইট হাউস আরও কয়েকটি কার্ড প্রকাশ করে, যেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু ও বিতর্কিত ঘটনাকে ব্যঙ্গের মোড়কে উপস্থাপন করা হয়। কিছু কার্ডে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রশংসা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি অভিবাসন ইস্যু ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়েও তির্যক মন্তব্য ছিল।

    এ ধরনের পোস্টকে সমর্থকরা রাজনৈতিক রসবোধ হিসেবে দেখলেও সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে এমন ব্যঙ্গাত্মক বার্তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে।

  • গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা-তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার রাতভর চালানো এসব হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যেখানে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেসব স্থানও আঘাতের শিকার হয়েছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে—এর প্রতিক্রিয়াতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় পৃথক হামলায় পাঁচজন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলে গোলাগুলিতে প্রাণ যায় আরও একজনের। পাশাপাশি গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ-এর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নতুন এই হামলাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে “গণহত্যামূলক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। এদিকে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

    দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগে দায়ী করছে। এই চুক্তিটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গাজায় সহিংসতা কমানোর উদ্যোগের অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের সংঘাতে সাম্প্রতিক যুদ্ধটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ইসরায়েলি তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ে। পাল্টা অভিযানে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে বিমান ও স্থল হামলা চলছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক দশক হাজার ছাড়িয়েছে; আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

  • নিষেধাজ্ঞা উঠলেই পরমাণু কর্মসূচিতে বড় ছাড় দিতে প্রস্তুত ইরান: নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত

    নিষেধাজ্ঞা উঠলেই পরমাণু কর্মসূচিতে বড় ছাড় দিতে প্রস্তুত ইরান: নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি। তাঁর ভাষ্য, পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে তেহরান সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহী।

    গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার পর এই বক্তব্য আসে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আগামী সপ্তাহে জেনেভা শহরে নতুন দফার বৈঠক বসতে পারে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

    ইরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক প্রয়োজনে পরিচালিত। বিপরীতে পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে গোপনে অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তোলে। তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ছাড় দিতে নারাজ।

    ইরানের প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনের আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে—যেগুলো ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। তেহরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকতা দেখালে চুক্তির পথ সুগম হবে।

    ৪০০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনায় নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও এর দায়ভার তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তরের প্রস্তাব অতীতে নাকচ করেছিল ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই মজুত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক পরিদর্শক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান অতীতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে—যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে অনুমোদিত সীমার অনেক ওপরে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো সমঝোতা হলে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও ইরানের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নীতির দাবি তুলেছিলেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্পূর্ণ সমৃদ্ধকরণ বন্ধের প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে নেই। বরং ধাপে ধাপে ছাড়ের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথেই অগ্রাধিকার দিতে চায় তেহরান।

    কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আসন্ন বৈঠকে শুধু পরমাণু কর্মসূচিই নয়—ইরানের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সমঝোতা হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রস্তুতি

    ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রস্তুতি

    এবিএনএ: ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যতিক্রমী শক্তি’ দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক টানাপোড়েন ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা চলার মধ্যেই এই সামরিক প্রস্তুতির বার্তা এল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর বরাতে জানা যায়, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার; বৈঠকে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে। একই দিনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না—সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই ‘সবচেয়ে কার্যকর পথ’ হতে পারে। তবে শাসন পরিবর্তনের পর নেতৃত্ব কারা দেবেন—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। উত্তর ক্যারোলিনায় এক সামরিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, বহু বছর ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    ওয়াশিংটন চায় পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীতে সহায়তা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা আরোপে আলোচনায় বসতে রাজি হলেও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু আলোচনায় আনতে নারাজ।

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর হামলার পথ খোলা থাকবে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও জবাব দেওয়ার কথা বলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নৌবহরের অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড শিগগিরই অঞ্চলে পৌঁছে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। সঙ্গে থাকবে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান।

    পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহৎ এই বিমানবাহী রণতরীটি সম্প্রতি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

  • চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের ভয়াবহ ক্ষতি: নিহত সেনা ৫৫ হাজার ছাড়াল বলে জানালেন জেলেনস্কি

    চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের ভয়াবহ ক্ষতি: নিহত সেনা ৫৫ হাজার ছাড়াল বলে জানালেন জেলেনস্কি

    এবিএনএ: রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    বুধবার ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স–২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে পেশাদার সেনা ও বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য—উভয়ই রয়েছেন। তবে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষই একে অপরের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করলেও নিজেদের ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সাধারণত গোপন রাখে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

    এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই সংঘাত অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি আবুধাবিতে রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন।

    তবে শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড। ক্রেমলিন দাবি করছে, দোনবাস অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে। এই শর্তে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।

    জেলেনস্কি আরও জানান, নিহত সেনার সংখ্যার পাশাপাশি নিখোঁজের তালিকাও উদ্বেগজনক। ছয় মাস আগে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল, যাদের মধ্যে কতজন সেনা বা বেসামরিক—সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

  • এপস্টেইন কি সত্যিই রুশ গুপ্তচর? নতুন অভিযোগে ক্রেমলিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    এপস্টেইন কি সত্যিই রুশ গুপ্তচর? নতুন অভিযোগে ক্রেমলিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে রাশিয়ার গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ধরনের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিন। তাদের ভাষায়, এই অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    সম্প্রতি মার্কিন আদালতে এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশের পর তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব নথিতে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পোল্যান্ড।

    এপস্টেইন রাশিয়ার এজেন্ট ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ধরনের তত্ত্ব এতটাই অবাস্তব যে তা নিয়ে মন্তব্য করাও সময়ের অপচয়। তিনি বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দেন।

    নথিগুলোতে দেখা যায়, এপস্টেইন একাধিকবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কখনো বৈঠক হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পেসকভ আগেই জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণকারী এই বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারীর কাছ থেকে ক্রেমলিন কখনোই কোনো ধরনের অনুরোধ পায়নি।

    সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে পুতিনের নাম বারবার উঠে এলেও এর বেশিরভাগই গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংরক্ষণের তথ্য। পাশাপাশি, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাশিয়া থেকে তরুণী সংগ্রহে তার তৎপরতার কথাও নথিতে উঠে এসেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

  • বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    এবিএনএ: বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালায়। ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

    এর পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে ১৭৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মদদ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ও সহযোগীদের নির্মূল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, বিএলএ ভারতের কাছ থেকে সহায়তা পায়। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে তারা প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

    এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইসলামাবাদের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার এমন অভিযোগ তুলে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করে।

    রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, অমূলক অভিযোগ না করে পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দাবিগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া। ওই অঞ্চলে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • আরেকটি যুদ্ধ নয়, আলোচনাই সমাধান—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে আমিরাতের স্পষ্ট বার্তা

    আরেকটি যুদ্ধ নয়, আলোচনাই সমাধান—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে আমিরাতের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে দেশটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কার্যকর পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

    মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের এক প্যানেল আলোচনায় আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, এই অঞ্চল ইতোমধ্যেই বহু ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

    তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা জরুরি। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো গেলে গোটা অঞ্চলই উপকৃত হবে এবং ইরানের অর্থনীতিও স্থিতিশীলতার পথে ফিরতে পারবে।

    এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নেবেন। আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সৌদি আরব ও মিসরের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন।

    এই আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, বড় আকারের মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং চুক্তিতে না এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তবে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

    গারগাশ আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠন সময়ের দাবি। একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনা কমবে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও জোরদার হবে।

    তিনি আমিরাতকে ঘিরে ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনাকে ‘শব্দদূষণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব সমন্বিত অনলাইন আক্রমণ বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না।

    সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে যুদ্ধ নয়, কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

  • চুক্তিতে না এলে ইরানের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’, আলোচনার আগেই ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    চুক্তিতে না এলে ইরানের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’, আলোচনার আগেই ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    তবে আলোচনার আগেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির জন্য ‘ভয়াবহ কিছু’ অপেক্ষা করছে।

    ইরান প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং একই সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তার ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে তা হবে ইতিবাচক, কিন্তু ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ইরানের জন্য ভালো হবে না।

    এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ঠিক কী চাইছে? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি প্রধান দাবি তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম মজুদ শূন্যে নামিয়ে আনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং হুতি, হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা।

    ইরান এসব শর্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে তারা রাজি নয়।

    এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তথ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান প্রয়োজনে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার পথেও যেতে পারে। ফলে তুরস্কে আসন্ন বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরদারি ও উত্তেজনা দুইই বাড়ছে।

  • চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতি—কিউবাকে কড়া আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

    চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতি—কিউবাকে কড়া আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর এবার ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ কিউবার ওপর চাপ বাড়ালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাভানাকে উদ্দেশ করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে না এলে কিউবা অচিরেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়তে পারে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ওই আদেশে বলা হয়, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে, তাহলে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্তকে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    এই আদেশের পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম এক বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায়। এর ফলে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।

    রোববার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, চুক্তি হলে মানবিক সংকটের কোনো আশঙ্কা থাকবে না।

    ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দেশটির কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ও জ্বালানি নেই। এতদিন ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন সেই উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন ট্রাম্প, যার প্রভাব পড়েছে কিউবার অর্থনীতিতেও।

    কিউবার কাছে ঠিক কী ধরনের শর্ত চান—তা স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতায় না এলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এতে করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।