আমেরিকা

ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

মিত্রদের সমর্থন কমছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত; কৌশল বদলের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুরুতে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। বিশেষ করে NATO সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখানোয় ওয়াশিংটন অস্বস্তিতে পড়েছে।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান কৌশল না থাকায় এখন চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। সাবেক কূটনীতিক Aaron David Miller মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের মতে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য। কিন্তু মিত্রদের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও স্থলযুদ্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন—তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনমত তার বিপক্ষে যেতে পারে।

অন্যদিকে, হঠাৎ করে ‘বিজয় ঘোষণা’ দিয়ে সরে আসার কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরান আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। বর্তমানে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত রেখেছে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক—সব দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button