Tag: ন্যাটো

  • ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুরুতে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। বিশেষ করে NATO সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখানোয় ওয়াশিংটন অস্বস্তিতে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান কৌশল না থাকায় এখন চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। সাবেক কূটনীতিক Aaron David Miller মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের মতে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য। কিন্তু মিত্রদের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও স্থলযুদ্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন—তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনমত তার বিপক্ষে যেতে পারে।

    অন্যদিকে, হঠাৎ করে ‘বিজয় ঘোষণা’ দিয়ে সরে আসার কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরান আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। বর্তমানে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত রেখেছে।

    সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক—সব দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

  • নোবেল না পেলে শুধু শান্তি নয়, জাতীয় স্বার্থও দেখব—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

    নোবেল না পেলে শুধু শান্তি নয়, জাতীয় স্বার্থও দেখব—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর শুধু শান্তির বিষয়েই ভাবতে বাধ্য নন—এমন মন্তব্য করে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে এই অবস্থান জানানোর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনরায় তুলে ধরেছেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ওই চিঠির একটি কপি সংস্থাটির হাতে এসেছে এবং তা একাধিক মিত্র দেশেও শেয়ার করা হয়েছে।

    চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, নরওয়ে আটটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার পরও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে তিনি আর কেবল শান্তির প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। যদিও শান্তি তাঁর অগ্রাধিকারেই থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কী করা প্রয়োজন, সেটিও এখন গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কমানো এবং ফোনালাপের মাধ্যমে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই বার্তার জবাব হিসেবেই ট্রাম্প দ্রুত এই চিঠি পাঠান।

    গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প চিঠিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির হাত থেকে গ্রিনল্যান্ড রক্ষার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। ফলে ওই ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

    চিঠির শেষাংশে ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জোটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছে। এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    তবে বাস্তবতা হলো, ১৮১৪ সালের একটি চুক্তিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক আইনি নথির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত। যুক্তরাষ্ট্রও অতীতে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান তাঁকে এই পুরস্কারের যোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও সর্বশেষ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

    নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নোবেল পুরস্কার প্রদান করে একটি স্বাধীন কমিটি—নরওয়ের সরকার নয়। এ বিষয়ে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও সোমবার পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

  • গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ড সফর করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।

    ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।

    গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সামরিক ‘রেকি মিশন’ শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে ও বিপক্ষে আলাদা বিল উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না—কারণ তিনি যা বলেন, সেটাকেই বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।

  • গ্রিনল্যান্ড ‘আমাদেরই চাই’—বিশেষ দূত নিয়োগের পর ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি

    গ্রিনল্যান্ড ‘আমাদেরই চাই’—বিশেষ দূত নিয়োগের পর ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আবারও কঠোর ও বিতর্কিত অবস্থান নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বীপটির জন্য বিশেষ দূত হিসেবে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগ দেওয়ার পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি তাদের “অবশ্যই প্রয়োজন”।

    বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখতে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ। তাঁর এমন মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোড়ন।

    ডেনমার্কের অংশ হলেও আধা-স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কোপেনহেগেন। ডেনিশ সরকার জানিয়েছে, বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে তারা ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডবাসীর। তিনি ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনগণের মতামতকে সম্মান করার আহ্বান জানান।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখাই তাঁর দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ নাগরিকই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিপক্ষে।

    ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ইউরোপ আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার, নতুন নৌপথের নিয়ন্ত্রণ এবং খনিজ সম্পদের দখল নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বরফ গলে যাওয়ায় এই অঞ্চলটি এখন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

    উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা এখনও কৌশলগতভাবে সক্রিয়।

    এর আগে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস–প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক–এ যুক্তরাষ্ট্র তাদের কনস্যুলেট পুনরায় চালু করে। বর্তমানে ইউরোপের একাধিক দেশ ও কানাডারও সেখানে সম্মানসূচক কনস্যুলেট রয়েছে।

  • পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    এবিএনএ:  প্রায় চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আলাস্কায়। আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় অ্যাঙ্কারেজের এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন যৌথ বিমানঘাঁটিতে বসবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বিকেলের বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ওয়াশিংটনে ফিরবেন। বৈঠকের আগে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি নিয়ে আসছেন না, বরং উদ্দেশ্য পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসানো। তাঁর মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে নেতৃত্ব দেবে ইউরোপ, এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং বহু মানুষের জীবন রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে সতর্ক করে দেন—পুতিন যদি যুদ্ধ থামাতে রাজি না হন, তবে রাশিয়াকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

    আলাস্কায় যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, পুতিন সঙ্গে রুশ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি তিনি ইতিবাচক মনে করছেন। তবে যুদ্ধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া স্বাভাবিক বাণিজ্য সুবিধা পাবে না। আলোচনায় অগ্রগতি হলে বাণিজ্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, বৈঠকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান উপস্থাপন করবে, তবে ফলাফল নিয়ে আগে থেকে কিছু বলবেন না। পুতিন ইতোমধ্যে আলাস্কায় পৌঁছেছেন, এর আগে তিনি রাশিয়ার মাগাদান শহরে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও একটি শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেছেন।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বৈঠক শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া–ইউক্রেন ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখছি।”

  • ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    এবিএনএ:  রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের আগে এক ঝটিকা সফরে জার্মানি গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার বার্লিনে পৌঁছে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এ সফরের সময় জেলেনস্কি চ্যান্সেলরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টিও ওই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। আগামী শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনার কথা রয়েছে, যা জেলেনস্কির এই সফরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেন কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছাড় দিতে পারে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দোনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার যে কোনো প্রস্তাব কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করবে। তার মতে, এমন ছাড় ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে।

    রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। এএফপি জানিয়েছে, রুশ সেনারা পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডোব্রোপিলিয়ার কাছে আকস্মিক হামলা চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার জবাব কিয়েভ কঠোরভাবে দেবে এবং এটি রাশিয়ার এক ধরনের কৌশল, যাতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে নিজেদের অগ্রগতি তুলে ধরা যায়।

    এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, মস্কো জাপোরিঝিয়া, পকরোভস্ক ও নভোপাভলভ এলাকায় নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াই জিতেছে এবং ইউক্রেন ইতোমধ্যেই পরাজিত হয়েছে।