বাংলাদেশ

বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের আবেগ: ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢল, তিন দফায় জামাত অনুষ্ঠিত

প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঐতিহাসিক মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নিলেন হাজারো মুসল্লি

এবিএনএ,বাগেরহাট : হালকা বৃষ্টি যেন থামাতে পারেনি ঈদের আনন্দ। ভোর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে ভিড় জমান হাজারো মুসল্লি। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মানুষদের এই উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তার আগেই সকাল ৬টা থেকে মুসল্লিরা মসজিদ প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উপস্থিতি। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই ঐতিহ্যবাহী স্থানে নামাজ আদায় করতে।

জামাত শুরু হওয়ার আগেই মসজিদের ভেতরের স্থান পূর্ণ হয়ে যায়। পরে মসজিদের আশপাশের খোলা জায়গাতেও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেও মুসল্লিদের ভিড় ছিল উপচে পড়া।

প্রথম জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ, যিনি খানজাহান (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঈদের নামাজে অংশ নেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক ও সাবেক সভাপতি এম এ সালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। পাশাপাশি মুসল্লিরা নিজেদের পরিবার ও প্রয়াত স্বজনদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন এবং দান-খয়রাতে অংশ নেন।

এ সময় সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম ঈদের জামাত। তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ঈদের এই মিলনমেলা ঐক্যের প্রতীক এবং এই ঐক্য ধরে রেখে বাগেরহাটকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন করতে পারায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আগামীর দিনগুলোতে সংযম ও আত্মশুদ্ধির চর্চা চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

এদিকে, প্রথম জামাত ছাড়াও আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, যেখানে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব নাসির উদ্দিন। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়, এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মো. এনামুল হক।

সব মিলিয়ে, বৃষ্টিভেজা সকালেও ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের নামাজ এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে—যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলন একাকার হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button