Tag: খুলনা

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    এবিএনএ: সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে এই সাফল্য আসে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রবিবার ভোর চারটার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক দুই ডাকাত হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

    অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কবল থেকে চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    এদিকে জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    এবিএনএ: প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেই খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, অফিসকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। কখনো সকালে, আবার কখনো মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৪৩ মেগাওয়াট, তখন ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

    এর আগে বুধবার দুপুরে ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    খুলনা নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মাহাফুজ বলেন, অফিস চলাকালে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে এসিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতর প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে গরম, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান খাতুন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা থাকে, আবার দীর্ঘ সময় থাকে না। এতে গরমে অসুস্থতা বাড়ছে এবং ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি। চলমান তাপদাহের কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। শুক্রবারও তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

  • খুলনায় মানহীন ক্লিনিকের দৌরাত্ম্য: ভুল রিপোর্টে বিপদে রোগী, হাসপাতাল ঘিরে দালাল চক্র সক্রিয়

    খুলনায় মানহীন ক্লিনিকের দৌরাত্ম্য: ভুল রিপোর্টে বিপদে রোগী, হাসপাতাল ঘিরে দালাল চক্র সক্রিয়

    বিপুল পাইক,খুলনা ব্যুরো: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের ভরসা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই তিন গুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা এমনকি চলাচলের পথেও থাকতে হচ্ছে। বহির্বিভাগেও দীর্ঘ লাইনের কারণে চিকিৎসক দেখাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

    এই অতিরিক্ত চাপকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি হাসপাতালের সামনে এবং প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সক্রিয় হয়ে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে প্রলুব্ধ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, ডাক্তার দেখানোর পরই কিছু ব্যক্তি তাদের প্রেসক্রিপশন দেখতে চান এবং কম খরচে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অনেক সময় নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে সেখানে যাওয়ার জন্য চাপও দেওয়া হয়।

    ডুমুরিয়ার এক রোগী জানান, চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলার পরই বাইরে থাকা একজন তাকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কম খরচে পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অন্য একজনের মাধ্যমে আবারও একই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে বলে অভিযোগ।

    স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর লাইসেন্স নেই, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক বা দক্ষ টেকনিশিয়ানও থাকেন না। ফলে ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    বুকে ব্যথা নিয়ে এক রোগী একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করান। সেখানে হার্টের সমস্যা রয়েছে বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরে অন্য প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পরীক্ষা করলে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ফল পাওয়া যায়। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধও সেবন করতে হয় বলে অভিযোগ করেন।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এই সুযোগে দালাল চক্র ও মানহীন ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা রোগীদের প্রভাবিত করে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

    স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ৫০০-এর বেশি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নও করা হয়নি।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সতর্ক হয়ে যাচাই-বাছাই করে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • দেশজুড়ে মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ শুরু—তাপমাত্রা কি ৪১ ডিগ্রি ছাড়াবে?

    দেশজুড়ে মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ শুরু—তাপমাত্রা কি ৪১ ডিগ্রি ছাড়াবে?

    এবিএনএ: গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশে অনুভূত হচ্ছে তাপমাত্রার তীব্রতা। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

    বর্তমানে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এতে জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে এবং দিনের বেলা বাইরে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ছে।

    আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, এপ্রিল মাসজুড়ে দেশে প্রায় ছয়টি তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, যা ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া যশোরে ৩৮.২ ডিগ্রি এবং মোংলায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সাধারণত কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ইতোমধ্যেই তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পোশাক পরিধান এবং রোদে কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    এবিএনএ,বাগেরহাট : দেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। আজ (১ এপ্রিল) ভোর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম, যা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।

    বন বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুন্দরবন থেকে মোট ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু এবং ৩০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে নির্ধারিত হয়েছে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা।

    এবার আগাম বৃষ্টির কারণে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে খলিসা, গরান, পশুর ও হারগোজাসহ বিভিন্ন গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। ফলে ওইসব এলাকায় মৌমাছির উপস্থিতি বেড়েছে এবং মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। তবে পূর্বাঞ্চলের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তুলনামূলক কম বৃষ্টি এবং কম গাছপালা থাকার কারণে সেখানে মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত মধু পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ওই অঞ্চলের মৌয়ালরা কয়েকদিন পর থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবেন।

    মৌসুম শুরুর আগেই মৌয়ালরা নৌকা মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন। দলবদ্ধভাবে বনে প্রবেশ করে তারা প্রথমে খলিসা, গরান ও পশুর গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। পরে পর্যায়ক্রমে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু আহরণ করা হবে।

    গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জ থেকে প্রায় ৬৫০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল। মৌয়ালদের মতে, বন বিভাগের অনুমতি, রাজস্ব ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিজনের প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে মধু বিক্রি করে তারা উল্লেখযোগ্য লাভ করতে সক্ষম হন।

    শরণখোলার মৌয়ালরা জানান, গত মৌসুমে তাদের প্রতিটি সদস্য প্রায় দুই মণ করে মধু পেয়েছিলেন, যা বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। এবারও তারা আশাবাদী, তবে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অপহরণের ঝুঁকি থাকায় তারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

    বন বিভাগ জানিয়েছে, মধু আহরণের জন্য মৌয়ালদের ১৪ দিনের পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৌমাছি তাড়াতে আগুন বা রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ, বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা, নদীতে বিষ প্রয়োগ না করা এবং বন্যপ্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকা। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

    বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার গাছে ফুলের আধিক্য থাকায় মধু উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মৌয়ালদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    তবে জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মৌসুমের পুরো সময়জুড়ে মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সুন্দরী ও গেওয়া গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।

    সব মিলিয়ে আশা ও শঙ্কার মধ্যেই শুরু হলো সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী মধু আহরণ মৌসুম। মৌয়ালদের চোখ এখন নিরাপদ ও সফল একটি মৌসুমের দিকে।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবন এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত আসাবুর বাহিনীর প্রধান সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসাবুর বাহিনীর প্রধান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিউল ইসলামকে অস্ত্রসহ সুন্দরবনে পাঠানো হয়।

    এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও নলিয়ান আউটপোস্টের সমন্বয়ে শিবসা নদীর কুমারখালি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    আটক রবিউল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সে আসাবুর বাহিনীর হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের ফলে আসাবুর বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং তাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • মোংলায় ঈদের রাতে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি

    মোংলায় ঈদের রাতে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলায় ঈদের দিন রাতের আঁধারে চিংড়ির ঘেরের বাঁধ কেটে অন্য ঘেরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা তলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহিল মারুফ সহ তার দলবল। এতে ঘের মালিকের কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘের দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

    মোংলা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার জয়খাঁ গ্রামের দীর্ঘদিন ধরে নিজের ১৮ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করে আসছে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ নাজিম উদ্দিন (৫৩)। তার ওই ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য শনিবার দিবাগত রাতের অন্ধকারে (ঈদের দিন রাতে) ২৫/৩০ জন নিয়ে ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ও যুবদল নেতা মহিদুল সহ ঘেরে গিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে পাশের ঘোরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।

    সোনাইলতলা ইউনিয়নের প্রভাবশালী এ বিএনপির সভাপতি মারুফ (৪৫) ও মহিদুল শেখের নেতৃত্বে নাজিমের ঘেরের ভেঁড়ীর ৮ জায়গায় বাঁধ কেটে দেয়। এতে মাছ বেরিয়ে যাওয়া ঘের মালিকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মারুফ ও মহিদুল এরআগেও নাজিমের এই চিংড়ি ঘের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

    এ ঘটনায় ঘের মালিক রোববার দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ও যুবদল নেতা মহিদুলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন

    মোংলা থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান জানান, সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয়খাঁ গ্রামের চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান। সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন থানার এ কর্মকর্তা।

  • বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের আবেগ: ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢল, তিন দফায় জামাত অনুষ্ঠিত

    বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের আবেগ: ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লিদের ঢল, তিন দফায় জামাত অনুষ্ঠিত

    এবিএনএ,বাগেরহাট : হালকা বৃষ্টি যেন থামাতে পারেনি ঈদের আনন্দ। ভোর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে ভিড় জমান হাজারো মুসল্লি। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মানুষদের এই উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

    শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তার আগেই সকাল ৬টা থেকে মুসল্লিরা মসজিদ প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উপস্থিতি। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই ঐতিহ্যবাহী স্থানে নামাজ আদায় করতে।

    জামাত শুরু হওয়ার আগেই মসজিদের ভেতরের স্থান পূর্ণ হয়ে যায়। পরে মসজিদের আশপাশের খোলা জায়গাতেও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেও মুসল্লিদের ভিড় ছিল উপচে পড়া।

    প্রথম জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মো. খালিদ, যিনি খানজাহান (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ঈদের নামাজে অংশ নেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক ও সাবেক সভাপতি এম এ সালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

    নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। পাশাপাশি মুসল্লিরা নিজেদের পরিবার ও প্রয়াত স্বজনদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন এবং দান-খয়রাতে অংশ নেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, নির্বাচনের পর এটি তার প্রথম ঈদের জামাত। তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ঈদের এই মিলনমেলা ঐক্যের প্রতীক এবং এই ঐক্য ধরে রেখে বাগেরহাটকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    তিনি সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন করতে পারায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আগামীর দিনগুলোতে সংযম ও আত্মশুদ্ধির চর্চা চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

    এদিকে, প্রথম জামাত ছাড়াও আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, যেখানে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব নাসির উদ্দিন। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়, এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মো. এনামুল হক।

    সব মিলিয়ে, বৃষ্টিভেজা সকালেও ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের নামাজ এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে—যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলন একাকার হয়ে যায়।

  • বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নাদিম শেখ (৩৩)কে গ্রেপ্তার করতে এসআই আনিছুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে ফিরিয়ে আনার সময় হামলার শিকার হয় পুলিশ।

    এ সময় নাদিমের ছোট ভাই সাগর শেখ ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলার একপর্যায়ে কনস্টেবল রাজু খানকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়।

    এই সুযোগে নাদিম ও সাগর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: ডাকাতের কবল থেকে জীবিত ফিরলেন ৬ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: ডাকাতের কবল থেকে জীবিত ফিরলেন ৬ জেলে

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ধর্ষ ডাকাতচক্র ‘নানা ভাই বাহিনী’র হাতে জিম্মি ছিলেন।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গত ৭ মার্চ মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ৬ জেলে অপহরণের শিকার হন। পরে ডাকাতরা তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি ১০ দিন পর কোস্ট গার্ডের জরুরি নম্বর ১৬১১১-তে জানানো হলে অভিযান প্রস্তুতি শুরু হয়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মার্চ ভোর ৫টার দিকে কোস্ট গার্ডের নলিয়ান আউটপোস্ট শিবসা নদীর কাছাকাছি কালির খাল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতরা দ্রুত বনের ভেতরে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল (৩০), আলামিন (২৬), ইসমাঈল শানা (২৪) (খুলনার কয়রা থানা) এবং রমজান আলী (৩৬), রেজওয়ান (২২), মিয়া রাজ (১৮) (সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানা)।

    বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।