Category: ধর্ম
-

শান্তি কামনায় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি
এবিএনএ : দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনার পাশাপাশি বিশ্বমুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সংহতি, অগ্রগতি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সাদ। মোনাজাত শেষ হয় বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে।এ সময় তার সঙ্গে হাত তুলেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করেন তারা। এ সময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে তুরাগ তীর মুখরিত করে দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় আকুতি জানান লাখ লাখ মুসল্লি। এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয় ১৩ জানুয়ারি। -

আখেরি মোনাজাত রোববার বেলা ১১টায়
এবিএনএ : বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত রোববার বেলা ১১টার মধ্যে শুরু হবে। তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বিদের বরাত দিয়ে গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশীদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোনাজাত পরিচালনা করবেন ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ। গাজীপুর জেলা অফিসার এস.এম রাহাত হাসনাত জানান, ইজতেমায় ভিভিআইপি, ভিআইপিসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগন দেশী-বিদেশী প্রায় ৪০ লাখ মুসল্লির আখেরি মোনাজাতের অংশগ্রহণ করবেন। দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণের জন্য গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা হতে হাজার হাজার মুসল্লি পায়ে হেটে ইজতেমা ময়দানে যাতায়াত করবে বিধায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা হতে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাজুখান ব্রিজ হতে স্টেশনরোড ওভার ব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ হতে মুন্নু টেক্সটাইল মিল গেট পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকবে।
-

দ্বিতীয় দিনের বয়ান চলছে বিশ্ব ইজতেমায়
এবিএনএ : ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে চলছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান। ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আজ দ্বিতীয় দিন।
কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে কাটাচ্ছেন। তবে তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।
ইজতেমা ময়দানে গতরাতে আরো এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রথম পর্বের ইজতেমায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল সাতজনে। রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি শুরু হবে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে যোগ দেবেন দেশের ১৬টি জেলার মুসল্লিরা।
-

আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব
এবিএনএ : বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম দিন শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।১৭টি জেলা থেকে সড়ক পথ, রেলপথ ও নৌপথসহ সব পথেই মুসল্লিদের কাফেলা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের দিকে। বৃহস্পতিবার থেকে আসতে থাকা মুসল্লিদের ঢল শুক্রবারও অব্যাহত থাকে। শুক্রবার পবিত্র জুম্মার নামাজে লাখ লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে জুম্মার নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় গাজীপুর সহ আশপাশের অঞ্চল গুলে থেকে থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জুম্মার নামাজ আদায় করতে ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করবেন।এ বছর প্রথম পর্বে ১৭টি জেলা অংশ নেয়ায় চটের বিশাল সামিয়ানার নীচে মুসল্লিদের কোন ঠাসাঠাসি নেই। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিদের অনেকে মূল প্যান্ডেলের নিচে বসেরই জুম্মার নামাজ আদায় করার সুযোগ পাবেন।সকাল থেকে টঙ্গী ও এর আশপাশের লোকজন ইজতেমায় বৃহত্তর জুমার নামাজের জামাতে অংশ নিতে পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। শুক্রবার বাদ ফজর থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জিকির আসকার ইবাদত বন্দেগীতে টঙ্গী এখন এক পবিত্র পূণ্যভূমিতে পরিণত হয়।হজের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ হলো এ বিশ্ব ইজতেমা। ইসলামের দাওয়াতী কাজ বিশ্বব্যাপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বিশ্ব ইজতেমা থেকেই দাওয়াতি কাজে বের হন।ইজতেমা সূত্র জানায়, বাদ ফজর উর্দূতে আম বয়ান করেন ভারতের হযরত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খোরশেদ।আজ ইজতেমা ময়দানে বৃহত্তর জুমা’র নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এতে ইমামতি করবেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসিজদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের। বাদ আসর বয়া করবেন ভারতের মাওলানা ওয়াসিমুল ইসলাম। বাদ মাগরিব বয়ান করবেন দিল্লির হযরত মাওলানা শওকত আলী।এবারে প্রথম দফায় বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের জন্য পুরো ময়দানকে ২৭টি খিত্তায় (ভাগে) ভাগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট খিত্তায় নির্দিষ্ট জেলার মুসল্লির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ ও র্যাব কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করেছে। সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা কন্ট্রেল রুম থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। খিত্তায় খিত্তায় সাদা পোষাকে আইনশৃংখলা বাহিনী সদস্যরা অবস্থান করছেন। জানা গেছে, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ৫টি করে স্তরে বিভক্ত হয়ে পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, নৌ-টহল, চেকপোষ্ট। দুই পর্বে প্রায় ১২ হাজার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন।শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করতে রাজধানী ঢাকা থেকে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের ভিআইপি অতিথিরা ইজতেমা ময়দানে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। -

ইজতেমার ৩দিনে বিশেষ ট্রেন দিচ্ছে রেলওয়ে
এবিএনএ : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে মুসল্লীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৩দিনে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ইজতেমার প্রথম পর্বে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে আসতে এ বিশেষ সার্ভিস দেবে রেলওয়ে। একই সঙ্গে মোনাজাতের দিন ঘুরমুখো মানুষের যাতায়াতের জন্য থাকবে এ সেবা।
বুধবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে চলতি বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব হবে ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব হবে ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসুল্লীদের সুবিধার্থে ১০ জানুয়ারি দুপুরের পর থেকে ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে ২ মিনিট বিরতি দেবে। আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও ১৫ জানুয়ারি রবিবার মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে।১৫ জানুয়ারি রবিবার আখেরী মোনাজাতের দিন সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহুয়া এক্সপ্রেস এবং তুরাগ এক্সপ্রেস.১, ২, ৩, ৪ এবং ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-টঙ্গী, ঢাকা-জয়দেবপুর ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে ডেমু (কমিউটার) ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। আখেরি মোনাজাতের পরের দিন (১৬ জানুয়ারি) টিকেটধারী মুসুল্লীদের টঙ্গী স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠার সুবিধার্থে সুন্দরবন, পারাবত, ধুমকেতু, এগারসিন্দুর প্রভাতী, অগ্নিবীণা, একতা, কিশোরগঞ্জ, জয়ন্তীকা, সিল্কসিটি, উপকূল, কালানী, মহানগর প্রভাতী, রংপুর, যমুনা, সিরাজগঞ্জ, হাওর ও মহানগর গোধুলী এক্সপ্রেস ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে ২ মিনিট করে থামবে। তবে, টিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে ট্রেনে ভ্রমণ করতে হবে বলে রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
-

ইসলাম কবুলের মর্মকথা
মানুষের মধ্যে আল্লহর মালিকানার বাহিরে কোন কিছু নাই। মানুষের জান মাল সহ সব কিছুই আল্লাহর মালিকানায়। কিন্তু মানুষের মধ্যে এমন একটি জিনিস আছে, যা আল্লাহ পুরোপুরি মানুষের হাতে সোদর্প করে দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে তার ইখতিয়ার অর্থাৎ স্বাধীন নির্বাচন ক্ষমতা ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। মানুষের এতোটুকুই স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন প্রকার জোর-জবরদস্তি ছাড়াই সে নিজেই নিজের সত্ত্বার ও নিজের প্রতিটি জিনিসের উপর আল্লাহর মালিকানা ইচ্ছা করলে স্বীকার করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে নিজেই মালিক হয়ে যেতে পারে, এবং নিজেই এ কথা মনে করতে পারে যে, সে আল্লাহর থেকে বেপরোয়া হয়ে নিজের ইখতিয়ার তথা স্বাধীন কর্ম ক্ষমতার সীমানার মধ্যে নিজের ইচ্ছমতো কাজ করার অধিকার রাখে।
মানুষের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা মূলত আল্লাহর দেয়া আমানত। এই স্বাধীনতার মালিক মানুষ নয়। তিনি যা আমানত হিসাবে মানুষের নিকট সোদর্প করেছেন এবং যে ব্যপারে বিশ্বস্ত থাকার বা অবিশ্বস্ত হবার স্বাধীনতা তিনি মানুষকে দিয়ে রেখেছেন। সে ব্যাপারে তিনি মানুষের কাছে দাবি করেন আমার জিনিসকে তুমি স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে (বাধ্য হয়ে নয়) আমার জিনিস বলে মেনে নাও এবং সারা জীবন স্বাধীন মালিকের মর্যাদায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নয়, বরং আমানতদার হিসাবে তা ব্যবহার করার বিষয়টি গ্রহণ করে নাও। এই সাথে খেয়ানত করার যে স্বাধীনতা তোমাকে দিয়েছি তা তুমি নিজেই প্রত্যাহার করো। এ ভাবে যদি তুমি দুনিয়ার বর্তমান অস্থায়ী জীবনে নিজের স্বাধীনতাকে (যা তোমার অর্জিত নয় বরং আমার দেয়া) আমার নিকট বিক্রি করে দাও, তা হলে আমি পরবর্তী চিরন্তন জীবনে এর মূল্য জান্নাতের আকারে তোমাকে দান করব। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কেনা-বেচার এ চুক্তি সম্পাদন করে- সে হলো মুমিন। ঈমান আসলে এ কেনা-বেচার আর এক নাম। আর যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে অথবা অঙ্গীকার করার পরও এমন আচরন করবে যা কেবল মাত্র কেনা-বেচা না করায় অবস্থায় করা যেতে পারে সে হলো কাফের। এ কেনা-বেচাকে পাশ কাটিয়ে চলার পরিভাষিক নাম কুফুরী। আল্লাহ তায়ালার ঘোষনা :”প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে। তাদের প্রতি তাওরাত, ইঞ্জিন ও কুরআনে (জান্নাতের ওয়াদা) আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ। আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পুরণকারী আর কে আছে ? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা-বেচা করছো সেজন্য আনন্দ করো। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।” (সুরা : তওবা -১১১)
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে মানুষের জান মালসহ সব কিছুর মালিক আল্লাহ, মানুষের শুধু নিজের বলতে আছে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি তথা সিদ্ধান্ত গ্রহনের স্বাধীনতা। আল্লাহ এই স্বাধীনতাটুকু ক্রয় করে নিতে চান। কেউ যদি সেচ্ছায় স্বজ্ঞানে এই ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা বিক্রয় না করে তা হলে আল্লাহ ক্রয় করবে কিভাবে। জোর করে তা কেনা যায় না। তাছাড়া উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ যা বলেছেন, তা হলো তিনি মুমিনদের জান ও মাল খরিদ করে নিয়েছেন। আল্লাহ এ কথা বলেনি যে, মুমিনেরা তাদের জান-মাল তাঁর কাছে বিক্রয় করেছে। মালের মালিক যদি তার মাল নিজ ইচ্ছায় বিক্রয় না করে তা হলে সে মাল কেউ খরিদ করতে পারে কি ? সব মুমিনই আল্লাহর নিকট জান ও মাল বিক্রয় করে না। আগেই উলে¬খ করেছি যারা বিক্রয় করে তারা সত্যিকার মুমিন। তাই উলে¬খিত আয়াতে আল্লাহ এ কথাই বলতে চেয়েছেন যে যারা নিজ ইচ্ছায় তাদের জান-মাল বিক্রয় করেছে তাদের কাছ থেকেই তিনি কিনেছেন। অর্থাৎ যাদের জান-মাল তিনি কিনেছেন, যারা সন্তুষ্ট চিত্তেই বেঁচতে রাজী হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জোর করে কেনা হয়নি বা তাদেরকে বেচতে বাধ্য করা হয় নি। কোন জিনিস ক্রয় করলে বিক্রেতাকে দাম অবশ্যই দিয়ে দিতে হয়। তা না হলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় না। আল্লাহ মুমিনদের জান-মাল ক্রয় করার সাথে সাথেই দামের কথা উলে¬খ করেছেন। যে দাম তিনি দিতে চান তা দুনিয়ার কোন জিনিস নয়। তিনি এতো বিরাট মূল্য দিতে চান যা দুনিয়ার কোথাও পাওয়া যায় না। মুমিনের জান-মালের বদলে বেহেশ্ত দেয়ার কথা ঘোষনা করেছেন। যেহেতু বেহেশ্ত দুনিয়ার জীবনে পাওয়ার উপায় নেই, সেহেতু এখানে নগদ দাম পরিশোধ করাও সম্ভব নয়। অর্থাৎ আল্লাহপাক বাকীতেই মুমিনের জান-মাল কিনে নিয়েছেন। আল্লাহ নগদ দাম দিচ্ছেন না বলে মুমিনের জান ও মাল বিক্রয় করার সাথে সাথেই তিনি নিয়ে নেন না, বরং মুমিনের জান-মাল তার কাছেই আমানত রাখেন। অর্থাৎ আল্লাহ পাক বলতে চান যে, হে মুমিন তোমার জান-মাল আমার কাছে বিক্রয় করেছ বলে তুমি যে দাবী করছ তা তোমাকে বাস্তবে প্রমান করে দেখাতে হবে। তোমার জান ও মাল তোমার মালিকানায় নেই। তোমার বাকী জীবনে এ জান ও মাল যদি সম্পূর্ণরুপে আমার মর্জিমত ব্যবহার কর তাহলে আমি স্বীকার করব যে তুমি তা সত্যিই আমার কাছে বিক্রি করেছ। এ প্রমান দিতে পারলে মৃত্যূর পরপরে এর দাম হিসাবে বেহেশ্ত অবশ্যই পাবে।
আল্লাহর নিকট জান-মাল বিক্রয় করা মানে যাবতীয় মানসিক,দৈহিক ও বস্তুগত শক্তি-সামর্থ এবং সময় সম্পদ ও শ্রম আল্লাহর অনুগত্যের অধীনে ব্যবহার করার ওয়াদায় আবদ্ধ হওয়া।এ ওয়াদা এমন ব্যাপক যে ইচ্ছাশক্তি,চিন্তাশক্তি, মনশক্তি এবং বুদ্ধি-বৃত্তিকে ও আল্লাহর মর্জির অধীন করা বুঝায়। এরূপ পূর্নাঙ্গ দাবী পূরণ করতে হলে আল্লাহর সাথে গোপন চুক্তিবদ্ধ হওয়াই যথেষ্ট নয়। মানুষ যেভাবে শয়তানের ওয়াস ওয়াস নাফসের ধোকা দুনিয়ার মোহ, অন্য মানুষের প্ররোচনা ইত্যাদি দ্বারা ঘেরাও হয়ে আছে, তাতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ছাড়া আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ অনুগত্য করা বাস্তবে সম্ভব নয়। এ কারনে আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) দ্বীনী দাওয়াত যারা কবুল করেছেন তাদেরকে রাসূলের (সাঃ) নেতৃত্বে মেনে জামায়ত বদ্ধ হওয়ার তাগিদ ও আল্লাহ দিয়েছেন। এ জাতীয় সাংগঠনিক বন্ধন ছাড়া আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের পথে অগনিত দুর করা সম্ভব নয়। যারা সাংগঠনিক শৃংখলা কবুল করে রাসুলের (সাঃ) জামায়াতে শরীক হতে রাজী হয়েছেন তারা আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের উদ্দেশ্যে সংগঠনের নির্দেশ পালন করতে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছেন, যাতে সকল প্রকার ধোকা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। ইসলামী জামায়াতের আনুগত্যের মাধ্যমেই আল্লাহর আনুগত্য বাস্তবে সহজ ও সম্ভব হয়। জামায়াতের আনুগত্যের এ শপথই ইসলামী পরিভাষায় বাইয়াত নামে নামে পরিচিত। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল (সঃ) এর নিকট যে বাইয়াত হন তা এ আনুগত্যের শপথ। আল্লাহ তায়ালার ঘোষনা :”হে রাসূল ! যে সব লোক আপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল। তাদের হাতের উপর আল্লাহর কুদরতের হাত ছিল।”( ফাতহ ;১০)
”হে রাসূল ! আল্লাহ মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নীচে আপনার নিকট বাইয়াত হচ্ছিল। ”(সুরা: ফাতহ ;১৮)
” যে ব্যাক্তি বাইয়াতের বন্ধন ছাড়াই মারা গেলো সে জাহিলিয়াতের মৃত্যূবরণ করল। ”মুসলিম’
এ সব ক’টি আয়াত ও হাদীসে বাইয়াতের সারমর্ম হলো মুমিনের জান-মাল, ইচ্ছা-বাসনা অর্থাৎ তার পূর্ন সত্তাকে আল্লাহর মর্জির নিকট সমর্পন করা। এটাই ইসলাম কবুলের মর্ম কথা। ইসলাম শব্দের অর্থ আতœ সমর্পন করা, নত হওয়া, আনুগত্য স্বীকার করা, নিজের ইচ্ছাকে কারো নিকট সোদর্প করে দেয়া। আল কুরআন শুধু ’ইসলাম, বলেনি তার সাথে আলিফ লাম যোগ করে ’আল ইসলাম, বলেছে ; এটা কুরআনের একটি পরিভাষা। অতএব এই বিশিষ্ট পরিভাষা শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর সম্মুখে নত হওয়া, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা, তাঁর নিকট নিজের যাবতীয় স্বাধীনতা / আজাদী পরিত্যাগ করা এবং নিজকে সম্পূর্ণ ভাবে তাঁরই নিকট সমর্পণ করে দেয়া।
প্রিয় পাঠক ! মানুষের নিজের বলতে আছে কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহনের স্বাধীনতাটুকুই । আমি সূখী হব নাকি কষ্টে থাকব সে সিদ্ধান্তের ভার এবং দায়িত্ব আমার। আর কিছুই আমার নয়। আত্বতসমর্পন মানে হলো এই স্বাধীনতাকে ভোগ না করে তার উৎসের কাছে ফেরত দেয়া। তখন ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছ-অনিচ্ছা-আমিত্ব-সূখ-দুঃখ কিছুই থাকে না। এরূপ ব্যক্তিই আল্লাহর প্রকৃত গোলাম। তিনি আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে কেবল প্রেমের গোলামি করছেন। মানুষের উচিৎ আল্লাহ প্রদত্ত এই ক্ষমতা নিজের মত করে ব্যবহার না করা ।
আল্লাহর প্রকৃত গোলামেরা আল্লাহর প্রদত্ত এই আমানত আল্লাহর নিকট ফেরত দিয়ে আল্লাহর ইচ্ছার গোলামে পরিণত হয়। অর্থ্যাৎ আল্লাহ প্রদত্ত নিজের এই ইচ্ছাশক্তির সাময়িক স্বাধীনতা আল্লাহর নিকট বিক্রি করে আল্লাহর নিকট হইতে অনন্ত কালের স্বাধীনতা ক্রয় করে নেন। তারা তাদের আল্লাহ প্রদত্ত স্বাধীন নির্বাচন ক্ষমতা দিয়ে তারই নির্ধারিত কানুন মেনে চলবার পথই স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছে। তারা হয়েছে পরিপূর্ণ মুসলিম, তাদের ইসলাম হয়েছে পূর্নাঙ্গ। তাদের পরিপূর্ন জীবনই হয়েছে পূর্ন সত্যাশ্রয়ী। সমগ্র সৃষ্টির সাথে তাদের মিতালী। কারণ সৃষ্টির সকল পদার্থ যার দাসত্ব করে যাচ্ছে, তারাও করছে তাঁরই দাসত্ব। দুনিয়ার বুকে তারা হচ্ছে আল্লাহর খলিফা (প্রতিনিধি) সারা দুনিয়া এখন তাদের এবং তারা হচ্ছে আল্লাহর।লেখক : তারেক বিন হাম্জা
-

বগুড়ায় আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা শুরু বৃহস্পতিবার
এবিএনএ : আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ফজরের নামাজ আদায়ের পর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্যে দিয়ে বগুড়ার ধুনটে তিন দিনব্যাপী দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হতে যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের সরুগ্রাম স্কুলের সামনে বিশাল ময়দান ইজতেমার জন্য সাজানো হচ্ছে।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির সুরা সদস্য হুমায়ন কবীর বলেন, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ঢাকা কাকরাইল মসজিদের তত্ত্বাবধানে ৩৯তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে সমবেত হবেন। ইজতেমায় নবী রাসূলের তরিকা ও আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীসহ ধর্মীয় বিষয়াদী নিয়ে প্রতিদিন ফজর, যোহর, আছর ও মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে দেশ-বিদেশের ওলামায়ে কেরামগণ কোরআন ও হাদিস থেকে বয়ান করবেন। এছাড়া ইজতেমায় তাবলিগ জামায়াতের গুরুত্ব, কার্যক্রম ও করণীয় বিষয়ে মুসল্লিদের অবগত করবেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইজতেমা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আয়োজকগণ ইতিমধ্যেই শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবারও সৌদি আরব, মরক্কো, চাঁদ, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে মুসুল্লিরা ইজতেমার উদ্দেশ্যে তাবলীগ জামায়াতের মাধ্যমে এলাকার মসজিদগুলোতে জমায়েত হচ্ছেন।
ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ইজতেমা ময়দানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন। বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী ২৪ ডিসেম্বর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। -

আগামী বছর হজ গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধন শিগগিরই : ধর্মমন্ত্রী
এবিএনএ : ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছেন, ২০১৭ সালে হজ-গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত ১০ম হজ ও ওমরাহ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।চলতি বছর প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার হজযাত্রী হজের নিবন্ধন করতে পেরেছিলেন উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এদের মধ্যে হজ ব্যবস্থাপনার সদস্যসহ মোট ১ লাখ এক হাজার ৮৩৯ জন হজ করতে পেরেছেন। নিবন্ধন করা সত্ত্বেও যারা এ বছর হজে যেতে পারেননি ২০১৭ সালে হজ-গমনে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।তিনি হজ ও ওমরাহ মেলাকে হজযাত্রী ও এজেন্সিসমূহের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি অনন্য মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মেলায় এসে হজযাত্রীরা হজের বিভিন্ন সেবা সম্বন্ধে ধারণা পাবেন। এ থেকে তারা তাদের পছন্দসই এজেন্সির মাধ্যমে হজে গমনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে করে হজযাত্রীরা দালালদের হাত থেকে রেহাই পাবেন এবং চুক্তিকৃত সেবা লাভ করতে পারেন।হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল জলিল, হাবের মহাসচিব শেখ মো. আব্দুল্লাহ, হাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মো. ফারুক প্রমুখ বক্তৃতা করেন। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত এ মেলা চলবে। -

আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
এবিএনএ : আগামীকাল মঙ্গলবার গোটা জগতের মুসলমানদের আবেগ-অনুরাগ প্রানোত্সারিত ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাসে একাকার হওয়া প্রাণ-মন-মনন আকুল করা দিন। এদিন উত্সবের রোশনাইঘেরা বারোই রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী রহমাতুল্লিল আ’লামিন সাইয়েদুল মুরসালিন খাতামুন্নাবিয়ীন তাজদারে মদীনা জগতকুল শিরোমণি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ আহমদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহী ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ওফাত দিবস। আবেগে ভাসা কবির ভাষায়-‘তিনি আলোর মিনার, নূর মদিনার জান্নাতি বুলবুল’/তিনি যষ্টি মুকুল বৃষ্টি বকুল বৃষ্টি ভেজা ফুল/..নিখিলের চির সুন্দর সৃষ্টি আমার মুহাম্মদ রাসুল…।’প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে আইয়্যামে জাহেলিয়তের ঘনঘোর তমসা ছাওয়া ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে সুবহে সাদেকের সময় জাজিরাতুল আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোল আলো করে ’ত্রিভূবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়…। জন্মের পূর্বেই পিতৃহারা হন এবং জন্মের অল্পকাল পরই বঞ্চিত হন মাতৃস্নেহ থেকে। অনেক দুঃখ-কষ্ট আর অসীম প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠেন। চল্লি¬শ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের পক্ষ থেকে নবুওয়তের মহান দায়িত্ব লাভ করেন।’ তৌহিদেররই মুর্শিদ’ অসভ্য বর্বর ও পথহারা মানব জাতিকে সত্যের সংবাদ দিতে তাদের কাছে তুলে ধরেন মহান রাব্বুল আলামীনের তাওহীদের বাণী। কিন্তু অসভ্য-বর্বর আরব জাতি তাঁর দাওয়াত গ্রহণ না করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের উপর নিপীড়ন শুরু করে। বহুমাত্রিক শয়তানী চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র করতে থাকে একের পর এক। মহান আল্ল¬াহর সাহায্যের ওপর ভরসা করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে সত্যান্বেষী মানুষ তাঁর সাথী হতে থাকে। অন্যদিকে কাফেরদের ষড়যন্ত্রও প্রবল আকার ধারণ করে। এমনকি একপর্যায়ে তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে হত্যার নীলনকশা প্রনয়ন করে। রাসুল সাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম আল্ল¬াহর নির্দেশে জন্মভূমি ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেন। মদীনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আল্ল¬াহর আইন প্রতিষ্ঠা করেন এবং মদীনা সনদ নামে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। মদীনা সনদ বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসাবে খ্যাত। এ সংবিধানে ইহুদী, খৃস্টান, মুসলমানসহ সকলের অধিকার স্বীকৃত হয় সমান্তরালে। ২৩ বছর অক্লান্ত শ্রম,সমািহীনসাধনায় অবশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কামিয়াবী অর্জন করেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। বিদায় হজ্বের ভাষণে তিনি আল্ল¬াহর বাণী শুনিয়েছেন মানবজাতিকে ঃ’আজ থেকে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো। তোমাদের জন্য দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থা হিসাবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে।’হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম ইতিহাসের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাঁকে মানবজাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার বহুল আলোচিত ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে-কে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ’ হিসাবে স্থান দিয়েছেন। ব্রিটিশ মনীষী সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছেন, ‘এই অশান্ত পৃথিবীতে তার মতো একজন মানুষের প্রয়োজন। তিনি বেঁচে থাকলে পৃথিবী জুড়ে সুখের সুবাতাস বইতো। তাঁর আগমনে যে বিপ্ল¬বের সূচনা হয়েছিল দুনিয়া জুড়ে তা বিস্তৃত হয়েছে।’বিশ্ব নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের জন্মদিন ও ওফাত দিবস একদিনেই বলেই কথিত আছে। এবিষয়ে মতভেদ থাকলেও প্রতি বছর ১২ই রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসাবে পালন করেন সারা মুসলিম বিশ্ব। এ উপলক্ষে সীরাতুন্নবীর (সা.) আলোচনা,দরূদ পাঠ,দান-সদকা করে থাকেন। মিষ্টি-খাবার প্রভৃতি তৈরি করে বিতরণ করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম প্রেমিকরা অহর্নিশি ভক্তিভরে দরুদ পাঠে মশগুল থাকেন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের সীরাতের উপর আলোচনা,সিম্পোজিয়াম,সেমিনার ও মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন র্যালী বের করবে।দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্রও প্রকাশ করেছে। আজ সংবাদপত্রসমূহে ছুটি পালিত হবে। তাই আগামীকাল দৈনিক পত্রিকাসমূহ প্রকাশিত হবে না।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মুসলমান ভাই-বোনদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লামের আদর্শ নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।এদিকে আরব নিউজ জানায়, সৌদি আরবের সাবেক গ্রান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ আল-আশেখ এই নবী দিবসকে সামনে রেখে গোটা দুনিয়ার মুসলমানদের উদ্দেশ্যে এই মর্ম্মে আহবান জানান যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে সত্যিকারভাবে ভালবাসতে হলে তার রেখে যাওয়া শিক্ষাকে অনুসরণ করতে হবে। সুন্নাহকে অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপনই নবীজিকে ভালবাসা। আল্লাহ বলেছেন, “ বল : যদি তুমি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন এবং তোমার পাপ ক্ষমা করে দেবেন। মুসলমানদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, নবীর (সা.) জন্মদিন উদযাপন বিদআত বা পাপপূর্ণ আচার। ইসলামের ইতিহাসের শুরু থেকে তা ছিল না। অন্তত তিন শতাব্দী পর থেকে এটি ইসলামে ঢুকে গেছে। এ ব্যাপারে তিনি গ্রান্ড মুফতি বলেন, নবীর (সা.) শিক্ষা হচ্ছে তার সুন্নাহ অনুসরণ করা। তার শিক্ষা অনুশীলন করা। মেনে চলা। পবিত্র কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে গ্রান্ড মুফতি বলেন, মুসলমানদের সন্তান সন্ততি, ভাই, পিতা, মাতার চেয়ে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা:) কে অধিক প্রিয় মনে করা উচিত। আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) কে সব কাজে অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য। তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন না। -

আরবের নবী থেকে বিশ্বের নবী
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমেই এ পৃথিবীতে মহান আল্লাহর তাআলার শাশ্বত দ্বীন পৃথিবীতে পরিপূর্ণতা লাভ করে। হজরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে লক্ষাধিক নবী-রাসুল প্রেরণ ছিল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রেরণের ভূমিকাস্বরূপ, যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে মানবজগতে মহান আল্লাহ তাআলার দ্বীন পরিপূর্ণতায় পৌঁছে।
এই শাশ্বত দ্বীনের প্রথম রশ্মি উদ্ভাসিত হয় সমগ্র পৃথিবীর মধ্যমণি ও কেন্দ্রস্থল মক্কাতুল মোকাররমা থেকে। সেখানেই প্রেরিত হন মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সেখান থেকেই এ আলো ছড়িয়ে দেন বিশ্বময়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে মক্কাকেই কেন এ আলোর কেন্দ্রবিন্দু বানানো হলো? আসলে এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো, মহান আল্লাহ সারা জাহানের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা, তিনিই তাঁর সৃষ্টির সর্বাধিক কল্যাণ কিসে তা সবচেয়ে বেশি ও ভালো জানেন। তাঁর কাজের ওপর প্রশ্ন করার অধিকার কারো নেই। এ জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১২৪)
হ্যাঁ, তবে আল্লাহর কোনো কাজই হেকমতবহির্ভূত নয়, সে হিসেবে চিন্তা করলে আল্লাহর অনেক কাজের কিছু হেকমত ও রহস্য আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা বুঝতে পারি। যদিও সব রহস্য বুঝি না। তাই আমরা যদি এ বিষয় নিয়েও চিন্তা করি, তাহলে এতে অনেক রহস্য খুঁজে পাই।
পৃথিবীর সর্বপ্রথম সৃষ্ট জায়গা
বর্ণিত হয়েছে, কাবা শরিফের স্থানটুকু সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয়। কাবার নিচের অংশটুকু ছিল পৃথিবীর প্রথম জমিন। পরবর্তী সময় চতুষ্পার্শ্বে তা বিস্তার লাভ করতে থাকে। প্রথমে একটি বিশাল মহাদেশের সৃষ্টি হয়। এ কারণে মক্কা শরিফকে উম্মুল কুরা বা নগরীগুলোর মূল বলে অভিহিত করা হয়। (দেখুন : তারিখে তাবারি : ১/৪৯; আলবাদউ ওয়াত্তারিখ : ৪/৮১-৮২)
আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে, বর্তমানে যে সাতটি মহাদেশ আছে, সেগুলো মূলত একটি মহাদেশ আকারে ছিল। যাকে বলা হয় Mather Continent বা Pangaea. পরবর্তী সময় এগুলো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরতে সরতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছে।
পৃথিবীর সর্বপ্রথম ইবাদতের ঘর কাবা শরিফ
মহান আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কাবাঘর নির্মাণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। এটি বরকতময় ও হেদায়েত বিশ্ববাসীর জন্য। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৬)
হজরত আবু জর গিফারি থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, রাসুল (সা.) তাঁর একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘বিশ্বের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো মসজিদে হারাম। এর পরে হলো মসজিদে আকসা। মসজিদে হারামের ৪০ বছর পর মসজিদে আকসা নির্মিত হয়। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৬৬)
হজরত আদম (আ.) আল্লাহর আদেশে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন। এর পর থেকে আল্লাহর বান্দারা কাবাঘর জিয়ারত করতেন, কাবাপ্রান্তে সমবেত হয়ে আল্লাহর কাছে হাজিরা দিতেন। এভাবে চলতে চলতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার বছর অতিবাহিত হলো। আদম (আ.) থেকে আখেরি নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৃথিবীতে যত নবী-রাসুলের আগমন ঘটেছে, সবাই কোনো না কোনো সময় পবিত্র মক্কানগরীতে এসে বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করেছেন। (ফাজায়েলে মক্কা, হাসান বসরি : পৃ. ২২০)
কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণের সময় দোয়া
হজরত ইবরাহিম (আ.) ইসমাঈল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন। ইবরাহিম (আ.) কাবাঘর সংস্কারের পর আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন—‘হে আমার প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আজ্ঞাবহ করুন, আমাদের বংশ থেকে একটি অনুগত দল সৃষ্টি করুন, আমাদের হজের বিধান দান করুন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। হে প্রতিপালক! এদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াত তেলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৭-১২৯)
মহান আল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.)-এর বংশ থেকে সমগ্র পৃথিবীর হেদায়েতের জন্য মক্কার বিখ্যাত কোরাইশ বংশে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী ও রাসুল হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন।
ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-এর সন্তান থেকে ইসমাঈল (আ.)-কে নির্বাচন করেন এবং ইসমাঈল (আ.)-এর বংশ থেকে বনি কেনানাকে নির্বাচন করেন, বনি কেনানা থেকে কুরাইশকে নির্বাচন করেন, কুরাইশ থেকে বনি হাশেমকে নির্বাচন করেন এবং বনি হাশেম থেকে আমাকে নির্বাচন করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৭৬)
মক্কানগরীর ফজিলত ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক প্রিয় নগরী হলো মক্কা। ’ (মুসনাদে বায্যার, হাদিস : ৭৮৭৪)
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে মক্কা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। মক্কানগরী পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মহান আল্লাহ কাবাঘর মক্কায়ই স্থাপন করেন। গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। বৈজ্ঞানিকভাবে আমরা জানি যে বছরের একটি বিশেষ দিনে মধ্যাহ্নে সূর্য কাবা শরিফের ঠিক মাথার ওপরে অবস্থান করে। তখন কাবা শরিফ বা মক্কা শরিফে অবস্থিত কোনো অট্টালিকা বা কোনো স্থাপনারই ছায়া চোখে পড়ে না। পৃথিবীর অন্য কোনো স্থানে এরূপ ঘটে না। এতে প্রমাণিত হয়, পবিত্র কাবা ভূমণ্ডলের ঠিক মধ্যস্থলে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় কাবাকে পৃথিবীর কেন্দ্র বা হৃদয় বলা যায়।
এ জন্যই আল্লাহ বলেন, ‘আর এভাবেই আমি তোমার ওপর আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল করেছি, যাতে তুমি মূল জনপদ ও তার আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে পারো, আর যাতে একত্রিত হওয়ার দিনের ব্যাপারে সতর্ক করতে পারো, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। ’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৭) ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্যের দিক থেকেও মক্কানগরী মানবসভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এ নগরীতে হাজেরা (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত সাফা-মারওয়া, জমজম কূপ ও জান্নাতি পাথর হাজরে আসওয়াদসহ আল্লাহ তায়ালার অনেক নিদর্শন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৮)
মক্কা শরিফের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য
তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিকভাবে পৃথিবীর চারটি সাম্রাজ্য ছিল। এক. রোম সাম্রাজ্য, যা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু অংশে বিস্তৃত। দুই. পারস্য সাম্রাজ্য, যা এশিয়ার একটি বড় অংশ আফ্রিকার কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত। তিন. হিন্দুস্তান সাম্রাজ্য। চার. চীন সাম্রাজ্য। আর এসব সাম্রাজ্যই মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও পতনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়, যার কোনো সমাধান তাদের কাছে ছিল না। ফেতনা-ফাসাদ, মারামারি-হানাহানি, অবাধ যৌনতা, পশুত্বসহ মানব ইতিহাসের সর্বনিকৃষ্টতায় পৌঁছে যায়। তাই এহেন মুহূর্তেই প্রয়োজন ছিল ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার, মানবতার আলোকবর্তিকারূপে সারা জাহানকে আলোকিত করার। আর এর জন্য প্রয়োজন ছিল এমন একটি জায়গার, যা পূর্বে উল্লিখিত এসব সাম্রাজ্যের আয়ত্তের বাইরে। আর তা-ই হচ্ছে জাজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ। যেখানে নির্দিষ্ট কোনো সম্রাটের আয়ত্ত ও অধিকার ছিল না। যেখানে ওই মুহূর্তে কোনো হুকুমত, সেনাবাহিনী, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি, অর্থব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি কিছুই ছিল না এবং নিয়মতান্ত্রিক কোনো ধর্মেরও প্রভাব ছিল না; বরং সবাই তখন পৌত্তলিকতায় নিমজ্জিত ছিল। এমনই একটি প্রভাবশূন্য জায়গা থেকে নতুন বিপ্লব শুরু হওয়াই যৌক্তিক ছিল।
সঙ্গে সঙ্গে এই জায়গার মানুষজন যদিও উপরোক্ত চার সাম্রাজ্যের লোকদের মতো পাপের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল; কিন্তু তাদের বিশেষ কিছু গুণের জন্য পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠী থেকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল, যার কারণে তারাই ছিল নববিপ্লব সফল করার সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত জাতি। তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য থেকে তাদের বীরত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ, ভাষার বিশুদ্ধতা, ত্যাগ, ধৈর্যক্ষমতা, সিদ্ধান্তে অবিচলতা, মেহমানদারি ও আত্মীয়তার সম্পর্কের বন্ধন ইত্যাদি অন্যতম।
গোটা পৃথিবী সে সময় দুই ভাগে বিভক্ত ছিল—আরব ও আজম। আরব মানে সাহিত্যপ্রেমী ও বিশুদ্ধভাষী। আর আজম মানে বোবা, মূক। মহানবী (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভাষাভাষী। তাই তাঁকে আরবে পাঠানো হয়েছে।
লেখক : ফতোয়া গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার