Category: ধর্ম

  • প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া ও প্রার্থনা শুক্রবার

    প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া ও প্রার্থনা শুক্রবার

    এবিএনএ : প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্য শুক্রবার দেশব্যাপী দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ।

    দল ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।

    দলীয় সূত্র জানায়, এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জুম্মা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দুপুর ১২টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দু সম্প্রদায়, সকাল সাড়ে ১০টায় মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মন্দিরে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল ৯টায় মিরপুরের সেনপাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘে খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে।

    গত রোববার হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ‘রাঙা প্রভাত’-এ যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দেয়। পরে তুর্কমেনিস্তানেরর আশখাবাতে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। পরে যান্ত্রিক ক্রুটি সারানোর পর একই ফ্লাইটে হাঙ্গেরি যান প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশটির রাজধানী বুদাপেস্ট যেতে প্রধানমন্ত্রীর চার ঘণ্টা বিলম্ব হয়।

    এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে সারাদেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দোয়া ও প্রার্থনা কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

  • আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই

    আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই

    এবিএনএ : আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রসুল বা প্রেরিত পুরুষ এটি হলো ইমানের মূল ভিত্তি। ইসলাম এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে পরকালে জান্নাতের সান্নিধ্য পেতে হলে আল্লাহ এবং রসুুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত জীবন বিধানে অটল থাকতে হবে। এখলাসের সঙ্গে একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সব ইবাদত পালন করতে হবে। আল্লাহ ও তার রসুলের পথকে যারা আগ্রহ্য করবেন তাদের কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইমানের সত্তরের অধিক শাখা-প্রশাখা তথা বিধিবিধান রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্কৃষ্ট শাখা হলো আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই ঘোষণা করা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক কোনো বস্তু দূর করা। আর লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ শাখা। (বুখারি ও মুসলিম) আল্লাহকে একমাত্র মাবুদ হিসেবে মনেপ্রাণে স্বীকার করা এবং তার ইবাদতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে অসংখ্য হাদিসে। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঘটনাক্রমে আমরা একদিন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় সাদা পোশাকধারী ও কালো কেশের অধিকারী এক লোক আমাদের সামনে এলেন। যার শরীর ও পোশাকে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। আমাদের কেউ তাকে চিনতে পারছিল না। লোকটি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে পড়লেন। অতঃপর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর সঙ্গে নিজের দুই হাঁটু মিশিয়ে এবং নিজের দুই হাত তার দুই ঊরুর ওপর রেখে আরজ করলেন, হে মুহাম্মদ (সা.) আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। হুজুর (সা.) উত্তর করলেন ইসলাম হলো তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তার রসুল। নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, রমজানে রোজা রাখবে এবং বায়তুল্লাহ শরিফে তুমি যদি পৌঁছতে সক্ষম হও তবে হজ করবে। লোকটি বললেন ঠিকই বললেন। তার এ কথায় আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি স্বয়ং হুজুরকে প্রশ্নও করলেন আবার তিনিই তাকে সত্যবাদী বলে মন্তব্য করলেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমাকে বলুন ইমান কাকে বলে? রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন আল্লাহপাককে বিশ্বাস করবে, তার ফেরেশতা, তার কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। লোকটি পুনঃজিজ্ঞাসা করলেন— ইহসান কি? উত্তরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইহসান হলো তুমি আল্লাহপাকের ইবাদত এরূপ করবে, যেন তুমি তাকে দেখছ।  আর যদি তুমি তাকে দেখতে না-ই পাও তাহলে এরূপে ইবাদত করবে যেন তিনি তোমাকে দেখছেন।  এসব কথা শুনে লোকটি বললেন, আপনি সত্যিই বললেন। (বুখারি ও মুসলিম)। লেখক : ইসলামী গবেষক।

  • রিযিক বৃদ্ধির কুরআনি আমল

    রিযিক বৃদ্ধির কুরআনি আমল

    এবিএনএ : কুরআন মানুষের জীবন পরিচালনার গাইড। আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন জাতিকে পৃথিবীতে তাঁর ইবাদাত-বন্দেগি করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ জীবন পরিচালনার জন্য তিনি গাইডস্বরূপ কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন।

    কুরআনে মানুষের সব সমাধান রয়েছে। কুরআনের বিধান পালনের সঙ্গে সঙ্গে কুরআনি আমল করাও মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্তই হলো হালাল জীবিকা উপার্জন করা। তাই হালাল রিযিক লাভের কুরআনি আমল তুলে ধরা হলো-

    Doa

    উচ্চারণ : আল্লাহু লাতিফুম্ বি-ই’বাদিহি ইয়ারযুকু মাইঁয়্যাশায়ু, ওয়া হুয়াল কাওইয়্যুল আজিজ।

    অর্থ : আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। (সুরা শুরা : আয়াত ১৯)।

    আমল
    প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে, একনিষ্ঠতার সঙ্গে ৭০ বার এ আয়াত পড়া। যে বা যারা নিয়মিত এ আমল করবে; আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে রিযিকের সংকট থেকে মুক্তি দান করবেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধি-বিধান পালনের সঙ্গে সঙ্গে কুরআনের উল্লিখিত আয়াতে আমলটি নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সফর মাস ও আখেরি চাহর সোম্বা সম্পর্কিত কিছু কথা

    সফর মাস ও আখেরি চাহর সোম্বা সম্পর্কিত কিছু কথা

    এবিএনএ : হিজরি (আরবি) বছরের দ্বিতীয় মাস হলো সফর। এ মাসের উল্লেখযোগ্য বিশেষ কোনো মর্যাদা বা ফজিলত সম্পর্কিত বর্ণনা নিই। কিন্তু মুমিন বান্দার ইবাদাতের জন্য আল্লাহর সৃষ্টি প্রতিটি দিন-রাত-মাস-বছরই গুরুত্বপূর্ণ। সে হিসেবে সফর মাসও এর বাইরে নয়।

    আল্লাহ তাআলার রহমত, বরকত, কল্যাণ লাভ করতে হলে প্রতিটি দিন এবং রাতেই বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ, ওয়াজিব এবং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  সুন্নত, মুস্তাহাব ও নফল আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। পাশাপাশি গভীর রজনীতে নফল ইবাদাত, তাহাজ্জুদ নামাজ ও জিকির-আজকার করে প্রভুর দরবারে পরকালের সফলতা লাভে রোনাজারি করতে হবে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস শেষ হওয়ার সুসংবাদ দেবে, আমি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং সফর মাসের শিগগিরই অবসান কামনা করেছেন। এ কারণে অনেকে এই মাসকে একটি দুঃখের মাস মনে করেন।

    তাই এ মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদাত করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির সমূদয় অকল্যাণ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করতে হবে। সফর মাসের হাদিসটির ব্যাপারে ইসলামি চিন্তাবিদগণ দুইটি মত তুলে ধরেছেন-

    প্রথম মত
    হাদিসটি সম্পূর্ণ জাল, মিথ্যা যা আদৌ রাসুলের হাদিস নয়, রবং যারা এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই হাদিস সংরক্ষণকারী নয়।

    দ্বিতীয় মত
    হাদিসটি সহিহ, তবে এ হাদিসের প্রেক্ষাপট কী তা জানতে হবে। মূলত হাদিসটি একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে এ বক্তব্য প্রদান করেছেন।

    একবার হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূরের এক জনপদে যান। সেখান থেকে ফিরতে তাঁর অনেক বিলম্ব হচ্ছিল। কোনো চিঠি বা সংবাদও আসছে না।

    এমতাবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রিয় সাহাবির জন্য চিন্তিত হয়ে পড়লেন। ঐ সময় একটি চিঠি এলো, তাতে লেখা ছিল- ‘হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি সফর মাস শেষে মদিনায় ফিরব। কিন্তু তখনো সফর মাসের বেশ সময় বাকি।

    তাই তিনি হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময় সফর মাস দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে কথাগুলো বলছিলেন যে, কখন সফর মাস শেষ হবে। সফর মাস সংশ্লিষ্ট হাদিসটি ঐ সময়ের।

    আখেরি চাহর সোম্বা
    এ মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহর সোম্বা বলা হয়। সাধারণ মুসলমানগণ এ দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে। কিন্তু আখেরি চাহার সোম্বা কী? তা অনেকেই জানে না।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফর মাসের শেষ দিকে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে যান। সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি অনেকটাই সুস্থতা লাভ করেন। এ খুশিতে অনেক সাহাবি বিভিন্নভাবে দান-সাদকা করেছেন। এ দান-সাদকা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ।

    আখেরি চাহর সোম্বা পালনের বিষয়ে এমন কোনো হাদিস বা দলিল নেই যে, পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরাম এ দিনটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর দান-সাদকা করেছেন।

    যেহেতু ঐ সময় থেকে শুরু করে পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরামদের যুগে তা ছিল না, সে হিসাবে আখেরি চাহর সোম্বা ঘটা করে পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    তবে…
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল ছিল প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা। যাকে আইয়ামে বিজের রোজা বলা হয়ে থাকে।

    সুতরাং আইয়ামে বিজের রোজা রাখলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। সুতরাং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল আইয়ামে বিজের রোজা রাখা অনেক সাওয়াবের কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আমল।

    পরিশেষে…
    সফর মাসকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ইবাদাত নয় বরং আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট সব দিন-রাত-মাসের ইবাদাত-বন্দেগি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ; সেহেতু দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে এবং উভয় জগতের সকল অপকারিতে ও অকল্যাণ থেকে মুক্ত থাকতে নফল নামাজ, আইয়ামের বিজের রোজা পালন এবং দান-সাদকায় আত্মনিয়োগ করা জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি অন্যায় কাজ থেকে ফিরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্ব ইজতেমা শুরু ১৩ জানুয়ারি

    বিশ্ব ইজতেমা শুরু ১৩ জানুয়ারি

    এবিএনএ : টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে। প্রথম দফায় ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

    আর দ্বিতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ইতজেমা হবে। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক থেকে এ তথ্য জানা যায়।

  • স্ত্রীর সাথে যে ৪টি আচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ

    স্ত্রীর সাথে যে ৪টি আচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ

    এবিএনএ : লেখাটি লিখবো কিনা এ নিয়ে দুমিনিট ভাবছি। কারণ জ্ঞানীরা বলে গেছেন, “ ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।“ ইদানীং নারী পুরুষের বিবাহিত সেক্সুয়াল লাইফ এ কিছু কিছু সমস্যা প্রকট আকারে সামনে চলে এসেছে। বিবাহিত জীবন গড়াচ্ছে ডিভোর্স পর্যন্ত। অস্বাভাবিক সেক্সুয়াল লাইফের বলি হিসেবে মহিলারা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা পি, আই, ডিতে ভুগছেন। মেডিকেল ট্রিটমেন্ট ফেইলুরের
    পর সার্জারি করেও শেষ রক্ষা হয়না। ব্যথা ময় এক জীবন বয়ে বেড়ান।

    পুরুষ নারী নির্বিশেষে যৌন বাহিত অসুখবিসুখ তো আছেই। আর মনের উপর যে ভয়াবহ চাপ পড়ে মেন্টাল ট্রমা তৈরি হয় সে প্রসঙ্গ নাই বা বললাম, মনের ব্যাপারটাতো চির উপেক্ষিত আমাদের সমাজে।

    কথা হল, একজন কনজারভেটিভ আর নতুন প্র্যাকটিসিং মুসলিম সর্বোপরি একজন ডাক্তার হিসেবে সমস্যাগুলো দেখে, রবি গুরুর ব্রজেশ্বরের মত জঞ্জাল দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাব, নাকি সুকান্তের মত, “প্রাণ পণে সরাব জঞ্জাল”?

    আসলে সময় এসেছে কিছু কিছু ব্যাপারে শালীনতার মধ্য থেকেই আলোচনা করার। কারণ আমরা অনেক কিছুই জানিনা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন, দীর্ঘ ১২ বছর পড়াশুনা করে এইছ, এস, সি পাশ দিলেও কেউ না পারে ইহকালে রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করতে, আর না হয় তার নৈতিক জ্ঞান ,যা দিয়ে সে বাকি জীবন সঠিক ভাবে চলার দিক নির্দেশনা পাবে। মাছি মারা কেরানী ছাড়া আর কিছুই হতে পারিনা আমরা;  পরবর্তী উচ্চশিক্ষায় ও নৈতিক বিষয়টি কোন স্থান পায়না। তাই আমাদের জ্ঞানের অভাব আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্যতার উপরেই বর্তায়।

    তবুও একটি আশাবাদী কথা দিয়েই শুরু করি। আপনি কি জানেন? মুসলিমদের সেক্সুয়াল লাইফকে মেডিকেলে খুবই এপ্রিশিয়েট করা হয়। গাইনি মেডিকেল বই এ মুসলিম সেক্সুয়াল বিহেভিয়ারের প্রশংসা করে লেখা থাকে, “মুসলিম ছেলেদের সারকামসেশন (মুসলমানি) করা থাকে তাই তাদের স্ত্রীর অমুক অসুখ কম হয়। অথবা সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স এ মুসলিম রা অমুক নিয়মটি ফলো করে তাই তাদের অমুক অসুখটি কম হয়।”

    “মুসলিমদের কি সেক্সের আলাদা নিয়ম আছে?” ঝট করে প্রশ্নটি মনে জাগে।

    আমার পরম শ্রদ্ধেয় সার্জারির প্রফেসরের উক্তি মনে পড়ে গেলো। সদা হাস্যময়ী স্যার বলেছিলেন, “Breast feeding (নবজাতকের মায়ের দুধ পান করা) & Sexual intercourse (সেক্স করা) reflexly মানুষ শিখে যায়, এটা কাউকে শিখাতে হয় না। “

    এখানেই কথা আছে কিন্তু। রিফলেক্সলি ঠিক জিনিসটি শিখার আগেই প্রযুক্তির অকল্যাণে বিধ্বংসী কিছু পারভার্সন ঢুকে গেছে স্বাভাবিক যৌন জীবনে।

    কিভাবে? ইন্ডিয়ার কিছু চটি সাইট আছে ওগুলোর মূল ভিজিটর বাংলাদেশি। আর ইন্ডিয়ান ভিজিটর বাংলাদেশের ভিজিটরের অর্ধেকের ও কম। আর অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলোর মূল ভিজিটর আসে অশালীন রগরগে সংবাদগুলো থেকে। তারা দেশে এরকম সংবাদ না পেলে বিদেশ থেকে সংবাদ আমদানি করে।

    লক্ষ্য করে থাকবেন এই রোজার মাসেও ভিজিটরের লোভে সানি লিওনের সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত হয়নি। মোবাইলে মোবাইলে অশালীন ভিডিও সহজে কিনতেও পাওয়া যায় যারা নেট ইউজ করেনা তাদের সুবিধার জন্য।

    তাহলে বুঝাই যায় মুসলিম প্রধান দেশ হওয়া শর্তেও পর্ণোগ্রাফী বাংলাদেশে দারুণ জনপ্রিয়। আর পর্ণো পড়ার সময় বা দেখার সময় আমাদের কয়জনের মনে থাকে, এগুলি কিন্তু গুনাহ। চোখের ব্যভিচার।

    এই সহজলভ্য পর্ণো আর চটিসাইট গুলো মানুষের স্বাভাবিক যৌন জীবন কে অস্বাভাবিকতা দিয়ে রিপ্লেস করে দিয়েছে। সংসার জীবনে নেমে এসেছে অশান্তি ।
    “ভালবেসে স্ত্রীর দিকে তাকালেও সোয়াব” এই সব হাদিস উঠে গিয়ে এসেছে, “LOVE করে আর লাভ নেই রে পাগলা।”

    মানুষ সেক্সুয়াল লাইফ নিয়ে পুরোই বেদিশা। তারা শুধু ছুটছে। “কই আমিতো পর্ণো ছবির পুরুষ বা মহিলাটির মত আনন্দে আত্মহারা হলাম না। হয়ত আমার ওয়াইফ বা হাসবেন্ড ঠিক পারছে না। কোথায়? কোথায় আছে সেই সোনার হরিণ। কোথায় সেই আনন্দের ফোয়ারা? সবাই পায়, আমি পাই না কেন?”

    বিবাহ বহির্ভূত সেক্স, হোমোসেক্সুয়ালিটি, এনাল সেক্স মহামারির মত ছড়িয়ে গেছে।
    দুনিয়াতে এত মজা নিলে আখেরাত কিন্তু অন্ধকার। আজ আমরা জানবো ইসলামে সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার এ ৪ টি নিষিদ্ধ ক্ষেত্র।
    EXtramerital sex
    Sexual intercourse during menstruation and Puerperium
    Homosexuality
    Anal Sex

    # Extramerital sex
    বিবাহ বহির্ভূত সেক্স– এর কারণে সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, মোনিলিয়াসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসিস, ব্যাকটেরিয়াল ভেজাইনোসিস, জেনিটাল হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্টস প্রভৃতি সমস্যা আর তাদের কমপ্লিকেশন তো আছেই। সারভাইক্যাল ক্যন্সার (জরায়ু মুখের ক্যান্সার) যার মূল কারণ হিউমেন প্যাপিলোমা ভাইরাস তাও ট্রান্সমিট হয়। আর ঘাতক ব্যাধি এইডস তো আছেই।

    আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, “তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেওনা , কারণ এটি অশ্লীল ও মন্দ পথ।” ( সূরা বনী ইসরাইল, ৩২)

    # যে মুহাররামাত মহিলার সাথে যিনা করবে তার হুকুম :

    যে ব্যক্তি কোন মুহররামাত (যাদেরকে বিবাহ করা হারাম) যেমন– আপন, বোন, কন্যা ও বাবার স্ত্রী ইত্যাদি এর সাথে হারাম জানা স্বর্তেও যিনা করবে তাকে হত্যা করা ফরজ।

    বারা ইবনে আজেব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমার চাচাকে ঝান্ডা উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেখে বললাম কোথায় চলেছেন? তিনি বললেন-আমাকে রাসুল করিম (সাঃ) প্রেরণ করেছেন ঐ মানুষের নিকট যে তার বাবার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে। তিনি ( সাঃ ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার জন্য এবং সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য। (সহীহ হাদিস, তিরমিজি হাদিস নং ১৩৬২, নাসাঈ হাদিস নং ৩৩৩২)।

    তাহলে ইনচেস্ট (Incest) ভর্তি পর্নো চটি সাইট গুলো আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য বাহী মূল্যবোধ সম্পন্ন সম্পর্ক গুলোকে কোথায় নিয়ে চলেছে?

    # Homosexuality (সমকামিতা)
    লূত (আঃ) এর সময়ের আগে পৃথিবীতে হোমোসেক্সুয়ালিটি ছিলনা। সমকামিতা চরিত্র আর স্বভাব বিধ্বংসী এক জঘন্যতম অপরাধ ইসলামের দৃষ্টিতে। লূত (আঃ) এর জাতি এ অপকর্ম করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দিয়েছেন। তাদের উপর পাথর বৃষ্টি নিক্ষেপ করেছেন। এ ছাড়া শেষ বিচারের দিনেও তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

    আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “এবং আমি লূতকে পাঠিয়েছি। যখন সে নিজ জাতিকে বলল- তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে গোটা বিশ্বের কেউ করেনি? তোমরাতো কামবশতঃ পুরুষের নিকট গমন কর মহিলাদের ছেড়ে। এবং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছো। [সূরা আরাফ ৮০-৮৪]

    আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- “অবশেষে যখন আমার আদেশ পৌঁছল , আমি উক্ত জনপদকে উপুড় করে নীচ করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম। যার প্রতিটি তোমার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল। এবং পাপিষ্ঠ দের কাছ থেকে বেশি দূরেও নয়। “(সুরা হূদ ৮২-৮৩)

    আর রাসুল (সাঃ) বলেন, “তোমরা লূতের জাতির কর্ম অবস্থায় যাকে পাবে তার কর্তা এবং কর্ম উভয়কে হত্যা করবে।(সহীহ হাদিস আবু দাউদ হাদিস নং ৪৪৬২ , তিরমিযী হাদিস নং ১৪৫৬)

    হোমোসেক্সুয়ালিটি জন্মগত ভাবে আসে, হোমোদের এমন আজব কথা তাদের নিজেদের আবিষ্কার।

    # Anal sex
    Anus (মলদ্বার) অনেক রকম মাইক্রোওর্গানিজম দিয়ে পূর্ণ। আনহাইজিনিক সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কারণে ফিমেল পার্টনার ভয়াবহ রকমের পি, আই, ডি তে আক্রান্ত হয়ে যায়। এনাল ফিসার, পাইলস হবার ঝুঁকি বাড়ে। এনাল স্ফিংটার এর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়।

    হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে এনাল সেক্স (নিতম্বে সহবাস) করবে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না ।”(নাসাঈ আল ইশ্রাহ ২/ ৭৭- ৭৮/১ ; তিরমিযী ১/২১৮)

    হাদিসে আরো আছে, “যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করবে সে লা’নত প্রাপ্ত” (আবু দাউদ ২১৬২, আহমদ ২/ ৪৪৪, ৪৭৯)

    # Sexual intercourse during menstruation and puerperium –(পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে আর সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ৪০ (৪৫) দিনের মধ্যে সহবাস)
    পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নরমাল ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। মহিলাদের প্রজনন অঙ্গের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। একই ঘটনা ঘটে সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ৪০-৪৫ দিন। আর এসময়ের সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স প্রজনন অঙ্গ গুলোতে ভয়াবহ ইনফেকশন ঘটায় লোকাল অর্গানিজম।

    স্ত্রীর হায়ে্য (পিরিয়ড) চলাকালীন তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য হারাম। (ফথুল কাদীর, ১/২০০)

    আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর তারা তোমার নিকট হায়ে্য প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে। তাহলে বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট। কাজেই তোমরা হায়েয চলাকালীন সময় সহবাস থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের নিকটে যাও যেভাবে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদের ভালবাসেন। (সুরা আল বাকারাহ ২২২)

    এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি হায়েযাহ নারীর সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস (এনাল সেক্স) করে, জ্যোতিষীর নিকট যায় আর জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করে তাহলে সে মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি কুফরি করল।”

    তাহলে এই হল চারটি বিধি নিষেধ।

    উপসংহার হিসেবে কয়েকটি কথা বলি। জাতি হিসেবে আমরা হীন মন্যতায় ভোগা জাতি। নিজের দেশ ভাল লাগে না। গরীব। নিজের ভাষা ভাল লাগে না। টিভি, এফ,এম রেডিওতে বাংরেজি ভাষায় কি যে কথা বলি আমরা নিজেদেরই বুঝতে কষ্ট। নিজের সংস্কৃতি ভাল লাগে না। সেদিন দেখলাম এক টিভি চ্যানেল নাম ৭১, ফিমেল নিউজ প্রেজেন্টার শার্ট, কোর্ট পরে খবর পড়ছেন। এটা কি আমাদের নতুন সংযোজিত বাঙ্গালী সংস্কৃতি কিনা জানি না। আমাদের নিজেদের ধর্ম ও ভাল লাগে না। দু কলম পড়াশুনা করে অনেকেই নিজের ধর্মকে মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে নামাজ, রোজাকে শিকেয় তুলে রেখেছেন। আমাদের ধর্ম বাস করে ঈদের বিপণী বিতানে, পোশাক কেনার মধ্যেই আমাদের ঈদ। কোরবানির সময় বড় ধার্মিকতার পরিচয় দিয়ে লাখ টাকার গরু, উট কুরবানি দিই নাকি জবাই দেই। শ্বশুর বাড়ি থেকে কি পশু পাঠাল কুরবানি দেয়ার জন্য তার হিসেব করি।

    এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করার মানুষিকতা তৈরি হোক আমাদের। জন্মসূত্রে পাওয়া মুসলিম পরিচয় কে শানিত করে প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হয়ে উঠার তৌফিক আল্লাহ যেন আমাদের দেয়। ইসলামের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাংলাদেশি প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হোক আমাদের পরিচয়।

    অত্যন্ত ব্যথাতুর লাগছে এটা ভাবতেই যে পবিত্র রমজান মাস শেষের দিকে। এই পবিত্র সময়ে নিজের কাছে নিজেই অঙ্গীকার করি, ইসলামের আলোর নীচে আসার। দেখেন, চীনের মুসলিমদের এবার জোর করে রোজা ভাঙ্গানো হয়েছে। রোজা রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে সে দেশে। গাজায় শত শত মুসলিম মারা যাচ্ছে। শিশুদের সারি সারি লাশ দেখে দুঃখে মন ভরে যায়। আফগানিস্তানে ও দেশীয় সন্ত্রাসীদের হাতে শত শত মুসলিম মারা গেছে।

    সে তুলনায় আমরা আল্লাহর করুণা ধারায় বাস করছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানানো দরকার। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা যে যে অবস্থায় আছি না কেন ,আল্লাহ যেন আমাদের উপর তাঁর রহমত বর্ষণ করেন। আমাদের দুঃখ দূর করে দেন। শান্তি ও কল্যাণের মধ্যে আমাদের রাখেন। বালা মুসিবত, অসুখ বিসুখ দূর করে দেন। আমাদের ঈমানী জোর বৃদ্ধি করেন। বিপদে ধৈর্যধারণের তৌফিক দেন। সারা জাহানের সমস্ত মানুষের কষ্ট দূর করে দিন। একজন জীবন্মৃত কে প্রাণচঞ্চলতা দান করুন। আমিন।

  • আজ শ্যামা পূজা

    আজ শ্যামা পূজা

    এবিএনএ : হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামা পূজা বা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
    হিন্দু পূরাণ মতে কালী দেবী দূর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালি নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই রয়েছে কালীপূজার মহাত্ম। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।
    কালী পূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন।
    রাজধানী ঢাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন সিদ্ধেশরী কালী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, সবুজবাগ থানাধীন বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, কমলাপুর স্কুল মাঠে সনাতন ছাত্র সংঘ , পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ৮৪নং বনগ্রাম রোডস্থ রাধাগোবিন্দ জিঁও ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, সূত্রাপুরের বিহারীলাল জিঁও মন্দির, গৌতম মন্দির, রামসীতা মন্দির, ঠাটারী বাজারে শিব মন্দির, তাঁতী বাজার, শাখারী বাজার, বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন মন্ডপ ও মন্দিরে শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
    বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে আজ মধ্য রাতে। এর আগে সন্ধ্যায় গঙ্গাসাগর দিঘির চারপাশে আতশ বাজির প্রদর্শনী এবং সহস্রাধিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে ।
    রমনা কালী মন্দির এবং আনন্দময়ী আশ্রমে দেশবাসী এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় সন্ধ্যায় মন্দির প্রাঙ্গনে ৫ হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দীপাবলী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আগামীকাল পূজার দিন এবং পরের দিন রোববার বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠে পূজা অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে।

  • কু-ধারণা পোষণ বা অপবাদ কবিরা গুনাহ

    কু-ধারণা পোষণ বা অপবাদ কবিরা গুনাহ

    এবিএনএ : ইসলাম অপর মানুষ সম্পর্কে সুধারণা পোষণকে উৎসাহিত করেছে নিরুৎসাহিত করেছে কু-ধারণা পোষণ তথা অপবাদ দেওয়াকে। অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা এক মানুষের সঙ্গে অপর মানুষের সুসম্পর্কে চিড় ধরায়। সামাজিক ও জাতীয় ঐক্যের জন্যও প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে এ ধরনের প্রবণতা। যে কারণে ইসলামে অপবাদ দেওয়ার প্রবণতাকে ধিক্কার দেওয়া হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিতে অপর মুসলমানকে অপবাদ দেওয়া কবিরা গুনাহ। মহান আল্লাহপাক বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ সূরা আহ্যাব-৫৮।

    আল্লাহপাক আরও বলেন, ‘তোমরা একজন আরেকজনের দোষ তালাশ করে বেড়িও না এবং কারও অগোচরে গিবত কর না।’ হজরত আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, নবীপাক (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সেই হবে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিন্দনীয় ব্যক্তি, যার অশ্লীল কথা শোনার ভয়ে মানুষ তার কাছ থেকে দূরে থাকে বা তার সংশ্রব ত্যাগ করে। বোখারি ও মুসলিম।

    রসুল (সা.) আরও বলেন, ‘ওহে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহপাক তোমাদের ওপর থেকে অনুদারতা উঠিয়ে দিয়েছেন। তবে যে লোক তার মুসলিম ভাইয়ের ইজ্জত সম্মান নিয়ে যাচ্ছেতাই করে, তার ব্যাপার স্বতন্ত্র। সে অনুদারতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে অথবা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ হজরত আবু হোরায়রা বর্ণিত মুসলিম ও তিরমিজি শরিফের এক হাদিসে আছে, ‘এক মুসলমানের জন্য আরেক মুসলমানের রক্ত ঝরানো, সম্পদ ও সম্ভ্রমহানি করা অবৈধ হারাম।’ মুসলিম বর্ণিত আরেক হাদিসে আছে, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই। কেউ কারোর প্রতি অত্যাচার চালায় না, একজন আরেকজনকে অসম্মান, অশ্রদ্ধা করে না। কোনো মুসলমানের জন্য এর চেয়ে জঘন্য কাজ আর নেই, সে তার মুসলিম ভাইকে ঘৃণা বা অশ্রদ্ধা করবে।’ সহিহ বোখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হাদিসে রসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি কাজ, আর তার সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া কুফরি কাজ।’ হাকিম ইবনে হেব্বান, আহমাদ ও বায্যার হজরত আবু হোরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণনা করেন, একবার রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমীপে অভিযোগ এলো ‘অমুক স্ত্রীলোক সারারাত নামাজ পড়ে এবং প্রতিদিন রোজা রাখে; কিন্তু সে তার প্রতিবেশীদের (তিক্ত কথায়) দুঃখ দেয়।’ রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তাতে কল্যাণ নেই, সে দোজখে যাবে।’ আল্লাহ আমাদের সবাইকে সদাচরণের তওফিক দান করুন।

  • প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব শুরু, রাতের আকাশে উড়বে ফানুস

    প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব শুরু, রাতের আকাশে উড়বে ফানুস

    এবিএনএ : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। রবিবার থেকে তিন দিনব্যাপী উপজেলার রাখাইদের পাড়ায় পাড়ায় রাতের আকাশে উড়বে ফানুস। চলছে রাখাইন নারীদের বিন্নি চালের নানা রকমের বাহারী পিঠা পুলি তৈরির ধুম। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি রাখাইনপাড়ার বৌদ্ধ বিহারগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

    স্থানীয় রাখাইন সস্প্রদায় সূত্রে জানা গেছে, প্রবারণা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরই রাতের আকাশে ফানুস উড়ানো। এতে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে রাখাইন সম্প্রদায়ের যুবকরা। এ ফানুস উড়ানো দৃশ্য দেখার জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোকজন রাখাইনপাড়াগুলোর আশেপাশে সমবেত হয়। তিন রাতে বিভিন্ন পাড়া থেকে অন্তত: শতাধিক ফানুস আকাশে উড়ানো হবে বলে আয়োজনকারীরা জানিয়েছেন।

    গোড়া আমখোলা পাড়ার বিজয় রামা বিহারের ভিক্ষু উ-সুচিটা বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এ প্রবারণা পূর্ণিমা। এই দিন গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। এ কারণে এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    রাখাইন বুদ্ধিষ্ট ওয়েল ফেয়ারের সভাপতি বাবু উথাচিন তালুকদার জানান, ফানুস উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। কুয়াকাটাসহ উপজেলার ২৭টি পল্লীর রাখাইনরা এ উৎসব এক যোগে পালন করেছে।

    কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমান জানান, এটি রাখাইনদের উৎসব হলেও বর্তমানে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ফানুস উড়ানো উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি পাড়ায় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

  • সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় পবিত্র আশুরার চেতনা

    সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় পবিত্র আশুরার চেতনা

    এ বি এন এ : আজ বুধবার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    ১০ মহররম বা আশুরা দিবসে ঐতিহাসিক বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবহ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে আশুরা দিবস বিভিন্ন ঘটনাপুঞ্জে সমৃদ্ধ থাকলেও সর্বশেষে সংঘটিত কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) শাহাদাতই এ দিবসের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

    পবিত্র আশুরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তা‍ৎপর্যময় একটি দিবস। আমরা জানি, পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামে সব সময় সত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও সহচরেরা ৬১ হিজরিতে এদিন ইয়াজিদের সৈন্যবাহিনীর হাতে কারবালায় নির্মমভাবে শহীদ হন। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তার এ আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগের মহিমা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হজরত হোসাইনের (রা.) জুলুম-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার এবং অসত্য ও অন্যায় প্রতিরোধের ঘটনায় রয়েছে মানবজীবনের জন্য শিক্ষণীয় অনেক কিছু।

    নবী-দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ছিলেন সত্যের প্রতীক। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাতিলের রক্তচক্ষু তাকে এতটুকু বিচ্যুত করতে পারেনি। কারবালার ঘটনা মানবজাতির ইতিহাসে এক মর্মন্তুদ শোকাবহ ঘটনা হিসেবে স্থান পেয়েছে। এখন পর্যন্ত সারা দুনিয়ার মুসলিম সমাজ, এমনকি জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে নিপীড়িত মানুষ এ শোকাবহ ঘটনাকে স্মরণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা লাভ করেন। কারবালার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সুমহান আত্মত্যাগের কাহিনী নয়, এটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত প্রতিবাদের এক অনন্য সাধারণ বীরত্বগাথা। অপরদিকে এ ঘটনার ভেতর দিয়ে ক্ষমতালোভী মানুষের নৈতিক অধঃপতন, ক্ষমতার মোহ ও অর্থলিপ্সার হীন চরিত্র ফুটে উঠেছে।

    কারবালা ট্র্যাজেডির বদৌলতেই ইসলাম স্বমহিমায় পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সেদিন ইমাম হোসাইন (রা.) যদি ইয়াজিদের সঙ্গে আপস করতেন, তাহলে রাজ সিংহাসন তার বশীভূত হতো। কিন্তু নিজের স্বার্থ ও ক্ষমতালিন্সা তাকে গ্রাস করেনি। লোভ-মোহের ঊর্ধ্বে উঠে ইমাম হোসাইন (রা.) বুকের তাজা রক্ত প্রবাহিত করে ইসলামের চিরশাশ্বত নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত করলেন। কারবালার রক্তাক্ত সিঁড়ি বেয়েই ইসলামের পুনরুজ্জীবন ঘটে।

    হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাতবরণের ঘটনা ১০ মহররম আশুরাকে দিয়েছে বিশেষ মাত্রা ও ত্যাগের মহিমা। এদিন শুধু শোক আর বেদনা নয়, বরং কারবালা আমাদের অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে, আত্মত্যাগে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। ইমাম হোসাইন (রা.) অসত্য ও অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদের অন্যায় দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তিনি এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনবাজি রেখে সপরিবারে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি, ইসলামের ইতিহাস তাদের অমর করেছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরায় শাশ্বত বাণী তাই আমাদেরকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।

    বস্তুত, কারবালার ঘটনা কোনো আহাজারি কিংবা মাতমের বিষয় নয়, এটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের লড়াই। ইমাম হোসাইন (রা.) আজ অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে গণ্য। বিশ্বজুড়েই আজ সত্য-অসত্যের ও ন্যায়-অন্যায়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে। অসত্য ও অন্যায়ই যেন প্রবলভাবে বিরাজমান। যে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নবী-দৌহিত্র কারবালায় আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই চেতনার অভাবের কারণে আজ অসত্য ও অন্যায়ের প্রবল প্রতাপ। আশুরার শিক্ষা আমাদের সব অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেওয়ার সাহস জোগায়, আত্মত্যাগের আহ্বান জানায়।

    আসলে, কারবালার সেই চেতনাকে ধারণ করতে না পারলে, শুধু শোক আর মাতম করে কোনো লাভ নেই। যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, অসত্য ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং কোনো দেশ-জাতি-রাষ্ট্র বা সমাজে এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করাই কারবালার অতুলনীয় শিক্ষা। বিষয়টি মনেপ্রাণে উপলব্ধি করে তা ধারণই হলো আশুরার মূল শিক্ষা।