Category: ধর্ম

  • মূর্তি সরানোর দাবি বায়তুল মোকাররমে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান

    মূর্তি সরানোর দাবি বায়তুল মোকাররমে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান

    এবিএনএ : সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম এলাকায় অবস্থান নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ যোগ দিয়েছে। ফলে পল্টন মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দলটির প্রচার সম্পাদক আহমদ আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, সমাবেশে যোগ দিতে নেতাকর্মীরা সারাদেশ থেকে ঢাকায় এসেছেন।

    সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর  মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য  সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব  মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন উপস্থিত রয়েছেন।

    এর আগে ২০ এপ্রিলের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরাতে আল্টিমেটাম দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির ২১ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার কথা ছিল। পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় বায়তুল মোকাররমের সামনে নামাজের পর সমাবেশ করবে। সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও ঐক্য কামনা

    বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও ঐক্য কামনা

    এবিএনএ : বায়তুল মুকাররম মসজিদে আজ জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল নামে। জুমার নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশে সফররত সউদী আরবের পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতীব শায়খ ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাসিম।

    এর আগে তিনি বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করেন। এদিকে আজ সকাল ১০টা থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মুসল্লিরা বায়তুল মুকাররম মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিতে ছুটে যান। এ সময় আশ-পাশের রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লীরা রাজপথে জুমার নামাজ আদায়ে শরিক হন।

    বাংলাদেশে সফররত সউদী আরবের পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতীব শায়খ ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাসিম শুক্রবার জুমার নামাজের আগেই বায়তুল মুকাররম মসজিদে উপস্থিত হন। এ সময় তার সাথে পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদুন নববীর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনারেল শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসের আল খুজাইমসহ সফররত সৌদি প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ জুমার নামাজ ও মুনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আমন্ত্রণে এই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছেন।

  • সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত

    সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত

    এবিএনএ : পুরো কুরআন শরীফের গুরুত্বপূর্ণ সূরা ফাতিহা। এ সূরার মাধ্যমেই সূচনা হয়েছে পবিত্র কুরআনের। সূরাটিকে আল কুরআনের সার সংক্ষেপও বলা হয়। এ সূরা নাজিল হয়েছে মানুষের সার্বিক কল্যাণ মুক্তি ও পথপ্রদর্শক হিসেবে। সূরাটি ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অন্য সব সূরার আলাদা।

    সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য :
    ১) এই সূরা কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সূরা। তাওরাত, জবুর, ইনজিল, কুরআন কোনো কিতাবে এই সূরার তুলনীয় কোন সূরা নেই। বুখারি, মিশকাত : ২১৪২

    ২) এই সূরা এবং সূরায়ে বাকারা’র শেষ তিনটি আয়াত হল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ নূর, যা ইতিপূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

    ৩) যে ব্যক্তি নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার ছালাত অপূর্ণাঙ্গ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিনবার বললেন। মিশকাত : ৮২৩

    ৪) আবু সা‘ঈদ খুদরী রা. বলেন, একবার এক সফরে আমাদের এক সাথী জনৈক গোত্রপতিকে শুধুমাত্র সূরায়ে ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন এবং তিনি সুস্থ হন। বুখারি শরীফ : ৫৪০৫

    সুরা ফাতিহার বিশেষ মর্যাদা হলো, আল্লাহ এটিকে নিজের ও নিজের বান্দার মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। একে বাদ দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়। সেজন্যই এর নাম দেয়া হয়েছে ‘উম্মুল কুরআন’। পবিত্র কুরআন মূলত তিনটি বিষয়ে বিন্যস্ত। তাওহীদ, আহকাম ও নছীহত। সূরায়ে ইখলাছে ‘তাওহীদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকার কারণে তা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু সূরায়ে ফাতিহায় তিনটি বিষয় একত্রে থাকার কারণে তা ‘উম্মুল কুরআন’ হওয়ার মহত্তম মর্যাদা লাভে ধন্য হয়েছে। তাফসীরে কুরতুবী : ১৪৮

    সূরা ফাতিহার ফজিলত :
    সুরা ফাতিহার ফজিলত অপরিসীম। এর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিন্মরূপ।

    ১) উবাই ইবনু কা‘ব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ উম্মুল কুরআনের মত তাওরাত ও ইনজিলে কিছু নাযিল করেননি। এটিকেই বলা হয়, ‘আস-সাব‘উল মাছানী’ (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), যাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, সে যা চাইবে’। নাসায়ী শরীফ : ৩১৯

    ২) আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা সূরা ফাতিহা পড়। কোন বান্দা যখন বলে, আলহামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামীন, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। যখন বলে, আর-রহমা-নির রহীম, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। বান্দা যখন বলে, মালিকি ইয়াউমিদ্দীন। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। বান্দা যখন বলে, ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যা কানাস্তাইন, আল্লাহ বলেন, এ হচ্ছে আমার ও আমার বান্দার মাঝের কথা। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চায়। বান্দা যখন বলে, ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম.. (শেষ পর্যন্ত)। আল্লাহ বলেন, এসব হচ্ছে আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চায়। মুসলিম শরীফ : ৩৯৫

    ৩) ইবনে আববাস (রা.) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিবরাঈল (আ.) উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল (আ.) ওপর দিকে এক শব্দ শুনতে পেলেন এবং চক্ষু আকাশের দিকে করে বললেন, এ হচ্ছে আকাশের একটি দরজা যা পূর্বে কোনদিন খোলা হয়নি। সে দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। তা আপনার পূর্বে কোন নবীকে প্রদান করা হয়নি। তা হচ্ছে সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষ দু’আয়াত। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

    সূরা ফাতিহার সর্বাধিক পরিচিত নাম ‘সূরাতুল ফাতিহা’। তারপরও সূরা ফাতিহার স্থান, মর্যাদা, বিষয়বস্তু, ভাবভাষা, প্রতিপাদ্য বিষয় ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে এর বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক নামের সাথেই সূরাটির সামঞ্জস্য বিদ্যমান। এই সূরাটির ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকেই সূরা ফাতিহার প্রতি আমল করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

  • প্রযুক্তি ইসলামের কাজে সহায়ক হতে পারে

    প্রযুক্তি ইসলামের কাজে সহায়ক হতে পারে

    এবিএনএ : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, আল্লাহ এমন অনেক কিছুই সৃষ্টি করেন যা তোমরা জান না।’ –সূরা নাহল: ৮ প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান প্রযুক্তির নতুন আবিষ্কার প্রকৃতপক্ষে এ আয়াতেরই বাস্তবরূপ। আর আল্লাহতায়ালা যা সৃষ্টি করেন তা কোনো না কোনোভাবে মানুষের উপকারের জন্যই। সুতরাং নতুন নতুন প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপকারের সঙ্গে মানবিক সীমারেখা রেখে এগুলোকে পার্থিব ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করাই যুক্তিসঙ্গত।

    প্রায়ই অনেককে বলতে শুনি, ইসলাম ও প্রযুক্তির মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই, প্রযুক্তি এবং ইসলামকে কখনও এক করা যাবে না। প্রযুক্তি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রযুক্তি মানুষকে দিন দিন ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধারণা ঠিক নয়, ইসলাম ও প্রযুক্তি আদৌ সাংঘর্ষিত নয়। বরং প্রযুক্তি ইসলামের কাজে সহায়ক হতে পারে। প্রযুক্তির সাহায্যে ইসলামের কাজ করা এখন সহজ হয়েছে।

    অনেককে এটাও বলতে শুনেছি মিডিয়া ও প্রযুক্তি মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। অনেকের ধারণা মিডিয়া হলো শুধুমাত্র একটা বিনোদন মাধ্যম। এমন কথারও কোনো ভিত্তি নেই। আসলে প্রতিটি বিষয়েরই ভালো-মন্দ দু’টি দিক রয়েছে। আর এ ভালো-মন্দটা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ওপর।

    ইন্টারনেট এখন অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্ণ একটা দিন তো দূরের কথা, মাত্র কয়েক ঘণ্টাও মানুষ এখন ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না। ইন্টারনেটে প্রায় সব বিষয়ের তথ্যই রয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে অনেকে তথ্যও পাওয়া যায় এখানে। ইসলামের ইতিহাস, হজরত নবী করিম (সা.)-এর জীবনী, নবী যুগের অবস্থা, ইসলামি গ্রন্থ, কোরআনের তাফসির, হাদিসের গ্রন্থ ও এসবের ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।

    ইন্টারনেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো- ইউটিউব। ইউটিউবে নানা বিষয়ের চ্যানেল আছে। সেসব চ্যানেলে ইসলামি বক্তৃতা পাওয়া যায়। তাফসিরুল কোরআন, সিরাত ও ফেরাকে বাতেলার মতো বড় বড় সভার বক্তৃতাগুলো এখানে সংরক্ষিতভাবে পাওয়া যায়। যে কারণে অনেক মানুষ ঘরে বসেই ইসলামের অসংখ্য বিষয় শিখতে পারছে খুব সহজে।

    বর্তমানে যোগাযোগ মাধ্যমের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো- ফেসসবুক। সমাজের ছোট-বড়, যুবক, বৃদ্ধ, ধনী-গরিব প্রায় সবাই এখন ফেসবুকের সঙ্গে পরিচিত। ফেসবুক জগৎটাই অন্যরকম। যদিও তার ইতিবাচক দিক থেকে নেতিবাচক দিক বেশি কিন্তু তার এ ভালো-মন্দটা নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর।

    ফেসবুকেও এখন অনেক ইসলামি পেজ আছে। যেগুলোতে ইসলামের অনেক শিক্ষণীয় বিষয় পোস্ট করা হয়। কোরআন-হাদিসের তথ্যও পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলোর অধিকাংশই ভুলে ভরা। এখানে সম্পৃক্ত হয়ে ইসলাম বিষয়ে অভিজ্ঞদের কাজ করতে হবে।

    এখন মানুষের হাতে হাতে আছে স্মার্ট ফোন। ধার্মিক মানুষের ধারণা স্মার্ট ফোন তরুণ প্রজন্মের সময় নষ্টের অন্যতম কারণ। কিন্তু এ স্মার্ট ফোন অনেক উপকারেও আসে। এখানে কোরআন-হাদিস এবং অনেক বড় বড় গ্রন্থ রাখা যায়। আজানের সময় এলার্ম দেওয়া, দিক নির্ণয় এমন বহুবিধ সুবিধাই পাওয়া যায় স্মার্ট ফোন থেকে।

    কিছু মানুষের ধারণা প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এগুলো বর্তমান প্রজন্মের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ। এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক না। আসলে বর্তমান প্রজন্ম এগুলো থেকে অনেক কিছু শিখছেন। প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেটের সুব্যবহারের মাধ্যমেই তো তারা ভবিষ্যতে ইসলামকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে প্রচার করতে পারবেন।

  • বিপদের সময় যে দোয়াটি পাঠ করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়া’লা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন

    বিপদের সময় যে দোয়াটি পাঠ করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়া’লা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন

    এবিএনএ : বিপদে পড়েননি এমন মানুষ খুজে পাওয়া ভার। সবাই কম-বেশি বিপদে পড়েছেন। কেউ একবার আর কেউ বহুবার। কিন্তু কখনো কি বিপদে পড়লে কোন দোয়া পড়েছেন? হয়তো বলবেন, বিপদের সময় দোয়া পড়ার কথা মনেই থাকে না।
    একটি দোয়া পাঠ করলেই ভীষন বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। মূল্যবান সেই দোয়াটি এবার আমরা জনবো।

    দোয়াটি হলো- ‘আল্লাহুম্মাস তুর আওরাতীনা ওয়া আমীন রাওয়াতীনা’

    প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ননা করেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় আমরা আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর নিকট আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! এ নাযুক মুহুর্তের জন্য কি কোন দোয়া আছে? আতংকের আতিশায্যে আমাদের হৃদপিন্ড যেন কন্ঠনালী পর্যন্ত এসে যাচ্ছে।
    উত্তরে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর দরবারে এ ভাবে দোয়া কর, ‘আল্লাহুম্মাস তুর আওরাতীনা ওয়া আমীন রাওয়াতীনা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের সকল দুর্বলতাকে ঢেকে রাখুন এবং আমাদের আস্থিরতাকে স্থিরতায় পরিনত করুন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী(রাঃ) বলেন, আল্লাহ তায়া’লা বাতাস পাঠিয়ে শত্রুদের মুখ থুবড়ে দিলেন এবং বাতাসের মাধ্যমেই তাদেরক ধ্বংস করে দিলেন।

  • তিনটি গুণের অধিকারী ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন

    তিনটি গুণের অধিকারী ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন

    এবিএনএ : কিয়ামতের মাঠে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মানুষের ইহকালের হিসাব নিকাশ করে মুমিন বান্দাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং পাপি বান্দাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

    তবে আল্লাহ পাক কিছু ব্যক্তিদের কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসে বিস্তারীত উল্লেখ রয়েছে।

    হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোক হিসাব-নিকাশ ব্যতিরেকেই বেহেশতে প্রবেশ করবে।

    তারা হলো, মন্ত্রতন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করায় না, অশুভ লক্ষণাদিতে বিশ্বাস করে না এবং তারা শুধু তাদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে। (বোখারি ও মুসলিম)।

    এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় একমাত্র আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে, অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা।

    এর দ্বারা আরও প্রমাণিত হয়, আমাদের সমাজে প্রচলিত জাদুবিদ্যা, মন্ত্রতন্ত্র, ঝাড়ফুঁক, কবিরাজি ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ এতে নাজায়েজ অনেক কাজও হয়। আল্লাহর ওপর কোনো আস্থা থাকে না।

    থাকে কবিরাজের কারিশমা ও জাদুমন্ত্রের ওপর। তবে চিকিৎসা করা সুন্নত। কারণ, নবী করিম (সা.) নিজেও অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা করেছিলেন।
    জান্নাত সম্পর্কে বিশ্ব নবীর চল্লিশ কথা-

    ১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উম্মতের মধ্য মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে।- [আহমদ, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- আবু ওমামা (রা.)]

    ২) যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অবশিষ্ট সকল মানুষ হতে হিসেব নেয়ার নির্দেশ করা হবে। [বায়হাকি- আসমা (রা.)]

    ৩) জান্নাতে জান্নাতবাসীরা প্রতি জুমাবারে বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীদের রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। [মুসলিম- আনাস রা.)]

    ৪) জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। [তিরমিজী ওবাই ইবনে সামেত (রা.)]

    ৫) জান্নাত সমস্ত পৃথিবী থেকে উত্তম। (মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)

    ৬) জান্নাতবাসীনী কোন নারী (হুর) যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগত আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান জমীনের

    মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে। তাদের মাথার উরনাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাশি থেকে উত্তম। [বুখারী- আনাস (রা.)]

    ৭) জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। [মুয়াত্তা- আবু হুরাইরা (রা.)]

    ৮) জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোন সাওয়ারী যদি ১০০ বছরও সাওয়ার করে তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

    ৯) জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরী ৬০ মাইল লম্বা একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী হবে সোনা ও রুপার। [বুখারী, মুসলিম আবু মুসা (রা.)]

    ১০) পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে কোন্দল ও হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না।

    (খ) তারা কখনো রোগাক্রান্ত হবে না।

    (গ) তাদের পেশাব পায়খানা হবে না।

    (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না।

    (ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না।

    (চ) তাদের চিরুনী হবে সোনার চিরুনী।

    (ছ) তাদের ধুনীর জ্বালানী হবে আগরের।

    (জ) তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি।

    (ঝ) তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়।

    (ঞ) তাদের শাররীক গঠন হবে (আদী পিতা) আদম (আ:) এর ন্যয়। [বুখারী, মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

    ১১) জান্নাতীদের খাবারগুলো ঢেকুর এবং মিশকঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নি:শেষ হয়ে যাবে। [বুখারী, মুসলিমযাবির (রা.)]

    ১২) জান্নাতীরা সুখে শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ডুবে থাকবে। হতাসা দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না। পোশাক পরিচ্ছেদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

    ১৩) জান্নাতবাসীরা সব সময় জীবিত থাকবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক থাকবে বৃদ্ধ হবে না। [মুসলিম আবু সাঈদ (রা.)]

    ১৪) জান্নাতে (এমন) এক দল প্রবেশ করবে, যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো। [মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.)]

    ১৫) জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্টি দান করেছি, তোমাদের উপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হবো না। [বুখারী, মুসলিমআবু সাঈদ (রা.)]

    ১৬) জান্নাতের নহরে পরিণত হবে- সায়হান, জায়হান, ফোরাত ও নীল নদী। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ১৭) জান্নাতে বান্দার আশা আকাঙ্খার দ্বিগুণ দেয়া হবে। [মুসলিম – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ১৮) জান্নাতের দরওয়াজা ৪০ বছরের দুরত্বে সমান, এমন এক দিন আসবে যে তাও ভরপুর হয়ে যাবে। [মুসলিম-উতবা ইবনে খাজওয়ান (রা.)]

    ১৯) জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রোপ্য দ্বারা তৈরী। কঙ্কর হলো মনি মুক্তা, আর মসল্লা হলো সুগন্ধীময় কস্তুরী। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ২০) জান্নাতের সকল গাছের কা- হবে সোনার। [তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ২১) জান্নাতের ১০০ টি স্তর আছে, দু’স্তরের মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। [(তিরমিজী – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ২২) জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কো এক স্তরে সারা বিশ্বের সকল লোক একত্রিত হলেও তা যথেষ্ট হবে। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]

    ২৩) জান্নাতের উচ্চ বিছানা (সুরুরুম মারফুআ) আসমান জমীনর মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ- ৫০০ শত বছরের পথ। [তিরমিজী আবু সাঈদ (রা.)]

    ২৪) জান্নাত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের শক্তি দান করা হবে। [(তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ২৫) জান্নাতবাসীগণ কেশবিহীন দাড়িবিহীন হবে। তাদের চোক সুরমায়িত হবে। [তিরমিজ – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ২৬) জান্নাতবাসীগণ ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিজী, ময়াজ ইবনে জাবাল (রা.)]

    ২৭) জান্নাতে অবস্থিত কাওসার এর পানি দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে। [তিরমিজীআসান (রা.)]

    ২৮) জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে। [তিরমিজী-আবু বুরাইদা (রা.)]

    ২৯) জান্নাতবাসীদের ১২০ কাতার হবে। তার মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০ কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। [তিরমিজী- বুরাইদা (রা.)]

    ৩০) জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের আকৃতিসমূহ থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোন আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃেিত রূপান্তরিত হবে। [(তিরমিজী- আলী (রা.)]

    ৩১) জান্নাতবাসীদের উপর এক খণ্ড মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের উপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর কখনো পায়নি।

    জান্নাতের বাজারে একজন আরেকজনের সাথে সাক্ষাত করবে এবং তার পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আশ্চার্যান্নিত হবে।

    কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরো উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে, জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোন স্থান নেই।

    তাদের স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসলে তারা বলবে তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ- সাইধ ইবনে মুসায়েব (রা.)]

    ৩২) নিম্নমানের জান্নাতবাসীর জন্যে ৮০ হাজার খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী হবে। ছোট্ট বয়সী বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে

    প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনো বৃদ্ধি হবে না। জান্নাতবাসীগণ যখন সন্তান কামনা করবে,

    তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে। [তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ- আবু সাঈদ (রা.)]

    ৩৩) জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শুনা যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনো শুনা যায় নি। তারা বলবে-

    আমরা চিরদিন থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না।

    আমরা সুখে আনন্দে থাকবো, কখনো দুঃখ দুশ্চিন্তা হবে না।

    আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো নাখোশ হবো না।

    সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্যে আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি। [তিরমিজী- আলী (রা.]

    ৩৪) জান্নাতে রয়েছে, ১. পানির সমূদ্র ২. মধুর সমুদ্র ৩. দুধের সমুদ্র ৪. শরাবের সমুদ্র। তার পর তা থেকে আরো বহু নদী প্রবাহিত

    হবে।- [তিরমিজী- হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.)]

    ৩৫) জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে। তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের পলকে অংকুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল কাটা হবে।

    এমন কি পাহাড় পরিমাণ স্তুপ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও, কোন কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয়না। [বুখারী – আবু হুরায়রা (রা.)]

    ৩৬) জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে। একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে

    বলবে, “আমি অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত” তার পরনে রং বেরং এর ৭০ খানা শাড়ী পরিহিত থাকবে এবং তার ভিতর দিয়েই তার পায়ের নলার মজা দেখা যাবে। তার মাথার মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান রৌশনী করে দিবে। [আহমদ- আবু সাঈদ (রা.)]

    ৩৭) জান্নাতবাসীগণ নিদ্রা যাবে না। নিদ্রাতো মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না। [বায়হাকী- যাবের (রা.)]

    ৩৮) আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তোলে ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসীরা আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও

    তার দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কোন বস্তুই এযাবত তাদেরকে প্রদান করা হয়নি। [মুসলিম- সুহায়ব (রা.)]

    ৩৯) বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: কবরে মুমিন বান্দার কাছে দু‘জন ফেরেশতা আসে তাকে উঠিয়ে বসাবেন। তার পর তাকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমার রব কে?

    সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দ্বীন কি? সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে?

    সে উত্তর দেয়, তারা উত্তর দেয়, তিনি হলেন ‘আল্লাহর রাসূল’। তারা জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব কিভাবে জানলে? সে উত্তর দেয়,

    আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা

    করবেন- আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও।

    তখন তা খুলে দেওয়া হয়। রাসূল (সা.) বলেন: ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের

    স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। (আহমদ আবু দাউদ)

    ৪০) যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে, তাকে (সমাজে কুরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, কুরআনে বর্ণিত হালালসমূহকে হালাল

    জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে করেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০

    জনে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিযী হযরত আলী হতে)

  • সবচেয়ে কম বয়সী হাফেজ সুহাইমা

    সবচেয়ে কম বয়সী হাফেজ সুহাইমা

    এবিএনএ : মাত্র ৭ বছরেরও কম বয়সে পবিত্র কুরআনুল কারিম হিফজ সম্পন্ন করেছে শিশু আয়েশা সিদ্দিকা সুহাইমা। হাফেজ আয়িশা সিদ্দিকা সুহাইমার বয়স মাত্র ৬ বছর ৮ মাস।

    হাফেজা আয়িশা সিদ্দিকা সুহাইমার পিতা-মাতার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান রাজধানীর টিকাটুলীর মারকাজুল হাফেজা ইন্টারন্যাশনালের ছাত্রী ছিল সে। পিতার মাতার নিবিড় তত্ত্বাবধানে অল্প বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয় সে।

    হাফেজ আয়িশা সিদ্দিকা সুহাইমার বাবা কারী সালামাতুল্লাহ এ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং মা হাফেজ আবিদা সুলতানা এ মাদরাসার শিক্ষিক। তাদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার মুন্সিরডেইল গ্রামের।

    উল্লেখ্য যে, পিতা-মাতার নিয়মিত তত্ত্বাবধানে সে অল্প বয়সে কুরআনুল কারিম হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। এ মাদরাসা থেকে এ বছর ৮ জন ছাত্রী হিফজ সম্পন্ন করেছে। আগামী ৩১ মার্চ জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।

    হাফেজ আয়িশা সিদ্দিকা সুহাইমা সবার দোয়া প্রার্থী। আল্লাহ তাআলা এ ক্ষুধে হাফেজকে কুরআনের খেদমতে কুবল করুন। কুরআনের বাণী মানুষের নিকট পৌছে দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হজ প্যাকেজ অনুমোদন

    সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হজ প্যাকেজ অনুমোদন

    এবিএনএ : চলতি বছরও সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনের বিধান রেখে ‘হজ প্যাকেজ, ২০১৭’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এবার হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ এবং প্যাকেজ-২ এ ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা খরচ করতে হবে।
    সচিবালয়ে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে হজ প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান। গত হজের তুলনায় এবার প্যাকেজ-১ এ খরচ বেড়েছে ২১ হাজার ৪৮০ টাকা ও প্যাকেজ-২ এ বেড়েছে ১৪ হাজার ৪৫২ টাকা। গত হজে প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হয় ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা। অপরদিকে প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে খরচ হয় ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা। এবার বাংলাদেশিদের হজ পালনে সর্বনিম্ন ব্যয় হবে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা। একই সঙ্গে সংশোধিত ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি ১৪৩৮ (২০১৭)’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর (৯ জিলহ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। গত বছর প্রথমবারের মতো ‘হজ ই-সার্ভিস’ এর আওতায় হজে গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করেন। এরপর হজ প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করে এ বছর বাংলাদেশের নাগরিকরা হজে যান।
    চলতি বছর সরকারিভাবে হজে গমনেচ্ছুদের প্রাক-নিবন্ধন গত ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে।

  • আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

    আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

    এবিএনএ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। হেদায়েতি বয়ানের পর বেলা ১১টার দিকে মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় বেলা পৌনে ১২টার দিকে। দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের প্রধান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্দলভী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন।
    এর আগে হেদায়েতি বয়ানও পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ। বয়ানের অনুবাদ করেন মাওলানা ওমর ফারুক। বাদ ফজর থেকে বয়ান করেন মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম। রবিবার ভোর রাত থেকে শীত উপক্ষো করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে থাকে।
    চার দিন বিরতির পর গত ২০ জানুয়ারি (শুক্রবার) ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয়। আজ রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমার মোনাজাতে অংশ নিতে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান টঙ্গীর তুরাগ তীরে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতও বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়।

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ গমনেচ্ছুদের প্রাকনিবন্ধন শুরু

    সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ গমনেচ্ছুদের প্রাকনিবন্ধন শুরু

    এবিএনএ : সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০১৭ সালে হজে গমনেচ্ছুদের অনলাইনে প্রাকনিবন্ধন শুরু হয়েছে। রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান। এ সময় ধর্ম সচিব আব্দুল জলিলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
    তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের প্রাকনিবন্ধন শুরু হলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন শুরু হবে ফেব্রুয়ারি মাসে। তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
    অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, গত বছর থেকে ইলেকট্রনিক হজ ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। এবারও তা চলবে। প্রাকনিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর জন্য আমরা ইতিমধ্যেই ৯৬৪টি বৈধ হজ এসেন্সির তালিকা এবং টাকা জমা দেয়ার জন্য ২৫টি ব্যাংকের তালিকা প্রকাশ করেছি। গত বছর এক লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ জন হজে যাওয়ার জন্য প্রাকনিবন্ধন করেছিলেন। যার মধ্যে এক লাখ এক হাজার ৮২৯ জন হজযাত্রী হজে গিয়েছিলেন। গতবার যারা যেতে পারেননি তারা ২০১৭ সালের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
    তিনি আরও বলেন, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের প্রাকনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে ৫৪০২ নম্বর সিরিয়াল থেকে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের প্রাকনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এক লাখ ৪০ হাজার ৯৯৫ নম্বর সিরিয়াল থেকে।
    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোস্তফা কামাল এবং তার স্ত্রী মিসেস কামাল নিবন্ধন ও প্রাকনিবন্ধন করে ধর্মমন্ত্রীর কাছ থেকে সনদ গ্রহণ করেন।