Category: ধর্ম

  • আশুরায় হোসনী দালানে তাজিয়া মিছিল

    আশুরায় হোসনী দালানে তাজিয়া মিছিল

    এবিএনএ : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণে তাজিয়া মিছিল বের করেছে শিয়া সম্প্রদায়।
    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনী দালান ইমামবাড়া থেকে এ মিছিল বের হয়। এর আগে রাতভর হোসনী দালানে চলে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান।

    গত বছর হোসনী দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় এবছর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পুরো এলাকা ও আশে-পাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রয়েছে হোসনী দালানসহ মিছিলের গন্তব্য স্থানসমুহ। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তাজিয়া মিছিলের হোসনী দালান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবককে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত করেন।

    হোসনী দালান এলাকায়  ও তাজিয়া মিছিলে ‘হায় হোসেন’ বলে মাতম তোলেন শিয়া মুসলমানরা। তবে রাতে কারবালার ঘটনা নিয়ে মুরব্বিরা বয়ান রাখেন। হোসনী দালানের তত্ত্বাবধায়ক এম এম ফিরোজ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, রাতভর বয়ানের পর সকালে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি হোসনী দালান থেকে বের হয়ে বকশী বাজার লেন, কলপাড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দুরোড ঢাল, লালবাগ চৌরাস্তা, এমিতখানা রোড, আজিমপুর মেটারনিটি, নীলক্ষেত মোড়, সিটি কলেজ, ধানমন্ডি-২, রাইফেলস স্কয়ার হয়ে অস্থায়ী কারবালায় (বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের উল্টো দিক) এসে শেষ করবেন।

    এবছর তাজিয়া মিছিলে পুলিশের নির্দেশনার কারণে জিঞ্জির, দা, ছুরি, ঢোল, লাঠি, আগুন খেলাসহ অন্যান্য অস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ ছিল। ২০১৫ সালে হোসনী দালান এলাকায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে দুইজনের মৃত্যু ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিল।

  • দুর্গোত্সবের আজ মহাসপ্তমী

    দুর্গোত্সবের আজ মহাসপ্তমী

    এ বি এন এ : দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে গতকাল শুরু হলো শারদীয় দুর্গোত্সব। আজ থেকে সাড়ম্বরের মাত্রাটা বাড়বে। বছরান্তে আশ্বিন-কার্তিকের পঞ্চমী থেকে দশমী তিথির পাঁচটি দিবস ‘জগজ্জননী’ উমা দেবীর পিতৃগৃহ ঘুরে যাওয়া। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে যেন ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুর হৃদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার। দেশের হাজার হাজার পূজামণ্ডপ এখন উত্সব মাতোয়ারা।
    বাহারি পোশাকে আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে রাঙিয়ে উত্সব-আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ আলোকসজ্জায় রঙিন হয়ে ওঠে। আলোকসজ্জায় এবার আনা হয়েছে ভিন্নতা। এছাড়া মন্দিরে মন্দিরে শোনা যায় উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য। গতকাল ছিল মহাষষ্ঠী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ পূজা দেখতে আসছেন।
    শারদীয় দুর্গোত্সবের আজ মহাসপ্তমী। আজ শুরু হচ্ছে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ। মূলত দুর্গোত্সবের মূল পর্বও শুরু হচ্ছে আজ। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাত্ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রি নয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, সপ্তমীতে পূর্বাহ্ন ৯-৫৭ মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত। আগামীকাল মহাষ্টমী। পূর্বাহ্ন ৯-৫৮ মধ্যে মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্ত। রাত্র ১২-৩৫ গতে সন্ধিপূজা আরম্ভ, ১২-২৪ সন্ধিপূজা সমাপন। প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে মহাষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। পাঁচ দিনের শারদ উত্সব শেষ হবে ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।
    এক সময় ঢাকার দুর্গাপূজা সীমাবদ্ধ ছিল পুরান ঢাকার কোতোয়ালি এলাকায়। বিগত কয়েক বছর ধরে পুরো ঢাকায় পূজা আয়োজন হচ্ছে মহাসমারোহে। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা কমিটি, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কলাবাগান সর্বজনীন পূজা উত্সব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ও ব্যক্তিগতভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উত্সবমুখর পরিবেশে।
    এ বছর সারাদেশে ২৯ হাজারেরও বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মণ্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

     

  • ঠাকুর দেখতে মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়

    ঠাকুর দেখতে মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়

    এ বি এন এ : দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হলো শারদীয় দুর্গোত্সব। আগামীকাল থেকে সাড়ম্বরের মাত্রাটা বাড়বে। বছরান্তে আশ্বিন-কার্তিকের পঞ্চমী থেকে দশমী তিথির পাঁচটি দিবস ‘জগজ্জননী’ উমা দেবীর পিতৃগৃহ ঘুরে যাওয়া। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে যেন ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুর হূদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার। দেশের হাজারো পূজামণ্ডপ এখন উত্সব মাতোয়ারা।
    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দল বেঁধে পূজা দেখতে আসছে। উত্সবপ্রিয় বাঙালি মেতে ওঠে পূজার আনন্দে। বিকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোয় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বাহারী পোশাকে আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে রাঙ্গিয়ে উত্সব-আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঝলমলে আলোকসজ্জায় রঙিন হয়ে ওঠে। আলোকসজ্জায় এবার আনা হয়েছে ভিন্নতা। এ ছাড়া মন্দিরে মন্দিরে শোনা যাচ্ছে উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য। গতকাল ছিল মহাষষ্ঠী।
    শারদীয় দুর্গোত্সবের আগামীকাল মহাসপ্তমী। এদিন শুরু হচ্ছে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ। মূলত:দুর্গোত্সবের মূল পর্বও শুরু হচ্ছে কাল। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাত্ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে সপ্তমীতে পূর্বাহ ৯-৫৭ মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত। আগামীকাল মহাষ্টমী। পূর্বাহ ৯-৫৮ মধ্যে মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্ত। রাত্র ১২-৩৫ গতে সন্ধিপূজা আরম্ভ, ১২-২৪ সন্ধিপূজা সমাপন। প্রতিবছরের মত এবারও ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ মিশনে মহাস্টমিতে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। পাঁচ দিনের শারদ উত্সব শেষ হবে ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।
    এক সময় ঢাকার দুর্গাপূজা সীমাবদ্ধ ছিল পুরান ঢাকার কোতোয়ালি এলাকায়। বিগত কয়েক বছর ধরে পুরো ঢাকায় পূজা আয়োজন হচ্ছে মহাসমারোহে। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা কমিটি, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কলাবাগান সর্বজনীন পূজা উত্সব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ও ব্যক্তিগতভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উত্সবমুখর পরিবেশে। আলোকসজ্জা আর নানা কারুকার্যে সজ্জিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি মণ্ডপ।
  • তাজিয়া মিছিল ঘিরে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা

    তাজিয়া মিছিল ঘিরে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা

    এ বি এন এ : পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনি দালান থেকে এবার যে তাজিয়া মিছিল বের করা হবে তা ঘিরে তিন স্তরের ব্যবস্থা নিরাপত্তা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

    আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হোসনি দালানের ইমাম বাড়াসহ যেসব স্থান থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে সেগুলোর জন্য সুদৃঢ়, নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টায় হোসনি দালানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

    আছাদুজ্জামান বলেন, চানখারপুলে, হোসনি দালানের মূল ফটকে ও ভেতরে, এই তিন স্থানেই তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে সবাইকে প্রবেশ করতে হবে। কেউ কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র কিংবা পোটলা (ছোট ব্যাগ) বহন করতে পারবেন না।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা হোসনি দালান ইমাম বাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এবার যেন তলোয়ার, ছুরি নিয়ে কেউ মিছিলে আসতে না পারে, নিশানের উচ্চতাও এবার ১২ ফুটের বেশি হবে না।’

    উল্লেখ্য, গত বছর হোসনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় মধ্যরাতে বোমা হামলায় দু’জন নিহত হন। আহত হন বেশ ক’জন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের নামে ওই হামলার দায় স্বীকারের খবরও আসে গণমাধ্যমে। অবশ্য বাংলাদেশ সরকার ওই হামলার জন্য দেশীয় জঙ্গি সংগঠনকেই দায়ী করেছে।

  • ১২ অক্টোবর পবিত্র আশুরা

    ১২ অক্টোবর পবিত্র আশুরা

    এ বি এন এ : বাংলাদেশের আকাশে রোববার (০২ অক্টোবর) ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে সোমবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মহররম ১৪৩৮ হিজরি বুধবার (১২ অক্টোবর) সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

    সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাফিজ উদ্দিন।

    সভায় প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুল ইসলাম,  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব সাইদুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব ড. আলফাজ হোসেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অতিরিক্ত পরিচালক(প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াকফ প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ- পরিচালক আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও শাহ আলম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মজিবর রহমান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া খবর পাওয়া গেছে। ফলে ৩ অক্টোবর থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেহেতু ১০ মহররম অর্থাৎ ১২ অক্টোবর (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

  • হিজরি সনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি

    হিজরি সনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি

    এ বি এন এ : শেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে হিজরত অন্যতম একটি তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনা। হিজরত অর্থ- ত্যাগ করা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া। মহান আল্লাহর নির্দেশে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবাদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান মক্কা নগরী ত্যাগ করে ইসলামের প্রচার-প্রসারের জন্য মদিনায় চলে যাওয়ার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে হিজরত বলে গণ্য। যুগে যুগে নবী-রাসূলদের নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করে অন্য স্থানে যেতে হয়েছে। কেননা নবী-রাসূলদের বিরোধিতা করা, তাদের অপবাদ দেওয়া, গালমন্দ করা, এমনকি হত্যা করা পৃথিবীর ইতিহাসের নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে নবী মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবাদের দেশত্যাগের মতো আত্মত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করে পরে হিজরি সালের গণনা শুরু হয়েছে।

    নবী মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুওয়ত লাভ করেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের মূর্তি পূজা পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য দাওয়াত দিতে থাকেন। তখন তার বিরুদ্ধে এক হয়ে যায় মক্কার কাফির-মুশরিকরা। তারা তাকে পথে-প্রান্তরে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে শুরু করে। তারা প্রিয় নবীকে পাগল, কবি, জাদুকর ইত্যাদি বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। চলতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

    মক্কায় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর নির্যাতনের বর্ণনা পাওয়া যায় হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনায়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমাকে আল্লাহর পথে যেভাবে ভীত করা হয়েছে এমনটি আর কাউকে করা হয়নি। আমি আল্লাহর পথে যেভাবে নির্যাতিত হয়েছি, এমনটি আর কেউ হয়নি। মাসের ত্রিশ দিন ও রাত আমার ও আমার পরিবারের কোনো খাদ্য জোটেনি। বেলালের বগলে যতটুকু লুকানো সম্ভব ততটুকু ছাড়া।’ –আহমাদ

    হিজরতের ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কিভাবে অবিশ্বাসীরা রাসূল (সা.)-এর বিরুদ্ধে সব ধরনের নির্যাতন চালিয়ে তাকে তাওহিদের দাওয়াত থেকে বিরত করতে না পেরে হত্যা করার জন্য একতাবদ্ধ হয়েছিল। তারা বিভিন্ন গোত্র থেকে বাছাই করে সাহসী যুবকদের একত্রিত করেছিল। তারা রাসূলকে হত্যা করার জন্য বাড়ি ঘিরে ফেলে, কিন্তু আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাকে সে কথা জানিয়ে দিয়ে হিজরত করার নির্দেশ দেন। কাফের-মুশরিকদের এ ষড়যন্ত্রের কথা কোরআনে কারিমে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর কাফেররা যখন প্রতারণা করে আপনাকে বন্দি অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তারা যেমন ছলনা করেছিল, আল্লাহও তাদের বিরুদ্ধে ছলনা করেন। বস্তুত আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।’ -সূরা আনফাল

    মহান আল্লাহর ইচ্ছায় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের সব ষড়যন্ত্রকে ভেদ করে তার বন্ধু হজরত আবু বকরকে নিয়ে জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে মদিনার পথে যাত্রা করেন। হিজরতের সময় তারা সাওর নামক গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন। পথে নানা বাধা-বিপত্তি পাড়ি দিয়ে মদিনায় (রাসূলের হিজরতের আগে এ শহরের নাম ছিল- ইয়াসরিব) পৌঁছান।

    মদিনায় গিয়ে নবী (সা.) ‘মদিনা সনদের’ মাধ্যমে আউস ও খাজরাজসহ বিবদমান সব গোত্রকে একতাবদ্ধ করেন। মদিনায় সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, হত্যা, রাহাজানি নিষিদ্ধ করেন।

    হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মদিনায় হিজরত করার মাধ্যমেই ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভ করে। মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। মুসলমানদের শক্তিমত্তা বাড়তে থাকে। ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ইসলাম বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হয়ে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

    নবী করিমকে (সা.) ওই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হন। হিজরতের গুরুত্ব বিবেচনা করেই ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিজরি সালের গোড়াপত্তন করেন। হিজরি সাল মুসলিম উম্মাহর আপন সাল। কেননা মুসলমানদের নব ইবাদত হিজরি সনের মাস দিন অনুযায়ী পালন করতে হয়। হিজরি সনের মাস ও দিনগুলো ইবাদতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওতোপ্রোতভাবে। আমাদের উপস্থিত আরেকটি নতুন হিজরি সাল। আগত ১৪৩৮ হিজরি সাল হোক আমাদের জীবনের জন্য বরকতময় ও কল্যাণকর। স্বাগতম নতুন হিজরি সাল।

  • ইবাদতের নিয়ত কী ও কেন

    ইবাদতের নিয়ত কী ও কেন

    এ বি এন এ : আল্লাহ তাআলা মানব ও জিন জাতিকে তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইমানদার বান্দা ইবাদত করার আগে প্রথমে হদয়ে এর কল্পনা করে থাকে, তারপর তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়। স্মৃতিতে উদ্ভাসিত কাজ বাস্তবে রূপদান করার সুদৃঢ় প্রত্যয়ই হলো নিয়ত। নিয়ত হলো ইবাদতের মূল। নিয়ত ছাড়া ইবাদত পরিপূর্ণ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিয়ত ছাড়া কোনো আমল গৃহীত হয় না।’ (সুনানে কোবরা : ৬/৪১) নিয়ত কী : নিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ ইচ্ছা, অভিপ্রায়, অভিলাষ, উদ্দেশ্য, মনোবাঞ্ছা, প্রত্যয়, সংকল্প ইত্যাদি। পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার আনুগত্য, সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও তাঁর নির্দেশ পালনার্থে কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্পকে নিয়ত বলে। নিয়ত কেন করতে হয় : নিয়ত প্রধানত দুটি কারণে করতে হয়—এক. অভ্যাস থেকে ইবাদতকে পার্থক্য করার জন্য। যেমন—পানাহার কখনো রাগের ফলে, কখনো চিকিৎসকের পরামর্শে, কখনো চাহিদা না থাকার কারণে বর্জন করা হয়। আবার কখনো বর্জন করা হয় রোজার কারণে। সুতরাং ব্যক্তি কী কারণে পানাহার বর্জন করেছে, তা জানার একমাত্র উপায় হলো নিয়ত। দুই. এক ইবাদতকে অন্য ইবাদত থেকে পার্থক্য করার জন্য। কেননা ইবাদত বিভিন্ন ধরনের। যেমন—ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল। সুতরাং নিয়তের মাধ্যমেই পার্থক্য হবে সে ফরজের নিয়ত করেছে, নাকি ওয়াজিবের, নাকি সুন্নাতের। ফরজ নফল আধা (ওয়াক্তিয়া) ও কাজার নিয়ত : ফরজ নামাজের মধ্যে ফরজের নিয়ত করতে হবে। নফল ও সুন্নাত নামাজ সাধারণ নিয়তে শুদ্ধ হয়ে যাবে। কোনো ব্যক্তি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সম্পর্কে না জানে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না। ইবাদতে ইখলাসের গুরুত্ব : ইবাদত করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। ইবাদতে কোনোরূপ লৌকিকতা থাকতে পারবে না। ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত হলো ইখলাস বা নিষ্ঠা। আল্লাহ তাআলা নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদত করার আদেশ করেছেন। যেমন আল্লাহর বাণী—(ক) ‘আমি আপনার প্রতি এ কিতাব নাজিল করেছি। সুতরাং আপনি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করুন।’  (সুরা : জুমার, আয়াত : ২) (খ) ‘বলুন, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১১) (গ) ‘বলুন, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করি।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১৪) (ঘ) ‘আপনি বলে দিন, আমার প্রভু সুবিচারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমরা প্রতিটি নামাজে তোমাদের দৃষ্টি স্থির রাখবে এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যশীল হয়ে ডাকবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২৯) (ঙ) ‘যখন তাদের মেঘমালাসদৃশ তরঙ্গ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে  থাকে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৩২) (চ) ‘তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। সুতরাং তাঁকে ডাকো তাঁর খাঁটি ইবাদতের মাধ্যমে। (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬৫) হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়ত অনুসারে হয়। প্রত্যেক মানুষ তার কাজের ফলাফল আল্লাহর কাছে তদ্রূপ পাবে, যেরূপ সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, সে অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টি পাবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব ফায়দা হাসিল করার অথবা কোনো রমণীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, সে তার ফল তা-ই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১) নিয়তের ক্ষেত্র : নিয়তের ক্ষেত্র হলো অন্তর। ফলে নিয়ত করতে হবে অন্তর দ্বারা। অন্তরের সংকল্প ছাড়া শুধু মুখে নিয়ত করলে যথেষ্ট হবে না। তবে যদি কেউ অন্তরকে স্থির রাখতে অক্ষম হয় অথবা অন্তরে নিয়ত করলে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তাহলে তার জন্য মৌখিকভাবে নিয়ত করা জায়েজ। মৌখিকভাবে নিয়ত : মৌখিকভাবে নিয়ত করার কথা রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত হয়ে আসেনি। এমনকি কোনো দুর্বল হাদিসেও নেই। চার ইমামের কেউ মৌখিকভাবে নিয়ত করার কথা বলেননি। সুতরাং নিয়ত করতে হবে অন্তরের মাধ্যমে। অধিক মনোযোগ সৃষ্টির জন্য কেউ মৌখিকভাবে নিয়ত করতে চাইলে তার অনুমতি আছে। তবে তা অবশ্যই বিশুদ্ধ উচ্চারণে হতে হবে। অর্থ ও শুদ্ধ উচ্চারণ না জেনে আরবিতে নিয়ত করলে অর্থ বিকৃত হতে পারে। এর ফলে গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ইবাদতের প্রকারভেদ ও নিয়তের বিধান : আমরা যত সব ইবাদত পালন করে থাকি, তা দুইভাবে বিভক্ত—(১) উদ্দেশ্যপূর্ণ বা মৌলিক ইবাদত। (২) উদ্দেশ্যহীন বা মূল ইবাদতের জন্য সহায়ক ইবাদত। উদ্দেশ্যপূর্ণ বা মৌলিক ইবাদত হলো নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। উদ্দেশ্যহীন বা মূল ইবাদতের সহায়ক হলো অজু, গোসল, তায়াম্মুম ইত্যাদি। মৌলিক ইবাদত নিয়ত করা ছাড়া শুদ্ধ হবে না। কেননা ফিকহিবদদের মতে, মৌলিক ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা শর্ত। সুতরাং নিয়ত করা ছাড়া নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি শুদ্ধ হবে না। উদ্দেশ্যহীন ইবাদত, যেমন—অজু, গোসল ইত্যাদি শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা আবশ্যক নয়। নিয়ত করা ছাড়াও এসব ইবাদত শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে নিয়ত করলে সওয়াব পাওয়া যাবে। তায়াম্মুম ও মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া উদ্দেশ্যহীন ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও তাতে নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত করতে হবে ইবাদতের শুরুতে। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, ইবাদত শুরু করার আগে নিয়ত করতে হবে। রোজার মধ্যে সুবেহ সাদিকের আগের নিয়ত অথবা অর্ধদিবসের আগের নিয়তে ফরজ রোজা আদায় হয়ে যাবে। কাজা, মানত ও কাফফারার রোজা সুর্যাস্ত থেকে সুবেহ সাদিকের মধ্যবর্তী সময়ের নিয়ত এবং সুবেহ সাদিকের নিয়ত দ্বারা আদায় হয়ে যাবে। কোরবানির পশু ক্রয় করার সময় কোরবানির নিয়ত করবে। জাকাতের নিয়ত করবে জাকাতের সম্পদ আলাদা করার বা প্রদান করার সময়। হজের নিয়ত করবে নাম নিবন্ধন করার বা ইহরাম বাঁধার সময়। ইবাদতে নিয়ত করার অর্থ হলো ইবাদতে হদয়কে হাজির রাখা, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করা, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রত্যাশা করা, সব কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করা। ইবাদত করার সময় আল্লাহ তাআলা দেখছেন বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করো, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, আর তুমি না দেখলে মনে করবে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।’ (মিশকাত)

    লেখক : প্রধান ফকিহ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা, ফেনী 

  • জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

    জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

    এ বি এন এ : গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া নামাজের জামাতে শামিল না হওয়ার সুযোগ নেই। রসুল (সা.) জামাতে নামাজ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তা বাধ্যবাধকতার শামিল।  হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘আজান শোনার পর কোনো ওজর না থাকা সত্ত্বেও যে লোক নামাজের জামাতে শামিল হয় না, তার ঘরে বসে একাকী পড়া নামাজ মঞ্জুর হবে না।’ জানতে চাওয়া হলো, ইয়া রসুলুল্লাহ! ওজর বলতে কি বোঝায়? তিনি বললেন, ‘বিপদাশঙ্কা অথবা রোগব্যাধি।’— আবু দাউদ, ইবনে হেব্বান ও ইবনে মাজা। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে আল্লাহপাক অভিশাপ দিয়েছেন : (১) যে লোক জনগণের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের নেতা হয়ে বসে (২) যে নারী তার ওপর স্বামী অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাতযাপন করে (৩) নামাজের আজান ও কল্যাণের আহ্বান শুনেও যে লোক জামাতে শামিল হয় না।’ —হাকেম। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘মসজিদের প্রতিবেশীর নামাজ মসজিদ ছাড়া দুরস্ত হবে না।’ প্রশ্ন করা হলো : মসজিদের প্রতিবেশী কে? তিনি বললেন, ‘বাড়িতে বসে যে আজান শুনতে পায়।’— মুসনাদে আহমদ। বোখারি শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন : ‘কেয়ামতের দিন যে লোক মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দিদার লাভ করতে চায়, সে যেন প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। কেননা মহান আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য দেহায়েতের বিধানাবলি প্রবর্তন করে দিয়েছেন। আর এ নামাজগুলো হচ্ছে হেদায়াতের অন্যতম পন্থা। অনেকের মতো তোমরাও যদি আপন গৃহে বসে নামাজ পড়, তবে তোমাদের নবীর পথ ছেড়ে দিলে। আর তোমরা যদি নবীর পথ বর্জন কর, তবে গোমরাহীতে নিপতিত হবে। আমার জানা মতে, মুনাফিক বা অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া কেউ জামাতে শামিল হতে পিছপা হয় না। অথচ যে লোক দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে কাতারে দাঁড়ায় অথবা মসজিদ পর্যন্ত আসে, অবশ্যই সে জামাতে নামাজের জন্য আসে।’ পক্ষাঘাত রোগে অসুস্থ রবী বিন খায়সাম দুই লোকের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এসে জামাতে শামিল হতেন। তাকে বলা হতো, আপনি তো মাজুর, আপনার ঘরে বসে নামাজ পড়া তো বৈধ। তিনি বলতেন, ‘তা কীভাবে হয়? আমি তো নামাজের আহ্বান শুনতে পাই। কাজেই যার সাড়া দেওয়ার সামর্থ্য আছে, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাকে তাতে সাড়া দিতেই হবে।’ ইসলামের সোনালি যুগের কোনো কোনো বুজুর্গ বলতেন, নামাজের জামাত ছুটে যাওয়া, পাপের কারণে হয়ে থাকে। হজরত ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় আছে, একবার হজরত ওমর (রা.) তার এক দেয়ালঘেরা খেজুর বাগান দেখতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন, আসর নামাজের জামাত শেষ হয়ে গেছে। তিনি তত্ক্ষণাত জামাত ছুটে যাওয়ার কাফফারা স্বরূপ খেজুর বাগানটি দরিদ্রদের মাঝে সদকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

  • হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা

    হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা

    এ বি এন এ : হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজিরা। শনিবার দুপুর দেড়টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
    বিমানবন্দরের তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সৌদি এয়ারলাইন্সের তিনটি ফ্লাইটে এবং বাংলাদেশ বিমানের ১টি ফ্লাইটে হাজিরা দেশে ফিরছেন।
    জানা গেছে, জেদ্দা থেকে ছেড়ে আসা সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮১০ ফ্লাইটটি দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ফ্লাইটে মোট ৫৬০ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ৪০০ জন ছিল হাজি। বিমানবন্দরে দুটি আগমনী টার্মিনাল দিয়ে হাজিরা বের হয়ে আসেন।
  • ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু শনিবার

    ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু শনিবার

    এ বি এন এ : পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিরা ঘরে ফেরার প্রস্তুুতি শুরু করেছেন। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ফিরতি হজ ফ্লাইট। একমাস জুড়ে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ফিরতি ফ্লাইটে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮শ’২৯ হাজি দেশে ফিরবেন।

    সৌদি আরবের মক্কা থেকে প্রকাশিত ধর্ম  মন্ত্রণালয়ের হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের হজ বুলেটিন সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

    হজ বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার হাজিরা তৃতীয় দিনের মত শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের কাজ সম্পন্ন করে মিনা হতে মক্কায় ফিরে আসেন।

    এ বছর বাংলাদেশ থেকে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৮শ’ ২৯ জন। তন্মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ১শ’ ৮৩ জন ও  বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৯৫ হাজার ৬শ’ ১৪ জন।

    চলতি বছর সৌদি আরবে সর্বমোট ইন্তেকাল করেছেন ৪৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে পুরুষ ৩২ জন, মহিলা ১১ জন। তাদের মধ্যে মক্কায় ২৯ জন, মদিনায় ৮ জন, জেদ্দায় ১ জন ও মিনায় ৫ জন হাজি মারা যান।

    উল্লেখ্য, চলতি বছর সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৯০৯ জন হজ করেছেন। মোট হাজির মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করেছেন ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩শ’ ৭২ জন ও সৌদি আরবের আভ্যন্তরীণ হাজির সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫শ’ ৩৭ জন।