Category: ধর্ম

  • মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের আহ্বান আরাফাত ময়দানে আল্লাহর করুণা প্রার্থণা

    মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের আহ্বান আরাফাত ময়দানে আল্লাহর করুণা প্রার্থণা

    এ বি এন এ : পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় পবিত্র মক্কা নগরীর অদূরে ‘উকুফে আরাফা’ অবস্থানের মধ্য দিয়ে গতকাল পবিত্র হজ পালন করেছেন গোটা দুনিয়া থেকে আগত লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। আরাফাতের পাহাড়ঘেরা ময়দান ছাপিয়ে আকাশ-বাতাস মুখর ও প্রকম্পিত হতে থাকে আবেগাপ্লুত বেশুমার  কণ্ঠের ‘লাব্বাইক/ আল্লাহুম্মা লাব্বাইক/ লা-শারিকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নে’মাতা লাকা ওয়াল মুলক লাশারিকা লাক’— তালবিয়ায়। ‘জাবালে রাহমত’ সাদা আর সাদায় একাকার। আদিগন্ত মরুপ্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময়তা অধিকার করে রাখে। এক অপার্থিব আবহ রচিত হয় পুরো ময়দানে। সবার পরনে সাদা দুই খণ্ড বস্ত্র। নেই আশরাফ-আতরাফ বিভেদের অচলায়তন। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমতপ্রাপ্তি ও নিজের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহ তায়ালার মহান দরবারে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানান সমবেত মুসলমানরা। একে অপরের সাথে পরিচিত হন, কুশল বিনিময় করেন। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা হয় গতকাল সেই ময়দানে। বিশ্ব মুসলমানের মহাসম্মিলনের দিন।

    গতকাল দুপুরে সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর মসজিদ নামিরা থেকে খুতবা প্রদান করেন সৌদি আরবের মুফতি। হজের খুতবা শুনে ইমামের পিছনে পর পর জোহর ও আছরের নামাজ জোহরের ওয়াক্তে আদায়ের পর সৌদি আরবে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন হাজিরা। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের সময় ব্যবধান তিন ঘণ্টা। সুর্যাস্তের পর আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করে মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হন হাজিরা। মুলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়।
    খুতবায় মুফতি মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। মুফতি বলেন, মুসলমান হওয়ার পর ঈমান আনার পর সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ হচ্ছে নেক আমল, নামাজ, রোজা, তসবিহ, তাহলিল। এ সব কিছুই হচ্ছে নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। নেক আমলের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা ঈমান আনবে তাদের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে নেক আমল করা।
    মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবেশ এবারের হজে ২০ লাখের বেশি মুসলমান অংশ নিচ্ছেন। আল্লাহ রাবু্বাল আলামিনের মেহমানরা গতকাল সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে কেউ গাড়িতে, কেউ পায়ে হেঁটে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের আরাফাত ময়দানে আনার জন্য বিপুলসংখ্যক গাড়ির ব্যবস্থা করেন। ইহরাম পরা মুসলিমদের এই স্রোত যতই আরাফাতের নিকটবর্তী হতে থাকে, ততই তাঁরা ভাবাবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। তাঁদের মানস চোখে ভেসে ওঠে সেই আরাফাত ময়দানের ছবি, যেখানে ১৪০০ বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বিদায় ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ময়দানে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর কাছে সর্বশেষ ওহি নাজিল করেছিলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল মায়িদা, আয়াত-৩) বিদায় হজ থেকে ফেরার তিন মাসের মাথায় ইসলামের কাণ্ডারি রাহমাতুল্লিল আলামিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন।
    আরাফাতের ময়দান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০ মিটার উঁচুতে। চারপাশে পাহাড়ঘেরা একটি সমতল ভূমি। হাজিদের কেউ কেউ সেখানে তাঁবু টানিয়ে, কেউবা খোলা আকাশের নীচে মাথায় ছাতা ধরে অবস্থান করেন। অনেকে আগের রাতেই সোজা উঠে যান আরাফাত ময়দান সংলগ্ন ৭০ মিটার উঁচু ‘জাবালে রহমত’ তথা রহমতের পাহাড়ে। রহমতের পাহাড়ে উঠে সেখানেই তাঁরা দিনভর মহান আল্লাহর করুণা ও মাগফিরাত কামনা করেন। বিশ্বের সর্ববৃহত্ মসজিদ ‘মসজিদে নামিরাহ’ থেকে জুমার নামাজের আগে বয়ান ও খুতবা পাঠ করেন সৌদি আরবের মুফতি। এই মসজিদকে একদিনের মসজিদ বলা হয়।
    আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ‘ফরজ’ বা অবশ্য পালনীয়। আরাফাতের পাহাড়ে একটি বড় উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলে থাকেন। উঁচু পিলারের কাছে যাওয়ার জন্য পাহাড়ে সিঁড়ি করা আছে, যাতে এটি বেয়ে খুব সহজে চূড়ায় চলে যাওয়া যায়। জনশ্রুতি আছে যে, হযরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.) দীর্ঘদিন কান্নাকাটির পর এখানেই এসে মিলিত হয়েছিলেন। হাজিরা আরাফাত ময়দানে অবস্থান শেষে তাদের গন্তব্য মুজদালিফা।
    মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা’র নামাজ এশা’র ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্ল­­াহর উদ্দেশে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হাজিরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ ‘তাওয়াফ’ ও ‘সাঈ’ (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে আবার মিনায় ফিরে যাবেন।
    জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের উপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। পরদিন ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে হাজিরা তিনটি শয়তানের উপর পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। আর মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরীফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

     

  • অক্টোবরে ফের চালু হচ্ছে ওমরাহ ভিসা

    অক্টোবরে ফের চালু হচ্ছে ওমরাহ ভিসা

    এ বি এন এ : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আসন্ন অক্টোবর থেকে আবারো ওমরাহ ভিসা দিবে সৌদি সরকার। ফলে অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যেতে পারবেন। আরবী নববর্ষের প্রথম দিন ১ মহররম (২ অক্টোবর) থেকে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চুক্তি নবায়ন ও ভিসা ইস্যুসহ ওমরাহ সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম শুরু হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে গত রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে ভিসা বন্ধ করে দেয় ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস। তারও আগে প্রায় এক বছর ওমরাহ ভিসা প্রদান বন্ধ থাকার পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দুয়ার খোলে বাংলাদেশিদের জন্য। হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সূত্রে জানা গেছে, মূলত ওমরাহ ভিসায় আদম পাচার এবং সৌদি আরব গিয়ে কয়েক হাজার বাংলাদেশির ফেরত না আসার কারণে সৌদি সরকার ২০১৫ সালে কালো তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশকে। ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই আদম পাচারে জড়িত বাংলাদেশি হজ এজেন্সিগুলোর তালিকা তুলে দেয় বাংলাদেশ সরকারের হাতে। পরে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় ১০৪টি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এদের মধ্যে ৬৯টির লাইসেন্স বাতিল ও কারো কারো আর্থিক জরিমানা করা হয়। ঐ ঘটনার পর থেকে ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার রেশ এখনো টানতে হচ্ছে। হাব নেতারা আশা করছেন, এই বছর থেকে স্বাভাবিক হয়ে আসবে পরিস্থিতি।
    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (হজ) বেগম হাসিনা শিরিন জানান, সৌদি দূতাবাসসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্থানে বৈধ ওমরাহ এজেন্সির তালিকা পাঠানোর জন্য সব ওমরাহ এজেন্সিকে নিজেদের প্যাডে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধর্ম সচিবের কাছে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র দাখিল করতে হবে। এজেন্সিগুলোকে যেসব কাগজপত্র দাখিল করতে হবে তা হলো- হালনাগাদ নবায়নকৃত ট্রাভেল লাইসেন্সের কপি, নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্সের কপি, ২০১৬-১৭ সালের আয়কর সনদের কপি, চলমান ওমরাহ লাইসেন্সের মূল কপি ও আইএটিএ সনদপত্রের কপি।
    ভিসার মেয়াদ হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫ দিন: এদিকে সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা আইনে পরিবর্তন আনছে বলে জানা গেছে। ওমরাহ পালনকারীরা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মেয়াদে সৌদি ভিসা পাবেন। তবে হজযাত্রীদের সফর সংশ্লি­ষ্ট কোনো কোম্পানি একসঙ্গে বিপুল সংখ্যায় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে নিতে পারবে না। আগামী ডিসেম্বর থেকে এ বিষয়ক নতুন আইন কার্যকর হতে পারে। সম্প্রতি মদিনায় অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সৌদি সরকারের হজমন্ত্রী বন্দর হাজ্জার একথা বলেন।
    এছাড়া সম্প্রতি সৌদি ট্যুরিজম অ্যান্ড ন্যাশনাল হেরিটেজ কমিশনের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স সুলতান বিন সালমান ওমরাহ-পরবর্তী সৌদি ভ্রমণের নতুন এক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। মদিনা থেকে প্রকাশিত ‘আল মদিনা’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় ওমরাহ পালনকারীরা ইচ্ছা করলে তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। বর্ধিত সময়ের জন্য তারা ট্যুরিস্ট হিসেবে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তাদের ভিসাও ট্যুরিস্ট ভিসা হিসেবেই বিবেচিত হবে। ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সৌদি আরবের ল্যান্ডমার্ক বিশেষ করে ইসলামের ঐতিহাসিক নগরগুলো দেখার সুযোগ সৃষ্টির জন্যই এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে প্রিন্স জানিয়েছেন।

     

  • ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

    এ বি এন এ : রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে ।
    তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে বলে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
    এতে বলা হয়, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন একই মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম।
    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি ঈদ জামাত যথাক্রমে সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা এবং সকাল পৌনে ১১টায় হবে।
    সুষ্ঠুভাবে ঈদুল আজহার নামায আদায় ও মুসল্লির সুবিধায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
    আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ হবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এই ঈদে পশু কোরবানি দেন মুসলিমরা।
  • ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ শুক্রবারে

    ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ শুক্রবারে

    এ বি এন এ : ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে আগামী ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সভায় ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান সভাপতিত্ব করবেন। শুক্রবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ হবে ১২ সেপ্টেম্বর। আর শুক্রবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না গেলে শনিবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে রবিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, ঈদ হবে ১৩ সেপ্টেম্বর। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। এবার ১২ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদ ধরে ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর কোরবানি ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। আর ১৩ সেপ্টেম্বর ঈদ হলে ১৪ সেপ্টেম্বরও সরকারি ছুটি থাকবে।

  • কোরবানির আগে-পরে কি করবেন, কি করবেন না

    কোরবানির আগে-পরে কি করবেন, কি করবেন না

    এ বি এন এ : মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহার বেশি দেরি নেই। এরই মধ্যে কোরবানির পশু কেনা নিয়ে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। মিডিয়াতেও তার পূর্বাভাস মিলছে। কোরবানি দাতার জন্য রয়েছে ইসলামের বিশেষ কিছু নির্দেশনা। রয়েছে কোরবানির জন্য পশু কেনা, কোরবানি করা ও কোরবানির পর করণীয় নানা বিষয়। এসব নিয়েই থাকছে বিশেষ পরামর্শ।

    কোরবানির পশু ক্রয়ের পূর্বে
    হালাল উপার্জন দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করুন।
    আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের স্পৃহা এবং ওয়াজিব আদায়ের প্রেরণা মনে জাগ্রত করুন।
    কোরবানিকে সুখ্যাতি ও প্রদর্শনেচ্ছার চিন্তা মন থেকে দূর করুন।
    ভাগে কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে পশু ক্রয়ের পূর্বেই ভাগিদার নির্বাচিত করুন। এটা মোস্তাহাব আমল।
    যার ব্যাপারে নিশ্চিত জানা আছে যে, তার উপার্জন হারাম- তাকে কোর‍বানির শরিক করবেন না।
    কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা করলে, জিলহজ মাসের চাঁদ উঠারা পূর্বেই নখ, চুল এবং অবাঞ্চিত পশম কেটে ফেলুন। এটাও মোস্তাহাব আমল।

    পশু ক্রয়ের সময়
    যে পশুর ব্যাপারে ধারণা হবে যে, তা চুরি করে আনা- তা ক্রয় করবেন না।
    কোরবানি পশু ক্রয়-বিক্রয়কালে মিথ্যা কথা ও মিথ্যা শপথ বর্জন করুন। এমনিতেও মিথ্যা বলা হারাম।
    কোনো পশুর মূল্য চূড়ান্ত করার পর কোনো দাম বলবেন না অথবা ক্রয়ের প্রস্তাব দেবেন না। এটা মাকরূহ।
    ক্রয়কৃত পশুটি ভালোভাবে দেখে নিন।
    গরু, মহিষের বয়স যেন দুই বছরের কম না হয়, উটের বয়স যেন পাঁচ বছরের কম না হয়, ছাগলের বয়স যেন এক বছরের কম না হয়। ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সের ভেড়া, দুম্বা দেখতে যদি এক বছর বয়সের মতো মনে হয় তবে তা দ্বারা কোরবানি করা যাবে। গরু, মহিষ, উট ও ছাগলের জন্য বয়সের কোনো ছাড় নেই। যতই হৃষ্ট-পুষ্ট হোক নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হতে হবে।
    কান, জিহ্বা ও লেজ যেন অর্ধেকের বেশি কাটা না থাকে। চোখের দৃষ্টি শক্তি অর্ধের্কের বেশি যেন নষ্ট না থাকে।
    শিং যেন এ পরিমাণ ভাঙা না থাকে যার প্রভাব মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
    জানা সত্ত্বেও প্রসব সময় নিকটবর্তী এমন পশু ক্রয় করে কোরবানি করা মাকরূহ। তবে কোরবানি আদায় হবে।
    বন্ধ্যা পশুর কোরবানি জায়েজ। অণ্ডকোষ কাটা পশু কোরবানি করা উত্তম।
    খাবার খেতে পারে না বা নড়া-চড়া করতে পারে না এত দুর্বল পশুর কোরবানি শুদ্ধ নয়।
    বন্য ও হিজড়া প্রজাতির পশুর কোরবানি জায়েজ নেই।

    কোরবানির পশু ক্রয়ের পর করণীয়
    পশুর সেবা-যত্ন করুন। অহেতুক পশুকে কোনো কষ্ট দেবেন না।
    পশু এমন স্থানে বাঁধুন- যেন পথচারীদের কষ্ট না হয়। পশুর গলায় ঘণ্টি বাঁধবেন না।
    কোরবানির জন্য ক্রয়কৃত পশুর ওপর আরোহণ করবেন না বা কোনো কাজে ব্যবহার করবেন না।
    যদি দুধ দোহন করা হয় তবে গরিব-মিসকিনকে দান করে দিন। আবার দুধের বাজার মূল্য দান করে নিজেও সে দুধ পান করতে পারবেন।
    কোনো অবস্থাতেই কোরবানির পশুর প্রদর্শনী করবেন না।
    ভাগে কোরবানি দিলে ভাগিদার সবাইকে সবকাজে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন।

  • বিশ্বনবির প্রথম জুমআর খুতবা

    বিশ্বনবির প্রথম জুমআর খুতবা

    এ বি এন এ : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় আসলেন এবং কুবায় সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই চার দিন অবস্থান করলেন। কুবার অধিবাসীদের জন্য তাদের মসজিদ নির্মাণ করলেন।

    জুমআর দিন তিনি কুবা থেকে বের হলেন। বনি সালেম বিন আওফ গোত্রের নিকট আসতেই জুমআর নামাজের সময় হয়ে গেল। সেখানের উপত্যকায় অবস্থিত মসজিদেই তিনি জুমআর নামাজ পড়লেন। এটি ছিল মসজিদে নববি নির্মাণ করার পূর্বের জুমআ আদায় এবং খুতবা প্রদান।

    প্রথম খুতবা
    ইবনে ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রতম যেই খুতবাটি দিয়েছিলেন তা আমার নিকট আবু সালামা বিন আব্দুর রাহমানের সূত্রে পৌঁছেছে। তিনি মুসলমানদের সামনে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন-

    Juma

    হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের মুক্তির জন্য আমল কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা তখন অবশ্যই (পরকালের উদ্দেশ্যে আমল করার গুরুত্ব সম্পর্কে) জানতে পারবে যখন তোমাদের কেউ (শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আওয়াজ শুনে) বেহুঁশ হয়ে যাবে। সে তার ছাগলের পালকে রাখাল বিহীন অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে, অতঃপর তার প্রভু তার সাথে কথা বলবেন, তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না (সরাসরি কথা হবে) এবং তার মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে কোনো পর্দা থাকবে না।

    তিনি বলবেন, তোমার কাছে কি আমার রাসুল এসে আমার হুকুম-আহকাম পৌঁছে দেয় নি? আমি তোমাকে দুনিয়ার সম্পদ দিয়েছিলাম এবং তোমার উপর অনুগ্রহ করেছিলাম। সুতরাং তুমি নিজের জন্য কি প্রেরণ করেছ?

    তখন সে ডান দিকে তাকাবে, বাম দিকে তাকাবে। কিন্তু সে কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সামনে তাকাবে। কিন্তু সে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না।

    সুতরাং যে ব্যক্তি এক টুকরা খেজুর দান করার বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার সামর্থ্য রাখে সে যেন জাহান্নাম থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করে।

    আর যে ব্যক্তি তারও ক্ষমতা না রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলার মাধ্যমে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। কেননা এর বিনিময়েও নেকির সংখ্যা এক থেকে দশ গুণ আর দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ওয়াস সসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

    দ্বিতীয় খুতবা
    ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং খারাপ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তিনি যাকে হেদায়াত করেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারেনা। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন কেউ তাকে সঠিক পথ দেখাতে পারে না। আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া সঠিক কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই।

    Juma

    নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। নিশ্চয়ই ঐ ব্যক্তি সফল হবে, যার অন্তুরকে আল্লাহ্ তাআলা কুরআনের মাধ্যমে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছেন এবং কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার পর তাকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছেন।

    সুতরাং মানুষের কথাগুলো বাদ দিয়ে সে আল্লাহর কালামকে বেছে নিয়েছে। কেননা আল্লাহর কথাই হচ্ছে সর্বোত্তম কথা ও তাঁর বাণীই হচ্ছে সর্বোচ্চ বাণী। আল্লাহ্ যা ভালাবাসেন তোমরা তাই ভালবাস এবং তোমাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহর ভালবাসা দিয়ে ভরে দাও।

    আল্লাহর কালামকে পাঠ করতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে তোমরা ক্লান্তিবোধ কর না। তোমাদের অন্তর যেন কুরআন থেকে (কুরআন ছেড়ে দিয়ে) পাষাণ না হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা সকল সৃষ্টি থেকে উত্তমটিই বাছাই করেন এবং তা নিজের জন্য নির্বাচন করেন।

    আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের আমলসমূহ থেকে কুরআন তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বান্দাদের আমল থেকে তা পছন্দ করেছেন, তাকে সর্বোত্তম বাণী বলে ঘোষণা করেছেন এবং তার মাঝে মানুষের জন্য সকল হালাল ও হারাম বিষয় বর্ণনা করেছেন।

    সুতরাং তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক কর না এবং তাঁকে যথাযথভাবে ভয় কর। তোমরা মুখ দিয়ে যে সমস্ত কথা উচ্চারণ করে থাক, তা থেকে সর্বোত্তম কথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্যতার ঘোষণা প্রদান কর।

    আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে পরস্পর ভালবাসার বন্ধন রচনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গকারীকে মোটেই পছন্দ করেননা। ওয়াস সসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। (যাদুল মাআ’দ থেকে সংগৃহীত)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মদিনায় প্রদান করা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম জুমআর খুতবাকে নিজেদের জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

    ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

    এ বি এন এ : পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজন করা হবে। সচিবালয়ে আজ বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আব্দুল জলিল সভাপতিত্ব করেন। আবহাওয়া দুযোগপূর্ণ হলে প্রধান ঈদের জামাত বায়তুল মোকাররমে স্থানান্তরের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিতে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে সভায়। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মহিলাদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া বিদেশি রাষ্টদূত, কূটনীতিকদের নামাজের জন্য আলাদা জায়গা সংরক্ষণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালিত হবে। সভায় ধর্ম সচিব জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এছাড়া ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, শিশু-সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, নিরাপদ নিবাস, ভবঘুরে কেন্দ্র ও দুঃস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ ও উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশুপার্কে প্রবেশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে ঢাকা যাদুঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। সভায় ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদফতর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ওয়াসা, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • আল্লাহর স্মরণকারীদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার

    আল্লাহর স্মরণকারীদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার

    এ বি এন এ : আমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করবো। কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, জীবন ও মৃত্যুদাতা। তিনি আমাদেরকে আলো-বাতাস দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তার অনুগ্রহ ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও বেঁচে থাকতে পারবো না। শাকসবজি, ফলফলাদি, গাছপালা, পশুপাখি, নদী-সাগর, আকাশ-বাতাস, চাঁদ, সূর্য সব কিছুই তিনি আমাদের উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন।

    আমাদের জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা আছে। আল্লাহ সর্বদা আমাদের সঙ্গে আছেন। যখন আমরা একা থাকি তখন তিনি আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয়, যখন আমাদের সঙ্গে আরেকজন থাকেন তখন আল্লাহ আমাদের মাঝে তৃতীয় সঙ্গী। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, যেখানেই তুমি থাক না কেন।’ -সূরা মুজাদালা: ০৭

    তিনি প্রতি মুহূর্তে আমার প্রতিটি কথা শুনছেন, প্রতিটা কাজ দেখছেন। তিনি সদা-সর্বদা উপস্থিত এবং তার জ্ঞানের পরিধি সর্বব্যাপ্ত। এই কথাটি আমরা বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেবো এবং প্রত্যেক কাজের শুরুতে স্মরণ করবো।

    সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ- এমন এক শক্তি; যা  দুর্বলকে সবল করে এবং সব বিপদে সাহায্য করে। কারণ আল্লাহর স্মরণকারীর বিশ্বাস এই যে, সবকিছু আল্লাহর হুকুমেই হয় এবং আল্লাহর কোনো ফয়সালা বান্দার জন্য অশুভ নয়। আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়ার মাঝেই বান্দার সফলতা ও কল্যাণ।

    কোরআনে কারিমে আল্লাহর স্মরণ বেশি বেশি করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো ইবাদত সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়নি। বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ এমন এক বিষয়, যা মানুষকে সব ধরনের গোনাহ থেকে রক্ষা করে। তা এত সহজ যে, এর জন্য আলাদা করে বেশি সময় ব্যয় করার কিংবা অন্যান্য কাজ স্থগিত রাখার প্রয়োজন হয় না।

    আল্লাহর স্মরণ হচ্ছে যাবতীয় ইবাদতের রূহ বা আত্মা। কোরআনে কারিমের ওয়াদা অনুযায়ী যখন কোনো বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করে; তখন আল্লাহ তাকে স্মরণ করেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো এবং কৃতজ্ঞ হও অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ -সূরা বাকারা: ১৫২

    সুতরাং আমরা যখন আল্লাহর স্মরণে নিজেদের মশগুল রাখি তখন এ কথা মনে করা কর্তব্য যে, স্বয়ং আল্লাহতায়ালাও আমাদের স্মরণ করছেন। দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জন করতে হলে, বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো।’ -সূরা আনফাল: ৪৫

    আমরা যদি সবসময় আল্লাহকে ডাকি বা তার স্মরণ করি, তবে তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। আমাদের ক্ষমা করে দেবেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে মহাপুরস্কার দানে ধন্য করবেন। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী, তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।’ -সূরা আহজাব : ৩৫

    অতএব, চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে সর্বাবস্থায় বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। বিপদে-আপদে একমাত্র তাকেই ডাকতে হবে। তবেই তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন এবং সাহায্য করবেন। আল্লাহ আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।

  • জুমআর দিনকে ইবাদাতের জন্য নির্ধারণের তাৎপর্য

    জুমআর দিনকে ইবাদাতের জন্য নির্ধারণের তাৎপর্য

    এ বি এন এ : আজ জুমআবার। এ দিনটি সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, ‘জুমআর দিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন।’ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে একই কাতারে শামিল হয় এ দিন। যার ফলশ্রুতিতে সবার মধ্যে প্রেম-প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে জুমআর নামাজ।

    আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে প্রত্যেক জাতিকেই সাপ্তাহিক একটা বিশেষ দিন উপহার দিয়েছেন। জুমআ বারকে সাপ্তাহিক ইবাদাত-বন্দেগির দিন হিসেবে অনেক জাতিকেই দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কেউই এ দিনের গুরুত্ব উপলব্দি না করে নিজেদের ইচ্ছামতো দিন নির্বাচন করেছে।

    শুধুমাত্র সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই এ দিনকে আল্লাহ তাআলার দেয়া সেরা উপহার সাপ্তাহিক ইবাদাত-বন্দেগির জন্য ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যার সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং তাকওয়া অর্জনে নিজেদেরকে তৈরির নসিহতমূলক বক্তব্য হাদিসে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমরা পৃথিবীতে সর্বশেষ আগমণকারীরাই কিয়ামাতের দিন অগ্রগামী থাকব। পার্থক্য হলো এই যে, তাদেরকে (পূর্ববর্তীদেরকে) আমাদের পূর্বে (আল্লাহর) কিতাব দান করা হয়েছে; আর আমাদেরকে (কিতাব) দান করা হয়েছে তাদের পরে।

    অতপর তাদের ওপর এ দিনটি অর্থাৎ জুমআর দিনটি (ইবাদাতের জন্য) ফরজ করা হয়েছিল অর্থাৎ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা (আহলে কিতাবের অনুসারীরা) এ দিনটির ব্যাপারে মতভেদ করল।

    আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন, ফলে এ ব্যাপারে অন্যান্য লোকেরা আমাদের পিছনে থাকলো।

    ইয়াহুদিগণ পরের দিন (শনিবার)কে এবং নাসারাগণ তার পরের দিন (রোববার)কে গ্রহণ করল। (বুখারি ও মুসলিম)

    অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমরাই সর্বশেষ আগমনকারী এবং কিয়ামাতের দিন আমরাই প্রথম। যাদের জন্য (হিসাব-কিতাব ও জান্নাতে প্রবেশের) আদেশ সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে দেয়া হবে। (মুসলিম)

    পরিশেষে…
    মুসলিম উম্মাহর জন্য নসিহত হলো- জুমআর দিন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদিকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে মুসলমানগণ যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মাধ্যমে এ দিনটিকে ইবাদাত-বন্দেগির দিন হিসেবে পালন করে থাকে।

    তাছাড়া আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিন জাতিকে শুধুমাত্র তার ইবাদাত-বন্দেগির জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এ মহত্বের প্রতি দৃষ্টি রেখেই আল্লাহ তাআলা ইবাদাত-বন্দেগির সাপ্তাহিক অনুশীলনের জন্যই জুমআর দিনটিকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দিনের হক আদায়ে আজানের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততার সহিত নামাজ আদায়ে মসজিদ পানে ছুটে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। ইবাদাত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত নিজেদেরকে আল্লাহ বন্দেগিতে নিযুক্ত রাখতে নিজেদেরকে সেভাবে তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিশ্বনবি যেভাবে হজ পালন করেছিলেন

    বিশ্বনবি যেভাবে হজ পালন করেছিলেন

    হজ শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানদের ওপর আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ফরজ ইবাদাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে একবার হজ আদায় করেছেন। ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ মুসলিমে বিশ্বনবির হজের সম্পূর্ণ কার্যক্রমগুলো একটি দীর্ঘ হাদিসে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। যা সকল হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

    হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় নয় বছর (যাবত) হজ না করেই অতিবাহিত করেন। অতপর দশম বছরে লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বছর হজে যাবেন। কাজেই মদিনার অনেক লোক একত্রিত হলো। প্রত্যেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করার জন্য উদ্বিগ্ন ছিল।

    তিনি যেরূপ করেন তারাও সেরূপ করবেন। এবার রওয়ানা হয়ে আমরা যুলহুলাইফা (মিকাত বা ইহরাম বাঁধার স্থান) নামক স্থানে আসলে আসমা বিন্তে উমায়েস রাদিয়াল্লাহু আনহুা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে প্রসব করেন।

    তাই তিনি (আসমা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করে পাঠালেন, ‘এখন আমি কি করব?’ তিনি (বিশ্বনবি)বললেন, ‘তুমি গোসল কর, কাপড় দিয়ে গোপন অংগ বেঁধে নাও এবং ইহরাম বাঁধ।’

    অতপর বিশ্বনবি মসজিদে (ইহরাম পরবর্তী) নামাজ আদায় করে তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর পিঠে আরোহণ করলেন এবং তা বায়দা নামক স্থানে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। আমি (জাবির) আমার দৃষ্টি প্রসারিত করলাম এর সর্বশেষ সীমা পর্যন্ত। আমি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম- আমার দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর আরোহী ও পদাতিক লোকের সারি। আমার ডানে, বামে ও পিছনেও অনুরূপ লোকের ভিড় দেখলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে ছিলেন। তাঁর ওপর কুরআন নাজিল হচ্ছিল। তিনি তাঁর অন্তর্নিহিত ভাবধারা ভালোভাবেই জানতেন। তিনি যা করতেন আমরাও তা-ই করতাম।

    এবার তিনি এই বলে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিলেন- ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক; লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক; ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ লোকেরাও তাঁর তালবিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তালবিয়া পাঠ করল। তিনি এর কোনো অংশ প্রত্যাখ্যান করেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর তালবিয়া পাঠ করতেই থাকলেন।

    জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা হজ ছাড়া অন্য কোনো নিয়ত করিনি; কারণ হজ্বের সাথে উমরাও করা যেতে পারে তা আমাদের মধ্যে কারোর জানা ছিল না।

    অবশেষে আমরা যখন তাঁর সাথে বাইতুল্লাহ পৌঁছলাম, তিনি হাজরে আসওয়াদ চুমো খেলেন। অতপর তিনবার দ্রুত (রমল) পদক্ষেপ এবং চারবার ধীর পদক্ষেপে কা‘বা ঘর প্রদক্ষিণ করলেন।

    এরপর মাকামে ইবরাহিমের দিকে অগ্রসর হলেন (তাওয়াফ পরবর্তী নামাজের জন্য) এবং কুরআনের এ আয়াত- ‘তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থানে পরিণত কর।’ পাঠ করলেন। এ সময় মাকামে ইবরাহিম তাঁর বাইতুল্লাহর মাঝখানে ছিল।

    বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা বলতেন, সম্ভবত আমার জানা মতে তিনি বিশ্বনবি সম্পর্কেই বলেছেন- এখানে তিনি যে দু’ রাকাআত নামাজ আদায় করেছেন- তাতে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ ও কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন’ সুরাদ্বয় পড়েছেন। তারপর হাজরে আসওয়াদের কাছে ফিরে তাকে চুম্বন করলেন।

    তারপর (সাঈ’র জন্য) দরজা দিয়ে সাফা পর্বতের দিকে বের হলেন এবং যখন সাফা পর্বতের কাছাকাছি পৌঁছলেন, তখন কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন- ‘ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ’ইরিল্লাহ।’ আর বললেন, ‘আল্লাহ যা দিয়ে আরম্ভ করেছেন আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব।’

    কাজেই তিনি সাফা থেকে আরম্ভ করলেন এবং তার ওপর আরোহন করলেন এবং আল্লাহর ঘর দেখতে পেলেন। তখন তিনি কেবলার দিকে ফিরে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা করলেন এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারিকা লাহু; লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু; ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িং ক্বাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু; আংঝাযা ওয়া’দাহু; ওয়া নাসারা আ’বদাহু; ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহ্‌দাহু।’ অতপর এর মাঝে দোয়া করলেন এবং তিনবার এরূপ করলেন।

    তারপর মারওয়ার দিকে অবতরণ করলেন এবং উপত্যকার সমতলে গিয়ে তাঁর পাঁ ঠেকলো; তারপর উপরের দিকে ওঠার সময় দৌড়িয়ে ওঠলেন এবং উপত্যকা অতিক্রম করলেন, তারপর মারওয়া পৌঁছা পর্যন্ত হেঁটে গেলেন আর সেখানে তিনি সাফা পাহাড়ে যেরূপ করেছিলেন অনুরূপ করলেন। এমনকি মারওয়ার ওপর শেষবারের প্রদক্ষিণ সমাপ্ত হলে (লোকদের উদ্দেশ্যে) বললেন, ‘আমি আমার ব্যাপারে পরে যা বুঝতে পেরেছি তা যদি আগে বুঝতে পারতাম তাহলে আমি আমার সাথে হাদির পশু আনতাম না এবং তাকে (হজের ইহরামকে) উমরায় পরিণত করতাম। কাজেই যাদের সাথে হাদির পশু নেই তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং তাকে উমরায় পরিণত করে।

    তখন সুরাকা ইবনে মালেক ইবনে জু’শুম রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ বিধান কি শুধু আমাদের এ বছরের জন্য, না চিরকালের জন্য? জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে দু’বার বললেন, ওমরা হজের মধ্যে প্রবেশ করল। না, বরং চিরকালের জন্য।

    এ সময় আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামেন থেকে বিশ্বনবির কুরবানির পশু নিয়ে আসলেন এবং ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইহরাম খোলা, রঙ্গিন কাপড় পরিধান করা ও সুরমা লাগানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি এটা অপছন্দনীয় কাজ মনে করলে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমার পিতা এ কাজ করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    বর্ণনাকারী বলেন, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ই’রাকে বলতেন, ‘ফাতিমার এ কাজে আমি বিরক্ত হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে ফতোয়া জানার জন্য গেলাম। সে (ফাতিমা) যা কিছু আমার সাথে আলাপ করেছে আর আমি যে অপছন্দ করেছি এটাও তাঁকে জানালাম।

    তিনি (বিশ্বনবি)  বললেন, ফাতিমা সত্যি বলেছে, সঠিক বলেছে, তুমি যখন হজের নিয়ত করেছিলে তখন কী বলেছিলে? তিনি (হজরত আলি) বললেন- আমি বলেছি, ‘হে আল্লাহ! তোমার রাসুল যার ইহরাম বেঁধেছে আমিও তার-ই ইহরাম বাঁধছি। তিনি (বিশ্বনবি) বললেন, “তাহলে তুমি ইহরাম ভঙ্গ করবে না; কারণ আমার সাথে হাদির পশু রয়েছে।

    হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামেন থেকে যেসব কুরবানির পশু সাথে এনেছিলেন আর বিশ্বনবি নিজের সাথে যা এনেছিলেন সব মিলে সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল একশ’। বর্ণনাকারী বলেন, বিশ্বনবি এবং আরো যাদের সাথে হাদির পশু ছিল তারা ছাড়া সকলেই ইহরাম খুলে ফেলল এবং মাথার চুল কাটালো।

    তারপর তারবিয়ার দিন (৮ই জিলহজ) আসলে, তারা মিনার অভিমুখে রওয়ানা হলেন এবং (যারা উমরার পর ইহরাম খুলে ফেলেছিল তারা) হজের জন্য (পুনরায়) ইহরাম বাঁধলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহনে আরোহণ করলেন এবং মিনায় পৌঁছে সেখানে তিনি জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও (পরদিন) ফজরের নামাজ আদায় করলেন।

    তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি সেখানে (মিনাতে) অবস্থান করলেন এবং তাঁর জন্য (আরাফাতের ময়দানে) ‘নামেরায়’ একটি পশমের তৈরী তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাত্রা করলেন। কুরাইশদের ধারণা ছিল, অবশ্যই তিনি মাশ‘য়ারুল হারামে অবস্থান করবেন; কারণ জাহেলিয়াতের সময় কুরাইশরা এরূপ করত। (অর্থাৎ আভিজাত্যের কারণে তারা সাধারণের সাথে আরাফাতের মাঠে অবস্থান করত না)

    কিন্তু ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামনের দিকে আগ্রসর হতে থাকলেন এবং আরাফাতে পৌঁছে দেখতে পেলেন, নামেরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। কাজেই তিনি সেখানে অবতরণ করলেন এবং অবস্থান করলেন।

    সূর্য মধ্যাকাশে স্থির হলে তিনি তাঁর কাসওয়াকে (উষ্ট্রী) সাজাতে হুকুম দিলেন। উষ্ট্রী সাজানো হলে তিনি উপত্যকার মাঝে এসে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন-

    >> ‘তোমাদের জানমাল তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম (সম্মানের বস্তু) যেভাবে আজকের এ দিনে এ মাসে এবং এ শহর হারাম। (মর্যাদাপূর্ণ)

    >> জাহিলী যুগের সকল রক্তের দাবী (হত্যার প্রতিশোধ) রহিত করা হল। আর আমি প্রথমেই আমাদের রক্তের দাবীর মধ্যে ইবনে রাবি‘য়া ইবনে হারিসের রক্তের দাবী রহিত ঘোষণা করলাম। সে বনি সা‘দ গোত্রের দধু পান অবস্থায় ছিল (লালিত হচ্ছিল)। এ অবস্থায় হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে।

    >> জাহিলী যুগের সুদ রহিত করা হল। আর আমি প্রথমেই আমাদের সুদ আব্বাস ইবনে মুত্তালিবের সুদ রহিত ঘোষণা করছি। ইহার সমুদয় রহিত হল।

    >> তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর জামানতে (হিসেবে) গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালামের মাধ্যমে তাদের গুপ্ত অঙ্গকে হালাল করে নিয়েছ। তাদের উপরে তোমাদের হক হল তারা তোমাদের ঘরে এমন কাউকে আসতে দেবেনা, যাদের তোমরা অপছন্দ কর। আর যদি তারা তা করে তাহলে তাদেরকে হালকাভাবে মারবে যাতে কঠিন আঘাত না লাগে। আর তোমাদের ওপর তাদের হক হল, যথারীতি ও ইনসাফের ভিত্তিতে তাদের অন্ন, বস্ত্রের ব্যবস্থা করবে।

    >>আর আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাক তাহলে তোমরা আমার পর কখনো গোমরাহ হবে না। তা হল, আল্লাহর কিতাব।

    >> হে লোক সকল! তোমাদের কাছে আমার সম্পকের্  জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তোমরা কি বলবে? তারা বলল, ‘আমরা সাক্ষ্য দেব, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর বাণী আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, আপনি নিজের কর্তব্য যথাযথভাবে সম্পাদন করেছেন এবং আমাদের কল্যাণ কামনা করেছেন।’ তখন তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুল আকাশের দিকে তুলে এবং উপস্থিত জনতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনবার বলেন, ‘হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক, আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক।

    অতপর মুয়াজ্জিন আজান দিল এবং ইক্বামত বলল। তিনি জোহরের নামাজ আদায় করলেন। পুনরায় ইক্বামত হল, তিনি আসর নামাজ পড়লেন। এর মাঝে কোন নফল পড়লেন না।

    এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সওয়ার হয়ে নিজের অবস্থান স্থলে পৌঁছলেন এবং কাসওয়ার পেট পাথরসমূহের দিকে করে দিলেন এবং পায়ে চলার পথকে নিজের সামনে রেখে কেবলামুখী হলেন। এভাবে তিনি সূর্যাস্ত হয়ে হলুদবর্ণ কিছুটা চলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে রইলেন। শেষ পর্যন্ত সূর্য গোলক সম্পূর্ণ নিচে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    তারপর তিনি উসামাকে তার সওয়ারীর পিছনে বসিয়ে রওয়ানা হলেন এবং কাসওয়ার নাকের লরি এমনভাবে টেনে ধরলেন যে, এর মাথা হাওদার মোড়কের সাথে লেগে গিয়েছিল। আর তিনি তাঁর ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে লোক সকল! তোমরা শান্তভাবে আস্তে আস্তে অগ্রসর হও। আর যখনই তিনি কোন বালু স্তুপের ওপর এসে উপনীত হতেন, বাহনের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে উষ্ট্রী ওপরে উঠতে পারে।

    এভাবে তিনি মুজদালিফায় এসে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি এক আজান ও দু’টি ইক্বামতের সাথে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করলেন এবং দুই সালাতের মাঝে কোন প্রকার সুন্নাত বা নফল পড়লেন না। অতপর ভোর পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুয়ে থাকলেন এবং অন্ধকার কেটে গেলে আজান ও ইক্বামতের সাথে ফজরের নামাজ আদায়করলেন।

    এরপর কাসওয়ায় আরোহণ করে ‘মাশ‘য়ারে হারাম’ নামক স্থানে পৌঁছে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করলেন, আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালেমায়ে তাওহিদ পাঠ করলেন এবং তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা করলেন। দিনের আলো পরিস্কার হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন এবং সূর্য ওঠার পূর্বে এখান থেকে রওয়ানা হলেন। এবার ফজল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর সওয়ারীর পিছনে বসিয়ে নিলেন। ফজল একজন সুন্দর চুল বিশিষ্ট সুঠাম ও সুদর্শন যুবক ছিলেন।

    তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, আর মহিলাদের একটি দলও পাশাপাশি অগ্রসর হচ্ছিল। আর ফজল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজলের মখু মণ্ডলের ওপর তাঁর হাত রাখলেন। ফজল তার মখু অন্যদিকে ফিরিয়ে (আবারো) তাকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত পুনরায় ফজলের মুখের ওপর রাখেন। এ অবস্থায় তিনি বাতনে মুহাসসিরে এসে পৌঁছলেন এবং সাওয়রীকে কিছুটা উত্তেজিত করলেন।

    তিনি মাঝের পথ ধরে (মিনায়) জামরায় আকাবার দিকে অগ্রসর হলেন। অতপর তিনি জামারার নিকট পৌঁছলেন যা গাছের কাছে অবস্থিত। উপত্যকার মাঝখান থেকে তিনি এখানে সাতটি কংকর মারলেন, কংকর মারার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন।

    অতপর কুরবানির স্থানে গিয়ে তিনি নিজ হাতে ৬৩টি পশু কুরবানি করলেন। এরপর যা বাকি রইল তা আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দিলেন এবং তিনি তা কুরবানি করলেন।

    তিনি (আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজের কুরবানির পশুতে শরিক করলেন। তারপর তিনি প্রত্যেক পশুর কিছু অংশ নিয়ে একটি হাঁড়িতে পাকানোর জন্য নির্দেশ দিলেন। গোশত পাকানো হল এবং তাঁরা দু’জনই তা থেকে খেলেন ও এর ঝোল পান করলেন।

    অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহ পৌঁছলেন এবং তওয়াফে ইফাযা (তাওয়াফে জিয়ারাত) করে মক্কায় জোহরের নামাজ পড়লেন। এরপর তিনি আপন গোত্র বনি মুত্তালিবের কাছে পৌঁছলেন। তারা জমজমের কূপের পাড়ে দাঁড়িয়ে লোকদেরকে পানি পান করাচ্ছিলেন। তিনি তাদের বললেন, হে বনি মুত্তালিব! তোমরা (পানি) টানতে থাক, তোমাদের পানি সরবরাহের অধিকার লোকেরা ছিনিয়ে নেবে বলে আশংকা না থাকলে আমিও তোমাদের সাথে একত্রিত হয়ে পানি তুলতাম। তখন তাঁরা তাঁকে এক বালতি পানি দিলেন এবং তিনি তা থেকে পান করলেন। (মুসলিম)

    এই ছিলো বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজ। ‍তাআলা মুসলিম ‍উম্মাহকে বিশ্বনবির পরিপূর্ণ অনুকরণে হজ আদায়ের মাধ্যমে হজে মাবরুর লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।