এ বি এন এ : আল্লাহ যাদের হজ কবুল করেন তাদের অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং তারা কাবাঘর থেকে মাসুম বাচ্চার মতো নিষ্পাপ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। হজ আর্থিক সামর্থ্যের অধিকারী মুসলমানদের জন্য অবশ্য পালনীয় ইবাদত। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। তবে এটি শুধু ধনীদের জন্য অবশ্য পালনীয়। যেমন ইসলামের আরেকটি স্তম্ভ জাকাতও কেবল ধনীদের জন্য পালনীয়। হজের আসল পাথেয় হলো তাকওয়া। মুমিনরা হজ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়। এ সুযোগ যারা পায় তারা সত্যিকার অর্থে সৌভাগ্যবান। হজ সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এমন একটি অবশ্য পালনীয় ইবাদত যে, কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ পালনে কার্পণ্য করলে তারা আল্লাহর বিরাগভাজন হবে। সূরা আল ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের ওপর আল্লাহ পাকের হক এই যে, কাবাঘর পর্যন্ত আসার সামর্থ্য যাদের আছে তারা হজ করার জন্য এখানে আসবে। যারা প্রত্যাখ্যান করবে (অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করতে আসবে না) তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ সৃষ্টি জগতের মুখাপেক্ষী নয়।’ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ পালনে অনীহা প্রদর্শন করে মহানবী (সা.)-এর হাদিসে তাদের কঠোরভাবে ভর্ত্সনা করা হয়েছে। হজ পালন উপলক্ষে হাজিরা রসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের জন্য মদিনায় যান। রসুল (সা.) বলেছেন মদিনা জিয়ারত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য (আবু দাউদ)। রসুল (সা.) বলেন, রওজা জিয়ারতকারীরাও অশেষ সৌভাগ্যের অধিকারী। এর মাধ্যমে দুটি কবুল হজের ছওয়াব পাওয়া যায়। হজরত আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, রসুলে করিম (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান যখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সালাম করে আল্লাহতায়ালা তখন আমার রুহ ফিরিয়ে দেন এবং আমি তার সালামের জওয়াব দেই (মুসনাদে আহমদ)। হজ পালনের জন্য অবশ্যই পাথেয় দরকার। সারা দুনিয়া থেকে মুমিনরা হজের জন্য আরাফায় যান। এ জন্য হজ পালনকারীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব ইবাদতের মতো হজের জন্য আসল পাথেয় হলো তাকওয়া। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ভয় বা মহান স্রষ্টার হুকুম তামিল করার ঐকান্তিক বাসনা। সূরা বাকারার ১৯৭ নম্বর আয়াতেও এ বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘হজের সফরের জন্য পাথেয় সঙ্গে নিয়ে যাবে। তবে তাকওয়াই হচ্ছে সর্বোত্তম পাথেয়।’ এ বছর দুনিয়ার যেসব মুসলমান আল্লাহর মেহমান হিসেবে হজ পালন করছেন পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের সবাইকে সুস্থভাবে হজ পালনের তওফিক দিন। আমিন।
Category: ধর্ম
-

কোরআন প্রদত্ত নারীর অধিকার দেনমোহর: পরিমাণ, গুরুত্ব ও মাপকাঠি
এ বি এন এ : বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর ওপর ফরজ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা খুশি মনে স্ত্রীকে মহর পরিশোধ করো।’ -সূরা আন নিসা: ৪
মোহর পাওয়া স্ত্রীর অধিকার। নারীকে এ অধিকার দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। তাই অন্যসব অধিকারের মতো স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করা স্ত্রীর জন্য কোনো দূষণীয় নয়। অনেকেই মনে করেন, দেনমোহরের টাকা স্ত্রীকে দিতে হয় শুধুমাত্র বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটলে। এটা অজ্ঞতা ও চরম ভুল ধারণা। বিয়ে বিচ্ছেদ না হলেও দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করা ফরজ।
স্ত্রীকে মোহর সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ না করলে তা স্বামীর ওপর ঋণ হয়ে থাকবে। এটা পরিশোধের পূর্বপর্যন্ত স্বামী ঋণগ্রস্ত আর স্ত্রী পাওনাদার। এ অবস্থায় স্বামী মারা গেলে তার সম্পদ ওয়ারিশদের মাঝে ভাগ করার পূর্বে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করতে হবে। আর স্ত্রী আগে মারা গেলে স্ত্রীর ওয়ারিশদের মাঝে তার মোহর ভাগ করে দিতে হবে। তাই অন্যান্য ঋণের মতোই গুরুত্ব দিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব দেনমোহর পরিশোধ করতে হয়।
বাসর রাতে, স্ত্রীর মৃত্যুর সময়, স্বামীর মৃত্যুর সময় বা অন্য কোনো সময় ও পরিস্থিতিতে স্ত্রীর কাছ থেকে মোহরের মাফ চেয়ে নেওয়া শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। মাফ চেয়ে নিলেও স্বামী মোহর দিতে বাধ্য।
সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, মোহর হতে হবে বিক্রয়যোগ্য বস্তু সম্পদ। আর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, মোহরের নূন্যতম পরিমাণ হবে দশ দিরহাম। আধুনিক পরিমাপে তা প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম রুপা। মোহরের সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। নূন্যতম পরিমাণের ঊর্ধ্বে যে কোনো পরিমাণকেই মোহর নির্ধারণ করা যাবে। তবে স্বামী যেহেতু দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য- তাই তার পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা করে তা নির্ধারণ করা উচিৎ। এমন কোনো সিদ্ধান্ত তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া আদৌ উচিৎ হবে না- যাতে সে গুনাহগার হয়।
নবীকন্যা হজরত ফাতেমা (রা.) ও হজরত আলী (রা.)-এর বিয়ের সময় ধার্যকৃত মোহর মুসলিম সমাজে মোহরে ফাতেমি নামে পরিচিত। বর্তমানে অনেক ধার্মিক পরিবার বিয়ের সময় মোহরে ফাতেমি পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করে থাকেন। অনেকেই দেনমোহরের জন্য মোহরে ফাতেমিকে সুন্নত বলে মনে করেন কিংবা খুব গুরুত্বের সঙ্গে এটা বিবেচনা করেন। এটা নিছক কুসংস্কার ও ভুল প্রথা বৈ অন্যকিছু নয়।

কেননা, মোহরে ফাতেমি যদি সুন্নতি হতো তবে সাহাবারা মোহরে ফাতেমির চেয়ে কম-বেশি মোহর ধার্য করে বিয়ে করতেন না। যেহেতু সাহাবারা মোহরে ফাতেমিকে অনুসরণ করেননি বরং সামর্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন তারা মোহর নির্ধারণ করেছেন, তাই মোহরে ফাতেমি সুন্নত নয়। বরং দেনমোহর নির্ধারণের জন্য সুন্নত হলো- এমন সর্বোচ্চ পরিমাণ যা পরিশোধ করার সামর্থ্য স্বামীর আছে।হজরত উমরের (রা.) খেলাফতকালে যখন মুসলমানদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে- তখন সাহাবারা তাদের সন্তানদের বিয়েতে মোহরে ফাতেমির চেয়ে অনেক গুণ বেশি মোহর নির্ধাণ করতে শুরু করেন। হজরত উমর (রা.) মোহরের ক্রমবৃদ্ধির গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সূরা নিসার ২০ নম্বর আয়াতের কারণে তা করেননি। কেননা, ওই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়; মোহর অনেক অনেক বেশিও হতে পারে।
তাই, কোনো প্রকার বিচার-বিবেচনা ছাড়া ঢালাওভাবে সবার জন্য মোহরে ফাতেমি নির্ধারণ করলে জটিলতর এমন দু’টি সমস্যা সৃষ্টি হয়- যা ইসলাম আদৌ পছন্দ করে না। স্বামীর যদি মোহরে ফাতেমি পরিশোধের সামর্থ্য না থাকে তবে সে ক্ষেত্রে- স্বামী হয় নির্যাতিত। মোহর পরিশোধ করতে না পারায় সে হয় গুনাহগার।
আবার মোহরে ফাতেমির চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ মোহর পরিশোধের সামর্থ্য যদি স্বামীর থাকে তবে সেক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমিকে দেনমোহর নির্ধারণ করার দ্বারা স্ত্রীকে ঠকানো হয় ও নারীত্বের চরম অবমাননা করা হয়। তাই মোহরে ফাতেমিকে নয়, বরং স্বামীর সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ পরিমাণকে দেনমোহর করা উচিৎ। লক্ষ্য করতে হবে, স্বামী যেন গুনাহগার না হয়- আবার স্ত্রীও যেন না ঠকে।
এর পরেও কেউ যদি মোহরে ফাতেমিকে দেনমোহর করতে চায় তবে করতে পারে। নবীকন্যা হজরত ফাতেমার বিয়ের মোহর ছিলো- ৪৮০ দিরহাম। বর্তমানের পরিমাপে তার পরিমাণ প্রায় ১৩১.২৫ ভরি রুপা বা ১৫৩০.৯ গ্রাম রুপা। আজকের (০৮ আগস্ট) বাজারদর হিসেবে মূল্য দাঁড়ায়- এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।
-

উম্মতের প্রতি বিশ্বনবির ভালোবাসার নমুনা
এ বি এন এ : হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেক নবির জন্যই রয়েছে একটি কবুলযোগ্য দোয়া’ এ কথাটির তাৎপর্য হলো- আল্লাহ তাআলা সকল নবিকেই নির্দেশ প্রদান করেছেন যে, তোমরা তোমাদের বিরোধীদের ধ্বংসের জন্য বদ-দোয়া কর। সুতরাং তাদের বদ-দোয়া অনুযায়ী অনেক জাতিকেই আল্লাহ তাআলা ধ্বংস করে দিয়েছেন।
সে প্রসঙ্গেই বিশ্বনবি বলেন, ‘প্রত্যেক নবিকে আল্লাহ তাআলা দোয়ার যে অধিকার দিয়েছেন, নবিগণ সে অধিকার প্রয়োগে তাড়াহুড়া করেছেন। যেমন- হজরত নুহ আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাঁর উম্মতের ধ্বংসের জন্য বদ-দোয়ার ফলে সেই উম্মতের অবাধ্যদেরকে আল্লাহ তাআলা তুফান ও প্লাবনে ডুবিয়ে মেরেছেন।
অনুরূপভাবে হজরত সালেহ আলাইহিস সালাম স্বীয় উম্মতের ধ্বংসের জন্য বদ-দোয়া করেছিলেন, ফলে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম-এর এক বিকট চিৎকারে তারা ধ্বংসযজ্ঞের উপত্যকায় চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। হাদিসটি হলো-

এ হাদিসে বিশ্বনবি বলেন, ‘আমি সেই দোয়ার অধিকারকে সংরক্ষিত করে রেখেছি।’ অর্থাৎ বিরুদ্ধবাদীদের অত্যাচার-নির্যাতন ও কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করেছি। তৎক্ষনাৎ তাদের জন্য বদ-দোয়া করিনি। কেননা আল্লাহ তাআলা আমাকে ‘রাহমাতুললিল আ’লামিন’ তথা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমার জন্য শোভনীয় নয় যে, আমি কারো ধ্বংসের উপকরণ হব, বদ-দোয়া করে কাউকে ধ্বংস করে দেব।
বরং দোয়া করার সেই প্রাপ্ত অধিকারকে আমি কিয়ামাতের দিনের জন্য সংরক্ষিত রেখেছি। এ অধিকারকে পার্থিব বদ-দোয়ায় প্রয়োগ না করে কিয়ামাত দিবসে আমার এমন উম্মতের জন্য শাফাআ’ত করব, ‘যে এ দুনিয়া হতে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু বরণ করেছে, যদিও সে পাপিষ্ট ও গোনাহগার হয়।’
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ হাদিস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বিশ্বনবির সঠিক মতাদর্শ বাস্তব জীবনে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
-

দরূদ পাঠের অসামান্য ফজিলত
এ বি এন এ : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরূদের ফজিলত অত্যধিক। দরূদের ফজিলত সম্পর্কিত অনেক তথ্যই আমরা কম-বেশি জানি। ইমাম ফকিহ আবুল লাইছ সমরকান্দি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিশ্বনবির প্রতি দরূদের অসামান্য বরকতের ঘটনা বর্ণনা করেন। যা এখানে তুলে ধরা হলো-
ইমাম ফকিহ আবুল লাইছ সমরকন্দি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি আমার পিতাকে এ ঘটনা বলতে শুনেছি, হজরত সুফিয়ান সওরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে প্রত্যেক কদমে কদমে বিশ্বনবির প্রতি দরূদ পড়ছেন। তিনি তাঁকে বললেন, আপনি যে তাসবিহ ও তাহলিল ছেড়ে শুধুমাত্র দরূদ পড়ছেন? এর কি কোনো রহস্য আছে?
লোকটি হজরত আবু সুফিয়ান সাওরিকে বললেন, আপনি যদি এ যুগের অখ্যাত ও অপরিচিত লোক হতেন, তাহলে আপনাকে দরূদ পাঠের রহস্যের কথা বলতাম না। তারপর সে তাঁকে বলল, একদিন আমি এবং আমার পিতা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তার সেবা করতে লাগলাম।

এক রাতে আমি তার শিয়রে বসে আছি, এমন সময় আমার পিতা ইন্তেকাল করলেন। ইন্তেকালের পর দেখতে পেলাম, তার চেহারা কালো হয়ে গেল। এমনটা দেখে আমি বললাম, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ তারপর আমি চাদর টেনে তার চেহারা ঢেকে দিলাম। এরপর আমার ঘুম এসে গেল।
স্বপ্নে দেখতে পেলাম- একজন লোক এলো, যার শরীরে কাপড় ছিল খুব পরিচ্ছন্ন এবং গায়ের রং ছিল সুন্দর। এত সুন্দর মানুষ আমি কখনো দেখিনি। লোকটি আমার পিতার নিকট আসলো এবং তার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে হাত দ্বারা চেহারা মুছে দিল। সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল।
এরপর এ সুন্দর লোকটি চলে যেতে লাগলে আমি তাঁর কাপড় আঁকড়ে ধরে বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কে? যে এ অচেনা অঞ্চলে আমার পিতার প্রতি রহম করলেন?

লোকটি বললেন, তুমি কি আমাকে চেন না? আমি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শোন! তোমার পিতা নিজের ওপর জুলুম করত। তবে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করত কিন্তু কিছুক্ষণ ধরে তার দরুদ আমার কাছে পৌঁছে না। তাই আমি ফেরেশতাকে জিজ্ঞাসা করলাম দরুদ না আসার কারণ কী?
ফেরেশতা বললেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই আমি নিজেই (মহানবী) এখানে এসেছি। আমি তাকে সাহায্য করি। এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেল।
ঘুম থেকে জেগে দেখলাম বাস্তবেই আমার পিতার চেহারা উজ্জ্বল ও ঝলমলে হয়ে গেছে।
এ হলো বিশ্বনবির প্রতি দরূদ পড়ার ফজিলত। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পড়ার এবং তাঁর মতাদর্শে জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
-

আজানের জবাব সঠিকভাবে দিতে হবে
মুয়াজ্জিন আজান দেয় আর এ আওয়াজ শত শত হাজার হাজার মানুষ শ্রবণ করে এবং মুয়াজ্জিনের কথার সঙ্গে কথা মিলায়। এরপর মুয়াজ্জিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে চলে আসে। অতএব, মুয়াজ্জিন যদি জান্নাতের টিকিট পায় তাহলে তার ডাকে সাড়া দানকারীরাও পাবে বলে আশা করা যায়। হাদিসে এসেছে, কাল হাশরের ময়দানে মুয়াজ্জিনের গর্দান অনেক লম্বা হবে, তার চেহারায় নূর চমকাতে থাকবে। একই সময়ে কয়েক মসজিদের আজান শুনলে প্রথম আজানের জবাব দিলেই হয়ে যাবে। তবে বেশি সওয়াব পেতে চাইলে প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা জবাব দিতে হবে। তবে সেই আজানেরই জবাব দিতে হবে যা সহি-শুদ্ধভাবে এবং সুন্নত তরিকায় দেওয়া হয়। ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্লাহ’-এর জবাব হলো তাই যা আজানে বলা হয়। ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’-এর জবাব হলো ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’। কিন্তু যদি কেউ এটা না জানে তাহলে হুবহু আজানের শব্দ বলে দিলেও জবাব হয়ে যাবে। ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাব হলো ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’। এ বাক্যের অর্থ হলো, হে মুয়াজ্জিন! তুমি ঠিক বলেছ যে, ঘুমের চেয়ে নামাজ ভালো। তাই ঘুম ছেড়ে নামাজ পড়তে মসজিদে এসে নামাজ আদায় করলাম। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার এই নামাজের যদি প্রতিদান পেয়ে থাকি তাহলে হে মুয়াজ্জিন, তুমিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। কারণ তুমিই তো আহ্বান করে মসজিদে আমাকে নিয়ে এসেছ। অনেকে ইকামাতের জবাব দেয় না, এটা ঠিক নয়। ইকামাতের জবাব দিতে হয়। ইকামাতের মধ্যে একটি বাক্য বেশি আছে। তাহলো ‘কাদকামাতিস সালাহ’। এর জবাব হলো ‘আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’। এই জবাবের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বর্তমানে নামাজ আদায় ও মৃত্যু পর্যন্ত তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তৌফিক চাওয়া। অনেকে আমল করে কিন্তু সহিভাবে নয়। আমল যদি সহি না হয়, তাহলে তার ফলও সঠিক হয় না। যেমন মেশিন ভালো না হলে পণ্য ভালো হয় না। ফলে বিক্রি কমে যায়, কোম্পানি লোকসানের মুখে পড়ে। যে বস্তুর গুণ-মান ভালো হয় না, ভেজাল হয়, তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। উপরন্তু সরকারও কোম্পানির মালিককে জেল হাজতে পাঠায়। মানুষের আমল সহি করে দেওয়ার প্রথম দায়িত্ব বর্তায় আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিনের ওপর। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিভাবে আজানের জবাব দেওয়ার তাওফিক দান করুন। লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ, ঢাকা। – See more at: http://www.bd-pratidin.com/islam/2016/07/26/159317#sthash.lrqodTB8.dpuf
-

ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া
এ বি এন এ : আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন। অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, নাফরমানি করার পরও আল্লাহ তাআলা মানুষকে আলো-বাতাস তথা নিয়ামাত দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই কিভাবে ক্ষমা চাইলে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দিবেন। তার অগণিত অসংখ্য দোয়া ও হিকমত শিখিয়েছেন। বিভিন্ন উপলক্ষে বিভিন্ন দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন। ক্ষমা লাভের এমনি একটি দোয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য তুলে ধরেছেন-
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ`ফুউউন; তুহিব্বুল আ`ফওয়া; ফা`ফু আ`ন্নি। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, মিশকাত)
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করাকে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে/আমাদিগকে ক্ষমা করে দিন।
এ দোয়াটিকে অনেকেই শবে কদরের রাতের দোয়া হিসেবে জানেন। কিন্তু প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা লাভের আহ্বান করেন। সুতরাং আমরা এ দোয়াটির মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে গভীর রাতে ইবাদাত ও মোনাজাতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারি।আল্লাহ তাআলা উক্ত দোয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমিন। -

‘ইন্টারনেটে কোরান-হাদিস চর্চা করবেন না’
এ বি এন এ : জাতীয় মসজিদে বায়তুল মোকাররম পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ এহসানুল হক ইন্টারনেটে কোরান-হাদিস চর্চানা করে এ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনে আলেম সমাজের সাহায্য নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন- এখানে অনেকে ভুল বা বিকৃত তথ্য দিয়ে বিপদগামী করতে পারে।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে অভিভাবক এবং তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি এ আহ্বান জানান।
ইমাম বলেন, আপনার চোখ ফাঁকি দিয়ে আপনার সন্তানকে সন্ত্রাসীরা যেন কেড়ে নিতে না পারে। তাই প্রত্যেকের সন্তানের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা দিন। কোরআনের সঠিক শিক্ষার অভাবে কোরআনের আলোকে না চলার কারণে তরুণ সমাজ আজ বিপদের পথে চলে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কোরআনের শিক্ষা অভাবে তাদের সন্তানরা ভুল পথে চলে যাচ্ছে।’
জুমার নামাজের সময় বায়তুল মোকাররমে প্রবেশের তিনটি পথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। মসজিদে প্রবেশের উত্তর
ও দক্ষিণে আর্চওয়ে বসানো হয়। মুসল্লিদেরও দেহ তল্লাশি করা হয়। -

ধন-সম্পদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন
ধন-সম্পদ আল্লাহর নেয়ামত। মহান প্রভু এর দ্বারা মানুষকে পরীক্ষা করেন। কাউকে তিনি দুনিয়াতে সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। আবার কাউকে ধন-দৌলত না দিয়ে পরীক্ষা করেন। তবে যাকে ধন-সম্পদ দান করা হয়েছে তার পরীক্ষা তুলনামূলক কঠিন। কারণ যার ধন-সম্পদ নেই তার হিসাব-নিকাশের ঝামেলা নেই। দুনিয়ার জীবন একভাবে না একভাবে কেটেই যাবে। সময় কারও জন্য বসে থাকবে না। হজরত কা’ব (রাজি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি : প্রত্যেক উম্মতের জন্যই একটি পরীক্ষার বস্তু থাকে, আমার উম্মতের পরীক্ষার বস্তু হচ্ছে অর্থ-সম্পদ (তিরমিযি)। অর্থ-সম্পদের সঠিক ব্যবহার দ্বারা মানুষ কল্যাণ ও পুণ্য অর্জন করতে পারে। আবার এর দ্বারা আল্লাহ বিমুখ ও আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে যায়। এ জন্যই এটাকে পরীক্ষার বস্তু বলা হয়েছে। দুনিয়াতে মানুষ যতই অর্থ-সম্পদের মালিক হোক তার সম্পদ বৃদ্ধির লোভ কখনো শেষ হয় না। এ বিষয়ে হজরত ইবনে আব্বাস (রাজি.) সূত্রে নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন— আদম সন্তানের জন্য যদি সম্পদে ভরা দুটি প্রান্তরও হয়ে যায় তবুও সে তৃতীয় আরেকটি কামনা করবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কোনো কিছুই ভরতে পারে না। তবে যে আল্লাহর প্রতি অনুরাগী হয়, আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করেন (বুখারি, মুসলিম)। অর্থাৎ যে যত সম্পদের মালিক হোক সে চাইবে আরও সম্পত্তির মালিক হতে। আরও কিছুর মালিক হতে। একমাত্র কবরে যাওয়ার মাধ্যমেই তার লোভ-লালসার ইতি ঘটবে। অর্থ-সম্পদ কম থাকলে আখিরাতে হিসাবের ঝামেলাও কম হবে। হজরত মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রাজি.) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (সা.) বলেছেন— আদম সন্তান দুটি জিনিসকে অপছন্দ করে, অথচ তার জন্য এগুলো ভালো। (১) মৃত্যুকে সে অপছন্দ করে অথচ মুমিনের জন্য ফিতনার চেয়ে মৃত্যুই ভালো (২) অর্থ-সম্পদ কম হওয়া সে অপছন্দ করে, অথচ সম্পদ কম হলে আখেরাতে হিসাবও কম দিতে হবে এবং তার জন্য সহজ হবে (মুসনাদে আহমাদ)। এ জন্য রসুল (সা.) দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তির সাহচর্য অবলম্বনের নির্দেশ দিতেন।
লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।
-

শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত
মাহে রমজানের পর আমাদের মাঝে হাজির হয় শাওয়াল মাস। শাওয়াল গুনাহ থেকে মুক্তির মাস। মাহে রমজানে যার রোজা কবুল হয়েছে, শাওয়াল মাস থেকে সে গুনাহর ভারমুক্ত হয়েছে। রমজান মাসের বরকত যারা হাসিল করেছেন তারা মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকেন এ মাসে। যারা রমজানে যথাযথ ইবাদত বন্দেগি করতে পারেননি তাদের উচিত এখনই তওবা ইস্তেগফার করে আল্লাহতায়ালার রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া এবং নেক আমলের দিকে ফিরে আসা। রমজানে মাসব্যাপী যারা সিয়াম সাধনা করেছেন তাদের জন্য শাওয়াল মাসে শুভ সংবাদ রয়েছে। তা হলো শাওয়াল মাসের ছয় রোজা। হজরত আবু আইউব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখল এবং এ রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল’ [মুসলিম]। হজরত উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ইয়া রসুলুল্লাহ আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব?’ তখন রসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখ এবং রমজান-পরবর্তী মাস শাওয়ালের ছয় রোজা রাখ, তাহলেই তুমি সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে’ (তিরমিজি)। অল্প নেক আমলের বিনিময়ে আল্লাহর অসীম দয়া ও অনুগ্রহের পাত্র হওয়ার জন্য নবী করিম (সা.) কর্তৃক বর্ণিত সহজ পন্থার একটি হলো শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা। বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই রোজা রাখবে তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সওয়াব দিয়ে দেবেন। মহান আল্লাহপাক হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ করেন, ‘বান্দা-বান্দীরা নফল বা সুন্নত পালনের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে থাকে।’ পবিত্র শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা খাস সুন্নত বা মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত এবং বহু ফজিলতের কারণ। হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা। আল্লামা ইবনে রজব (রহ.) বলেন, শাওয়াল মাসে রোজা রাখার তাত্পর্য অনেক। রমজানের পর রাখা রমজানের রোজা কবুল হওয়ার আলামত স্বরূপ। কেননা আল্লাহতায়ালা কোনো বান্দার আমল কবুল করলে, তাকে পরেও অনুরূপ আমল করার তৌফিক দিয়ে থাকেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শাওয়ালের ছয় রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। লেখক : ইসলামী গবেষক। – See more at: http://www.bd-pratidin.com/islam/2016/07/19/157802#sthash.NCWWqRim.dpuf
-

জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন নবীজি!
এ বি এন এ : সালাতুল তাসবিহ নামায পড়লে পূর্বের গুনাহ বা পাপ মোচন হয় এবং অসীম সওয়াব পাওয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের চাচা হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এই নামায পড়লে আল্লাহ আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা কবীরা জানা অজানা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন।
তিনি বলেন, চাচা জান ! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামায পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়বেন।
সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়মঃ চার রকাত। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাযে বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে, চার রকাতে মোট ৩০০ বার তাসবীহ পড়তে হবে।
তাসবীহঃ سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ اَكْبرُ
উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। নিম্নোক্ত উপায়ে পুরো চার রাকাত এ মোট ৩০০ বার তাসবীহটি পড়তে হবে-
# ১ম রাকাত এ সানা পড়ার পরে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে।
# তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা অথবা অন্তত তিন আয়াত পড়ার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
# এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পরার পরে তাসবীহ টি আরও ১০ বার পড়তে হবে।
# এরপর কিয়াম এ গিয়ে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ পড়ার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
# এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
# প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
# এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
# তারপর একই ভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে, কিন্তু ২য় রাকাত এ সুরা ফাতিহা পড়ার আগে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে ।
# অতপর ২য় রাকাত এর ২য় সিজদার পর “আত্তহিয়্যাতু…”, দরুদ আর দোয়া পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে , ১ম রাকাত এর মত ৩য় রাকাত শুরু করতে হবে (তাসবীহ টি ১৫ বার পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়তে হবে) একই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ২ রাকাত শেষ করতে হবে।
