Category: ধর্ম

  • ৪ মে পবিত্র শবে মেরাজ

    ৪ মে পবিত্র শবে মেরাজ

    এবিএনএ : পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৪৩৭ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাস। আগামী ২৬ রজব ১৪৩৭ হিজরি মোতাবেক ৪ মে ২০১৬ বুধবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ পালিত হবে।

    আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়য়ের যুগ্ম-সচিব মো. আমজাদ আলী।

    সভায় প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) শাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও মো. শাহ আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব মো. অহিদুল ইসলাম, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, রজব মাসের চাঁদ উঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় পবিত্র রমজান মাসের কাউন্টডাউন। এই মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাত ইসলামের নবী মোহাম্মদ সা. ঊর্ধ্বকাশে গমন করেন এবং আল্লাহর দিদার লাভ করেন।

  • হিংসা মানবচরিত্রের অন্যতম ব্যাধি

    হিংসা মানবচরিত্রের অন্যতম ব্যাধি

    এবিএনএ : মানুষের অন্যতম খারাপ দিক হলো হিংসা-বিদ্বেষ। হিংসা-বিদ্বেষ মানবচরিত্রের অন্যতম ক্ষতিকারক ব্যাধিও। হিংসা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিষিয়ে তোলে। শান্তি সম্প্রীতি শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। মানব জীবনে নেমে আসে অশান্তি-কলহ। মানবতার ধর্ম ইসলাম তাই পরস্পর হিংসা বিদ্বেষকে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম শিখিয়েছে শান্তি সম্প্রীতি ও মানবতার বাণী। নবীজি দিয়েছেন মানবতার সবক। পবিত্র কোরআন বলেছে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সে জন্য কি তারা তাদের ঈর্ষা করে? [সুরা নিসা : ৫৪]

    হজরত আবু মুসা আশয়ারি রা. বলেন, নবীজি সা. আমাকে এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. কে ইয়ামানে পাঠান, উপদেশ দেন, তোমরা মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করবে, কঠোর ব্যবহার করবে না। আশার কথা শোনাবে এবং তাদের মনে বিদ্বেষ সৎ সৃষ্টি করবে না। আর তোমরা দু’জনের মধ্যে সুস্পর্ক বজায় রাখবে। তখন আমি বলি, হে আল্লাহর রাসুল সা.! আমরা এমন এক দেশে যাচ্ছি, যেখানে মধু থেকে শরাব তৈরি হয়। একে বিতউ বলা হল। যব থেকেও শরাব তৈরি করা হয়, তাকে বলা হয় মিজর। মহানবী সা. বললেন, প্রত্যেক নেশাসৃষ্টিকারী বস্তু হারাম। [বুখারি : ৫৬৯৫]

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, নবীজি সা. বলেছেন, তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ো না, হিংসা করো না এবং একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন থেকো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে থেকো। কোন মুসলমানের জন্য জায়েজ নয় যে, সে তার ভাই থেকে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকবে। [বুখারি : ৫৬৪৭]

    হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, নবীজি সা. বলেছেন, তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে থেকো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা বিষয়। আর কারো দোষ অনুসন্ধান করো না, পিছু লেগে থেকো না। একে অন্যকে ধোঁকা দিও না, আর পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করো না। বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে থেকো। [বুখারি : ৫৬৪০]

    নবী করিম সা. বলেছেন, তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নিবৃত্ত থাকবে। কেননা হিংসা মানুষের নেক আমল বা পুণ্যগুলো এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে দেয়। [আবু দাউদ]

  • মীরাছ বণ্টন : শারঈ দৃষ্টিকোণ

    মীরাছ বণ্টন : শারঈ দৃষ্টিকোণ

    এবিএনএ : মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদই হচ্ছে মীরাছ, যা মৃতের নিকটাত্মীয়রা লাভ করে। প্রাচীনকাল থেকে মৃতের সন্তানাদি ও আত্মীয়দের মাঝে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম চলে আসছে। সম্পদ বণ্টনে অনিয়ম হ’লে উত্তরাধিকারীদের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা প্রতিহিংসার চরম সীমায় উপনীত হয়। তাই মৃত ব্যক্তির সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের গুরুত্ব অপরিসীম। এতে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত রয়েছে। নিম্নে মীরাছ বণ্টনের শারঈ দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা হ’ল।-

    মীরাছ-এর আভিধানিক অর্থ :

    আরবী ‘মীরাছ’ (ميراث ) শব্দটি ক্রিয়ামূল, যা وَرَثَ يَرِثُ إرْثًا ومِيْرَاثًا থেকে উদগত। আভিধানিক অর্থ : অংশীদার হওয়া, হকদার হওয়া।[1] যেমন আল্লাহ বলেন,وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ‘সুলায়মান দাঊদের ওয়ারিছ হয়েছে’ (নামল ২৭/১৬)।

    কোন বস্ত্ত এক সম্প্রদায় থেকে অপর সম্প্রদায় বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে স্থানান্তরিত হওয়া, চাই তা বিদ্যা, পদমর্যাদা বা সম্পদ হোক।[2] যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন,وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوْا دِيْنَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ ‘আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিছ। নিশ্চয়ই নবীগণ কোন দিরহাম বা দীনারের ওয়ারিছ করেননি। বরং তাঁরা জ্ঞানের (ইলম) ওয়ারিছ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অর্জন করেছে, সে পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছে’।[3]

    আল্লাহ তা‘আলা বলেন,الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُوْنَ ‘তারাই ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে, যেখানে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে’ (মুমিনূন ২৩/১১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,وَنَحْنُ الْوَارِثُوْنَ ‘আমরাই উত্তরাধিকারী’ (হিজর ১৫/২৩)।

    পারিভাষিক অর্থ :

    মীরাছ হ’ল মৃত ব্যক্তি হ’তে তার জীবিত ওয়ারিছদের নিকট মালিকানা স্থানান্তরিত হওয়া। যা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অথবা শারঈ যেকোন হক হোক।

    মীরাছের বিষয়টি মানুষের মরণোত্তর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত, তাই এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানকে ‘নিছফুল ইলম’ বা জ্ঞানের অর্ধেক বলা হয়েছে।[4]

    জাহেলী ও ইসলামী যুগে মীরাছের বিধান :

    জাহেলী যুগে আরবে মীরাছ হ’তে মহিলাদেরকে কোন অংশ দেয়া হ’ত না। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তারা যুদ্ধ-বিগ্রহ বা অন্য কোনভাবে নিজ সম্প্রদায়কে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে না। তারা বলত, ‘যারা ঘোড়ায় চড়তে পারে না, তরবারী ব্যবহার করতে জানে না এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না, আমরা কিভাবে তাদেরকে সম্পদ প্রদান করতে পারি’? তাই তারা শিশুদের মত মেয়েদেরকেও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করত।

    ইসলামী শরী‘আত মীরাছে তাদের হক প্রতিষ্ঠা করেছে। সম্মান ও ইযযতের সাথে তা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এটা কারো দয়া বা অনুগ্রহ-অনুকম্পা নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য নির্ধারিত অংশ।

    মীরাছের আয়াত সমূহ নাযিল হ’লে আরবদের কাছে তা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হয়। তাই তারা এ হুকুমের বিলুপ্তি কামনা করতে থাকে। কেননা এ নির্দেশ ছিল তাদের অভ্যাসের পরিপন্থী।

    ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে ইবনু জারীর ত্বাবারী বর্ণনা করেন, যখন ফারায়েয সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হ’ল, যাতে আল্লাহ তা‘আলা পুত্র ও কন্যা সন্তান এবং পিতা-মাতার অংশ নির্দিষ্ট করেছেন, তখন অনেকেই তা অপসন্দ করল। তারা বলল, স্ত্রীকে এক-চতুর্থাংশ বা এক-অষ্টমাংশ এবং মেয়েকে অর্ধেক ও ছোট শিশুকেও সম্পদ প্রদান করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই গোত্রের প্রতিরক্ষার জন্য যুদ্ধ করে না এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করতে পারে না। তাই এ হাদীছ সম্পর্কে নীরব থাক। সম্ভবতঃ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এটা ভুলে যাবেন অথবা আমরা তাঁকে এ হুকুম পরিবর্তনের জন্য বলব। কেউ কেউ বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি শিশুকেও মীরাছ দিব, অথচ তারা কোন কাজে আসে না? মেয়েকে কি তার পিতার পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক দেব, অথচ সে ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করতে জানে না এবং গোত্রের জন্য যুদ্ধ করে না।

    ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু সমাজে পিতার পক্ষ থেকে নারীরা কোন মীরাছ পায় না। বরং বিয়ের সময় যতটুকু দিয়ে কন্যা বিদায় করা হয়, তা-ই নারীর শেষ প্রাপ্য হিসাবে গণ্য হয়। অথচ ইসলামের বিধান ভিন্ন। ইসলামে নারীকে মীরাছ প্রদান করে তার প্রতি যুলুম ও বাড়াবাড়ির পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। তাকে সম্পদের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। পুরুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের জন্য অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে।[5]

    মীরাছের আয়াত অবতীর্ণের কারণ :

    একদা সা‘দ বিন রাবী‘ (রাঃ)-এর স্ত্রী সা‘দের ঔরষজাত দু’টি মেয়েকে সাথে নিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এরা দুইজন সা‘দ ইবনে রাবীর কন্যা। তাদের পিতা সা‘দ ওহোদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এখন তাদের চাচা তাদের সমস্ত সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, তাদের জন্য কিছুই রাখেনি। অর্থ ছাড়া তাদেরকে বিয়েও দেয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, এ ব্যাপারে আল্লাহ ফায়ছালা দিবেন। এর পরেই উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ ‘আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান’ (নিসা ৪/১১)। এরপর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) তাদের চাচাকে এ নির্দেশ পাঠালেন যে, সা‘দের মেয়েদেরকে দুই-তৃতীয়াংশ ও তাদের মাকে এক অষ্টমাংশ দাও এবং অবশিষ্টাংশ তোমার জন্য রাখো।[6]

    মীরাছ বণ্টনে শারঈ দৃষ্টিকোণ :

    মহান আল্লাহ কুরআনে মীরাছ বণ্টনের বিধান উল্লেখ করেছেন এবং রাসূল (ছাঃ) কথা ও কাজের মাধ্যমে তার নমুনা রেখে গেছেন। নিম্নে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ হতে মীরাছ বণ্টনের বিধান তুলে ধরা হ’ল।-

    পবিত্র কুরআনে মীরাছের বিধান :

    আল্লাহ তা‘আলা বলেন,لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا ‘পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের সম্পত্তিতে নারীদের অংশ রয়েছে, কম হৌক বা বেশী হৌক। এ অংশ সুনির্ধারিত’ (নিসা ৪/৭)।

    অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللهِ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا- ‘আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (মধ্যে মীরাছ বণ্টনের) ব্যাপারে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। যদি তারা দুইয়ের অধিক কন্যা হয়, তাহ’লে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি কেবল একজনই কন্যা হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার প্রত্যেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ করে পাবে, যদি মৃতের কোন পুত্র সন্তান থাকে। আর যদি না থাকে এবং কেবল পিতা-মাতাই ওয়ারিছ হয়, তাহ’লে মা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ’লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রদের মধ্যে কে তোমাদের জন্য অধিক উপকারী, তা তোমরা জানো না। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’ (নিসা ৪/১১)।

    তিনি আরো বলেন,وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ وَصِيَّةً مِنَ اللهِ وَاللهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ ‘আর তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তোমরা অর্ধেক পাবে, যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তোমরা সিকি পাবে, তাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর। আর তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীরা সিকি পাবে, যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি থাকে, তবে তারা অষ্টমাংশ পাবে, তোমাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি পিতা ও সন্তানহীন কোন পুরুষ বা স্ত্রী মারা যায় এবং তার একজন ভাই অথবা বোন থাকে, তবে তারা প্রত্যেকে এক ষষ্ঠাংশ করে পাবে। আর যদি তারা একাধিক হয়, তাহ’লে তারা সকলে এক তৃতীয়াংশে শরীক হবে, অছিয়ত পূরণ অথবা ঋণ পরিশোধের পর, কাউকে কোনরূপ ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও সহনশীল’ (নিসা ৪/১২)।

    তিনি আরো বলেন,يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ‘লোকেরা তোমার নিকট ফৎওয়া জানতে চাচ্ছে। তুমি বলে দাও, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ-র সম্পত্তি বণ্টন সম্পর্কে ফৎওয়া দিচ্ছেন; যদি কোন ব্যক্তি একক অবস্থায় মারা যায় যে, তার কোন সন্তান নেই কিন্তু একটি বোন আছে, তাহ’লে সে অর্ধেক পাবে। পক্ষান্তরে কালালাহ যদি নিঃসন্তান নারী হয় তাহ’লে তার ভাই তার পরিত্যক্ত সমুদয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। আর যদি কালালাহ ব্যক্তির দু’টি বোন থাকে, তবে তারা দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা অনেক ভাই ও বোন থাকে, তাহ’লে ‘এক ভাই সমান দুই বোন’ নীতিতে সম্পত্তি বণ্টিত হবে। আল্লাহ তোমাদেরকে এগুলি বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। বস্ত্ততঃ আল্লাহ সকল বিষয়ে সুবিজ্ঞ’ (নিসা ৪/১৭৬)।

    হাদীছে মীরাছের বিধান :

    রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেন,فَالثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ فِى أَيْدِيهِمْ، ‘এক-তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশই অধিক। ওয়ারিছকে সম্পদশালী অবস্থায় রেখে যাওয়া, তাদেরকে মানুষের নিকট মুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম’।[7]

    রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ ‘মুসলমান কাফেরের এবং কাফের মুসলমানের ওয়ারিছ হবে না’।[8]

    উপরোক্ত হাদীছদ্বয়ের প্রথমটিতে একজন ব্যক্তির অছিয়ত হ’তে কতটুকু অংশ কার্যকর হবে তা বর্ণিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় হাদীছ দ্বারা মুসলিম অমুসলিমের এবং অমুসলিম মুসলিমের ওয়ারিছ হবে না, তা ফুটে উঠেছে।

    পরিত্যক্ত সম্পদের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াবলী :

    মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদের সাথে বেশ কিছু কর্তব্য রয়েছে। প্রথমতঃ মৃত্যুর সময় থেকে মৃতের পরিত্যক্ত সম্পদ দ্বারা তার গোসল, কাফন, দাফন পর্যন্ত সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তার সম্পদের উপর ভিত্তি করে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে মৃতের দাফন সংশ্লিষ্ট কার্যাবলী সমাপ্ত করতে হবে।

    দ্বিতীয়তঃ তার ঋণ পরিশোধ করা। মৃতের নিকটে কোন মানুষের ঋণ থাকলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধের পর বাকী সম্পদ ওয়ারিছদের মাঝে বণ্টিত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ ‘মুমিনের আত্মা ঋণ পরিশোধের পূর্ব পর্যন্ত ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে’।[9]

    তৃতীয়তঃ মৃতের অছিয়ত পূরণ করা। মৃতের অছিয়ত বাস্তবায়ন করতে হবে দাফন, কাফন ও ঋণ পরিশোধের পর।

    রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন,إِنَّ اللهَ تَصَدَّقَ عَلَيْكُمْ عِنْدَ وَفَاتِكُمْ بِثُلُثِ أَمْوَالِكُمْ زِيَادَةً لَكُمْ فِىْ أَعْمَالِكُمْ ‘আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের মৃত্যুবরণের সময় এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ (অর্থাৎ অছিয়ত) দান করেছেন তোমাদের আমল বৃদ্ধি করার জন্য’।[10] সুতরাং কেউ চাইলে এক-তৃতীয়াংশ দান করতে পারে, তার বেশী নয়।

    চতুর্থতঃ পরিত্যক্ত সম্পদ ওয়ারিছদের মাঝে বণ্টন করতে হবে।[11]

    পুরুষের অংশ মহিলার দ্বিগুণ কেন?

    জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক হ’তে পারে, মহিলা দুর্বল ও সম্পদের অধিক মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তাকে পুরুষের অর্ধেক সম্পদ দেয়ার কারণ কি? এর জবাবে বলা যায়, এ বিধান মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। যিনি সৃষ্টিকুলের কল্যাণ সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।

    ইসলামী শরী‘আত বেশ কিছু যুক্তিসঙ্গত কারণে মীরাছে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করেছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হ’ল।-

    ১. মহিলার প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার ছেলে, পিতা, ভাই বা অন্যান্য আত্মীয়ের উপর ন্যস্ত।

    ২. মহিলা নিজে কারো ব্যয়ভার বহনে বাধ্য নয়। অথচ পুরুষ পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও দাবীদারদের ভারণ-পোষণে আদিষ্ট।

    ৩. পুরুষের ব্যয় পরিমাণহীন ও তার সম্পদের আবশ্যকতা অধিক। সেহেতু তার অর্থের প্রয়োজন মহিলার চেয়ে বেশী।

    ৪. পুরুষ তার স্ত্রীর মোহর প্রদান করে এবং সন্তানদের ও স্ত্রীর অন্ন-বস্ত্রের ব্যয়ভার ও বাসস্থান নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে।

    ৫. সন্তানদের লেখা-পড়া, চিকিৎসা, স্ত্রীর সকল ব্যয়ভার পুরুষের উপরই ন্যস্ত, মহিলার উপরে নয়।

    একটি পরিবার ও তৎসংশ্লিষ্টদের সব ধরনের ভরণ-পোষণ ও খরচের বিষয়াদি পুরুষের উপরে ন্যস্ত। যা ইসলামী শরী‘আত স্বীকৃত ও নির্দেশিত।[12] এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী হ’ল- لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ ‘সম্পদশালীদের উচিৎ যে, সে যেন স্বীয় সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে এবং যার আয়-উপার্জন কম তার উচিৎ যে, আল্লাহ তাকে যতটুকু দান করেছেন, তা হ’তে সে ব্যয় করবে’ (তালাক ৬৫/৭)। মহান আল্লাহ আরো বলেন,وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ‘আর সন্তানের খাদ্য ও বস্ত্র নিয়ম মাফিক জন্মদাতার উপর ন্যস্ত’ (বাক্বারাহ ২/২৩৩)।

    মীরাছের বিধান লংঘনের পরিণতি :

    মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদে সূরা নিসার ১১-১২ ও ১৭৬ নং আয়াতে মীরাছ বণ্টনের নিয়ম-নীতি বর্ণনা করেছেন। যে এই নীতি বাস্তবায়ন করবে তার জন্য রয়েছে জান্নাত এবং যে তালবাহানা ও কৌশল অবলম্বন করে এ বণ্টনে কম-বেশী করবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, تِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ، وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِيْنٌ- ‘এগুলি হ’ল আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নদী সমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই হ’ল মহা সফলতা। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর সীমাসমূহ লংঘন করবে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে চিরদিন থাকবে। আর তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি’ (নিসা ৪/১৩-১৪)।

    ইসলাম প্রদত্ত মীরাছের বিধান দ্বারা ব্যক্তির অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ মানব জাতির ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্যই এ বিধান অবতীর্ণ করেছেন।

    ব্যক্তির হক নষ্টের জন্য ব্যক্তির নিকট থেকেই ক্ষমা নিতে হবে। যদি কেউ ব্যক্তির হক নষ্ট করে মৃত্যুবরণ করে তাহ’লে ক্বিয়ামতের দিন নিজের পুণ্য দিয়ে বা তার পাপ গ্রহণ করে তা পরিশোধ করতে হবে।

    মহান আল্লাহ বলেন,وَلَا تَأْكُلُوْا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوْا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوْا فَرِيْقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ‘আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ ভক্ষণ করো না এবং অন্যের সম্পদ গর্হিত পন্থায় গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তোমরা জেনেশুনে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না’ (বাক্বারাহ ২/১৮৮)।

    আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,

    أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ. قَالُوا الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَلاَ مَتَاعَ. فَقَالَ إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِى يَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِى قَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا وَأَكَلَ مَالَ هَذَا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِى النَّارِ.

    ‘তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? ছাহাবীগণ বললেন, আমাদের মাঝে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কোন অর্থ ও সামগ্রী নেই। রাসূল (ছাঃ) বললেন, আমার উম্মতের নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যে ছালাত, ছিয়াম ও যাকাতের নেকী নিয়ে ক্বিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে। অথচ সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছে, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। তখন তার নেকী হ’তে তাদেরকে পরিশোধ করা হবে। প্রাপ্য পরিশোধের পূর্বে তার নেকী শেষ হয়ে গেলে তাদের পাপ নিয়ে তার উপর চাপানো হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’।[13]

    বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই মীরাছ বণ্টনের শারঈ বিধান লংঘন করে চলেছে। মীরাছ বণ্টনে শরী‘আতের সীমাকে উপেক্ষা করে নিজ স্বার্থ হাছিলের চেষ্টা করছে। যেমন পিতা কর্তৃক পুত্র সন্তানদেরকে মীরাছ প্রদান করা এবং কন্যাদেরকে বঞ্চিত করা। চাচা কর্তৃক নাবালিকা ভাতিজাদের মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা। বিধবা পিতা-মাতাকে বশীভূত করে প্রভাবশালী সন্তান কর্তৃক সম্পদ আত্মসাৎ করা। বড় ভাই কর্তৃক পিতার সম্পদ সুষ্ঠু বণ্টন না করে অন্যান্য ভাই-বোনদের সাধ্যমত বঞ্চিত করা। অপরিচিতা কোন মহিলাকে ফুফু বানিয়ে নিজ ফুফুর জমি জাল দলীল করে আত্মসাৎ করা। কাউকে পিতা বানিয়ে নিজ পিতার জমি জাল দলীল করে প্রভাবশালী পুত্রের আত্মসাৎ করা। অনুরূপ বহু ঘটনা বর্তমান সমাজে অহরহ ঘটছে। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অশান্তির দাবানল দাউদাউ করে জ্বলছে।

    উপসংহার :

    পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের মীরাছ বিধান ন্যায়-নীতিপূর্ণ। এ বিধান পালনে আমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর লংঘনে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুতরাং আমরা প্রত্যেককে তার ন্যায্য মীরাছ প্রদান করে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দিন-আমীন!

  • জান্নাতের এক তরুণী রমণীর সৌন্দর্য হবে যেমন !

    জান্নাতের এক তরুণী রমণীর সৌন্দর্য হবে যেমন !

    এবিএনএ : উসামাহ (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সাঃ) বলেন, শোন, তোমরা কেউ কি জান্নাতের জন্য প্রস্ততি নিচ্ছ? (তোমাদের সকলে জান্নাতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া উচিত) কেননা, কেউ চিন্তা করতে পারবে না জান্নাত কেমন হবে? আমি কাবার প্রভুর শপথ নিয়ে বলছি জান্নাত হলো লাইট যা ঝিলিক দেয় ।
    জান্নাতে থাকবে সুগন্ধিময় গাছ যা মৃদু বাতাসে দোলবে। সুউচ্চ বিশাল বাড়ী, দীর্ঘ নদী, প্রচুর পাকা ফল, অপরূপ সুন্দরী যুবতী স্ত্রী এবং অনেক পোশাক । (জান্নাতীরা থাকবে) একটি চিরন্তন স্থানে যেখানে থাকবে শুধু সুখ ও আনন্দ । (যে বাস করবে) উঁচু, নিরাপদ এবং সুন্দরত্তম (রাজকীয়) ঘরে । সাহাবীরা (রা.) বলেন যে, জান্নাতে যাবার জন্য আমরা কাজ করব- ইন-শা-আল্লাহ ।”

    যখন জান্নাত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা খুবই আনন্দের তখন আমাদের উদ্দেশ্য হবে, জান্নাতের জন্য কাজ করা । সকল পাঠক পরকালীন জীবনের সফলতাকে জীবনের উদ্দেশ্য হবে, জান্নাতের জন্য কাজ করা । সকল পাঠক পরকালীন জীবনের সফলতাকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবার নিয়ত করা উচিত ।

    আল্লাহ সুহানাহু আমাদের এ পৃথিবীতে তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বাত্মক সাধনা করার ক্ষমতা দান করুন এবং ঈমানের সাথে আমাদের মৃত্যু দিক । আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমকে জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরষ্কার তার সন্তোষ এবং তার দর্শন আমাদেরকে দান করুক । আল্লাহ মুসলিম যুবক-যুবতীদের এ পৃথিবী এবং পরকালের বাস্তবতা বুঝার ক্ষমতা দান করুক ।-আমীন ।

    মানুষ তার নিজস্ব সীমাবদ্ধ ও ক্ষুদ্র জ্ঞানের মাধ্যমে সৌন্দর্য্যকে বর্ণনা ও উপভোগ করে । আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞান ও বিজ্ঞতা নিয়ে এ সকল জান্নাতী রমণীদের সৌন্দর্য বর্ণনা করেন । সুতরাং আমরা ধারণা করতে পারি কি সুন্দরই না হবে রমণীরা!

    রাসুল (সাঃ) বলেন, যদি জান্নাতের একজন তরুণী পৃথিবীর দিকে দৃষ্টি দেয় তাহলে সে আকাশে ও পৃথিবীর মাঝের শূণ্যস্থানে আলো সুগন্ধি দিয়ে ভরে ফেলবে । তার মাথার স্কার্ফ পৃথিবী ও এর মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম ।

    যদি তার মাথার স্কার্ফই পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে উত্তম হয় তাহলে কত মূল্যবান হবে সে সুন্দরী রমণী নিজে? আখিরাতের এ মহা পুরষ্কার লাভের জন্য কারো কামনা বাসনাকে ত্যাগ করা সহজ । এ চিরন্তন পুরষ্কারের ওয়াদা ছাড়া অন্য খুব কম বিষয়ই আছে যা মানুষের কামনা বাসনাকে দমন করতে পারে । বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের ক্ষেত্রে তো এটা একেবারেই অসম্ভব ।

  • নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মোহনকে স্মরণ

    নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মোহনকে স্মরণ

    ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী প্রয়াত মাহবুবুল হায়দার মোহনকে স্মরণ করা হয়েছে।

    রোববার (২৭ মার্চ) নিউইর্য়কের প্রবাসী বাংলাদেশি সংস্কৃতি কর্মীদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    গত ২৩ মার্চ মাহবুবুল হায়দার মোহনের চতুর্থ প্রয়ান দিবস উপলক্ষে স্থানীয় মিলনায়তনে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রতিবছর এখন থেকে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মাহবুবুল হায়দার মোহনের প্রয়াণ দিবসে ‘মোহন মেলা’ আয়োজনের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলায় প্রচারিত সবচেয়ে পুরাতন ও খ্যাতনামা বাংলা টিভি নিউইয়র্ক’র সিইও মীর শিবলী।

    .

    এ সময় উপস্থিত প্রবাসী বিশিষ্টজনেরা ‘মোহন মেলা’ আয়োজনের বিষয়টিকে তাৎক্ষণিক সমর্থন দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার কথাও ব্যক্ত করেন।

    মেলার পাশাপাশি জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মোহনের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা এবং গণসংগীত উৎসব আয়োজনের প্রস্তাব আনা হয়।

    শিল্পী মোহনের স্মৃতিতে বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের কথাও ঘোষণা করা হয়।

  • সন্তান হত্যা জাতির জন্য অভিশাপ

    সন্তান হত্যা জাতির জন্য অভিশাপ

    সন্তান মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরম ভালোবাসার ধন। সন্তানের মুখের হাসি স্বপ্ন দেখায় নতুন জীবনের, তার গায়ের গন্ধ জীবনে আনে কর্মোদ্যমতা। অন্যদিকে সন্তান পৃথিবীর সব নিরাশার মাঝে আশ্রয় খোঁজে পিতা-মাতার বুকে। তাদের বুকে মাথাগুজে নির্ভার হয় সে। ভালোবাসা ও মমতার শক্ত এ ভিতের ওপর টিকে আছে মানবজাতি, দাঁড়িয়ে আছে মানবসভ্যতা। মমতার গভীর এ মেলবন্ধন না থাকলে অন্যান্য জীবগোষ্ঠির মতো হয়তো মনুষ্য জাতি এতোদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতো।

    আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে একজন মমতাময়ী মা ও তার কাছে সন্তানের আশ্রয় প্রদানের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন- ‘এবং মুসার মায়ের অন্তর অস্থির হয়ে উঠলো। যদি তার অন্তর সুদৃঢ় না করতাম তবে সে অস্থিরতা প্রকাশের উপক্রম হয়েছিলো। আর আমি তা করেছিলাম যেনো সে মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত থাকে। … অতঃপর আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না করে। এবং জানতে পারে আল্লাহর অঙ্গীকার সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ -সূরা কাসাস : ১০ ও ১৩

    কিন্তু দুর্ভাগ্য স্নেহ ও মমতার পবিত্র বন্ধনে যেনো ছেদ পড়তে শুরু করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন মায়ের কাছেও সন্তানরা হয়ে উঠছে অনিরাপদ। মায়ের আঁচলে আশ্রয় নেওয়া সন্তানের নির্মম মৃত্যু হচ্ছে মায়ের হাতেই। কখনও কখনও সন্তানের হাতেও খুন হচ্ছে প্রিয় মা-বাবা। নিকট অতীতকালে দেশবাসী এমন কিছু খবর দেখেছে। যার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ভ্রুণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের কথা না হয় বাদই দিলাম।

    ক্রমবর্ধমান এ অপরাধ প্রবণতা সমাজের বিবেকবান শ্রেণীকে ভাবিয়ে তুলেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় পিতা-মাতার কাছে যদি সন্তানের জীবন অনিরাপদ হয়ে যায়, তবে শিশুরা যাবে কোথায়? আর কেনোইবা এই নৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হলো আমাদের সমাজে?

    সমাজতাত্ত্বিকদের অভিমত হলো, বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থার ভোগবাদী মানসিকতা, তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট নৈতিক স্খলন, একক পরিবার ব্যবস্থার চাপ ও বিষন্নতা, সুশাসনের অভাব ও ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা, পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের অনুপস্থিতি; সর্বোপরি খোদাভীতি ও ধর্মীয় জীবন থেকে বিমুখতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।

  • কানের উদ্বোধনী ছবি উডি অ্যালেনের ‘ক্যাফে সোসাইটি’

    কানের উদ্বোধনী ছবি উডি অ্যালেনের ‘ক্যাফে সোসাইটি’

    কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৬৯তম আসরের উদ্বোধনী ছবি নির্বাচিত হলো উডি অ্যালেনের ‘ক্যাফে সোসাইটি’। আগামী ১১ মে ফ্রান্সের সমুদ্রতীরবর্তী শহর কানে প্যালেস দ্যু ফেস্টিভ্যালের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে প্রতিযোগিতা বিভাগর বাইরে দেখানো হবে ছবিটি।

    ‘ক্যাফে সোসাইটি’র গল্প এক তরুণকে ঘিরে। ১৯৩০-এর দশকে চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করার আশায় হলিউডে পা রাখে সে। এরপর এক তরুণীর প্রেমে পড়ে। এই মেয়েটিও হলিউডের উঠতি তারকা।

    ছবিটিতে তরুণ-তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসি আইজেনবার্গ ও ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। এ ছাড়াও আছেন ব্লেক লিভলি, পার্কার পসি ও স্টিভ ক্যারেল। ফ্রান্সে কান উৎসবের উদ্বোধনী দিনেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি।

    এর আগে আরও দু’বার বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন আয়োজন কান উৎসবের উদ্বোধন হয়েছিলো উডি অ্যালেনের ছবির মাধ্যমে। ২০০২ সালে ‘হলিউড এন্ডিং’ আর ২০১১ সালে ‘মিডনাইট ইন প্যারিস’ দেখানো হয় কানের প্রথম দিন।

    সব মিলিয়ে ১৪বার কান উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে স্থান পেলো মার্কিন পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা, লেখক ও কমেডিয়ান উডি অ্যালেনের ছবি। গতবার ছিলো ‘ইরেশনাল ম্যান’। তার এবারের ছবি ‘ক্যাফে সোসাইটি’র চিত্রগ্রহণ করেছেন ভিত্তোরিও স্তোরারো। ১৯৯১ সালের কান উৎসবে তিনি বিচারক প্যানেলে ছিলেন। তিনি অস্কার জিতেছেন মোট তিনবার। ছবিগুলো হলো ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ (১৯৮০), ওয়ারেন বেটির ‘রেডস’ (১৯৮২) ও বার্নার্ডো বার্তোলুচ্চির ‘দ্য লাস্ট এম্পারার’ (১৯৮৮)।

    ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ২০১২ সালের কান উৎসবে লালগালিচায় পা মাড়িয়েছেন ‘অন দ্য রোড’ ছবির জন্য। এর দুই বছর পর ‘ক্লাউডস অব সিলস মারিয়া’ তাকে আবার নিয়ে আসে কানে। এ ছবির জন্য সিজার অ্যাওয়ার্ড জেতেন তিনি। অন্যদিকে জেসি আইজেনবার্গ অভিনীত ‘লাউডার দ্যান বোম্বস’ গত বছর কান উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পায়।

    এবারের কান উৎসব চলবে ২২ মে পর্যন্ত। প্রতিযোগিতা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অস্ট্রেলীয় নির্মাতা জর্জ মিলার। আগামী ১৪ এপ্রিল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ছবির তালিকা ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে জোডি ফস্টার পরিচালিত ‘মানি মনস্টারস’ (জর্জ ক্লুনি, জুলিয়া রবার্টস) ও স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘দ্য বিএফজি’ চূড়ান্ত হয়েছে কানে।

  • তনু হত্যা মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর

    তনু হত্যা মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর

    কুমিল্লা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা এবার অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

     

    মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন আইজিপি।

    কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন এ বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন ।

    তিনি জানান, তনু হত্যাকাণ্ডের পর ২৬ মার্চ হত্যা মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৪ দিনে মামলার তেমন অগ্রগতি হয়নি। এখন আইজিপির নির্দেশে তনুর হত্যার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।

    ২০ মার্চ রাতে সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। পরে কুমিল্লার ‘বিশেষ এলাকা’ থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

  • ত্রিশালে বাস চাপায় ইউএনও রাশেদুল নিহত

    ত্রিশালে বাস চাপায় ইউএনও রাশেদুল নিহত

    ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার নূরুর দোকান এলাকায় বাস চাপায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুল ইসলাম (৩৮) নিহত হয়েছেন।

     

    এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক একই উপজেলার ভূমি অফিসের কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন (২৮)।

     

    মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    রাশেদুলের নিহতের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে চড়ে ইউএনও রাশেদুল ইসলাম ও নেছার উদ্দিন উপজেলার নূরুর দোকান এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দেয়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায়  ইউএনও রাশেদুলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা নেছার উদ্দিনকে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। আহত নেছার উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেছবাউল আলম চাঁন মিয়ার ছেলে।

    ইউএনও রাশেদুল ইসলামের মৃত্যুর খবরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।

  • তৃতীয় ধাপের ইউপি: ৪৬টিতে বিএনপি নেই, প্রতিদ্বন্দ্বীহীন ৫ জন

    তৃতীয় ধাপের ইউপি: ৪৬টিতে বিএনপি নেই, প্রতিদ্বন্দ্বীহীন ৫ জন

    ঢাকা: আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ৬২১টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ২৭ মার্চ ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সমন্বয় করা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই সব ইউপির মধ্যে ৪৬টিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী নেই। এই ৪৬টি ইউপির মধ্যে আবার পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।

     
    তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে মোট ২ হাজার ৯৯২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যাদের মধ্যে মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল ১ হাজার ৫৪৩ জন প্রার্থী দিয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৪৪৯ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

    দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২১ জন, বিএনপি ৫৭৫ জন, জাতীয় পার্টি ১৮৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২৮ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ১৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৯৩ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ২ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১ জন, খেলাফত মজলিস ৪ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৩ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ১৩জন ও অন্যান্য ১জন প্রার্থী দিয়েছে।

    যে ৪৬ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে- কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা, কুষ্টিয়ার খোকসার বেতবাড়িয়া ও গোপগ্রাম, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির বারমাছড়ি, মহালছড়ির ক্যায়াংঘাট ও মুবাছড়ি, দীঘিনালার কাবাখালী, খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া, গোলাবাড়ী, কমলছড়ি, পেরাছড়া, পানছড়ির লোগাং, গাইবান্ধা সদরের কামারজানি ও মোল্লারচর, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার ফুকরা, হাতিয়াড়া, কাশিয়ানী, মামুদপুর, নিজামকান্দি, ওড়াকান্দি, পারুলিয়া, পুইশুর, রাজপাট, শাজাইল ও সিংগা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জাফতনগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘরিয়া, মহারাজপুর ও নারায়নপুর ইউনিয়ন।

    এছাড়া ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের জামাল, নারায়ণগঞ্জ সদরের আলারটেক ও কুতুবপুর, নীলফামারীর ডিমলার পশ্চিমছাতনাই ও পূর্বছাতনাই, নোয়াখালী চাটখিলের খিলপাড়া, নড়াইল সদরের মুলীয়া, বান্দরবনের রুমা উপজেলার রুমা, মুন্সীগঞ্জ লৌহজঙ্গের বৈলতলী, গাওনদিয়া ও কুমারভোগ, রাজবাড়ী গোয়ালন্দের উজানচর, বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ও জংগল, রংপুর মিঠাপুকুরের দূর্গাপুর, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ও মাদাতি এবং সিলেটের কানাইঘাটের সাতবাকও বিএনপির প্রার্থী নেই।

    এই ৪৬টি ইউপির মধ্যে ৫টি ইউপিতে শুধু আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী রয়েছে। এগুলো হলো- কুষ্টিয়া খোকসার বেতবাড়ীয়া, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের জামাল এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজঙ্গ উপজেলার বৈলতলী, গাওনদিয়া ও কুমারভোগ ইউনিয়ন। যারাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।

    প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ৫৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩১ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

    এদিকে প্রথম ধাপের ৭২৫টি ইউপির মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিল না ১২১টি ইউপিতে। ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ধাপের ৬৪৩টি ইউপির মধ্যে ৭৯টি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই। আর এবারের ৪৬ মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৪৬ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই।