Category: ধর্ম

  • রমযান মাস জুড়ে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করুন

    রমযান মাস জুড়ে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করুন

    তারেক বিন হাম্জা : লাইলাতুল ক্বদর অর্থ ভাগ্য রজনী। লাইল শব্দের অর্থ রাত বা রজনী। ক্বদর শব্দের অর্থ ভাগ্য। আমাদের দেশে এটি শব-ই-ক্বদর হিসেবে পরিচিত। এটি ফারসী এবং আরবী শব্দ। শব ফারসী শব্দ এবং ক্বদর আরবী শব্দ। সুতরাং এদিক থেকে ও শব-ই-ক্বদর অর্থ ভাগ্য রজনী। পবিত্র কুরআনে ক্বদর বিষয়ে অনেক উদ্বৃতি আছে। আল্লাহ তা’আলা ক্বদর নামে একটি সুরা নাযিল করেছেন। সেখানে তিনি প্রথমে ক্বদরের রাতে কুরআন নাযিলের কথা ঘোষনা করেছেন। এরপর তিনি ক্বদরের রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম ঘোসনা করেছেন। এবং সে রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্ত এবং শাস্তি ও কল্যাণসহ জিবরাইল (আঃ) ও ফেরেশতা প্রেরনের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে তিনি ক্বদরের রাতের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

    আরবী, বাংলা, ইংরেজী অভিধানে ভাগ্যের নানারকম অর্থ ও সংজ্ঞা দেয়া আছে। যেমন অদৃষ্ট নসিব কপাল নিয়তি পরিণতি দৈব ইত্যাদি।

     

    ক্বদরের অর্থ ভাগ্য উন্নয়ন। এই অর্থে লাইলাতুল ক্বদর অর্থ ভাগ্যোন্নয়নের রাত। এ ভাগ্যোন্নয়নের অর্থ এ নয় যে এ রাত্রে যত বেশী নফল ইবাদত করা যাবে ততোই আল্লাহ এক বছরের জন্যে তারভাগ্যে এমন অনেক কিছু লিখে দিবেন যার দ্বারা তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং সে ধনী মালদার এমন একটা কিছু হয়ে যাবে এবং এক বছরের মধ্যে তার কোন রোগ ব্যাধি হবে না। এইরূপ চিন্তা করা ইসলামী আক্বীদার খেলাপ। মুলকথা হচ্ছে এই যে কারো ব্যক্তি বিশেষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বা ব্যক্তিগত জীবনের ভাগ্যের উন্নতি হবে; এটা নয়, ভাগ্যের উন্নতি হবে গোটা মানব জাতির। অর্থাৎ যে রাত্রে কুরআন নাযিল হয় ঐ রাতটা হচ্ছে কুরআন নাযিল পরবর্তী দুনিয়াবাসীদের জন্যে এক ভাগ্য উন্নয়নের রাত। এর মূল অর্থ হলো ভাগ্য উন্নয়নের জন্যে জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যার এবং চিকিৎসাও কারিগরী বিদ্যার যে প্রভৃত উন্নতি সাধন দরকার তার সবকিছুর উৎস রয়েছে যে কুরআনে সেই কুরআন নাযিল হওয়ার রাতটাই হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। অর্থাৎ ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে যা যা দরকার তার সবকিছুই অর্থাৎ তার জ্ঞানের সবকিছুর উৎসই নাযিল হলো এ রাত্রে। ঐ প্রসঙ্গে এ সুরার ঐ কথাটিার দিকে লক্ষ্য করে চিন্তা করতে পারি যে আল্লাহ কেন বললেন-

     

    (ওমা- আদ্রকা মা-লাইলাতুল ক্বর্দ)

    অর্থাৎ-”তুমি কি জান লাইলাতুল ক্বদর কী ?

    কারণ এখনই তা জানবার কথা নয়, এ রাত্রে যে কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হলো বা লওহে মাহ্ফুজ থেকে আল কুরআনকে পৃথিবীতে নাযিল করার স্থাানন্তর করা হলো, তা পুরোপুরি নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তোমাদের তা জানবার কথা নয়। যখন সম্পূর্ন কুরআন নাযিল হয়ে যাবে এবং আল কুরআন থেকে বিজ্ঞানের এক একটা উৎস বের করে নতুন নতুন এমন জিনিস আবিষ্কার হবে যাতে পৃৃথিবীর ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, তখন বুঝবে ক্বদরের আসল-ব্যাখ্যা।

     

    সুরা ক্বদরে বলা হয়েছে-

    (লাইলাতুল ক্বদরী খয়রুম মীন আলফি শাহ্র)

    অর্থাৎ হাজার রাতের চাইতে উত্তম এ ক্বদরের রাত।

     

    এর অর্থ এই নয় যে এই রাতে ইবাদত করলে ১ হাজার মাসের রাত অর্থাৎ ১০০০ ী ৩০ = ৩০০০০ দিন। কাজেই এক রাতের সওয়াব হবে ৩০ হাজার রাতের ইবাদতের সমান। এর মূল অর্থ হলো এ রাতে তোমাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে আল কুরআনের মাধ্যমে তোমাদেরকে আল্লাহ যা দান করেছেন তা বিগত যুগের হাজার হাজার রাতেও মানব জাতিকে দেয়া হয় নি, অর্থাৎ কুরআন নাযিল হওয়ার রাতে তোমরা যা পেলে বিগত দিনের মধ্যে কত হাজার মাস গুজরে গেছে, যে মাসের মধ্যে এরূপ একটা রাত কখনো আসেনি যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল।এইটাই মূল ভাবার্থ। এরপর এ মূল ভাবার্থ এ রাত্রে যেমন কাজের হুকুম পেলে তা একবার মেনে দেখ তাহলে দেখতে পাবে আল-কুরআনের প্রত্যেকটি নির্দেশ মানার মধ্যেই রয়েছে শান্তি আর শান্তি। আর কুরআনী নির্দেশ থেকে তোমরা যতই সরে পড়বে ততই দেখবে অশান্তি আর অশান্তি। শান্তির লেশ মাত্রও পাবে না। কথাগুলো কাঁটায় কাঁটায় সত্য। এটা কি মানব জাতির ভাগ্যোন্নয়নের ব্যাপার নয় ?

    রমযান মাসে ক্বদরের রাত্রির উপস্থিতি মানবজাতিকে ভাগ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে। তার ভবিষ্যত তার চুড়ান্ত পরিণতি সম্বন্ধে আগ্রহী করে তোলে। সব হতাশার দোলাচল অতিক্রম করে সৌভাগ্যবানদের কাতারে সামিল হওয়ার স্বপ্ন দেখায়।

    ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।
    ক্বদরের রাত অত্যন্ত মুবারক ও বরকতময়।
    ক্বদরের রাতই ভাগ্য রজনী।
    ক্বদরের রাতে ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়।
    ক্বদরের রাত সালাম ও শান্তির রাত।
    ক্বদরের রাত নামায আদায় ও গুনাহ মাফের রাত।

    বিশেষ কোন মাস বা রাতকে ভাগ্য পরিবর্তনের উৎস মনে করা উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। কুরআন গ্রহণ ও ত্যাগের সঙ্গে ভাগ্যের সম্পর্ক। শক্তভাবে কুরআন ধরার মাধ্যমে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া সম্ভব। কুরআন বাদ দিয়ে অন্য কোন উপায়ে কেউ কখনও ভাগ্যবানদের দলভূক্ত হতে পারে না।

     

    লাইলাতুল ক্বদরে করণীয় ঃ

     

    ভাগ্য সম্পর্কে বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনাকে সঠিক স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ করুন।
    ভাগ্যের উপরে অন্ধভাবে নির্ভর করে কর্মহীনতার ধারণাকে প্রশ্রয় দিবেন না।
    সৌভাগ্যবানদের উদাহরণ অনুসরণ করুন।
    দুর্ভাগাদের পথ মতকে অগ্রাহ্য করুন।
    ভাগ্য গণনার নানাবিধ প্রচলিত পন্থাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করুন।
    গোটা রমযানকে ভাগ্যোন্নয়নের উৎস বানিয়ে ফেলুন। কোনক্রমেই শুধু ২৭ রমযানকে ভাগ্যরজনী হিসেবে সীমাবদ্ধ করবেন না।
    অন্তত ঃ রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে ক্বদর অনুসন্ধানের চেষ্টা করুন।
    কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই ভাগ্য জানা ও নিয়ন্ত্রনের মালিক মনে করুন। আর অন্য কাউকে এ অধিকার দিবেন না।
    অন্যায় ও অবৈধভাবে সম্পদ সুনাম ও ক্ষমতা লাভকারীদেরকে কখনও ভাগ্যবান মনে করবেন না।
    সৎ ও ন্যায়পরায়ণদের বাহ্যিকভাবে দুর্বল দরিদ্র ও অক্ষম দেখে হতভাগা মনে করবেন না।
    আল কুরআন পরিপূর্ণ অনুসরনে সৌভাগ্য জড়িত এই ধারণা শাণিত করুন।

    লাইলাতুল ক্বদরে নিন্মোক্ত দু’আটি করা সুন্নাত

     

    ”আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী”

    হে আল্লাহ ! আপনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু, ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন; অতএব, আমার গুনাহ সমূহ মাফ করে দিন।(আহমদ, তিরমিযি, ইবন মাজাহ)

     

    হে আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর রাতের মহত্ত্ব বুঝার তৌফিক দান করুন । আমিন ॥

  • চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

    চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

    এ বি এন এ : বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। কাল মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হবে। এ দিন থেকে বাংলাদেশে ১৪৩৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস গণনা করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা শেষে এই কথা জানানো হয়। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে জানানো হয়।

     

    সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, আগামী ২ জুলাই দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উদযাপিত হবে। এদিকে, মাহে রমজান উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম মসজিদের দক্ষিণ চত্ত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা শুরু হয়েছে। বই মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। রোজা মুসলমানদের ফরজ ইবাদতের একটি। শরিয়তের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে রোজা।

     

    অবশ্য পালনীয় এ রোজা মুসলমানদের উপর ফরজ করা হয়েছে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের শাবান মাসে।হিজরি বর্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শুরু হয় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমরের শাসনামল থেকে। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের দিন থেকে এ বর্ষের সময় ধরা হয়। পরবর্তীতে মুসলিম জ্যোতিবিজ্ঞানিরা হিসাব করে আরবি এ বর্ষ শুরুর সময় নির্ধারণ করেন। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বান্নুরি (রহ.) বর্ণনা অনুয়ায়ী, হিজরি দ্বিতীয় সালের ১০ শাবান রোজা ফরজ করা হয় এবং ওই সালেই কিবলা পরিবর্তন, জাকাত ও সদকায়ে ফিতরের হুকুম প্রদান করা হয়। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবে লেখেন, হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে বদর যুদ্ধের আগে রোজা ফরজ করা হয়। রোজার ইতিহাস অনেক পুরনো। আগেকার নবী, রাসুলদের উম্মতরাও যে রোজা রেখেছেন এবং তাদের ওপরও যে রোজা ফরজ ছিল, পবিত্র কোরআন মজিদের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায়।

     

    আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের ওপর, যাতে তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা বাকারা-১৮৩)। রোজার মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। হাদিস শরীফে এসেছে, প্রথম ১০ দিন রহমতের, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ ১০ দিন নাজাতের। বিশ্লেষকদের মতে, রহমতের প্রথম ১০ দিন আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত বা দয়া বর্ষণ করবেন; দ্বিতীয় ১০ দিন আল্লাহ সুবহানাকা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা প্রদর্শন করবেন এবং তৃতীয় ১০ দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জাহান্নাম থেকে নাজাত বা মুক্তির ঘোষণা দেবেন।

  • জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসছে বিকালে

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসছে বিকালে

    এ বি এন এ : পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখতে বিকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদে বৈঠক বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সোমবার দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রমজান শুরু হবে।
    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এ তথ্য  নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে ধর্মমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
    আজ সোমবার দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে রাত থেকে তারাবিহ নামাজ আদায় করা হবে।
  • শবে বরাতের আমল

    শবে বরাতের আমল

    এ বি এন এ : মহান আল্লাহ তাআলা আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতদের জন্য ইবাদতের বিশেষ কিছু সুবিধা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি রাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইবাদতের এই বিশেষ পাঁচটি রাত হলো: শবে জুমা বা জুমার রাত, শবে ঈদাইন বা দুই ঈদের রাত্রিদ্বয়, শবে বরাত বা মুক্তির রাত তথা নিসফ শাবান বা শাবান মাসের মধ্য রাত, শবে কদর বা কদরের রাত অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রজনী।
    শবে বরাতের নফল নামাজ ও ইবাদত
    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে ও দিনে রোজা পালন করবে। (ইবনে মাজাহ)। ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নামাজ। সুতরাং নফল ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নফল নামাজ। প্রতিটি নফল ইবাদতের জন্য তাজা অজু বা নতুন অজু করা মোস্তাহাব। রাতের নিয়মিত নফল ইবাদতের মধ্যে রয়েছে; বাদ মাগরিব ছয় থেকে বিশ রাকাত আউওয়াবিন নামাজ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে; এসবের মাঝে কোনো মন্দ কথা না বলে, তার এই নামাজ ১২ বছরের ইবাদতের সমতুল্য গণ্য হবে। হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাকাত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। (তিরমিজি, মিশকাত, ফয়জুল কালাম, হাদিস: ৪৪৯-৪৫০)। রাতের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। (আল কোরআনুল করিম, পারা: ১৫, সুরা-১৭ ইসরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯)। এ ছাড়া সালাতুস তাসবিহ এবং অন্যান্য নফল নামাজ আদায় করা যায়। রজব শাবান মাসের রাতের নফল নামাজ তারাবিহ নামাজ বা কিয়ামুল লাইলের প্রস্তুতি।

    মধ্য শাবানের নফল রোজা
    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত কর ও দিনে রোজা পালন কর। (সুনানে ইবনে মাজাহ)। এ ছাড়া প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের নফল রোজা তো রয়েছেই, যা আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পালন করেছিলেন এবং আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদও (সা.) পালন করতেন, যা মূলত সুন্নত। সুতরাং তিনটি রোজা রাখলেও শবে বরাতের রোজা এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তা ছাড়া, মাসের প্রথম তারিখ, মধ্য তারিখ ও শেষ তারিখ নফল রোজা গুরুত্বপূর্ণ; শবে কদরের রোজা এর আওতায়ও পড়ে। সওমে দাউদি বা হজরত দাউদ (আ.)-এর পদ্ধতিতে এক দিন পর এক দিন রোজা পালন করলেও সর্বোপরি প্রতিটি বিজোড় তারিখ রোজা হয়; এবং শবে কদরের রোজার শামিল হয়ে যায়। সর্বোপরি রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের পর রজব ও শাবান মাসে বেশি নফল ইবাদত তথা নফল নামাজ ও নফল রোজা পালন করতেন; শাবান মাসে কখনো ১০টি নফল রোজা, কখনো ২০টি নফল রোজা, কখনো আরও বেশি রাখতেন। রজব ও শাবান মাসের নফল রোজা রমজান মাসের রোজার প্রস্তুতি।

    একটি রোজার মাসআলা
    হাদিস শরিফে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনা শরিফে হিজরতের পরে দেখতে পেলেন মদিনার ইহুদিরাও আশুরার একটি রোজা পালন করেন। তখন তিনি সাহাবিদের বললেন, আগামী বছর থেকে আমরা আশুরার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখব, ইনশা আল্লাহ! যাতে তাদের সঙ্গে মিল না হয়। তাই আশুরার রোজা অর্থাৎ মহররম মাসের দশম তারিখের রোজার সঙ্গে তার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখা মোস্তাহাব। শবে বরাতসহ বছরের অন্য নফল রোজাগুলো একটি রাখতে বাধা নেই; বরং এক দিন পর এক দিন রোজা রাখা হজরত দাউদ (আ.)-এর সুন্নত বা তরিকা; যা নফল রোজার ক্ষেত্রে উত্তম বলে বিবেচিত এবং সওমে দাউদি নামে পরিচিত। অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজাও আলাদা আলাদা বা একত্রেও রাখা যায়।

    শবে বরাত ও হালুয়া-রুটি
    শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া-রুটির একটি সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। হালুয়া আরবি শব্দ। অর্থ হলো মিষ্টি বা মিষ্টান্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি পছন্দ করতেন এ কথা সুবিদিত; তিনি গোশতও পছন্দ করতেন তাও অবিদিত নয়। যা-ই হোক শবে বরাত হলো ইবাদতের রাত। দান-খয়রাত করা ও মানুষকে খাওয়ানো এক প্রকার ইবাদত। তবে এই দিন ও রাতকে হালুয়া-রুটিতে পরিণত করে ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তেমনি হালুয়া-রুটির ওপর ফতোয়া প্রদান করাও উচিত নয়।

    যাদের গুনাহ ক্ষমা হবে না
    হাদিস শরিফে আছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন, তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীকে ক্ষমা করবেন না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাফ করবেন। তবে শিরককারী (অংশীবাদী) ও হিংসাকারীকে ক্ষমা করবেন না। অহংকার পরিত্যাগ করুন; অহংকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। (বায়হাকি, শুআবুল ইমান)।

    গুনাহ মাফ পাওয়ার সহজ পথ
    বান্দার হক বা সৃষ্টির পাওনা পরিশোধ করে দিন; আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করুন; মহান প্রভু আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। পিতা-মাতার হক আদায় করুন; আল্লাহ আপনার প্রতি করুণা করবেন। সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হোন; আল্লাহ আপনার প্রতি দয়ালু হবেন। আপনি সবাইকে ক্ষমা করে দিন; নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন। খাঁটি তওবা করুন; তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করুন; আল্লাহ ইস্তিগফারকারীকে পছন্দ করেন। (বুখারি ও মুসলিম)।
    মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক: আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।

  • পবিত্র শবেবরাত : ইবাদত-বন্দেগি ও তওবার রাত

    পবিত্র শবেবরাত : ইবাদত-বন্দেগি ও তওবার রাত

    এ বি এন এ : আরবি শাবান মাস একটি মোবারক মাস। রসুল (স.) এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে তিনি এ মাসকে পালন করতেন। এ মাসের একটি রাতকে মুসলমানরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, মধ্য শাবানের এই রাত আমাদের এই জনপদে শবেবরাত হিসেবে পরিচিত। আজ সেই মহিমান্বিত রাত। ফারসি শব শব্দের অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ সৌভাগ্য। এ দুটি শব্দ নিয়ে শবেবরাত, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। আরবিতে একে বলে লাইলাতুল বরাত।

    আজ ১৪ শাবান রবিবার দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবেবরাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিগত জীবনের সব ভুল-ভ্রান্তি ও পাপ-তাপের জন্য গভীর অনুশোচনায় আল্লাহর দরবারে সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষ করে বাংলাদেশে শবেবরাতকে ভাগ্যরজনী হিসেবেও অভিহিত করা হয়। মুসলমানরা শবেবরাতে নফল নামাজ, জিকির-আসকার, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিনিদ্র রাত কাটায় ও আল্লাহ তায়ালার কাছে বিনম্র প্রার্থনা করেন ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য। একই সঙ্গে মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

    পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই ওয়াজ-নসিহত, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অনেকে গভীর রাত অবধি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থেকে শেষ রাতে সেহরি খেয়ে পরদিন নফল রোজা রাখেন। বাঙালি মুসলিম সমাজে শবেবরাতের একটি আনন্দঘন সামাজিক দিকও রয়েছে। এদিন মুসলমানদের বাড়িতে সাধ্যানুযায়ী হালুয়া, পায়েস, রুটিসহ নানা উপাদেয় খাবার রান্না করা হয়। এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে পাঠানো এবং গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেকে মুক্ত হস্তে দান-খয়রাতও করে থাকেন।

    বরাবরের মতোই শবেবরাতের পরদিন অর্থাৎ কাল সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে। শবেবরাতের বরকত, ফজিলত ও মর্যাদা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা মধ্য শাবানের রাতে তার সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরেক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তায়ালা যেকোনো সময় তার বান্দার দোয়া-প্রার্থনা কবুল করতে পারেন। তার পরও বছরের এমন কিছু বিশেষ সময়-ক্ষণ রয়েছে, যে সময়গুলোর মর্যাদা ও ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। সেসব দিন-ক্ষণে কৃত ইবাদত, দোয়া-মোনাজাতের মর্যাদা বেশি ও সওয়াবের মাত্রা অপরিসীম। এ বিষয়গুলো মুসলমানদের মনে শবেবরাতে ইবাদত-বন্দেগি ও বেশি বেশি নেক কাজ করার স্পৃহাকে জাগিয়ে তোলে। ফলে দেশব্যাপী শবেবরাত উপলক্ষে সৃষ্টি হয় এক ধর্মীয় আবহ। যা মানুষের ধর্মীয় বিষয়াদি পালনের আগ্রহ সৃষ্টিতে বিরাট সহায়ক হয়।

  • গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার কয়েকটি সহজ দোয়া

    গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার কয়েকটি সহজ দোয়া

    এ বি এন এ :  গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বদা আল্লাহতায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। কারণ আল্লাহতায়ালার সার্বক্ষণিক সাহায্য ও অনুগ্রহ ছাড়া কারও পক্ষে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গোনাহ থেকে বেচেঁ থাকার জন্য পড়া যায়- এমন দোয়া হলো—

    এক. ‘রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমা- ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।’

    এ দোয়া বেশি বেশি পাঠ করলে দ্বীনের পথে ও হেদায়েতের ওপর টিকে থাকা সহজ হয়। দোয়াটি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত। যা সূরা আল ইমরানের ৮ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

    অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! হেদায়েত প্রদান করার পর আপনি আমাদের অন্তঃকরণকে বক্র করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান করুন! নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর দাতা।

    দুই. ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব- সাব্বিত কালবি আলা দিনিক।’

    এই দোয়াটি পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। উম্মত জননী হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বেশিরভাগ সময়ে এই দোয়াটি পাঠ করতেন। এটা রাসূলের শেখানো দোয়া বিশেষ।

    অর্থ : হে অন্তরসমূহের ওলট-পালটকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন। -তিরমিজি

    তিন. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন—

    ‘আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলুব সাররিফ কুলুবানা আলা ত-আতিক।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! (আপনি) হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের হৃদয়গুলোকে আপনার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দিন। -সহিহ মুসলিম

    চার. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ‌ই দোয়াটিও করতেন—

    ‘আল্লাহুম্ম ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াততুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েদত, তাকওয়া, সচ্চরিত্রতা ও প্রাচুর্য্যতার প্রার্থনা করছি। -সহিহ মুসলিম

    আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে সব ধরনের গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

  • শাবান মাসে নফল রোজা কেন রাখবেন?

    শাবান মাসে নফল রোজা কেন রাখবেন?

    এবিএনএ : রোজা এমন এক ইবাদাত যা বাস্তবে প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা আল্লাহ তাআলার ইবাদাতসমূহের মধ্যে রোজা একমাত্র স্বতন্ত্র ইবাদাত। যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল রোজা পালন করতেন। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস এসেছে-

    >> হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানপূর্ব শাবান মাসে এত অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন যে, রমজান ছাড়া অন্যান্য মাসে এত বেশি রোজা রাখতেন না।

    >> উম্মুল মুমিনিনগণ বলতেন, ‘শাবান মাস আসলে আমরা আমাদের ভাংতি রোজাগুলো কাজা করে নিতাম। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন।

    >> রজব মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌছে দিন। রমজানের প্রস্তুতিকল্পেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন এবং দোয়া করতেন।

    পরিশেষে…
    এ মাসের রোজা পালনের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ রমজানের রোজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে থাকেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের ফরজ রোজা পালনের জন্য শাবান মাসের নফল রোজা রাখার মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ২২ মে শবে বরাত

    ২২ মে শবে বরাত

    এ বি এন এ : সারাদেশের কোথায়ও আজ শনিবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাবান মাস শুরু হবে আগামী সোমবার থেকে। আর ২২ মে দিবাগত রাতে পালিত হবে শবে বরাত।

    শনিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ও চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি মো. আমজাদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, আজ ২৯ রজব। কিন্তু আজ সারাদেশের কোথায়ও চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামীকাল ৮ মে ৩০ রজব পূর্ণ হবে। এ হিসাবে ৯ মে পহেলা শাবান মাস।

  • আজ পবিত্র শবে মেরাজ

    আজ পবিত্র শবে মেরাজ

    এবিএনএ : আজ বুধবার দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ।

    মুসলিম জাহানের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দিনভর নফল রোজা রাখা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবে মিরাজ পালন করেন।

    এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশের আকাশে গত ৮ এপ্রিল শুক্রবার ১৪৩৭ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়। তাই গত ৯ এপ্রিল থেকে পবিত্র রজব মাস শুরু হয়। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২৬ রজব ১৪৩৭ হিজরি মোতাবেক ৪ মে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ বুধবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ উদযাপনে জাতীয় সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ ১৪৩৭ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় (বাদ মাগরিব) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। এই মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। ওয়াজ পেশ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।

  • ইসলামের দৃষ্টিতে যে সকল মেয়েদের বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম!

    ইসলামের দৃষ্টিতে যে সকল মেয়েদের বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম!

    এবিএনএ : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বংশ পরম্পরায় মানব প্রজন্মকে দুনিয়ায় টিকিয়ে রেখে দুনিয়াকে আবাদ রাখার জন্য বিবাহ বন্ধনকে বৈধ করেছেন। এটাকে আল্লাহ তাআলার একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিস্টেম। এ ছাড়া বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন গঠন করা নবীদেরও সুন্নত।

    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً الرعد: ٣٨
    অর্থাৎ, নিশ্চয় আপনার পুর্বে অনেক রাসুলকে প্রেরণ করেছি। আমি তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছি। (সুরা রা’দ ৩৮)
    বিশ্বনবী মুহাম্মদ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদর্শ। আমাদের জীবনে আমরা কোন কাজ কিভাবে করব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
    হাদীস শরীফে এসেছে:
    عن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أُخْبِرُوا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا فَقَالُوا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَحَدُهُمْ أَمَّا أَنَا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُومُ الدَّهْرَ وَلَا أُفْطِرُ وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ أَنْتُمْ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي

    আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের বাড়ীতে তিনজন লোক আসল। তারা রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইবাদাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল-তার ইবাদাত কেমন ছিল? তারা রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইবাদাত সম্পর্কে তাদেরকে জানালে তারা সেটাকে খুবই কম মনে করলেন। তারা বললেন: কোথায় নবী (মর্যাদার দিক থেকে) আর কোথায় আমরা? কারণ, আল্লাহ তাআলা নবীজী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুর্ব ও পরবর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের একজন বলল: আমি এখন থেকে সর্বদা সারারাত নামাজ পড়ব। দ্বিতীয়জন বলল: আমি এখন থেকে আজীবন (সাওমে দাহর) রোজা রাখতে থাকব। রোজা ভাঙ্গবো না। তৃতীয়জন বলল: আমি নারী সংগ থেকে দূরে থাকব আজীবন, বিবাহ করব না কখনো। অতঃপর রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এসে বললেন: তোমরা এমন সব কথা বলছিলে! জেনে রাখ! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের থেকে আল্লাহকে অনেক বেশী ভয় করি। এতদসত্ত্বেও আমি রোজা রাখি আবার রোজা ছেড়ে দিই, নামাজ পড়ি, ঘুমাই এবং বিবাহ করি। যে ব্যক্তি আমার এ সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে আমার উম্মত নয়। (বুখারী )

    রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء
    হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যে সামর্থবান সে যেন বিবাহ করে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ রাখে না, সে যেন (তার পরিবর্তে) রোজা রাখে। কেননা, তা তার জন্য ঢালস্বরূপ (অনেক অপরাধ হতে রক্ষা করে)। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমী, নাসায়ী, মুসনাদে আহমদ)

    এবার আসুন! আমরা দেখে নিই কাদেরকে বিবাহ করা বৈধ এবং কাদেরকে বিবাহ করা বৈধ নয়।

    আল্লাহ তায়ালা এ সম্বন্ধে কুরআন মজীদে বলেন:

    অর্থাৎ, তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা,কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমাতা, দুধ বোন, শাশুড়ী, দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এমন স্ত্রীর অন্য ঘরের যে কন্যা তোমার লালন পালনে আছে; যদি তাদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত না হয় তাহলে, তাকে বিবাহ করাতে দোষ নেই। এ ছাড়া তোমাদের ঐরসজাত পুত্রের স্ত্রী, ও একত্রে দুই সহদরা বোনকে বিবাহাধীনে রাখা। তবে, আয়াত নাযিলের পুর্বে যা হয়ে গেছে তা আলাদা। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর (শরীয়ত সম্মত পন্থায় প্রাপ্ত) ক্রীতদাসী ব্যতিত বিবাহিতা (যে অন্যের বিবাহাধীনে আছে) মহিলাদেরকেও তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এদের বাইরে যে কোন (মুসলিম বা আহলে কিতাব) মহিলাকে তোমাদের জন্য বিবাহ করা বৈধ করা হয়েছে। এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট। (সুরা নিসা: ২৩-২৪)

    যে সমস্ত মহিলাদেরকে বিবাহ করা হারাম তাদেরকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

    • স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ মহিলা : তারা তিন শ্রেণীর।

    ক.বংশগত কারণে নিষিদ্ধ: তারা হচ্ছেন- ১. মাতা
    ২. দাদী
    ৩. নানী
    ৪. নিজের মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে যত নিচেই যাক না কেন।
    ৫. আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন।
    ৬. নিজের ফুফু, পিতা, মাতা, দাদা, দাদী, নানা ও নানীর ফুফু।
    ৭. নিজের খালা, পিতা, মাতা, দাদা, দাদী, নানা ও নানীর খালা।
    ৮. আপন ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় ভাই ও তাদের অধঃতন ছেলেদের কন্যা।
    ৯. আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন ও তাদের অধঃতন মেয়েদের কন্যা।

    খ. দুগ্ধ সম্বন্ধীয় কারণে নিষিদ্ধ:

    বংশগত কারণে যাদেরকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ দুগ্ধ সম্বন্ধের কারণেও তারা নিষিদ্ধ। তবে, শর্ত হচ্ছে-

    গ. বৈবাহিক সম্বন্ধের কারণে নিষিদ্ধ: ১. পিতা, দাদা ও নানা (যতই উপরে যাক না কেন) যাদেরকে বিবাহ করেছেন।
    ২. কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক বা না হোক উক্ত পুরুষের পুত্র-পোত্র বা প্রপোত্রের সাথে মহিলার বিবাহ নিষিদ্ধ।
    ৩. কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক বা না হোক উক্ত পুরুষের পিতা-দাদা বা নানার সাথে মহিলার বিবাহ নিষিদ্ধ।
    ৪. শাশুড়ী। মহিলার সাথে বিবাহ হলেই তার মাতা ও দাদী বা নানী হারাম হয়ে যাবে। দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হোক বা না হোক।
    ৫. স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেই তার কন্যা, তার পুত্রের কন্যা ইত্যদি হারাম হয়ে যাবে।

    • সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ মহিলা:

    সাময়িক কারণে কখনো কখনো মহিলাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ হয়ে থাকে। উক্ত কারণ দূর হয়ে গেলে তাকে বিবাহ করা বৈধ হবে।

    ১. কোন মহিলাকে বিবাহ করলেই তার আপন বোন, ফুফু, খালাকে বিবাহ করা হারাম গণ্য হবে। তবে, তাকে যখন তালাক দিয়ে দেবে কিংবা, স্বামী মারা যাবে এবং সে ইদ্দত শেষ করবে, তখন তাকে সে বিবাহ করতে পারবে।
    ২. যে মহিলা অন্যের বিবাহাধীনে ছিল। তাকে স্বামী তালাক দিয়েছে কিংবা মারা গেছে এবং সে ইদ্দত পালন করছে; এমতাবস্থায় তাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ। ইদ্দত শেষ হয়ে গেলেই বিবাহ করতে পারবে।

    অনেকে জিজ্ঞাসা করে থাকেন যে,খালাতো,মামাতো,ফুফাতো বা চাচাতো বোনকে বিবাহ করা যাবে কিনা?

    তার উত্তর হচ্ছে- আসলে আল্লাহ তায়ালা উপরোক্ত আয়াতে যাদের সাথে বিবাহ করা নিষিদ্ধ সকলের কথাই বলে দিয়েছেন। খালাতো,মামাতো,ফুফাতো বা চাচাতো বোন তাদের মধ্যকার কেউ নন। অতএব, তাদেরকে বিবাহ করা বৈধ।

    এমনকি, চাচা মারা গেলে বা তালাক দিয়ে দিলে চাচীকে বিবাহ করার বৈধতাও ইসলাম দিয়েছে। তবে, তাদেরকে বিবাহ করবেন কি করবেন না সেটা আপনার ইচ্ছা।