Category: খেলাধুলা

  • ‘বাবরের ব্যাটিং নয়, আমি তার অদম্য পরিশ্রমের ভক্ত’ — প্রশংসায় মুখর সালমান আগা

    ‘বাবরের ব্যাটিং নয়, আমি তার অদম্য পরিশ্রমের ভক্ত’ — প্রশংসায় মুখর সালমান আগা

    এবিএনএ:  দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। দীর্ঘ ১৮ মাস পর টি-টোয়েন্টিতে অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তনে প্রশংসায় ভাসছেন বাবর, আর এবার সেই প্রশংসার সারিতে যোগ দিলেন তার শৈশবের বন্ধু ও সতীর্থ সালমান আগা।

    বাবরকে নিয়ে আগা বলেন, “অনেকে হয়তো তার ব্যাটিংয়ের ভক্ত, কিন্তু আমি তার পরিশ্রমের ভক্ত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমনভাবে কেউ প্রস্তুতি নেয়, তা আমি খুব কমই দেখেছি। সে পারফর্ম করুক বা না করুক, তার প্রস্তুতি সবসময় নিখুঁত।”

    সর্বশেষ ম্যাচে বাবরকে বারবার সুইপ শট খেলতে দেখা গেছে, যা তার পরিচিত শট নয়। এই পরিবর্তনকেই বড় করে দেখছেন সালমান আগা। তার মতে, “বাবর জানে সময়ের সঙ্গে খেলার ধরণে নতুনত্ব আনতে হয়। সেই কারণেই সে নতুন শট আয়ত্ত করছে। এই মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।”

    আগা আরও বলেন, “বাবর এমন এক খেলোয়াড়, যে নিজের সীমাবদ্ধতা জানে এবং তা কাটিয়ে উঠতে নিরলসভাবে কাজ করে। আমি নিশ্চিত, আগামী দিনে আরও পরিণত এক বাবরকে আমরা দেখতে পাব। কারণ বাবর পারফর্ম করলেই পাকিস্তান জেতে— এটাই বাস্তব।”

  • চট্টগ্রামে ধস, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

    চট্টগ্রামে ধস, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  চট্টগ্রামের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটের ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয়েছে লাল-সবুজের দলকে।

    প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫১ রান। ব্যাট হাতে একাই লড়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তার ঝড়ো ৮৯ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ে রাখলেও অন্য প্রান্তে ব্যর্থ ছিলেন সবাই। সাইফ হাসান ২৩ রান করলেও বাকিদের ব্যাট ছিল নীরব।

    জবাবে রোস্টন চেজ (৫৭) ও আকিম অগাস্তে (অপরাজিত ৫২) সহজেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ১৬.৫ ওভারে। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সম্পূর্ণ আধিপত্য ছিল সফরকারীদের।

    বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনি ৪ ওভারে ৪৩ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। কিন্তু তার লড়াইও জয়ের মুখ দেখাতে পারেনি দলকে।

    ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পারভেজ ইমন দ্রুত আউট হয়ে ফিরলে চাপ বাড়ে ওপরে। অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থ—৯ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তানজিদ ও সাইফের ৬৩ রানের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখালেও, মাঝ ও শেষের ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ইনিংস ভেঙে পড়ে।

    একপ্রান্তে অবিচল তানজিদ তুলে নেন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। ৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পথে তিনি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০০০ রান পূর্ণ করেন মাত্র ৪২ ইনিংসে। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় গিয়ে ৮৯ রানে আউট হন রোমারিও শেফার্ডের বলে।

    শেষদিকে শরিফুল, রিশাদ, সোহান ও নাসুমের দ্রুত বিদায়ে বড় স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি। তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে একটি ছক্কায় স্কোর ১৫১ রানে থামে।

    বোলিংয়ে আলো ছড়ান ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড। তিনি হ্যাটট্রিকসহ ৩ উইকেট নেন এবং টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক বোলার হিসেবে নাম লেখান। এছাড়া পিয়েরে ও হোল্ডার নেন ২টি করে উইকেট, আকিল হোসেন ও রোস্টন চেজ নেন ১টি করে।

    বাংলাদেশের জন্য এই হার কেবল আরেকটি পরাজয় নয়, বরং ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রতিফলন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে লড়াই করেও জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি—তানজিদের একার প্রচেষ্টা যেন হারিয়ে গেছে দলের ভুলে ভরা পারফরম্যান্সে।

  • অলিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রোমাঞ্চকর জয়, সিরিজে লিড নিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯

    অলিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রোমাঞ্চকর জয়, সিরিজে লিড নিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯

    এবিএনএ: বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখালেন কালাম সিদ্দিকি অলিন। তার সেঞ্চুরির সৌজন্যে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে ৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল।

    মঙ্গলবার দিন শেষে আলো স্বল্পতার কারণে ম্যাচটি ডাকওয়ার্থ–লুইস পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে আফগান যুবারা সংগ্রহ করেছিল ২৬৫ রান ৯ উইকেটে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৬ ওভারে ৫ রান এগিয়ে থাকায় জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল।

    রান তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি জুনিয়র টাইগারদের। মাত্র ১৫ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর চাপ বাড়তে থাকে। সেই অবস্থায় রিফাত বেগের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে দেন অলিন। পরে রিজান হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৯ রানের বিশাল অংশীদারিত্ব গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ টেনে নেন তিনি।

    অলিন ১১৯ বলে ১১ বাউন্ডারিতে খেলেন অপরূপ ১০১ রানের ইনিংস। তার বিদায়ের পর রিজান দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন। রিজানের ব্যাট থেকে আসে ৭৫ রান, ৩ ছক্কা ও ২ চার সমৃদ্ধ ইনিংস।

    এর আগে আফগানদের হয়ে উজাইরুল্লাহ নিয়াজাই একাই লড়াই করেন। তিনি ১৩৭ বলে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ১৪০ রানের স্মরণীয় ইনিংস। যদিও সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার ইনিংস জয় এনে দিতে পারেনি অতিথি দলকে।

    বাংলাদেশের হয়ে ইকবাল হোসেন ইমন বল হাতে ঝলক দেখান। ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। রিজানও পান গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট।

    আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ, যেখানে বাংলাদেশ লিড ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

  • মাশরাফি-তামিমের ফোনে অনুপ্রাণিত মিরাজ, সিরিজ জয়ে নেতৃত্বের দৃঢ়তা

    মাশরাফি-তামিমের ফোনে অনুপ্রাণিত মিরাজ, সিরিজ জয়ে নেতৃত্বের দৃঢ়তা

    এবিএনএ: ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের সময়টা শুরুতে খুব একটা সুখকর ছিল না। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা সিরিজ হেরে চাপে পড়েছিলেন তরুণ এই অধিনায়ক। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজই যেন বদলে দিয়েছে তার ভাগ্যরেখা। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ১৭৯ রানের বিশাল জয় এনে দিয়ে বাংলাদেশকে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের স্বাদ দিয়েছেন মিরাজ।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ জানান, কঠিন সময়টা পার করতে তাকে পাশে পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তামিম ইকবালকে। তারা ফোন করে দিয়েছেন নানা দিকনির্দেশনা ও মানসিক সাহস। মিরাজ বলেন, “বাংলাদেশের সফল অধিনায়কদের মধ্যে মাশরাফি ভাই ও তামিম ভাই দু’জনই আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। তামিম ভাই ফোনে বলেছিলেন, কীভাবে খেললে ভালো হবে। এমন সহায়তা আমার কাছে দারুণ লেগেছে।”

    মিরাজ আরও বলেন, “আমি সবসময় ইতিবাচকভাবে খেলতে চাই। ঘরের মাঠে সব দলের বিপক্ষে ভালো করার সুযোগ থাকে। আমরা জানতাম মিরপুরের উইকেট কেমন আচরণ করবে, কারণ এখানে আমরা বহু বছর ধরে খেলছি।”

    মিরপুরের পিচ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি যোগ করেন, “আগে এখানে কিছুটা ঘাস থাকত, এখন নেই। তাই বল কিছুটা ধীরে আসে। তবে এটি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়।”

    নিজের নেতৃত্বে সিরিজ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী মিরাজ জানান, ভবিষ্যতে দলের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে চান তিনি।

  • আইসিসির মন্তব্যে পাকিস্তানের ক্ষোভ: ‘খেলাধুলায় রাজনীতি ঢুকেছে’ অভিযোগ ইসলামাবাদের

    আইসিসির মন্তব্যে পাকিস্তানের ক্ষোভ: ‘খেলাধুলায় রাজনীতি ঢুকেছে’ অভিযোগ ইসলামাবাদের

    এবিএনএ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক মন্তব্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন, আইসিসি এমন এক বিবৃতি দিয়েছে যা কেবল পক্ষপাতদুষ্ট নয়, বরং ক্রিকেটকে রাজনৈতিক রঙে রাঙানোর চেষ্টা করছে।

    সম্প্রতি আইসিসি দাবি করে, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনজন স্থানীয় ক্রিকেটার প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিবৃতির পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে পাকিস্তান এই ভ্রান্ত ও প্রমাণহীন বিবৃতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।”

    তিনি আরও বলেন, আইসিসি কোনো স্বাধীন অনুসন্ধান ছাড়াই এমন সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করে নিজের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তারারের মতে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) মন্তব্য একই সূত্রে গাঁথা—এটি একটি পরিকল্পিত পাকিস্তানবিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন।

    তথ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “খেলাধুলা কখনোই রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হতে পারে না। আইসিসির নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, তাদের পদমর্যাদা কোনো দেশের প্রভাবের চেয়ে বড়।” তিনি সংস্থাটিকে নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ক্রিকেট যেন ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকে, বিভেদের নয়।”

    বর্তমানে আইসিসি ও পাকিস্তানের এই বিবাদ বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের তুলনামূলক স্বল্প রানের ২০৭ রানের সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে পরিণত হয়। রিশাদের অসাধারণ বোলিংয়ে ৭৪ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

    বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন রিশাদ হোসেন। তিনি ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচে তুলে নেন ৬টি উইকেট—যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০১৩ সালে।

    শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার ফিরলে চাপে পড়ে দল। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭১ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি আনে। শান্ত ৬৩ বলে ৩২ রান ও হৃদয় ৯০ বলে ৫১ রানের ধীর ইনিংস খেলেন।

    অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলের রান দুইশ’র ঘরে তোলেন। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন—মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে ইনিংসে প্রাণ সঞ্চার করেন। ফলে দুই বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ২০৭ রানে।

    জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। তবে রিশাদের স্পিন জাদুতে মাত্র ৯২ রানেই পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। তিনি একে একে ব্রেন্ডন কিং, কেসি কার্টি, শেরফান রাদারফোর্ডসহ শীর্ষ ব্যাটারদের বিদায় করেন। কিং সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্যরা ছিলেন পুরোপুরি অসহায়।

    মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান একে একে শেষ দিকের উইকেটগুলো তুলে নিলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিশাদ হোসেন।

  • রাকিবের দুর্দান্ত গোলেই হংকংয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির ড্র

    রাকিবের দুর্দান্ত গোলেই হংকংয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির ড্র

    এবিএনএ: হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়া কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ড্র করে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের মাঠে দারুণ লড়াই উপহার দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    মঙ্গলবার হংকংয়ের কায় তাক স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ দল। আগের ম্যাচে শুরুর একাদশে না রাখা শমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে এবার শুরু থেকেই মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। তবুও প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

    ম্যাচের ৩৬ মিনিটে তারিক কাজীর ফাউলের পর পেনাল্টি পায় হংকং। সেখান থেকেই ম্যাট ওর গোল করে স্বাগতিকদের ১-০ এগিয়ে নেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পাল্টাতে থাকে। ৭৫ মিনিটে বাজে ট্যাকলের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এক হংকং খেলোয়াড়। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ।

    অবশেষে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে রাকিব হোসেনের দারুণ গোলেই সমতায় ফেরে লাল-সবুজের দল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়লেও আর গোল পায়নি কেউ। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।

    এই ফলাফলে এশিয়া কাপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নিভে না গেলেও, তা এখন নির্ভর করছে পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর। তবুও বিদেশের মাঠে এমন এক লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের আশাবাদী করেছে।

  • সুপ্তা-স্বর্ণার ঝলকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াকু সংগ্রহ বাংলাদেশের নারীদের

    সুপ্তা-স্বর্ণার ঝলকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াকু সংগ্রহ বাংলাদেশের নারীদের

    এবিএনএ: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে সম্মানজনক সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সোমবার ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মেয়েরা গড়ে ২৩২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর।

    ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার ফারজানা হক ও রুবায়া হায়দার সতর্কভাবে ব্যাট চালিয়ে দলকে শক্ত ভিত দেন। তাদের ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে স্থিতি। রুবায়া ৫২ বলে ২৫ রান করে ফিরে গেলেও দলকে ভালো সূচনা এনে দেন। অন্যপ্রান্তে ফারজানা করেন ৭৬ বলে ৩০ রান।

    এরপর মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তাদের জুটিতে আসে আরও ৭৭ রান। জ্যোতি ৪২ বলে ৩২ রানে থামলেও দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান। সুপ্তা ব্যাটে আনেন স্থিতি—৭৭ বলে ৫০ রান করে সাজঘরে ফেরার আগে ছয়টি চমৎকার চার মারেন তিনি।

    শেষ দিকে নামা স্পিন অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার খেলেন দুর্দান্ত ইনিংস। মাত্র ৩৫ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের সংগ্রহকে ২৩২-এ নিয়ে যান। একই সঙ্গে স্বর্ণা গড়েন বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড এবং এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কার কীর্তি।

    শেষ দিকে ঋতু মনি ৮ বলে ১৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি চার। তবে রান আউটের সমস্যায় ভুগেছে বাংলাদেশ দল। সুপ্তা ও সোবহানা মুস্তারি দৌড়ঝাঁপের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন।

    সব মিলিয়ে পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে গড়া এই ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশ নারী দলকে দিয়েছে একটি শক্ত ভিত্তি।

  • খুলনাকে উড়িয়ে রংপুরের এনসিএলে রাজত্ব: টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন উত্তরবঙ্গের দল

    খুলনাকে উড়িয়ে রংপুরের এনসিএলে রাজত্ব: টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন উত্তরবঙ্গের দল

    এবিএনএ: জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আবারও সেরা প্রমাণ করল রংপুর বিভাগ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল উত্তরবঙ্গের এই দল। রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে খুলনা বিভাগকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

    খুলনা প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১৩৬ রান। রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খুলনার ব্যাটাররা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। দলের পক্ষে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৩২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেললেও বাকিরা তেমন অবদান রাখতে পারেননি। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী শেষদিকে ১৩ বলে ২৪ রান করে দলের স্কোর কিছুটা এগিয়ে নেন।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় রংপুর। ওপেনার নাসির হোসেন ও জাহিদ জাভেদ মিলে ৬১ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন। জাভেদ ২৭ রানে আউট হলেও নাসির খেলেন ৩১ বলে ৪৬ রানের দাপুটে ইনিংস। এরপর নাঈম ইসলাম (৩২ বলে ৪০) ও অধিনায়ক আকবর আলী (১৫ বলে ১৯ অপরাজিত) বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন।

    ১৮ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় রংপুর বিভাগ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এনসিএল টি-টোয়েন্টির প্রথম দুই আসরেই শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ল রংপুর।

  • কিউই মেয়েদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর: টাইগ্রেসদের সামনে ২২৮ রানের বড় লক্ষ্য

    কিউই মেয়েদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর: টাইগ্রেসদের সামনে ২২৮ রানের বড় লক্ষ্য

    এবিএনএ: নারী বিশ্বকাপের টিকে থাকার লড়াইয়ে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আসামের গুয়াহাটিতে টস হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে টাইগ্রেসদের সামনে ২২৮ রানের লক্ষ্য দেয় নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে কিউই মেয়েরা তোলে ২২৭ রান।

    ইনিংসের শুরুটা ছিল নিউজিল্যান্ডের জন্য ভয়ংকর। মাত্র ৩৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। কিন্তু অধিনায়ক সোফিন ডেভিনের নেতৃত্বে পরিস্থিতি সামলে নেন ব্রুকলি হ্যালিডে। দুজনের ১৬৬ বলে ১১২ রানের জুটি কিউইদের ইনিংসকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। এই পার্টনারশিপ ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও লড়াকু সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রাবেয়া খান। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি মূল্যবান উইকেট।

    এই ম্যাচটি টাইগ্রেসদের জন্য শুধু পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও একটি বড় সুযোগ। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। যদিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারতে হয়েছে, তবুও লড়াইয়ে নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

    এই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন আরও বাস্তবের কাছাকাছি চলে আসবে বাংলাদেশের জন্য। কারণ, উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে দীর্ঘদিন ধরে কিউইদের সঙ্গে এক অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে টাইগ্রেসদের।

    ম্যাচের আগে সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছিলেন, “আমরা আগের ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলেছি, বিশেষ করে বোলাররা দুর্দান্ত ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”

    অতীত রেকর্ডে নিউজিল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশই এগিয়ে। ফলে আজকের ম্যাচে ফলাফল কী হবে, তা জানার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।