Category: খেলাধুলা

  • ২৮৩ রানও থামাতে পারল না যুব টাইগারদের, আফগানিস্তানকে হারিয়ে দাপুটে শুরু

    ২৮৩ রানও থামাতে পারল না যুব টাইগারদের, আফগানিস্তানকে হারিয়ে দাপুটে শুরু

    এবিএনএ:  বিশাল লক্ষ্য দেখেও ভীত না হয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ব্যাট হাতে জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে যুব এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি মাঠে আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৭ উইকেটে তোলে ২৮৩ রান। ওপেনার উসমান সাদান ও তিন নম্বরে নামা ফয়সালের ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে তারা। ফয়সাল ৯৪ বল মোকাবিলা করে ১০৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চার ও ছক্কার দারুণ মিশেল। মিডল অর্ডারে উজাইরুল্লাহ নিয়াজাই ও আজিজুল্লাহ মিয়াখিল প্রয়োজনীয় রান যোগ করেন।

    বাংলাদেশের পক্ষে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ—দুজনেই নেন ২টি করে উইকেট। অন্যরা একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন।

    লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৫১ রান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রিফাত ৬৮ বলে ৬২ রান করে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন জাওয়াদ। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে থামতে হয় তাকে—১১২ বলে ৯৬ রান করে ফেরেন তিনি।

    এরপর অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ও কালাম সিদ্দিকি ম্যাচের লাগাম ধরেন। চাপের মধ্যেও তারা দলের স্কোর এগিয়ে নেন। শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট পড়লেও শেখ পারভেজ জীবন ও শাহরিয়ার আহমেদের ব্যাটে ৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

    এই জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে যুব টাইগাররা।

  • লঙ্কানদের হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল

    লঙ্কানদের হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল

    এবিএনএ:  চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

    সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৬৭ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে। শুরুটা ছিল না সুখকর—দলীয় ১ রানে ওপেনার নাইম ‘গোল্ডেন ডাক’-এ সাজঘরে ফিরে যান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে জারিফ ও কাউসার ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে খোলা রাখেন।

    কাউসার ৩০ রান করার পর বিদায় নিলেও জারিফ ৫১ বলে ৫১ রান করে ফিফটি পূর্ণ করেন। এরপর রাকিবুল দ্রুত আউট হলেও অদৃত ঘোষ একপ্রান্ত ধরে রেখে ৭৭ বলে ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। শেষদিকে আকাশ রায় (৩৩) ও জুনায়েদ হোসেন অপরাজিত থেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বাংলাদেশকে।

    এর আগে শ্রীলঙ্কা ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি পেসার আতিকুর আকাশের বোলিং তোপের মুখে পড়ে। ৪৫.১ ওভারে তারা ১৭৯ রানে অলআউট হয়। আতিকুর ২১ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে সানুল ওয়েরারাত্নে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন, হিরুন মাথিশা ৩৭ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা ব্যর্থ হন।

    সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৭৮ রানে বড় জয় পায়, দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জিতে সমতা আনে। শেষ ম্যাচটি জিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল ট্রফি ঘরে তুলল, যা জুনিয়র টাইগারদের জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

  • অলিখিত ফাইনালে ব্যাটিং বিপর্যয়,সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৯ নারীদের

    অলিখিত ফাইনালে ব্যাটিং বিপর্যয়,সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৯ নারীদের

    এবিএনএ: কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ টি–টোয়েন্টিটিই হয়ে উঠেছিল অলিখিত ফাইনাল। সমতায় থাকা লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল এই ম্যাচেই। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিং ধস নামল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী দলের ইনিংসে। মাত্র ৮৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে হার মানতে হলো জুনিয়র টাইগ্রেসদের। এ জয়ের সুবাদে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ তুলে নিল পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দল।

    শুক্রবার একাডেমি মাঠের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। স্কোরবোর্ডে ১৪ রান উঠতেই মায়মুনা নাহারের বিদায়ে শুরু হয় উইকেট পতনের সিলসিলা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে ৩১ রানেই পাঁচ ব্যাটার ফিরে গেলে চাপ বাড়ে আরও।

    দলের বিপর্যয়ে একমাত্র স্থির ছিলেন সাদিয়া আক্তার। হাবিবা ইসলামের সঙ্গে ২২ রানের ছোট একটি জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে সাদিয়ার ব্যাট থেকে। বাকিদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বারিরাহ সাইফ নেন ৩ উইকেট, রোজিনা আকরাম ঝুলিতে ভরেন ২টি।

    সামান্য লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তানও শুরুতেই হারায় অধিনায়ক ইমান নাসেরকে। অতশী মজুমদারের বলে ‘ডাক’-এ ফেরেন তিনি। পরে রানআউটে রাহিমা সাঈদের (১০) বিদায়ে খানিকটা আশাও দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কমল খান (২৫) ও আকসা হাবিবের (২১) ৩৭ রানের জুটি ম্যাচকে নিয়ে যায় পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে।

    শেষ দিকে ফিচা ফায়াজ ও আরিশা আনসারির অবিচ্ছিন্ন ব্যাটিংয়ে ১৮ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় অতিথিরা। তৃতীয় ম্যাচ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষ দুই ম্যাচের ব্যর্থতায় সিরিজ হাতছাড়া হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী দলের।

  • ১৪ বছর পর মেসির জমকালো প্রত্যাবর্তন: ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুরে’ ভারত মাতাতে প্রস্তুত ফুটবল জাদুকর

    ১৪ বছর পর মেসির জমকালো প্রত্যাবর্তন: ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুরে’ ভারত মাতাতে প্রস্তুত ফুটবল জাদুকর

    এবিএনএ: ১৪ বছর পর আবার ভারতে পা রাখতে চলেছেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। ২০১১ সালে প্রথমবার ভারত সফর করেছিলেন তিনি। সেই সময়ের তরুণ মেসি এখন বহু সাফল্যের মালিক—দুটি কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ, অগণিত শিরোপা এবং রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি’অর জিতে ঠিকই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। তাই তার এ সফরের নাম দেওয়া হয়েছে—‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’, যার অর্থ ‘সর্বকালের সেরা’-র ভারত ভ্রমণ।

    এই সফরে তিনটি পূর্ণ দিন ভারতের চার শহরে নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মেসি। ১৩, ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই এবং নয়াদিল্লি—প্রতিটি জায়গাতেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে উন্মাদের উচ্ছ্বাস।

    সফরের বিভিন্ন পর্বে মেসির সঙ্গে যোগ দেবেন তার ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি পল। উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, বিশেষ করে মুম্বাইয়ের বেশ কিছু অনুষ্ঠান সুয়ারেজ ও ডি পলকে নিয়েই সাজানো হয়েছে।

    কলকাতা পর্ব – ১৩ ডিসেম্বর

    মেসির সফর শুরু হবে কলকাতা দিয়ে। দিবাগত রাত ১:৩০-এ পৌঁছানোর পর সকাল ৯:৩০ থেকে শুরু হবে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’। নিরাপত্তাজনিত কারণে লেক টাউন মোড়ে নিজের ৭০ ফুট ভাস্কর্য অনলাইনে উদ্বোধন করবেন তিনি। দুপুরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রীতি ম্যাচ, সম্মাননা ও আলাপচারিতায় অংশ নেওয়ার পর তিনি রওনা দেবেন হায়দরাবাদের উদ্দেশে।

    হায়দরাবাদ পর্ব – ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা

    উপ্পল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মেসিকে ঘিরে প্রদর্শনী ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তরুণ ফুটবলারদের জন্য বিশেষ ফুটবল ক্লিনিকেও অংশ নেবেন মেসি, সুয়ারেজ ও ডি পল—যেখানে তারা শিশুদের সরাসরি প্রশিক্ষণ দেবেন।

    মুম্বাই পর্ব – ১৪ ডিসেম্বর

    বিকেল ৩:৩০ থেকে সিসিআইতে প্যাডেল কাপ ইভেন্ট, তারপর সেলিব্রিটি ফুটবল ম্যাচ এবং ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চ্যারিটি ফ্যাশন শোসহ একাধিক আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান রয়েছে তার সূচিতে। মুম্বাই পর্বটি হবে সফরের সবচেয়ে তারকাখচিত আয়োজন।

    নয়াদিল্লি পর্ব – ১৫ ডিসেম্বর

    দিল্লিতে মেসির সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। দুপুরে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে একটি আয়োজন এবং মিনার্ভা একাডেমির তরুণ খেলোয়াড়দের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে মেসির ভারত সফর।

    টিকিটের মূল্য

    • কলকাতা: শুরু ৪,৩৬৬ রুপি

    • হায়দরাবাদ: শুরু ২,২৫০ রুপি

    • দিল্লি: শুরু ৭,৬৭০ রুপি

    • মুম্বাই: শুরু ৭,০৮০ রুপি

    ফুটবল বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ তারকাকে সামনে দেখতে আগ্রহীদের কাছে এই সফর ইতোমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।

  • কাফু–ক্যানিজিয়ার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা! লাতিন–বাংলা সুপার কাপে নতুন বিতর্ক

    কাফু–ক্যানিজিয়ার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা! লাতিন–বাংলা সুপার কাপে নতুন বিতর্ক

    এবিএনএ: লাতিন-বাংলা সুপার কাপ শুরু থেকেই নানা অব্যবস্থা ও বিতর্কে জড়িয়েছে। বাংলাদেশ, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার তিন ক্লাবের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট নিয়ে সমর্থকদের ভরসা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। বিশেষ করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু আর আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ক্লদিও ক্যানিজিয়ার আগমনের ঘোষণা ফুটবল ভক্তদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।

    কিন্তু এবার জানা গেছে—এই দুই তারকার কেউই ঢাকায় আসছেন না। অথচ আয়োজক এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল তাদের নাম ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়েছে এবং ‘শুভেচ্ছা বার্তা’ হিসেবে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়, তা এআই–নির্মিত বলে সন্দেহ করছেন অনেক ভক্ত।

    গতকাল বাংলাদেশ–আর্জেন্টিনা ম্যাচের সময় সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ উঠলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মাঠ বরাদ্দ স্থগিত করে। এর ফলে ১১ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্ধারিত ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা ম্যাচটিও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

    এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের কারণেই কাফু ও ক্যানিজিয়ার সফর স্থগিত হয়ে গেছে। অথচ শুরু থেকেই আয়োজকরা জোর দিয়ে বলেছিল তারকারা আসবেন সময়মতো। এমনকি সুপার কাপ শুরুর আগের দিনও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে দুই তারকা ১১ ডিসেম্বর সকালেই ঢাকায় পৌঁছাবেন।

    এর আগেও টুর্নামেন্ট শুরু থেকে ছিল নানা অভিযোগ—অব্যবস্থাপনা, উচ্চমূল্যের টিকিট (যার সর্বনিম্ন মূল্য ছিল এক হাজার টাকা), কম বিক্রি, গেট ভেঙে স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রবেশসহ উল্লেখযোগ্য বিশৃঙ্খলা। সর্বশেষ সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় পুরো আয়োজনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

  • বিদেশে থেকেও থামছেন না সাকিব: দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

    বিদেশে থেকেও থামছেন না সাকিব: দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

    এবিএনএ: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার ও মাগুরা–১ আসনের সাবেক সাংসদ সাকিব আল হাসান। হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় দেশে ফিরতে না পারলেও থেমে নেই তাঁর রাজনীতি নিয়ে অগ্রযাত্রার ভাবনা। বরং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষের পথে হলেও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি চালিয়ে যেতে তিনি প্রস্তুত।

    বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি-টোয়েন্টি লিগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সাকিব। সেখানেই ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

    রাজনীতির ব্যাপারে সাকিবের স্পষ্ট ঘোষণা

    সাকিব বলেন, “আমার মনে হচ্ছে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ পথই পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু রাজনীতির অধ্যায় এখনও শুরুই হয়নি ঠিকভাবে। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মাগুরার জনগণের জন্য কিছু করার ইচ্ছা আমার সব সময়ই ছিল—এখনও আছে। দেখি, সময় আমাকে কোথায় নিয়ে যায়।”

    গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকেই নিরাপত্তা শঙ্কায় দেশে ফিরতে পারছেন না সাকিব। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে বিদায়ী টেস্ট খেলার স্বপ্নও অপূর্ণ থেকে গেছে। কানপুর টেস্টের আগে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও পরিস্থিতির কারণে তা আনুষ্ঠানিক হয়নি।

    অবসর নয়, দেশে ফিরে তিন ফরম্যাটে বিদায় চান

    পডকাস্টে তিনি আরও জানান, এখনো কোনো ফরম্যাটেই আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি। তাঁর চাওয়া—দেশে ফিরে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে মাঠ থেকেই ক্যারিয়ারের ইতি টানা।

    সাকিব বলেন, “এখনও তিন সংস্করণ থেকেই অবসর নিইনি। দেশে ফিরেই তিন ফরম্যাটের একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে ভক্তদের সামনে বিদায় নিতে চাই। তারা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছে, শেষবারের মতো সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই।”

  • আর্জেন্টিনার মিশন ডিফেন্স! ২০২৬ বিশ্বকাপে কবে কোথায় খেলবে মেসির দল?

    আর্জেন্টিনার মিশন ডিফেন্স! ২০২৬ বিশ্বকাপে কবে কোথায় খেলবে মেসির দল?

    এবিএনএ:  কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এবারের বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী ‘জে’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে আফ্রিকার আলজেরিয়া, ইউরোপের অস্ট্রিয়া এবং এশিয়ার জর্ডান।

    যদিও বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১১ জুন, তবে মেসিদের মাঠে নামতে অপেক্ষা করতে হবে ১৭ জুন পর্যন্ত। সেদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচ সূচি:

    • ১৭ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া — সকাল ৭টা (কানসাস সিটি)

    • ২২ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া — রাত ১১টা (ডালাস)

    • ২৮ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান — সকাল ৮টা (ডালাস)

    শিরোপা ধরে রাখার এই যাত্রায় আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচই ভক্তদের জন্য বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে আসছে।

  • ব্রাজিলের হেক্সা মিশন শুরু: কখন কোথায় খেলবে নেইমার–ভিনিসিয়াসরা?

    ব্রাজিলের হেক্সা মিশন শুরু: কখন কোথায় খেলবে নেইমার–ভিনিসিয়াসরা?

    এবিএনএ: ফুটবল ইতিহাসে টানা প্রতিটি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়া এবং পাঁচবারের শিরোপাজয়ী ব্রাজিল এবারও নামছে হেক্সা জয়ের লক্ষ্যে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে সেলেসাওরা। তাদের গ্রুপে সবচেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। গ্রুপের বাকি দুই দল হলো স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

    আগামী ১৪ জুন নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর ২০ জুন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৫ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সময়সূচি বেশ স্বস্তির, কারণ ম্যাচগুলো ভোর বা সকালেই হওয়ায় গভীর রাত জাগতে হবে না।

    গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের ম্যাচ সূচি:

    • ১৪ জুন: ব্রাজিল বনাম মরক্কো — ভোর ৪টা (নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি)

    • ২০ জুন: ব্রাজিল বনাম হাইতি — সকাল ৭টা (ফিলাডেলফিয়া)

    • ২৫ জুন: ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড — ভোর ৪টা (মায়ামি)

    সেলেসাও সমর্থকরা ইতিমধ্যেই হেক্সা স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত, আর দলও প্রস্তুত নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণে।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিদের নতুন চ্যালেঞ্জ: কোন দলগুলোর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা?

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিদের নতুন চ্যালেঞ্জ: কোন দলগুলোর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা?

    এবিএনএ: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই গ্রুপে লিওনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে অনুষ্ঠিত হয় এবারের বিশ্বকাপের ড্র। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড, সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া–সঞ্চালক সামান্থা জনসন।

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারের একটি দল হওয়ায় আর্জেন্টিনা ছিল পট–১-এ। ড্র অনুযায়ী পট–২ থেকে ইউরোপের অস্ট্রিয়া এবং পট–৪ থেকে এশিয়ার প্রতিনিধি জর্ডান ‘জে’ গ্রুপে যোগ হয়। পট—৩ থেকে আসে আলজেরিয়া।

    ড্র মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি পোডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফিও প্রদর্শন করেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য সামনে রেখে স্কালোনি জানান, এই নতুন গ্রুপ আর্জেন্টিনার জন্য হবে চ্যালেঞ্জিং।

    স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার গ্রুপ আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে, এরপরে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের জাতীয় দলের নাম পট থেকে তুলেন।

    আগামী বছরের ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই শেষ হবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন লড়াই।

  • বিশ্বকাপ ড্রতে বড় চমক: সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখি নয় আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ ড্রতে বড় চমক: সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখি নয় আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

    এবিএনএ: ‘উই আর টোয়েন্টি সিক্স’—এই স্লোগান সামনে রেখে আগামী বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর আয়োজনে শুরু হবে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেওয়ায় টুর্নামেন্ট ঘিরে উত্তেজনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তারই অংশ হিসেবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা থেকে ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ড্র অনুষ্ঠান।

    সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বহু তারকা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে—কাদের ভাগ্যে কোন গ্রুপ পড়ছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন—বিশ্বসেরা দলগুলোর গ্রুপ কার সঙ্গে মিলবে, তা নিয়েই ফুটবলপ্রেমীদের প্রধান আগ্রহ।

    ফিফা এবার টেনিসের মতো র‍্যাঙ্কিং–ভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে এমনভাবে ভাগ করা হয়েছে যাতে তারা সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি না হয়। ৪৮ দলের জন্য চারটি পাত্রে ১২টি করে দল রেখে মোট ১২ গ্রুপ ভাগ করা হবে লটারির মাধ্যমে।

    মহাদেশভিত্তিক একটি নিয়মও বজায় থাকবে—এক গ্রুপে একই অঞ্চলের দুই দল রাখা যাবে না। অর্থাৎ ব্রাজিলের সঙ্গে কলম্বিয়া বা উরুগুয়ের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ইউরোপ থেকে বেশি দল অংশ নেওয়ায় সেখানে শিথিলতা থাকছে; স্পেনের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড বা অস্ট্রিয়া একই গ্রুপে পড়তে পারে।

    গ্রুপের সেরা দুটি দল সরাসরি যাবে পরের রাউন্ডে। তাদের সঙ্গে সেরা আট তৃতীয় স্থান অধিকারী দল উঠে আসবে রাউন্ড অব ৩২-এ। সেখান থেকেই শুরু হবে নকআউট লড়াই—৩২ থেকে ১৬, তারপর কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল এবং শেষে চূড়ান্ত লড়াই।

    এবারের ড্র অনুযায়ী সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্সের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। ফিফার ইঙ্গিত, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা–স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। যেখানে আইসিসি সচরাচর ভারত–পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখে, সেখানে ফিফা চেষ্টা করছে বড় দলগুলোকে টুর্নামেন্টের শেষদিকে মুখোমুখি করানোর।

    ফক্স স্পোর্টস বিশ্বকাপের আগে একটি মক ড্র প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে ব্রাজিলের গ্রুপে থাকতে পারে উজবেকিস্তান, মরক্কো ও ইতালি। আর আর্জেন্টিনার সামনে থাকতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড ও মিসর। তবে এসব শুধু আলোচনার অংশ—আসল উত্তরের অপেক্ষা ড্র অনুষ্ঠানে।

    আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, “বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। ছোট ভুলও আপনাকে ছিটকে দিতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব; ভাগ্যের অনেক কিছুই এখানে নির্ধারণ করে।”

    ফিফা চাইছে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলো যেন সেমির আগেই একে অপরের মুখোমুখি না হয়—এই পরিকল্পনাতেই সাজানো হয়েছে পুরো ড্রয়ের কাঠামো।