Category: আইন ও আদালত

  • আশিয়ান সিটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

    আশিয়ান সিটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

    এ বি এন এ : আশিয়ান সিটির জমি হস্তান্তর, উন্নয়ন ও বিজ্ঞাপনসহ সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আপিল বিভাগ।

    আশিয়ান সিটি বৈধ বলে দেয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে সোমবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

    আদালতে বেলার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল। সঙ্গে ছিলেন এম আমিনউদ্দিন ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। আশিয়ান সিটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ।

    রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

    অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, এ রায়ের আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির কোনও ধরনের কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

    এর আগে বৃহস্পতিবার আশিয়ান সিটির রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে রিটকারী পক্ষ। পরে চেম্বার জজ তা শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

    জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটি প্রকল্পটি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

    এর প্রায় আট মাস পর ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আশিয়ান সিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই রায়টি রিভিউ চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন।

    এর ওপর শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দেয়া রায়টি কেন পুনর্বিবেচনা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

    রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায় অপেক্ষমাণ রাখেন।

    পরে গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, বিচারপতি নাঈমা হায়দার, কাজী রেজা-উল হকের বৃহত্তর বেঞ্চ আশিয়ান সিটির রিভিউ মঞ্জুর করে রায় দেন।

    রিভিউয়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। অন্যদিকে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

    আশিয়ান সিটির রিভিউয়ের ব্যাপারে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আশিয়ান সিটি ১১শ’ ৯৭ একর জমি ভরাট করতে চায়। কিন্তু যেদিন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেছিলেন, সেদিনই তারা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে। যার কারণে ওরা শুনানির সময় অনুমতিপত্রটি আদালতে দাখিল করতে পারেনি। এজন্য রায়টি রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চায়। আর আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা এর আগে এ মামলায় আদালতে শুনানি করলেও সে সময় ডিসির কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করার বিষয়টি উত্থাপন করেননি।’

    তিনি মনে করেন, এই অনুমতিটা ইচ্ছেকৃতভাবে বের করা হয়েছে, যাতে ইতিপূর্বে দেয়া রায়টি রিভিউ করতে পারেন।

    জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড আশিয়ান সিটি নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্প এলাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীতে হজ ক্যাম্পসংলগ্ন দক্ষিণখান থানার আশকোনা ও কাওলা মৌজা।

    অভিযোগ আছে, অনুমতি ছাড়াই প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। ওই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি রিট আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে আসে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ, নিজেরা করি ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন।

    রিটকারীদের অভিযোগ, ১৯৭২ সালের ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার অনুসারে বাংলাদেশের কেউ ৩৩ একর বা ১০০ বিঘার বেশি জমি রাখতে পারেন না। কিন্তু আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কাগজপত্র অনুসারে তারা ৪৩ দশমিক ১১ একর ভূমিতে আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন পেলেও কয়েকশ’ একর জমি নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। তাছাড়া ওই প্রকল্প এলাকা প্লাবন ভূমি ও নিচু জমি হওয়ায় এবং সেখানে খাল থাকায় জলাধার আইন অনুসারে ওই জমিতে আবাসন প্রকল্প করা যায় না বলেও রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এতে আশিয়ান সিটি প্রকল্পের মাটি ভরাট, প্লট বিক্রিসহ যেকোনো আঙ্গিকে এর বিজ্ঞাপন প্রচার অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।

    একই সঙ্গে রুল জারি করেন। রুলে রাজউকের অননুমোদিত সব প্রকল্পের মাটি ভরাট কার্যক্রম, বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্লট বিক্রি বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

    আশিয়ান সিটি প্রকল্প এলাকা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয় রুলে।

    গৃহায়ণ সচিব, ভূমিসচিব, পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (তত্ত্বাবধান ও বাস্তবায়ন) এবং আসিয়ান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

    আদালত পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া আশিয়ান সিটির অবস্থানগত ছাড়পত্র, এর নবায়ন, আশিয়ান সিটির উত্তরা আবাসিক প্রকল্পকে রাজউকের দেয়া অনুমোদন এবং আশিয়ান সিটিকে অধিদফতরের জরিমানা কমিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দেয়া আদেশ স্থগিত করেন।

    রিট আবেদন থেকে জানা যায়, জলাশয় ভরাটের অভিযোগে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আসিয়ান সিটিকে করা অধিদফতরের ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কমিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।

    রুলে ওই প্রকল্পকে দেয়া অবস্থানগত ছাড়পত্র, এর নবায়ন, জরিমানা হ্রাস এবং রাজউকের দেয়া অনুমোদন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

    একই সঙ্গে আসিয়ান সিটির ওই প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এ পর্যন্ত কতগুলো প্লট বিক্রি করা হয়েছে, সে-সংক্রান্ত তালিকাও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এ ছাড়া বেসরকারি আবাসিক প্রকল্প ও ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা, ২০০৪ সংশোধনের পর কতগুলো আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সে-সংক্রান্ত তালিকাও দাখিল করতে বলা হয়।

    এরপর ২০১৪ সালে এসব রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বৃহত্তর বেঞ্চে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে আশিয়ান সিটি প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

    রায়ে এই প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া অনুমতিপত্র বেআইনি ঘোষণা করা হয়। পরিবেশ অধিদফতরের করা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশও বহাল করা হয় এই রায়ে। পরবর্তীতে রায়টি রিভিউ চেয়ে আবেদন করে আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ। এই রিভিউ আবেদনের ওপর ১৬ আগস্ট রায় হয়।

  • ভর্তিতে অনিয়ম, ১০ বেসরকারি মেডিকেলকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা

    ভর্তিতে অনিয়ম, ১০ বেসরকারি মেডিকেলকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা

    এ বি এন এ : সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ১০ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। জরিমানার এই অর্ধেক অর্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই অর্থ দ্বারা একটি এফডিআর ফান্ড গঠন করতে বলা হয়েছে। ওই ফান্ড থেকে যে লভ্যাংশ আসবে তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গরীব ও মেধাবি শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া জরিমানার বাকি অর্ধেক অর্থ কিডনি ফাউন্ডেশন ও লিভার ফাউন্ডেশকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।
    আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অর্থ পরিশোধ করলে ১৫৩ শিক্ষার্থীকে প্রথম পর্বের (ফার্স্ট প্রফেশনাল এক্সামিনেশেন) রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দিতে বলা হয়েছে।
    প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ রবিবার সকালে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই অর্থ থেকে কোনো ধরনের ট্যাক্স না নিতে এনবিআর-কে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।
    এই ১০ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হলো- শমরিতা মেডিকেল কলেজ, সিটি মেডিকেল কলেজ, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ, জয়নুল হক শিকদার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, তাইরুন নেছা মেডিকেল কলেজ, আইচি মেডিকেল কলেজ, কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও আশিয়ান মেডিকেল কলেজ।
    উল্লেখ্য, এর আগে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও ১৫৩ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় দশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং কেন তাদের জরিমানা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। এসব বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষকে ২১ অগাস্টের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল আপিল বিভাগ।
  • জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

    জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

    এ বি এন এ : জয়পুরহাটের সদর উপজেলার ধারকী বড়াইল গ্রামের চাঞ্চল্যকর আবদুল মতিন হত্যা মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

    বুধবার বিকাল ৩টায় জয়পুরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- একই এলাকার ওয়াজেদ আলী তোরাফ, চৈতুন মোল্লা, ছাফাদুল, মছির উদ্দীন, আনু, আবু হাসান দিলিপ ও মন্টু। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাহবুব আলম বাবু। এদের মধ্যে মন্টু পলাতক রয়েছে।

    মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ধারকী মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুল মতিনকে পূর্ব শত্রুতার জেরে বড়াইল গ্রামের রাস্তায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি-সোটা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

    ওই ঘটনায় রাতেই নিহতের ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় নয়জনকে জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম রব্বানী আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার আগেই এক আসামির মৃত্যু হয়।

    মামলায় ১৬ জন সাক্ষী ও ১০ জন নিরীক্ষকের সাক্ষীতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

  • কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ: হাইকোর্ট

    কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ: হাইকোর্ট

    এ বি এন এ : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে অবস্থিত দুই হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি এম আর হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

    জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে দায়ের করা রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত ওই অবৈধ স্থাপনা অপসারণের আদেশে কয়েক দফা নির্দেশনাও দেন।

    আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী সাতদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসককে চট্টগ্রামের দুটি আঞ্চলিক পত্রিকায় অবৈধ স্থাপনাগুলো সরাতে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। স্থাপনা সরাতে ৯০ দিন সময় দেয়া হবে। এই ৯০ দিন পার হওয়ার পরও যদি নদীর দুই তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকে তবে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তা উচ্ছেদ করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের পর উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

    তবে আদালতের আদেশে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত নৌবাহিনীর তিনটি ও চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটিসহ ছয়টি স্থাপনাকে উচ্ছেদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিতে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক।

    ২০১০ সালে কর্ণফুলীর দুই তীরের স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিটটি দায়ের করে। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।

    রুলে কর্ণফুলী রক্ষায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসককে কর্ণফুলী নদীর তীরে কী পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

    চার বছর পর ২০১৫ সালের ৯ জুন জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে কর্ণফুলীর দুই তীরে চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌবাহিনীর ছয়টি স্থাপনাসহ মোট দুই হাজার ১৮৭টি স্থাপনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    আদালত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌবাহিনীর ছয়টি স্থাপনা বাদে বাকী দুই হাজার ১৮১টি স্থাপনা অপসারণের রায় ঘোষণা করেন।

  • সাকার রায় ফাঁসের রায় পেছালো

    সাকার রায় ফাঁসের রায় পেছালো

    এ বি এন এ : রায় লেখা শেষ না হওয়ায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধের রায় ফাঁস মামলার রায় পিছিয়েছে।

    তবে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল রায়ের পরবর্তী তারিখ এখনও ধার্য করেননি।

    সাইবার ট্রাইব্যুনালের ঢাকার বিশেষ কৌঁসুলি মো. নজরুল ইসলাম শামীম জানান, ‘রায় লেখা শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে রায়ের তারিখ পিছিয়েছে। তবে এখনও তারিখ জানানো হয়নি।’

    এর আগে গত ৪ আগস্ট দু’পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম আজকের দিনে রায়ের তারিখ ধার্য করেছিলেন।

    ওইদিন শুনানিতে হাজির না থাকায় যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।

    সেইসঙ্গে সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ছাড়া জামিনে থাকা বাকি চার আসামির জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এরা হলেন- ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ফখরুল ইসলাম, সাকা চৌধুরীর ম্যানেজার মাহবুবুল আহসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী নয়ন আলী ও ফারুক হোসেন।

    এ মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামি আইনজীবী ফখরুলের সহকারী মেহেদী হাসান শুরু থেকেই পলাতক।

    এদিকে গত ৪ আগস্ট এ মামলার আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ডিবি পরিচয়ে আদালত থেকে আটকের অভিযোগ করেন তার আইনজীবী চৌধুরী মো. গালিব রাকিব।

    ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    তবে রায়ের আগেই সালাউদ্দিনের স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তারা রায়ের খসড়া কপি সংবাদকর্মীদের দেখান।

    পরদিন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন।

    ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট সাকার স্ত্রী, ছেলে ও আইনজীবীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

    এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার শুরু হয়।

  • ফের রিমান্ডে হাসনাত-তাহমিদ

    ফের রিমান্ডে হাসনাত-তাহমিদ

    এ বি এন এ : গুলশান হামলার ঘটনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ফের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

    শনিবার গুলশান হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হাসনাত করিমের দ্বিতীয় দফায় আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদুল হকের আদালতে পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় ৩ আগস্ট হাসনাত করিমকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের পর আজ গুলশান হামলা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    অন্যদিকে, গুলশান হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার তাহমিদ হাসিব খানের ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    পুলিশ দ্বিতীয় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম গোলাম নবী।

    এর আগে গত ৮ আগস্ট প্রথম দফায় হাসনাত ও তাহমিদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    ওই রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছিল, হাসনাত করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সদস্য আর তাহমিদ তার সহযোগী। বিভিন্ন সময় তাহমিদ হাসনাতকে সহযোগিতা করেছে।

    এর আগে ৩ আগস্ট রাতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

    গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ নাগরিক নিহত হন যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিদেশী। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে হাসনাত করিম ও তাহমিদসহ ৩২ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়।

  • সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

    সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

    এ বি এন এ : বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে। তিন বিচারপতির স্বাক্ষরের পর আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
    রায়টি লিখেছেন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক। তবে কণিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আরেকটি রায় দিয়েছেন। হাইকোর্টের রুলস অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে যে রায় দেয়া হয়, সেটাই চূড়ান্ত।
    গত ৫ মে হাইকোর্টের এই বৃহত্তর বেঞ্চ সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। প্রকাশিত রায়টি ১৬৫টি পৃষ্ঠার।
    রায়ে সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ওই অনুচ্ছেদের কারণে দলের সংসদ সদস্যরা হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারেন না। রায়ে আরো বলা হয়, বিভিন্ন উন্নত দেশে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে আমাদের দেশের সংসদ সদস্যদের দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাঁরা দলের বাইরে যেতে পারেন না। রায়ে বলা হয়, এই সংশোধনী থাকলে বিচারপতিদের সংসদ সদস্যদের করুনাপ্রার্থী হয়ে থাকতে হবে। যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।
    বৃহত্তর বেঞ্চের এই রায়ের ফলে সংসদের হাতে বিচারক অপসারন ক্ষমতা বাতিল হয়ে গেলো। একইসঙ্গে পুনঃর্বহাল হলো পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আনীত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।
    রায়ে আরো বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৬৩ শতাংশ দেশেই বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে নেই। শ্রীলঙ্কা ও ভারত দুটি ক্ষেত্রে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে রাখলেও তার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এটর্নি জেনারেল এবং অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর কিছু কিছু দেশে সংসদের হাতে বিচারকদের অপসারণনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ওইসব দেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আমাদের সংসদ সদস্যদের মেলানো ঠিক হবে না। ওইসব দেশের সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫(২) সি অনুচ্ছেদে বিচারক নিয়োগে আইন প্রনয়ণের কথা বলা আছে। ড. কামাল হোসেন ও আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, কোন সরকার এই আইন করেনি। এ ব্যপারে আমরাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একমত পোষণ করি। ড কামাল হোসেন বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে হেয় করা হয়েছে এবং নাজুক অবস্থায় ফেলা হয়েছে। আদালত এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে একইসঙ্গে বলেন, বিচারপতি অপসারণের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির  নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পদ্ধতি উত্তম পন্থা।
    রায়ে বলা হয়, আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হলো বড় দলগুলোর মধ্যে বিভেদ এবং সমাজ মারাত্নকভাবে বিভক্ত। এছাড়া সংসদে সবসময় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও থাকতে পারে। ফলে একজন বিচারক অদক্ষ হলেও অপসারণ করা যাবে না। তাহলে তা দেশের জন্য লজ্জাজনক হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আদালত চোঁখ বন্ধ করে রাখতে পারে না। আদালত বলেন, বাংলাদেশে বিচারক নিয়োগের কোনো নীতিমালা নেই। কিন্তু অপসারণের নীতিমালা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই ঠিক নয়। আগে নিয়োগের নীতিমালা ঠিক করা উচিত।
    রায়ে বলা হয়, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে দেওয়ার ফলে বিচার বিভাগের ওপর খড়গ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিচারকদের ওপর যদি এই খড়গ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তাহলে জনগণের মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে। ন্যায়বিচারের নিয়ে তখন জনগণের মনে সংশয় সৃষ্টি হবে। জনগণ যদি মনে করেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই তাহলে বিচার বিভাগের অস্তিত্বই থাকে না। যেহেতু ১৬তম সংশোধনী বিচার বিভাগের উপর আস্থা দুর্বল করেছে সে কারনে জনস্বার্থ ব্যাঘাত ঘটবে এবং জনগন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কমনওয়েলথ ল্যাটিমার প্রিন্সিপাল ২০০৩ এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির নের্তত্বে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এর উপর বিচারক অপসারনের ক্ষমতা থাকাটাকেই সর্বোত্তম মনে করছে আদালত। রায়ে বলা হয়, ১৬তম সংশোধনি সংবিধানের ৯৪(৪), ১৪৭(২) এবং ৭(খ) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। সুতরাং এটা বাতিল যোগ্য ও সংবিধান পরিপন্থি।
    ১৯৭২ সালে মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ওই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ষোড়শ সংশোধনীর ৯৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না। ৯৬(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দফা (২) এর অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সেই তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি এবং অপসারণের প্রক্রিয়া ঠিক করে তৈরি একটি আইনের খসড়ায় গত ২৫ এপ্রিল নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার দশ দিনের মাথায় মূল আইনই বাতিল হয়ে গেলো।
    এদিকে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চ ওই সংশোধনী  কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। পরে এই রুল শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হককে এই বিশেষ বেঞ্চে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
    দেশের শীর্ষ ৫ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসিকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে আদালতে অভিমত দেন।
    আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
    অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। এই রায় স্থগিতের জন্য রবিবার চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করব। তিনি বলেন, রায়ে আমাদেরকে আপিলের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। ফলে আমরা সরাসরি আপিল করতে পারব। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধান যখন প্রণয়ন করা হয়েছিল তখন বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টি সংবিধানে উল্লেখ ছিল। কিন্তু পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক সরকার এটি সংশোধন করে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাত থেকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে দেয়। যেহেতু এর আগে সামরিক শাসনামলকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন সেহেতু তাদের কার্যক্রমও অবৈধ। তাই বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটিও অবৈধ। তিনি বলেন, সংবিধান প্রণয়নের সময় যেহেতু সংসদ সদস্যদের হাতেই বিচারপতিদের অভিসংশন বা অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তাই এখন সেটিই বহাল চাচ্ছি।

    রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের এই রায় ঐতিহাসিক। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছি।

  • সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

    সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

    এ বি এন এ : মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাকি সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে।
    আট আসামির বিরুদ্ধে আনীত পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
    এর আগে ১৪ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
    আসামির মধ্যে জাতীয় পার্টির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত ও বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন। তবে ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম এবং আব্দুল খালেক পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক আসামি মো. লুত্ফর মোড়ল কারাবন্দি থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এ কারণে আসামির তালিকা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।
    মামলার প্রধান আসামি সাখাওয়াত এক সময় ছিলেন জামায়াত নেতা। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচন করে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন। তবে মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন সাখাওয়াত। এরপর বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরে বিভিন্ন সময়ে এলডিপি ও পিডিপিতে ঘুরে গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সাখাওয়াত হোসেনকে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়।
    আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগ:
    প্রথম অভিযোগ হলো যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণের।
    দ্বিতীয় অভিযোগ রয়েছে একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার।
    তৃতীয় অভিযোগ হলো চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতনের।
    চতুর্থ অভিযোগ কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুনের।
    আর পঞ্চম অভিযোগ একই উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের।
  • ১২ মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে খালেদা জিয়া

    ১২ মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে খালেদা জিয়া

    এ বি এন এ : ১২টি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি পুরান ঢাকার আদালত এলাকায় পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন।
    খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে খালেদা জিয়ার নয়টি মামলার শুনানি আছে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা আমলে নেওয়ার বিষয় এবং দারুস সালাম থানার আরও আটটি মামলায় জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে। এ ছাড়া ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেবেন তিনি। পরে পুরান ঢাকার রেবুতি ম্যানসনে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেবেন। আরও একটি মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হওয়ার কথা।

  • অলিউল্লাহ হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

    অলিউল্লাহ হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

    এ বি এন এ : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় অলিউল্লাহ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ছয়জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে।
    মঙ্গলবার  ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।
    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩০ জুলাই কোরবানির ঈদের রাতে কচুয়া উপজেলার শংকরপুর গ্রামের অলিউল্লাহ মৃধাকে কুপিয়ে হত্যার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জয়নব বেগম কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরই ১০ জনকে আসামি করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারিক কাজ শুরু করে।