এ বি এন এ : গাজীপুরে শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
Category: আইন ও আদালত
-

শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসির আদেশ
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভুইয়া জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সালদৈ গ্রামের আতাউর রহমান ওরফে আতা (৫৫), একই এলাকার আলম হোসেন (৪০) ও মো. ইউসুফ ওরফে ইউসুপ।অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার জজ মিয়া ও তার স্ত্রী সমেজা খাতুন ওরফে বিলকিসকে খালাস দেয়া হয়েছে।আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের মো. আব্দুল বাতেন বেপারীর ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিনকে (১৫) ওই আসামিরা অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুল বাতেন বেপারী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।এদিকে দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেয়ে আসামিরা গিয়াস উদ্দিনকে গুম করে রাখে। পরে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইউসুফকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তিন মাস পর কাপাসিয়ার মাধুলি বিল থেকে শিশু গিয়াস উদ্দিনের বস্তাবন্দি কঙ্গাল উদ্ধার করে। পর মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হয়।তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জসিট দাখিল করে। আদালতে চার্জসিট আমল নেয়। আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. মকবুল হোসেন। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সুষমা রাণী মন্ডল। -

মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
এ বি এন এ : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে আপিল বিভাগের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সোমবার দুপুরে ২৪০ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। এরপর এটি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এখন রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউয়ের) আবেদন জানাতে পারবেন একাত্তরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ‘বাঙালি খান’ হিসেবে পরিচিত আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলী। রিভিউ নিষ্পত্তির পরও তার দণ্ডের কোনো পরিবর্তন না হলে ফাঁসির কাষ্ঠে যেতে হবে প্রায় ৬৪ বছর বয়সী এ যুদ্ধাপরাধীকে।
আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রায়ের এই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করার পর রায়ের প্রত্যায়িত কপি পাঠানো হবে কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। নিয়ম অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হবে। আপিল বিভাগের সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হাতে পেয়ে ট্রাইব্যুনাল কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠাবে। ওই মৃত্যু পরোয়ানার ভিত্তিতেই সরকারের তত্ত্বাবধানে কারা কর্তৃপক্ষ সাজা কার্যকরের প্রস্তুতি নেবে। অবশ্য দণ্ড কার্যকরের আগে আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন মীর কাসেম আলী। রিভিউ না টিকলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষাও তিনি চাইতে পারবেন।
দুই আর্জিই নাকচ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে। তার আগে আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন পরিবারের সদস্যরা। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেফতারের পর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জামায়াতের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত মীর কাসেমকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আলবদর কমান্ডারের বিচার প্রক্রিয়া। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ আনেন প্রসিকিউশন। পরে বিচার শেষে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল রায় দেন ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম আলী। আপিলে তার খালাস চাওয়া হয়। গত ৮ মার্চ আপিল আংশিক মঞ্জুর করে তার ফাঁসি বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আপিলের রায়ে ১১ নম্বর অভিযোগে তার ফাঁসি বহাল রাখা হয়। এ অভিযোগটি ছিল কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ, ডালিম হোটেলে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা এবং মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়ার অপরাধ সংক্রান্ত। খালাস দেয়া হয় ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে।
প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। এছাড়া আপিলের রায়ে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হওয়া তিনটি অভিযোগ থেকে (অভিযোগ নম্বর ৪, ৬ ও ১২ থেকে) মীর কাসেমকে খালাস দেয়া হয়েছে। অভিযোগ নম্বর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ এবং ১৪-তে তার সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর ৫ নেতার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের পক্ষে-বিপক্ষে করা আপিল সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন দণ্ড হ্রাসের আপিল করেছেন এবং একজনের সাজা বৃদ্ধির আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আপিলে তার সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়।
-

‘বিজিএমই ভবন ভাঙলে গার্মেন্টস শিল্পের ক্ষতি হবে’
এ বি এন এ : প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেছেন,বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেললে আমাদের অর্থনীতি ও গার্মেন্টস শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি হবে। দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে গার্মেন্টস শিল্পের ওপর।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের আদেশের পর বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের পক্ষে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনাকারী হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।রফিকুল হক বলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রেখেছে। এখন ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে।তিনি বলেন, ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন, এতো বড় একটি ভবন করা কি সহজ ব্যাপার? এই গার্মেন্টস শিল্পেই কাজ করছে লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক। গার্মেন্টস শিল্প না থাকলে তারা কোথায় কাজ করত? -

‘৩ মাস জেলায় স্থানান্তর নয় দেওয়ানি মামলা’
এ বি এন এ : সংশোধিত ‘দেওয়ানি আদালত আইন’ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি আপিল, রিভিশনসহ অন্যান্য মামলা তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা আদালতে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইনের ৪ (৩) ধারাটি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট ১৮৮৭ সংশোধন করে গত ১২ মে গেজেট জারি করে সরকার। সংশোধিত আইনের ৪ এর ৩ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। এখন একজন সহকারী জজ ২ লাখের পরিবর্তে ১৫ লাখ, সিনিয়র সহকারী জজ ৪ লাখের পরিবর্তে ২৫ লাখ এবং জেলা জজ ৫ লাখের পরিবর্তে ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এ আইনের বিধান অনুসারে এখন ৫ লাখের ওপর থেকে ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের যেসব দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্টে আপিল হয়েছে, সেগুলো জেলা জজ আদালতে চলে যাবে। হাইকোর্টে এমন প্রায় ৯ হাজার আপিল বিচারাধীন রয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী যা এখন জেলা জজ আদালত নিষ্পত্তি করবে। সংশোধিত আইনের ৪ (৩) ধারা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইদুল আলম খান, আব্দুল্লাহ আল সাঈদ ও ব্যারিস্টার শুভ্রতদেব হাইকোর্টে রিট করেন। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার এই আদেশ দেন আদালত।
-

আসলামের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
এ বি এন এ : ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর গুলশান থানায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবি এ মামলা করে। তবে সন্ধ্যা ৬টায় যোগাযোগ করলে গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি প্রক্রিয়াধীন আছে।
বিস্তারিত জানতে ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। এর আগে দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এক অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান আইজিপি একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতাদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে অজনপ্রিয় করে একটি বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে চেয়েছিল। এ ধরনের প্রমাণ আমরা প্রাথমিক তদন্তে পেয়েছি।
তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। আজই এ মামলা করা হবে।
শহীদুল হক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক চুক্তি হয়েছিল। অর্থের বিনিময়ে তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ৩শ’ ফিট সড়ক থেকে আসলাম চৌধুরী, তার সহকর্মী মো. আসাদ ও গাড়িচালক আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরের দিন ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সম্প্রতি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।
-

বিনা দোষে কারাবাস, জাবেদকে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল
এ বি এন এ : হাইকোর্টের আদেশে নির্দোষ ঘোষণার পরেও ১৩ বছর কারাবাস করছেন সাতক্ষীরার জাবেদ আলী বিশ্বাস।
তার প্রতি অন্যায় আচরণের কারণে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের রিট আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার এ রুল জারি করেন বিচারপতি মঈনুল আসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দায়রা জজ (৩ নম্বর আদালত) কারা মহাপরিদর্শক, জেল সুপার (সাতক্ষীরা) সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের মৃত আমজেল বিশ্বাসের ছেলে জাবেদ আলী বিশ্বাস। স্ত্রী ফরিদা খাতুন মারা যাওয়ার পর তার দুই মেয়ে লিলি (৮) ও রেক্সোনা (৫) জেলার তালা উপজেলার মানিকহার গ্রামে মামা আবুল কাসেমের বাড়িতে থাকতেন।
১৯৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাবেদ আলী শ্যালকের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিন লিলি মারা যায়।
এ ঘটনায় শ্যালক আবুল কাসেম বিষ খাইয়ে লিলিকে হত্যার অভিযোগ এনে জাবেদ আলীর বিরুদ্ধে তালা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরদিন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর ওই মামলায় জাবেদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম ২০০১ সালের ১ মার্চ জাবেদ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাবেদ আলী হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। ওই বছরের ১১ মে জাবেদ আলীকে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
২০০৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট জবেদ আলীকে নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দেন। খালাসের রায়ের কপি হাইকোর্ট পাঠানো সাতক্ষীরার আদালতে । বিচারক সেটি কারাগারে না পাঠিয়ে রেকর্ডরুমে সংরক্ষণের আদেশ দেন। এর ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তিনি বিনা বিচারে কারাভোগ করছেন।
-

৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনীর রায় বহাল
এ বি এন এ : পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তবে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনাগুলোতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করা হলো। তবে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনাগুলোতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিষয়গুলো জানা যাবে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও এম আমীর-উল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন।
রায়ের পর সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ে ১৫ দফা নির্দেশনা ও সাতটি সুপারিশ করা হয়েছিল।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, ডিটেনশন (আটকাদেশ) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তাঁর পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে। ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের ভেতরে কাচ দিয়ে নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তাঁর আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে প্রভৃতি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বছরের ২৩ জুলাই মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রুবেল মারা যান। ওই ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধন চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ওই রিট আবেদনের রায়ে হাইকোর্ট কয়েকটি সুপারিশসহ সিআরপিসির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশ দেন। আর যতদিন আইন সংশোধন না হচ্ছে, ততদিন পুলিশকে মেনে চলার জন্য কয়েকটি অন্তবর্তী নির্দেশনা দেন।
পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় সরকার। ২০০৩ সালের ২ আগস্ট আপিল বিভাগ সরকারের আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) মঞ্জুর করেন। তবে হাইকোর্টের ওই অন্তবর্তী নির্দেশনাগুলো আপিল বিভাগ স্থগিত করেননি। সরকারও নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এরপর সরকার আপিল করে। ১৭ মে আপিলের শুনানি শেষ হয়। আজ রায়ের দিন ধার্য ছিল।
-

গাজীপুরে সেন্টু হত্যা: চারজনের ফাঁসির আদেশ
এ বি এন এ : গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগরে মোকছেদ আলী সেন্টু (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহি ভূঁইয়া এ রায় দেন।ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রুবেল (২৫), আশরাফ আলী (২১), সোলেমান ( ২২) ও বাবু (২৪)। তারা পলাতক রয়েছেন।গত বছরের ২৭ জানুয়ারি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মোকছেদ আলী সেন্টুকে হত্যা করা হয়। -

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে খালেদার আপিল
এ বি এন এ : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে করা দুটি রিভিশন আবেদেনর খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় বুধবার আবেদনটি দাখিল করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সংক্রান্ত দুটি আবেদন নিম্ন আদালতের খারিজ হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা দুটি রিভিশন আবেদন করেন হাইকোর্ট।
গত ১৫ মে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ খালেদার রিভিশন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। এর ফলে নিম্ন আদালতে মামলাটির কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
গত ১৭ এপ্রিল ওই দুটি আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারিক আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আবেদনে মামলার কার্যক্রমও স্থগিত চাওয়া হয়।
পরে ২১ এপ্রিল আবেদন দুটি কার্যতালিকায় আসলে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে আবেদন করতে বলেন।
পরে সেই আবেদনের ওপর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে ১০ মে দুটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হলে ১৫ মে আদেশের জন্য দিন ঠিক করা হয়। সেদিন আবেদন দুটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
এই মামলার কার্যক্রম ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী বিশেষ আদালতের চলছে। বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ১৯ মে পরবর্তী তারিখ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।
খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
-

আসলাম চৌধুরী ৭ দিনের রিমান্ডে
এ বি এন এ : ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রব্বানী। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শারাফুজ্জামান আনসারী তার জামিন নামঞ্জুর করে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন। রিমান্ড আবেদনে গত ৫ মার্চ যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বলা হয়, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী সম্প্রতি ভারতে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সরকার উৎখাতে ইসরাইলের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের এই দাবির বিরোধিতা করে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তারা আসলামের জামিনেরও আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, আসলাম চৌধুরী চিকিৎসা করাতে পাঁচ দিনের জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এক দাওয়াত অনুষ্ঠানে যান। ইসরাইলের কয়েকজনের সঙ্গে সেখানেই তার দেখা হয়। সেই ছবিই গণমাধ্যমে এসেছে।
আসলামের সঙ্গে কোনো বৈঠক তাদের হয়নি। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শারাফুজ্জামান আনসারী আসলাম চৌধুরীর জামিন আবেদন নাকচ করে তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ৩শ’ ফিট সড়ক থেকে আসলাম চৌধুরী, তার সহকর্মী মো. আসাদ ও গাড়িচালক আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’ সম্প্রতি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর থেকে গুঞ্জন ছিল আসলাম চৌধুরী গ্রেফতার হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার বৈঠক এবং যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণ সরকারের কাছে রয়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেফতার করা হবে। সরকারের এমন অভিযোগ ও হুঁশিয়ারের মধ্যেই রোববার আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হল। উল্লেখ্য, গত ৯ মে নয়াদিল্লিতে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান ও লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইসরাইলের সংবাদ মাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’ এ প্রকাশিত হয়। সেই সূত্রের বরাদ দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও মেন্দির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠকসংক্রান্ত বেশকিছু ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সরকার ও তার দলের পক্ষ থেকে কয়েকদিন ধরে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিএনপির এই নেতা ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছেন।