Category: আইন ও আদালত

  • জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট: খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন খারিজ

    জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট: খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন খারিজ

    এ বি এন এ : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পুনরায় জেরা করার সুযোগ পাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে মামলার কেস ডায়েরি দেখার সুযোগ পাবেন না তিনি।
    রবিবার এ সংক্রান্ত খালেদা জিয়ার দুটি রিভিশন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও আমির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
    এর আগে ১০মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৩-এ খালেদা জিয়ার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পুনরায় জেরা এবং কেস ডায়েরি তলবের আবেদন জানান। কিন্তু বিচারিক আদালত তা খারিজ করে দেয়। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে দুটি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
    আবেদনের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম খান শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রবিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করে। আজ হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার আবেদন দুটি সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলা খারিজ করে দেয়।
    খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে।
    দুদকের খুরশিদ আলম খান জানান, আবেদন খারিজ হওয়া নিম্ন আদালতে বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে।
  • প্রাণ ভিক্ষা চাওয়া নিজামীর নিজস্ব ব্যাপার : খন্দকার মাহবুব

    প্রাণ ভিক্ষা চাওয়া নিজামীর নিজস্ব ব্যাপার : খন্দকার মাহবুব

    এ বি এন এ :  জামায়াত ইসলামের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব বলেছেন, রিভিউ পিটিশন খারিজের রায় নিয়ে আমার নিজস্ব কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তবে এই আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কতটা সঠিক হয়েছে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিচার করবে। নিজামী প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তার নিজস্ব ব্যাপার। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
    খন্দকার মাহবুব বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি করা হয়েছিল ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচারের জন্য। কিন্তু মূল হোতাদের বাদ দিয়ে তাদের সহযোগীদের বিচার করা হচ্ছে।
    তিনি বলেন, শেখানো সাক্ষীর সাক্ষ্যর ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদেরকে সাজা দেয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, জামায়াত রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণেই তখন পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তা করেছিল। তাই এই আইনে বিচার কতটা সঠিক হচ্ছে তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।
  • রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ : অ্যাটর্নি জেনারেল

    রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ : অ্যাটর্নি জেনারেল

    এ বি এন এ : জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ সর্বোচ্চ আদালতের রিভিউ আবেদনেও বহাল থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

    বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন।

    তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একাত্তরের বদরপ্রধান নিজামী এখন কেবল নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেই সরকার দণ্ড কার্যকর করবে।

    অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক করবে সরকার। আর  তা কার্যকর করবেন কারা কর্তৃপক্ষ।

    তিনি বলেন, আপিল বিভাগ এখন নিজামীর রায়ের সংক্ষপ্তি না পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করবেন তা আদালতের বিষয়।

    মানবতাবিরোধী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সময় আদালতের কাছে সংক্ষিপ্ত রায় চেয়েছিলাম কিন্তু আদালত তা দেয়নি। সে কারণে আজ আর সংক্ষপ্তি রায় চাইনি বলে জানান তিনি।

    প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

    সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী নিজামী এখন রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। তিনি হলেন পঞ্চম যুদ্ধাপরাধী, যার সর্বোচ্চ সাজার রায় কার্যকরের পর্যায়ে এসেছে।

    আপিল বিভাগের এই বেঞ্চ গত ৬ জানুয়ারি নিজামীর আপিলের রায় ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রাণদণ্ডের সাজাই তাতে বহাল থাকে।

  • নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

    নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

    এ বি এন এ : ফাঁসিকাষ্ঠে যেতেই হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে। চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে তিনি হেরে গেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ের আপিল বিভাগের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে নিজামীর করা রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই রায় ঘোষণা করেন।

    এর আগে মঙ্গলবার রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে দিয়েছিলো আপিল বিভাগ।

    ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাসহ মানবতাবিরোধী তিনটি অপরাধের দায়ে গত ৬ জানুয়ারি নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এর আগে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে চারটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী। আপিল বিভাগ তিনটি অপরাধে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

    যে তিন অভিযোগে মৃতুদণ্ড বহাল

    নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত দুই নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১০ মে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ি গ্রামের রূপসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকারদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় ছিলেন নিজামী। সভার পরিকল্পনা অনুসারে ১৪ মে দু’টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪৫০ জনকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে। এছাড়া প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ করে রাজাকাররা।

    ছয় নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২৭ নভেম্বর ধুলাউড়া গ্রামে ৩০ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততা রয়েছে নিজামীর।

    ১৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নৃশংসতা চলাকালে মতিউর রহমান নিজামী ইসলামী ছাত্র সংঘ ও স্বাধীনতা বিরোধী সহযোগী বাহিনী আল বদরের সভাপতি ছিলেন। কিন্তু যখন দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় আসন্ন হয়ে ওঠে তখন ছাত্রসংঘ ও আল বদরের সদস্য দেশের বুদ্ধিজীবী নিধনের ষড়যন্ত্র করে। ১৯৬৬ সাল থেকে নিজামী ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। এই ছাত্র সংঘই মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর বাহিনীতে রুপান্তরিত হয়। ফলে নিজামী আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় আল বদর সদস্যদের সহযোগিতা, অনুমোদন, নৈতিক সমর্থন ও তার কর্মের বিষয়ে নিজামী সম্পূর্ণরুপে সচেতন ছিলেন। আল বদর নেতা হওয়ার জন্য অধস্তনদের উপর নিজামীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিলো। আল বদর সদস্যদের অপরাধ থেকে নিবৃত্ত না করায় তাদের অপরাধের দায় কোনোভাবেই নিজামী অস্বীকার করতে পারেন না। এই তিনটি অভিযোগে নিজামীকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ।