Category: আইন ও আদালত

  • খালেদার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল ৬ অক্টোবর

    খালেদার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল ৬ অক্টোবর

    এ বি এন এ : মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ দিন ধার্য করেন। এ দিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা (শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাক) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ নতুন দিন ধার্য করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, আজকে বলা হয় এত লাখ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। তিনি আরও বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। অন্যদিকে মামলার অপর আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে? ওই বক্তব্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচার হওয়ায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকি। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন এবি সিদ্দিকি। পরে আদালত মামলাটি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

  • বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপ অবৈধ

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপ অবৈধ

    এ বি এন এ : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের আরোপ করা ১৫ শতাংশ আয়কর আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

    সরকার গত ২০০৭ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর আরোপ করে।

  • মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর

    মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর

    এ বি এন এ : মুক্তিযুদ্ধকালে আল বদর বাহিনীর কমান্ডার ও বর্তমানে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। আজ শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জেলার নাশির আহমেদ মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাঁসি কার্যকরে দায়িত্বে ছিলেন চার জল্লাদ। এরা হলেন- শাহজাহান, রিপন, দীন ইসলাম ও শাহীন। ফাঁসির আগে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে মঞ্চ ঘিরে শনিবার সন্ধ্যার পর দুই দফা মহড়া হয়।     ষষ্ঠ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে মীর কাসেমের শাস্তি কার্যকর করা হলো। এর আগে পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাদের মধ্যে চার জনই জামায়াতের শীর্ষ নেতা। এর আগে যে পাঁচ জনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের সবাইকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। কাশিমপুর কারাগারে কোনো যুদ্ধাপরাধীর এই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। কর্মকর্তাদের কারাগারে প্রবেশ রাত সাড়ে ৯টায় কারাগারে প্রবেশ করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএসম আলম ও সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান। পরে সিভিল সার্জন কারাগারের চিকিৎসককে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষী করতে মীর কাসেম আলীর সেলে যান। তার আগে মীর কাসেম আলীকে গোসল করিয়েছেন ইমাম বেলাল উদ্দিন। এর আগে দুপুর ২টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) কর্নেল ইকবাল কবীর, বিকেল ৪টায় প্রবেশ করেন ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) গোলাম হায়দার। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারে যান আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। স্বজনদের সাক্ষাৎ আজ বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে শেষ দেখা করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের ৪০ থেকে ৪৫ জন সদস্য কারাগারে প্রবেশ করে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা সোয়া ৪টায় দেখা করার সুযোগ পান। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় পরিবারের সদস্যরা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি (মীর কাসেম) মৃত্যুকে ভয় করেন না। মীর কাসেম শেষ মুহূর্তে আইনজীবী ছেলের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা সাক্ষাতের পর কারাগারের বাইরে এসে কাসেমপত্নী সাংবাদিকদের আরও বলেন, যারা ফাঁসি দিচ্ছে তারা জয়ী হবে না। এই মৃত্যু ইসলামের জন্য মৃত্যু। এই মৃত্যু শহীদের শামিল। এর আগে মীর কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডাকে কারা কর্তৃপক্ষ।  কারাগার এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর ঘিরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারাফটক ও এর আশপাশের এলাকায় ৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কারাগার এলাকাসহ গাজীপুরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরজুড়ে টহল দিতে শুরু করেছেন ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি ৪ প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান শাহবাগে অবস্থান করছে গণজাগরণ মঞ্চ। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তারা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয়। রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা এখানে অবস্থান করবে। মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতির আশা আকাঙ্খা বাস্তবায়িত হবে। দুই বছর আগে তার ফাঁসির রায় হয়েছে। এই রায় কার্যকরের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা এবং ইসলামী ছাত্রশিরিবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে তাদের যোগের অবসান ঘটবে। মীর কাসেমের যে অভিযোগে প্রাণদণ্ড অভিযোগ ১১ : ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতরের পরের যে কোনো একদিন মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। তাকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলে আরো পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।  * রিভিউ রায় লিখেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন বেঞ্চের বাকি চার বিচারক।  * আপিলের রায়ে ১১ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার দায়ে মীর কাসেমের ফাঁসির রায় বহাল থাকে। রিভিউ খারিজ হওয়ায় সেই দণ্ডই এখন তার প্রাপ্য।  * ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে কাসেমকে খালাস দেয় আপিল বিভাগ। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে মোট ৫৮ বছরের কারাদণ্ড বহাল থাকে। রিভিউ আবেদনে ১১ নম্বর ছাড়া আর কোনো অভিযোগের বিষয়ে যুক্তি দেয়নি আসামিপক্ষ।  * রায়ে বলা হয়, মীর কাসেমের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে দোষী সাব‌্যস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। রিভিউ আবেদন খারিজ করা হল।  ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম ১৯৮৫ সাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অর্থাৎ মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যুদ্ধাপরাধের বিচার।  মীর কাসেম আলী এ মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাসেমকে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের খান সেনাদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়া ‘বাঙালি খান’ হিসাবে, যিনি সে সময় জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা উঠে এসেছে ট্রাইব‌্যুনাল ও আপিল বিভাগের রায়ে।  একাত্তরে মীর কাসেমের নির্দেশেই চট্টগ্রাম টেলিগ্রাফ অফিস সংলগ্ন এলাকায় হিন্দু মালিকানাধীন মহামায়া ভবন দখল করে নাম দেওয়া হয় ডালিম হোটেল। সেখানে গড়ে তোলা হয় বদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঘাঁটি এবং বন্দিশিবির। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণে সেই ডালিম হোটেলকে বলা হয় ‘ডেথ ফ্যাক্টরি’।

  • রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ফাঁসি!

    রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ফাঁসি!

    এ বি এন এ : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি আজ রাতেই কার্যকর হচ্ছে। আনুমানিক রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এই আলবদর নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। কারা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা অধিদফতরের দায়িত্বশীল একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে সময় বলতে রাজি হননি।

    শুক্রবার দুপুরে মীর কাসেম আলী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে জানিয়ে দেয়ার পর থেকেই তার ফাঁসি কার্যকর হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রাজধানীসহ সারাদেশের সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে।

    আজ (শনিবার) সকালে কাশিমপুর কারা কর্মকর্তারা মীর কাসেম আলীর পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো দেখা করতে খবর পাঠালে ফাঁসি আজই হচ্ছে তা নিশ্চিত হয়ে যায়। শনিবার দুপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ফাঁসির মঞ্চে তৃতীয় দফা ও শেষবারের মতো মহড়া সম্পন্ন হয়।

    বিকেলে মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যরা ছয়টি গাড়িতে ৪৫-৪৭ জন তার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে এসে দেখা করেন।

    এদিকে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকায় ও গাজীপুরে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করলে তাও গত মঙ্গলবার খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

    প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

  • কাসেমের স্বজনরা শেষ দেখা করে এলেন

    কাসেমের স্বজনরা শেষ দেখা করে এলেন

    এ বি এন এ : মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করেছেন তার স্বজনরা।
    কারা কর্তৃপক্ষ ডেকে পাঠানোর পর শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ছয়টি মাইক্রোবাসে করে কাশিমপুর কারাগারের ফটকে উপস্থিত হন মীর কাসেমের স্ত্রী, মেয়ে, পুত্রবধূসহ মোট ৪৬ জন। তাদের মধ‌্যে মোট ২৩ জনকে কাসেমের সঙ্গে দেখা করার জন‌্য ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়ে বলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার নাশির আহমেদ জানান।
    সন্ধ‌্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে তারা যখন বেরিয়ে আসেন, গাজীপুরে তখন বৃষ্টি চলছে। কারা ফটক থেকে বের হওয়ার পরপরই গাড়িতে উঠে চলে যান তারা।
  • কারাগারে পৌঁছেছে ফাঁসি কার্যকরের আদেশ

    কারাগারে পৌঁছেছে ফাঁসি কার্যকরের আদেশ

    এ বি এন এ : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছেছে।
    শনিবার বেলা ২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশ পৌঁছায়।

    এদিকে মীর কাসেমের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছয়টি মাইক্রোবাসে করে তার পরিবারের ৪৫ সদস্য কারা ফটকে পৌঁছেন। এর পাঁচ মিনিট পর কারা কর্তৃপক্ষ সবাইকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

    স্বজনদের সঙ্গে মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুনও আছেন।

    সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ মীর কাসেম আলীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন। সাধারণত ফাঁসি কার্যকরের আগে কারা কর্তৃপক্ষ এমনটি করে থাকেন।

    কারা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, আজ রাতেই মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।

  • কারাগারে মীর কাসেমের পরিবার

    কারাগারে মীর কাসেমের পরিবার

    এ বি এন এ : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে।

    শনিবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে ৬টি মাইক্রোবাসে ৪০ জনের বেশি পরিবারের সদস্য কারাগারে প্রবেশ করে বলে জানা গেছে।

    কারা সূত্র আরো জানায়, এর মধ্যে ২৩ জন দেখা করার অনুমতি পেয়েছে। বাকিরা অপেক্ষা করবেন।

  • প্রাণভিক্ষা চাইবেন না মীর কাসেম : কারা কর্তৃপক্ষ

    প্রাণভিক্ষা চাইবেন না মীর কাসেম : কারা কর্তৃপক্ষ

    এ বি এন এ : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
    আজ শুক্রবার বিকেলে ডিআইজি প্রিজন (ঢাকা বিভাগ) গোলাম হায়দার বিষয়টি জানান।
    ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার বলেন, প্রাণভিক্ষা না চাওয়ার বিষয়টি আমরা সরকারকে এখন জানাবো। পরে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।
    কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক শুক্রবার বলেন, প্রাণভিক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন না মীর কাসেম। আমরা দুপুরে উনার কাছে গিয়েছি।
    মীর কাসেমের আত্মীয়-স্বজনের কাছে খবর দেওয়া হবে কি না এ প্রশ্নে জেল সুপার বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি।’
  • আপিল বিভাগের রায় শপথ ভঙ্গ করেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী

    আপিল বিভাগের রায় শপথ ভঙ্গ করেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী

    এ বি এন এ : বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আদালত অবমাননাকর মন্তব্য করায় সরকারের খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগ বলেছেন, বিচারপতি ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দুই মন্ত্রী বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে খাটো করেছেন। তাঁরা সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে কুৎসা রচনা করেছেন। আর এ কুৎসা রটনা ছিল উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আর এই উদ্দেশ্য প্রণোদিত মন্তব্য করে তারা আইনভঙ্গ করেছেন। সংবিধান সুরক্ষা ও সমুন্নত রাখার দায়িত্ব পালনে যে শপথ নিয়েছেন তা ভঙ্গ করেছেন এই দুই মন্ত্রী। সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের যে শপথ করেছিলেন সেটিও ভঙ্গ করেছেন।
    আপিল বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতের ভিত্তিতে এ রায় দেয়া হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. ইমান আলী। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহাব মিয়া, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
    আদালত অবমাননার দায়ে সরকারের দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ৭দিনের কারাদণ্ড দিয়েছিল আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই জরিমানার রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও মন্ত্রীরা শপথ ভঙ্গ করেছেন সংখ্যা গরিষ্ঠ বিচারপতির এই অভিমতের সঙ্গে একমত হতে পারেননি আপিল বিভাগের অপর তিন বিচারপতি। ঐ তিন বিচারপতি হলেন, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকি, বিচারপতি মো. নিজামুল হক। বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকি তার অভিমতে বলেছেন, মন্ত্রীদের সাজা দেয়া ও জরিমানার সঙ্গে আমি কোন দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে সংবিধান রক্ষায় তারা শপথ ভঙ্গ করেছেন, এর সঙ্গে একমত পোষণ করতে পারছি না। আপিল বিভাগের রুলস অনুযায়ী সংখ্যা গরিষ্ঠ বিচারপতির দেয়া রায়ই চূড়ান্ত রায় বলে গন্য হবে।
    এই রায়ের ফলে এই দুই মন্ত্রী তাদের পদে থাকতে পারবেন কিনা এনিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল’ এর পরিচালক ড. স্বাধীন মালিক সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করলে কি শাস্তি হবে, সেটা কোথাও বলা নেই। আমি মনে করি শপথ ভঙ্গের জন্য তাদের এখনই পদত্যাগ করা উচিত।
    গত ২৭ মার্চ গুরুতর আদালত অবমাননার দায়ে সরকারের এই দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের আদেশে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন। আপিল বিভাগের আদেশের পরই দুইমন্ত্রী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশনে অর্থ জমা দেন।
  • প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানাতে আরো সময় চান মীর কাসেম

    প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানাতে আরো সময় চান মীর কাসেম

    এ বি এন এ : রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে আরো সময় চেয়েছেন ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলসুপার প্রশান্ত কুমার বনিক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    প্রশান্ত কুমার বনিক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা দিকে মীর কাসেম আলীকে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণ ভিক্ষার আবেদনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি প্রাণভিক্ষা চাওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরো কিছু সময় চেয়েছেন। সেই সময় কতটা এটা নিশ্চিত করে তিনি কিছু জানাননি।
    তিনি জানান, এ সময়টা আর কতটুকু দেয়া হতে পারে সেটা সরকার ও কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।
    মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায়ের কপি গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এসে পৌঁছেছ দেয়া হয়। রাত অনেক বেশি হওয়ায় রাতে মীর কাসেম আলীকে তা পড়ে শুনানো হয়নি। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ে শুনানো হয়। ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে বন্দী রয়েছেন।
    মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আলবদর কমান্ডার ও জামায়াতের শুরা সদস্য মীর কাসেম আলীকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চলতি বছরের ৮ মার্চ আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে। এরপর রিভিউ আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়।