রাজনীতি

অক্টোবরেই বিএনপির প্রার্থীদের সবুজ সংকেত: তরুণদের প্রাধান্য ও ঐক্যের বার্তা স্থায়ী কমিটির

তরুণ ও জনপ্রিয় মুখকে অগ্রাধিকার, অক্টোবরেই অধিকাংশ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে

এবিএনএ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে গতি আনছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যেই অধিকাংশ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে ‘সবুজ সংকেত’।

সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে জানানো হয়, প্রতিটি আসনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এখন থেকে তরুণ ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, “প্রতি আসনে বহু প্রার্থী থাকলেও দল এমন প্রার্থী বেছে নিচ্ছে যারা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও জানান, তারেক রহমান নিজেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া তদারক করছেন এবং দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে।

এবারের নির্বাচনে প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটারের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি জেন-জি প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও সমর্থন নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও এসেছে বৈঠকে।

গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজনের প্রস্তাব সমর্থন করেছে বিএনপি স্থায়ী কমিটি। নেতারা মনে করেন, সংবিধানের ধারা অনুযায়ী এখন রেফারেন্ডামের জন্য আলাদা সংশোধন প্রয়োজন নেই। পরবর্তী সংসদ ‘হ্যাঁ-না’ ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে আলাদা গণভোট চাইলেও বিএনপি মনে করে, তা আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এতে সময়ক্ষেপণ ও নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার নির্দেশ
স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। এর প্রতিকারে তারা ফ্যাক্টচেক ও তথ্যভিত্তিক প্রচারণা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলীয় ঐক্যে জোর
বৈঠকে আগামী নির্বাচনে ঐক্য ধরে রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। নেতারা বলেন, একজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও অন্যরা যাতে ক্ষুব্ধ বা নিষ্ক্রিয় না হন, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, যেসব নেতাকে সাংগঠনিক কারণে বহিষ্কার করা হয়েছিল কিন্তু পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, তাদের দলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button