Author: Admin

  • জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    এবিএনএ: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা, দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে কুশপুতুল দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া পদত্যাগ করার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।

    বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার কর্তৃক শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় রেজিস্ট্রারের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন শিক্ষার্থীরা

    সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রের যুগ্ম সদস্য সচিব কিশোর আনজুম সাম্য বলেন, রেজিস্ট্রার একজন সাম্রাজ্যবাদী কলোনিয়ালিস্ট। আমরা কলোনিয়ালিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই না। মেরুদণ্ডহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই না। এরপর অপ্রত্যাশিত কিছু হলে, এর জন্য দায়ী থাকবে প্রশাসন।

    শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, আওয়ামী দোসর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এখনও সক্রিয়। আমরা মনে করেছিলাম, ৫ আগস্টের পরে তারা আর থাকবে না। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হয়েছেন। এই রেজিস্ট্রার হলেন সেই স্বৈরাচারী সরকারের দোসরের একজন। ভালোই ভালো নিজের ডিপার্টমেন্টে ফিরে যান। সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান। ফ্যাসিস্টদের কোন প্রশাসনিক জায়গায় থাকতে দেব না।

    রেজিস্ট্রারের কুশপুতুল দাহ

    রেজিস্ট্রারের কুশপুতুল দাহ

     

    শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে, কারণ সব জায়গায় অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন একাডেমিক ব্যক্তিকে কেন রেজিস্ট্রারের জায়গায় বসানো হয়েছে, সেই উত্তর দিতে হবে। ক্ষমতা যদি আপনার হাতিয়ার হয়, তাহলে ছাত্ররা ইতিহাসের আশ্রয় নেবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দিতে হবে। অব্যাহতি দেওয়া না হলে পরবর্তীতে সময় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকেল চুরির ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিব। এ সময় শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবির কথা বললে সমাধান না করে উল্টো অভিযোগকারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে রুম থেকে বের করে দেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন।

    জবি ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিব বলেন, এভাবে বলা হয়েছে যে, আমাদের কোনো প্রকার আবাসনের দায়িত্ব আমাদের থাকা-খাওয়ার দ্বায়িত্ব নাকি প্রশাসনের না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটের ভুক্তভোগী। আজ যদি আমাদের এই আবাসন সংকট না থাকতো, তাহলে এই কথাগুলো আসতো না। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য যদি এমন হয় যে, আমার অধীনস্থ শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব আমার নয়। এটা কখনোই হতে পারে না।

  • টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি দুদক, আইনজীবী

    টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি দুদক, আইনজীবী

    এবিএনএ: ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ দিতে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের সাবেক এই মন্ত্রীর ‘ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার’ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সরব হয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্যান্ডার্ডের খবরে বলা হয়েছে, টিউলিপের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, গত ১৮ মার্চ একটি চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পরও দুদক টিউলিপের বিষয়ে ‘একটি অকাট্য প্রমাণও সরবরাহ করতে পারেনি’। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ল ফার্ম স্টেফেনসন হারউড এলএলপি একটি নতুন চিঠিতে এ অভিযোগ করেছে।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর পর থেকে শেখ হাসিনাসহ শেখ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের খবর সামনে আসছে। দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের এক মামলায় গত ১৩ এপ্রিল টিউলিপসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। আরেকটি অভিযোগ অনুযায়ী, টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার বাংলাদেশের একটি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন।

    নতুন একটি চিঠিতে টিউলিপের আইনজীবীরা বলেছেন, তাদের মক্কেলকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তাদের দাবি, এক মাস আগে দুদককে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো জবাব মেলেনি। দুদক সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে এবং ‘ভীতি প্রদর্শনের কৌশল’ নিয়ে টিউলিপের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে।

    তারা দাবি করেন, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কোনো মামলাই টেকে না। তাঁর বাংলাদেশে আসার তো প্রশ্নই ওঠে না। তারা দুদকের বিরুদ্ধে ‘সাজানো অভিযান’ চালানোর অভিযোগও তুলেছেন। তারা বলেছেন, দুদক ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ’ এনে, সংবাদমাধ্যমে খবর ফাঁস করে এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির হুমকি দিয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এই আচরণ আন্তর্জাতিক রীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    গত সপ্তাহে একটি ব্রিফিংয়ে দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে চিঠি চালাচালি করবে না। বিষয়টি আদালতই দেখবেন। চিঠি চালাচালি আদালতের প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। পরোয়ানা জারির পরও যদি তিনি হাজির না হন, তাহলে তাঁকে পলাতক আসামি হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস কাতার প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস কাতার প্রধানমন্ত্রীর

    এবিএনএ: বাংলাদেশ পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি।

    বৃহস্পতিবার দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে মনোনীত করবেন।

    চলমান সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোতে আরো শক্তিশালীভাবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন কাতার প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে বলেন, আমরা আপনার অব্যাহত নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখি।

    প্রধান উপদেষ্টা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কূটনৈতিক, আর্থিক ও বিনিয়োগ খাতে কাতারের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ, বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করা।

    অধ্যাপক ইউনূস কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমাদের তরুণদের স্বপ্নের দেশ গড়তে আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।’

    শেখ মোহাম্মদ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য কাতারে একটি কারিগরি দল পাঠানোর আহ্বান জানান।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা জনগণ যাতে মর্যাদার সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সকল সহায়তার আহ্বান জানান।

    আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ আয়োজনে সহায়তা করার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক ইউনূস।

    দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ মোহাম্মদ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরালো করার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি এবং সমস্যার টেকসই সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

    দুই নেতা গাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। অধ্যাপক ইউনূস দুঃখ প্রকাশ করেন যে, গাজার দুর্দশার বিষয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ অংশ এখনো নীরব।

    কাতারের প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গাজা সংকট কভার করার জন্য কাতার ভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।

    অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদানে কাতারের সহায়তা কামনা করেন।

    তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। শেখ মোহাম্মদ এই অনুরোধ সানন্দে গ্রহণ করেন।

    বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে আওয়ামী লীগকে  : মামুনুল হক

    সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে আওয়ামী লীগকে : মামুনুল হক

    এবিএনএ: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ছিলেন একজন বিকারগ্রস্ত মানুষ। রক্তের হোলি খেলায় সে সুখ খুঁজে পেত। খুব দ্রুত আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ না গড়ে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি তাদের মেয়াদ শেষ করে, জাতি তাদের কখনো ক্ষমা করবে না। ভারতীয় সংবিধান দিল্লিতে ফিরিয়ে দিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও শাপলা চত্বরে গণহত্যার বিচার এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা শাখার আয়োজনে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    মামুনুল হক বলেন, বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশের উপর আধিপত্য রাষ্ট্র ভারতের সহায়তায় হাসিনা সরকার দেশের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। বর্তমানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না জানিয়ে আওয়ামী লীগকে অনেকে পুনর্বাসন করতে চায়। তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কোনো প্রকার পুনর্বাসন এদেশের মানুষ বরদাস্ত করবে না।

    তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ আগস্ট বিপ্লবের তৌহিদি চেতনায় গড়তে হবে। দেশে সংস্কারের হাওয়া বইচে। তবে সংবিধান সংস্কারের নামে শিরকী মতবাদ বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র চললে আমরা তা রুখে দেব। সম্প্রতি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ইসলামের উত্তরাধিকারী আইন এবং ইসলামকে আঘাত করেছে, তাই শিগগিরই এই কমিশন বাতিল করতে হবে। না হয় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

    ভারতীয় শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে আমেরিকা নির্ভর হওয়া যাবে না। এ ছাড়া ইসলামী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে ভিনদেশি আধিপত্যবাদ থাকতো না বলেও জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।

  • উত্তেজনা চরমে, ভারতের সঙ্গে সিমলা চুক্তি স্থগিত করল পাকিস্তান

    উত্তেজনা চরমে, ভারতের সঙ্গে সিমলা চুক্তি স্থগিত করল পাকিস্তান

    এবিএনএ: কাশ্মীরের পেহেলগামকাণ্ডের জেরে ভারতের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সঙ্গে ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তি স্থগিত করেছে পাকিস্তান।
    বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

    দুই দেশের পরস্পরের সার্বভৌম ভূখণ্ডের প্রতি সম্মান করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে সিমলা চুক্তিতে। তাছাড়া বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুদ্ধ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি রয়েছে তাতে।

    পৃথিবীর ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর অঞ্চলটি ভারত ও পাকিস্তান যার যার দখল অনুযায়ী সিমলা চুক্তির আলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেছে তারা।

    এখন পাকিস্তান সিমলা চুক্তি স্থগিত করায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও জোরালো হলো। এতে করে বেড়েছে সামরিক উত্তেজনাও।

    ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের কাছে পারমাণবিক বোমা রয়েছে। যদিও তারা কখনও এর প্রয়োগ করেনি। চির বৈরি দেশ দুটি কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় মাঝেমাধ্যে সংঘাতে জড়ালেও সাম্প্রতিক ইতিহাসে কারগিল যুদ্ধ ছাড়া তাদের মধ্যে বড় কোনও যুদ্ধ হয়নি।

    সিমলা চুক্তির প্রধান প্রধান বিষয়

    ১. অপরের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি: দুই দেশ তাদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

    ২. শান্তিপূর্ণ ন্যায়বিচার: চুক্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে; সশস্ত্র সংঘাতের মাধ্যমে নয়।

    ৩. নিয়ন্ত্রণের রেখা: এটি জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা চিহ্নিত করার জন্য একটি কাঠামো সৃষ্টি করে এবং সেই রেখা বরাবর একটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

    ৪. সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ: চুক্তিতে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

    সিমলা চুক্তি ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে মনে করা হয়, যদিও বিভিন্ন সংঘাত ও কূটনৈতিক চাপে এর কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল, যা বৃহস্পতিবার প্রমাণ হলো।

    পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে; পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের দায় দেখছে ভারত। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ তাদের সমর্থনকারীদের বিনাশ করার হুংকার দিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার।

    উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পানি আটকে দেওয়ার যেকোনও প্রচেষ্টাকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মন্তব্য করেছে তার মন্ত্রিসভা।

    পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস,

  • তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাশিয়ার হুঁশিয়ারি দিল

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাশিয়ার হুঁশিয়ারি দিল

    এবিএনএ: রুশ ভূখণ্ডে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু।

    রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

    সের্গেই শোইগু এ সময় দাবি করে বলেন, তথাকথিত ‘ইউরোপীয় জোট’ ইউক্রেনে শান্তিরক্ষীর ছদ্মবেশে সামরিক উপস্থিতির পরিকল্পনা করছে।

    রুশ কর্মকর্তা বলেন, ইউরোপের যুক্তিবান রাজনীতিকরাও বোঝেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ন্যাটো ও রাশিয়ার সরাসরি সংঘর্ষ হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

    শোইগুর মতে, ‘শান্তিরক্ষী’ কথাটির আড়ালে ইউক্রেন ও দেশটির খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য লুকানো আছে।

    তিনি বলেন, এই সৈন্যদের (শান্তিরক্ষী) ‘দখলদার’ বলাটা আরও উপযুক্ত হবে।

    সের্গেই শোইগুর ভাষায়, এই সৈন্যরা মূলত সেই সব ন্যাটো দেশ থেকে আসবে, যাদের ইউক্রেনে উপস্থিতির বিরোধিতা রাশিয়া অনেক আগেই করেছিল।

    একই সঙ্গে শোইগু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সম্ভাব্য এই ‘শান্তিরক্ষীরা’ ইউক্রেনের ‘নাৎসি’ সরকারকে সমর্থন করতে পারে। এমনকি রুশ অর্থডক্স খ্রিস্টানদের দমন এবং রুশ ভাষাভাষীদের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যচর্চার অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রয়াসেও যুক্ত হতে পারে।

    ‘এটি কোনও শান্তিরক্ষা মিশন নয়’ উল্লেখ করে রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব বলেন, এ কারণেই প্রকৃত বৈশ্বিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এ ধরনের তথাকথিত শান্তিরক্ষা উদ্যোগে যোগ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

  • এনআইডি সংশোধনে দেশজুড়ে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

    এনআইডি সংশোধনে দেশজুড়ে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

    এবিএনএ: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সারা দেশের জেলা পর্যায়ে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হালিম খান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে জানানো হয়- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের গতি বাড়াতে সারা দেশে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উদ্যোগের আওতায় ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৬৪ জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। আগে শুধু আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারাই ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখতেন।

    তবে এখন থেকে প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারাও এই কাজ করতে পারবেন, যাতে সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হয়। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এনআইডি সংশোধনের আবেদন সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব অঞ্চলের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদেরও সংশোধন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়- এ ছাড়া বৃহত্তর ১৯টি সিনিয়র জেলার ‘খ’ ক্যাটাগরির অনিষ্পন্ন আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও সংশ্লিষ্ট ‘খ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের সব অনিষ্পন্ন আবেদন আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।

    অফিস আদেশে আরও জানানো হয়- আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো নিষ্পত্তিসহ বিশেষ কার্যক্রম (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) সফল করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করবেন বলেও অফিস আদেশে জানানো হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশেষ কার্যক্রমের (ক্রাশ প্রোগ্রাম) সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবশ্যই পুরাতন আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন। সেসঙ্গে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পরিচালক (পরিচালনা) বিশেষ কার্যক্রম (ক্রাশ প্রোগ্রাম) সামগ্রিক বিষয় মনিটরিং এবং প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর এ কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন এনআইডি মহাপরিচালককে অবগত করবেন।

    ইসি সূত্রে জানা গেছে- দীর্ঘদিন ধরে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির অভিযোগ থাকায় নাগরিকদের হয়রানি এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা অফিসাররা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করে দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। প্রক্রিয়াটি সহজ করতে অনলাইন আবেদন যাচাই, সরল নথি যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশোধন আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে জেলা অফিসারদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • ৩১ দফা বাস্তবায়নই হবে বিএনপির ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধ: তারেক রহমান

    ৩১ দফা বাস্তবায়নই হবে বিএনপির ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধ: তারেক রহমান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৩১ দফা বাস্তবায়নই হবে বিএনপির ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিশোধ। আমরা দেশ ও জনগণকে নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন এটি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। আমার ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, আমার মায়ের ওপর অত্যাচার হয়েছে, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এসবের প্রতিশোধ নিতে চাই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে। বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী ও সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলায় ৩১ দফা নিয়ে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপির উপর জনগণ আস্থা রাখে। তারা মনে করে দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করা সম্ভব হলে তা বিএনপিই পারবে। তাই আমি বলছি, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। কর্মশালায় ৩১ দফার আলোচনা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মৎসজীবীদলসহ যারা শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তারা জনগণের কাছে সেই বার্তা নিয়ে যাবে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে।

    তিনি বলেন, আপনারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। রাজপথে মিছিল, মিটিং, সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু এবার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে দেশ গঠনের জন্য। আজ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি কর্মী এই ৩১ দফার বার্তা চারদিকে ছড়িয়ে দেবে। সবার কথা ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা টিভির টকশোতে, সরকারি ব্যক্তিদের কাছে, রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে সংস্কার নিয়ে সেসব কথাই শুনি। কিন্তু আজকের আলোচনায় প্রান্তিক মানুষের চাওয়াগুলো উঠে এসেছে। এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার পর তারা কীভাবে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন,  কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায় সেই কাজগুলোই করেছেন। তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন, নারীদের আসন সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। আইনী ব্যবস্থাকে স্বাধীন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মানুষের জীবন সম্পর্কিত সবগুলো কাজকে বিএনপি প্রাধান্য দিয়েছে। আমাদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

    তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচার সরকার ক্ষমতাকে ধরে রাখতে নানা ট্যাগ দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করে রাখার চেষ্টা করেছিল। জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে চেষ্টা করতে হবে কম মতপার্থক্য ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। কারণ জাতি বিভাজিত হলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। আমরা ধর্ম বিবেচনায় নয়, বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করবো এবং সকল ধর্মের মানুষের সম্প্রীতির দেশ গড়ে তুলবো।

    কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৩ কোটি নারী-পুরুষ বেকার রয়েছে। এত মানুষকে বেকার রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভাব হবে না। তাই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। সেটি সরকারি বা বেসরকারিভাবে হতে পারে। বিশেষ কোনো প্রকল্পে কর্মসংস্থান তৈরি ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে হতে পারে।

    তারেক রহমান বলেন, সমাজের অনেক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান। কিন্তু তারা নিয়মিত রাজনীতিতে নেই। এমন শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সমাজের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দেবে বিএনপি।

    তিস্তা বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, উত্তরের তিন কোটি মানুষ তিস্তার সঙ্গে জড়িত। বিগত সময়ে এটিকে নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। যার ফলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পরিবর্তন হয়নি। এবার আমরা তিস্তাপারের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে রাজনীতি করতে চাই না। দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে যেভাবে উন্নয়ন ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলে মানুষের উপকার হবে, সেটাই করা হবে। পরে তিনি বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

    রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। এতে প্রশিক্ষণ দেন বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকন ও নাটোর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্যসচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগর সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন।

  • ১৫ বিচারকের তথ্য চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

    ১৫ বিচারকের তথ্য চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

    এবিএনএ: বিচার বিভাগের ১৫ বিচারকের সম্পদের বিবরণ ও ব্যক্তিগত নথির তথ্য চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি মঙ্গলবার সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়। দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    চিঠিতে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরী ও সাবেক অতিরিক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এসিএমএম) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ গ্রহণ, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আরও ১৫ জন বিচারকের সম্পদ বিবরণী ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ওই ১৫ জনের সর্বশেষ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী, ব্যক্তিগত নথির ফটোকপি ও ব্যক্তিগত ডাটাশিটের সত্যায়িত ফটোকপি ২৯ এপ্রিলের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ মাল মামুনের সমন্বয়ে গঠিত টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে।

    দুদকের চিঠিতে যে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহাসহ ওই তিনজনের নামও রয়েছে। চিঠিতে ১৫ জনের নাম পদবী উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুর, সাবেক অতিরিক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এসিএমএম) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্ঘাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ গোলাম মাহবুব, কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্ঘাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাহবুবুর রহমান সরকার, সিলেটের সাবেক জেলা জজ মনির কামাল, সাবেক ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন, মাগুরার সাবেক অতিরিক্ত জেলা জজ মুশফিকুর ইসলাম, গাজীপুরের সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাইসারুল ইসলাম, নরসিংদীর সবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা সাইফুল আলম, ময়মনসিংহের সাবেক বিশেষ জজ ফারহানা ফেরদৌস, শেরপুরের নারী ও শিশু নির্ঘাতন ট্রাইব্যুনালের সাবেক জজ কামরুন নাহার রুমি, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত জেলা জজ শওকত হোসেন, সিরাজগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ ও হাবিগঞ্জ জেলা জজ সাইফুল আলম চৌধুরী।

  • পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাহার

    পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাহার

    এবিএনএ: আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে ছয় দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীদের জোট কারিগরি ছাত্র আন্দোলন। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় কারিগরি ছাত্র আন্দোলন। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই সিদ্ধান্ত বদলে বিশেষ বার্তায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা ও কর্মসূচি কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার জানানো হবে।

    এ ব্যাপারে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সেল সম্পাদক (অস্থায়ী) সাব্বির আহমেদ সমকালকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটির ওপর শিক্ষার্থীরা ভরসা রাখতে পারছেন না। কারণ, আগেও কমিটি হয়েছিল। কিন্তু দাবি-দাওয়া পূরণ হয়নি। এ জন্য সবার সম্মতিতে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি সম্মেলন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।

    জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে পদোন্নতিতে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ কোটার রায় বাতিলসহ ছয় দাবি আদায়ে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন চার লাখের বেশি পলিটেকনিক শিক্ষার্থী। প্রথম দিকে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করলেও গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। একই দিন সারাদেশেও অবরোধ হলে আলোচনায় আসে আন্দোলন।

    কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু দাবি তারা পূরণ করেছেন। কিছু দাবি পূরণ সময়সাপেক্ষ। আবার কয়েকটি পূরণের এখতিয়ার তাদের নেই।

    জানা যায়, ইতোমধ্যে প্রধান দাবি ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের মামলায় হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগ স্থগিত করেছেন। উচ্চ আদালতের রায়ে কোথাও ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ পদোন্নতির কথা বলা হয়নি। ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ নিয়েছে। এটি অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

    ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যে কোনো বয়সে ভর্তির সুযোগ বাতিলে সরকারও একমত এবং কাজ শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ইংরেজি মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা চালুর ব্যাপারে সরকারের দ্বিমত নেই। তবে এটি সময়সাপেক্ষ।

    বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিম্নস্থ পদে নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেনেশুনে কেউ যোগ্যতার নিচের পদে চাকরির জন্য আবেদন করলে সরকার বাধা দিতে পারে না। আবার প্রশাসনিক পদে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল নিয়োগ রাতারাতি সম্ভব নয়। এ ছাড়া ২০১৬ সালে পৃথক ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ’ গঠন হয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা দেখছেন না নীতিনির্ধারকরা।

    আন্দোলনে উস্কানি

    সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পরও দফায় দফায় কর্মসূচি এবং স্থগিতের ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ফের আন্দোলনে ফেরার পেছনে উস্কানি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

    কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আদালতের রায়ে ছিল না– এমন মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে আন্দোলন শুরু হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি মহল প্রচার করে– আদালত ৩০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে উন্নীতের নির্দেশ দিয়েছেন। পরে প্রকাশিত রায়ে দেখা গেল, আদালত কোটা নির্ধারণ নয়, বরং দশম ও ত্রয়োদশ গ্রেডের মাঝামাঝি একটি গ্রেডে উপযুক্ত পদোন্নতির নির্দেশনা দিয়েছেন। সুযোগ নিয়ে ঢাকা পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষকদের মধ্যে ‘টেক-ননটেক’ দ্বন্দ্বও উস্কে দেওয়া হয়েছে।