এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। একে অপরের চৌকি দখলের দাবি করছে দুই দেশই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই সংঘাতটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে?
রবিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ৫৮ সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে আফগানিস্তানের ৯ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।
রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পাকিস্তান আফগান সীমান্তের বেশ কিছু প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। পিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১৯টি সীমান্ত চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অপরদিকে আফগান গণমাধ্যম আমু নিউজ জানায়, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে।
সংঘাতের সূচনা
এই সংঘাতের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার, যখন আফগান রাজধানী কাবুলে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকার দাবি করে, হামলাটি পাকিস্তান পরিচালিত। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর জেরে শনিবার রাত থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়, যা দ্রুত সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকাকালে ইমরান খান তালেবানের মধ্যস্থতায় টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করেছিলেন। সেই বিরতি ভেঙে গেলে সীমান্তে সংঘর্ষ ক্রমে তীব্র হতে থাকে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন পথে?
পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ দুররানির মতে, দুই দেশের এই সংঘর্ষ বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নেবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।”
দুররানি আরও জানান, মূল সমস্যা টিটিপিকে ঘিরে। আফগান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপির উপস্থিতি অস্বীকার করছে, কিন্তু পাকিস্তান বলছে এই গোষ্ঠীই সীমান্তে হামলার পেছনে দায়ী। ফলে টিটিপি ইস্যু সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা থেকে যাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

Leave a Reply