Tag: দক্ষিণ এশিয়া

  • বিশ্বে গণমাধ্যম স্বাধীনতা তলানিতে, সূচকে আরও পিছালো বাংলাদেশ—উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন রিপোর্ট

    বিশ্বে গণমাধ্যম স্বাধীনতা তলানিতে, সূচকে আরও পিছালো বাংলাদেশ—উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন রিপোর্ট

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বর্তমানে গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সূচকে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক তথ্য।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ এখন এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘কঠিন’ কিংবা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ সংকটে রয়েছে। এর ফলে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—বিশ্বের প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে মাত্র একজন স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    এদিকে, সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও নিচের দিকে নেমে গেছে। ১৮০টি দেশের তালিকায় এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা গত বছর ছিল ১৪৯তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের ঠিক পরেই অবস্থান করছে, আর ভারতের অবস্থান ১৫৭তম।

    অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১৩৪তম স্থানে উঠে এসেছে এবং নেপাল তিন ধাপ উন্নতি করে ৮৭তম অবস্থানে পৌঁছেছে।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রেও গত এক দশকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে দেশটির অবস্থান ৬৪তম।

    বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত, তথ্যপ্রাপ্তিতে নানা প্রতিবন্ধকতা এবং আইনি জটিলতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনের অপপ্রয়োগ, হয়রানিমূলক মামলা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টি এবং আইনের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আরএসএফ।

  • দিল্লির দৃষ্টিতে তারেক রহমান: নতুন অধ্যায়ের শুরু, নাকি কৌশলগত অনিশ্চয়তা?

    দিল্লির দৃষ্টিতে তারেক রহমান: নতুন অধ্যায়ের শুরু, নাকি কৌশলগত অনিশ্চয়তা?

    এবিএনএ: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় এবং দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান সামনে আসা—এই পরিবর্তনকে দিল্লি কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে বিশ্লেষক চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসন বিষয়টি নানা দিক থেকে পর্যালোচনা করেছেন।

    বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ফেরার পর প্রথম জনসমাবেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত উক্তির ছায়ায় নিজের রাজনৈতিক রূপরেখার ইঙ্গিত দেন। এতে দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে—তারেক রহমানের ‘পরিকল্পনা’ আসলে কী এবং তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে।

    বিএনপির জয়ের পর দ্রুতই দিল্লির প্রতিক্রিয়া আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান—যা কূটনৈতিক ভাষায় একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে ঘিরে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যে কৌশলগত টানাপোড়েন রয়েছে, এই শুভেচ্ছা বার্তা সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    দিল্লির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে। ভারত আশঙ্কা করছে, নতুন নেতৃত্ব যদি দিল্লির তুলনায় বেইজিং ও ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। সেই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনমনে গড়ে ওঠা ভারতবিরোধী মনোভাবও দিল্লির ভাবনার তালিকায় আছে।

    বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ থাকছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সুফল মেলে। তাই দিল্লি এখন নতুন সরকারের কূটনৈতিক দিকনির্দেশনার দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে।

    আগের শাসনামলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের নেতৃত্ব পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি গড়তে আগ্রহী বলে বিশ্লেষকদের মত। তারেক রহমান ভারতের স্বার্থকে সম্মান করার ইঙ্গিত দেওয়ায় দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এক ধরনের অপেক্ষামান মনোভাব তৈরি হয়েছে—দেখা যাক, কথার প্রতিফলন নীতিতে কতটা আসে।

    সব মিলিয়ে দিল্লির কাছে এটি এখন ‘অপেক্ষার খেলা’। সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—সহযোগিতার নতুন অধ্যায় নাকি কৌশলগত সতর্কতা—তা নির্ভর করবে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

  • সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। একে অপরের চৌকি দখলের দাবি করছে দুই দেশই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই সংঘাতটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে?

    রবিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ৫৮ সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে আফগানিস্তানের ৯ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন।
    অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পাকিস্তান আফগান সীমান্তের বেশ কিছু প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। পিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১৯টি সীমান্ত চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অপরদিকে আফগান গণমাধ্যম আমু নিউজ জানায়, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে।

    সংঘাতের সূচনা

    এই সংঘাতের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার, যখন আফগান রাজধানী কাবুলে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকার দাবি করে, হামলাটি পাকিস্তান পরিচালিত। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর জেরে শনিবার রাত থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়, যা দ্রুত সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকাকালে ইমরান খান তালেবানের মধ্যস্থতায় টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করেছিলেন। সেই বিরতি ভেঙে গেলে সীমান্তে সংঘর্ষ ক্রমে তীব্র হতে থাকে।

    ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন পথে?

    পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ দুররানির মতে, দুই দেশের এই সংঘর্ষ বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নেবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।”

    দুররানি আরও জানান, মূল সমস্যা টিটিপিকে ঘিরে। আফগান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপির উপস্থিতি অস্বীকার করছে, কিন্তু পাকিস্তান বলছে এই গোষ্ঠীই সীমান্তে হামলার পেছনে দায়ী। ফলে টিটিপি ইস্যু সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা থেকে যাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।