Tag: আফগানিস্তান

  • পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে: ২৭৪ তালেবান নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের

    পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে: ২৭৪ তালেবান নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের

    এবিএনএ: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে বড় ধরনের দাবি করেছে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর। শুক্রবার ইসলামাবাদে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ২৭৪ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৩টি চৌকি ধ্বংস ও ১৭টি চৌকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করা হয়।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে আফগান বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামান অচল করা হয়েছে। অপরদিকে আফগানিস্তান থেকে চালানো হামলায় পাকিস্তানের ১২ সেনা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সীমান্তে অভিযান অব্যাহত আছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

    সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর সীমান্ত অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, অনেক স্থানে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

    এদিকে কাবুলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংঘাত বাড়াতে চায় না। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তান আগ্রাসন চালালে আফগানিস্তান পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের মাধ্যমে তারা ‘বার্তা’ দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

    দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে এই উত্তেজনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

  • বরফ আর বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, তিন দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৬১ জনের

    বরফ আর বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, তিন দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৬১ জনের

    এবিএনএ: চরম আবহাওয়ার কবলে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। টানা তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন দিনে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএনডিএমএ) জানায়, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১১০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে অন্তত ৪৫৮টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সম্পূর্ণ না হওয়ায় হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকায় সঠিক তথ্য পেতে সময় লাগছে।

    এএনডিএমএর প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে আফগানিস্তানের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।

    দুর্বল অবকাঠামো ও প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তানে প্রায়ই বন্যা, ভূমিধস, তুষারঝড় ও প্রবল বর্ষণে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এসব চরম আবহাওয়া দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    এবিএনএ: এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে বিদেশি সরকার পরিবর্তনের কৌশল, যা ‘রেজিম চেঞ্জ’ নামে পরিচিত। গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নীতির ফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়েছে বিপর্যয়কর।

    জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ডাউন্স তাঁর গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ১৮১৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ১২০ বার বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল।

    সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এই তালিকায় দেশটির ৩৬তম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে একের পর এক দেশে হস্তক্ষেপ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও সহিংসতায় ডুবে গেছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফরেন ইমপোজড রেজিম চেঞ্জ’। গবেষণা অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্তত ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় ধারাবাহিকভাবে তিনটি সরকার উৎখাতের ঘটনাও এর বড় উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত ব্যর্থতা ইরাক ও আফগানিস্তান। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে দেশটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ায় সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠীর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফল হিসেবে উত্থান ঘটে আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর।

    অন্যদিকে, দুই দশকের যুদ্ধ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর শেষ পর্যন্ত তালেবানের হাতেই আফগানিস্তানের ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে লাখো মানুষ শরণার্থী হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন করে বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    অধ্যাপক ডাউন্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেজিম চেঞ্জ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো—সরকার পতনের পর সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেঙে পড়া এবং বিদেশি শক্তির সমর্থিত নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা না থাকা।

    ইতিহাস বলছে, বিভক্ত সমাজ ও দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকা দেশগুলোতে রেজিম চেঞ্জ কখনোই স্থিতিশীলতা বয়ে আনে না। ইরাক, লিবিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রমাণ।

  • আইসিসির মন্তব্যে পাকিস্তানের ক্ষোভ: ‘খেলাধুলায় রাজনীতি ঢুকেছে’ অভিযোগ ইসলামাবাদের

    আইসিসির মন্তব্যে পাকিস্তানের ক্ষোভ: ‘খেলাধুলায় রাজনীতি ঢুকেছে’ অভিযোগ ইসলামাবাদের

    এবিএনএ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক মন্তব্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন, আইসিসি এমন এক বিবৃতি দিয়েছে যা কেবল পক্ষপাতদুষ্ট নয়, বরং ক্রিকেটকে রাজনৈতিক রঙে রাঙানোর চেষ্টা করছে।

    সম্প্রতি আইসিসি দাবি করে, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনজন স্থানীয় ক্রিকেটার প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিবৃতির পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে পাকিস্তান এই ভ্রান্ত ও প্রমাণহীন বিবৃতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।”

    তিনি আরও বলেন, আইসিসি কোনো স্বাধীন অনুসন্ধান ছাড়াই এমন সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করে নিজের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তারারের মতে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) মন্তব্য একই সূত্রে গাঁথা—এটি একটি পরিকল্পিত পাকিস্তানবিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন।

    তথ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “খেলাধুলা কখনোই রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হতে পারে না। আইসিসির নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, তাদের পদমর্যাদা কোনো দেশের প্রভাবের চেয়ে বড়।” তিনি সংস্থাটিকে নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ক্রিকেট যেন ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকে, বিভেদের নয়।”

    বর্তমানে আইসিসি ও পাকিস্তানের এই বিবাদ বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। একে অপরের চৌকি দখলের দাবি করছে দুই দেশই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই সংঘাতটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে?

    রবিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ৫৮ সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে আফগানিস্তানের ৯ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন।
    অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পাকিস্তান আফগান সীমান্তের বেশ কিছু প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। পিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১৯টি সীমান্ত চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অপরদিকে আফগান গণমাধ্যম আমু নিউজ জানায়, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে।

    সংঘাতের সূচনা

    এই সংঘাতের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার, যখন আফগান রাজধানী কাবুলে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকার দাবি করে, হামলাটি পাকিস্তান পরিচালিত। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর জেরে শনিবার রাত থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়, যা দ্রুত সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকাকালে ইমরান খান তালেবানের মধ্যস্থতায় টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করেছিলেন। সেই বিরতি ভেঙে গেলে সীমান্তে সংঘর্ষ ক্রমে তীব্র হতে থাকে।

    ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন পথে?

    পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ দুররানির মতে, দুই দেশের এই সংঘর্ষ বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নেবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।”

    দুররানি আরও জানান, মূল সমস্যা টিটিপিকে ঘিরে। আফগান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপির উপস্থিতি অস্বীকার করছে, কিন্তু পাকিস্তান বলছে এই গোষ্ঠীই সীমান্তে হামলার পেছনে দায়ী। ফলে টিটিপি ইস্যু সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা থেকে যাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

  • রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়: দুইশ’র পরেই থেমে গেল বাংলাদেশের ইনিংস

    রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়: দুইশ’র পরেই থেমে গেল বাংলাদেশের ইনিংস

    এবিএনএ: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০১ রানের একমাত্র জুটি ছাড়া বাকিরা ছিলেন ব্যর্থ। শেষ পর্যন্ত দুইশ’র ঘর পেরিয়ে মাত্র ২১১ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।

    ইনিংসের শুরুটা একেবারেই মন্থর ছিল। ওপেনার তানজিদ তামিম মাত্র ১০ রান করে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের হাতে। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত (২) একইভাবে ফিরেন ওমরজাইয়ের বলে। কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেও অভিষিক্ত সাইফ হাসান ২৬ রানের ইনিংসে থামেন সীমানায় ক্যাচ দিয়ে।

    চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে দলের হাল ধরেন। তাদের ব্যাটে আসে ১০১ রানের দারুণ জুটি। হৃদয় ৮৫ বল খেলে ৫৬ রান করেন, মিরাজ খেলেন ৮৭ বলে ৬০ রানের ইনিংস। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগলেও পরে রশিদ খানের ঘূর্ণিতে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে পুরো দল।

    রশিদের নিখুঁত গুগলিতে একে একে আউট হন মিরাজ, জাকের আলী (১০) ও নুরুল হাসান সোহান। ওমরজাই তিন উইকেট তুলে নিয়ে শুরুতে ধাক্কা দেন, আর গজনফর ইনিংসের শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন ৪৫তম ওভারে।

    বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচে সর্বাধিক রান আসে মিরাজ (৬০) ও হৃদয়ের (৫৬) ব্যাট থেকে। বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের বেশি রান করতে পারেননি। ফলে প্রথম ম্যাচেই চাপে পড়ে টাইগাররা।

  • এশিয়া কাপ অভিযানে টাইগাররা: রোববার উড়াল, প্রথম ম্যাচ হংকংয়ের বিপক্ষে

    এশিয়া কাপ অভিযানে টাইগাররা: রোববার উড়াল, প্রথম ম্যাচ হংকংয়ের বিপক্ষে

    এবিএনএ: সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেটের জমজমাট আসর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টের, আর বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে।

    রোববার সকালেই দু’দফায় দেশ ছাড়বেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। বিসিবির দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রথম গ্রুপ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় গ্রুপ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উড়াল দেবে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছে শুরু হবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং নিবিড় অনুশীলন।

    এবারের আসরের আয়োজক ভারত হলেও পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায় নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এখন সব ঝামেলা কেটে গেছে।

    তবে বাংলাদেশের জন্য এবারের পথ সহজ নয়। লিটন দাসের নেতৃত্বে টানা তিনটি সিরিজ জেতা দলকে এবার গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি হতে হবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর। সুপার ফোরে জায়গা করে নিতে হলে এই দুই দলের অন্তত একটি দলকে বিদায় করতে হবে টাইগারদের।

    টাইগার সমর্থকরা আশা করছেন, সাম্প্রতিক ফর্ম ধরে রেখে বাংলাদেশ দল এশিয়া কাপে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

  • এশিয়া কাপে মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ: আত্মবিশ্বাসী তাসকিন

    এশিয়া কাপে মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ: আত্মবিশ্বাসী তাসকিন

    এবিএনএ:  আসন্ন এশিয়া কাপকে সামনে রেখে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। তার বিশ্বাস, এবারের টুর্নামেন্টে শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং চূড়ান্ত লক্ষ্য শিরোপা জয়।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপ। এই আসরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—যাদের মধ্যে আফগানিস্তান সম্প্রতি নিজেদের এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে দাবি করেছে। তবে তাসকিন মনে করেন, অতীতে ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় বাংলাদেশকেই ভয় করবে প্রতিপক্ষরা।

    তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। শুধু খেলতে নয়, জিততেই মাঠে নামব। সাম্প্রতিক তিনটি সিরিজ জেতায় দল আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগের মতো আর দুর্বল নই, এখন উন্নতির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট।”

    তাসকিন আরও যোগ করেন, ক্রিকেট কঠিন খেলা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে উন্নতি করতে হয়। ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও দলের সেলফ ম্যানেজমেন্টের দিকেও সবাই এখন মনোযোগী। এর ফলেই ভুলের সংখ্যা কমছে এবং পারফরম্যান্সে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ অতীতে দু’বার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। এবার সেটি সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তাসকিন। তার ভাষায়, “টি-২০ ফরম্যাট অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে আমরা যে ফাইনাল খেলেছি, সেটাই প্রমাণ করে সম্ভাবনা আছে। এবার ইনশাআল্লাহ শিরোপা জিতব।”

    বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১১ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্ব শেষে চার দল সুপার ফোরে জায়গা পাবে, সেখান থেকে সেরা দুই দল খেলবে ফাইনাল।

  • ভারতের নতুন আইন: বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-পাকিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের বিশেষ সুবিধা

    ভারতের নতুন আইন: বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-পাকিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের বিশেষ সুবিধা

    এবিএনএ:  ভারত সরকার প্রতিবেশী তিন দেশ—বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পাসপোর্ট বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করা এসব শরণার্থী এখন দেশটিতে শাস্তির ভয়ে ভীত না হয়ে অবস্থান করতে পারবেন।

    সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট-২০২৫ অনুযায়ী, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তারা সিএএ’র (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) আওতায় আবেদন করতে পারবেন। এর আগে এই সুযোগ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমিত ছিল।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করলেও নির্যাতিত অমুসলিম সংখ্যালঘুরা ফেরত পাঠানো হবে না। তবে যারা বৈধ নথি ছাড়াই অন্য কারণে ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো বা নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

    এছাড়া নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের কিছু নাগরিককেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যদি পাকিস্তান, চীন, ম্যাকাও বা হংকং হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন, তবে সেই সুবিধা পাবেন না। আইন ভঙ্গকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে ধাপে ধাপে জরিমানা দিতে হবে। বিশেষত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি ভিসাধারী এবং তিব্বতি ও মঙ্গোলিয়ার বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও এর আওতায় পড়বেন।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ আইন পাস করে, যাতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। তবে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের ক্ষেত্রে এই আইনে বিশেষ ছাড় রয়েছে।

  • আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৪০০ ছাড়াল, আহত সহস্রাধিক

    আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৪০০ ছাড়াল, আহত সহস্রাধিক

    এবিএনএ: আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০-এর বেশি। আফগান সরকারের মুখপাত্র জানায়, এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৫১ জন এবং ৮ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে। স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে প্রবল কম্পনটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও তীব্র হয়ে উঠে।

    কুনার প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান এহসানুল্লাহ এহসান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চারটি গ্রামে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অনেক পরিবার আটকা রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চলছে।”

    এ ঘটনাকে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমিত সরঞ্জাম নিয়েই স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে দুর্গত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।