Tag: সীমান্ত সংঘর্ষ

  • পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে: ২৭৪ তালেবান নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের

    পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে: ২৭৪ তালেবান নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের

    এবিএনএ: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে বড় ধরনের দাবি করেছে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর। শুক্রবার ইসলামাবাদে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ২৭৪ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৩টি চৌকি ধ্বংস ও ১৭টি চৌকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করা হয়।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে আফগান বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামান অচল করা হয়েছে। অপরদিকে আফগানিস্তান থেকে চালানো হামলায় পাকিস্তানের ১২ সেনা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সীমান্তে অভিযান অব্যাহত আছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

    সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর সীমান্ত অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, অনেক স্থানে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

    এদিকে কাবুলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংঘাত বাড়াতে চায় না। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তান আগ্রাসন চালালে আফগানিস্তান পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের মাধ্যমে তারা ‘বার্তা’ দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

    দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে এই উত্তেজনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

  • সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। একে অপরের চৌকি দখলের দাবি করছে দুই দেশই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই সংঘাতটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে?

    রবিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ৫৮ সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে আফগানিস্তানের ৯ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন।
    অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পাকিস্তান আফগান সীমান্তের বেশ কিছু প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। পিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১৯টি সীমান্ত চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অপরদিকে আফগান গণমাধ্যম আমু নিউজ জানায়, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে।

    সংঘাতের সূচনা

    এই সংঘাতের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার, যখন আফগান রাজধানী কাবুলে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকার দাবি করে, হামলাটি পাকিস্তান পরিচালিত। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর জেরে শনিবার রাত থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়, যা দ্রুত সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকাকালে ইমরান খান তালেবানের মধ্যস্থতায় টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করেছিলেন। সেই বিরতি ভেঙে গেলে সীমান্তে সংঘর্ষ ক্রমে তীব্র হতে থাকে।

    ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন পথে?

    পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ দুররানির মতে, দুই দেশের এই সংঘর্ষ বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নেবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।”

    দুররানি আরও জানান, মূল সমস্যা টিটিপিকে ঘিরে। আফগান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপির উপস্থিতি অস্বীকার করছে, কিন্তু পাকিস্তান বলছে এই গোষ্ঠীই সীমান্তে হামলার পেছনে দায়ী। ফলে টিটিপি ইস্যু সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা থেকে যাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

  • সীমান্তের ওপারে তীব্র গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে নাইক্ষ্যংছড়ি জনপদ

    সীমান্তের ওপারে তীব্র গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে নাইক্ষ্যংছড়ি জনপদ

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় মিয়ানমারের ভেতরে শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টা পর্যন্ত টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার নম্বর ৪৪ থেকে ৪৯ পর্যন্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে, যা ঘুমধুম, তুমব্রু, চাকঢালা ও দোছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

    নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ছড়ালেও বাংলাদেশে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    তিনি আরও জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বিজিবির ৩৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা টহল জোরদার করেছে।

    সীমান্তে নজরদারির দায়িত্বে থাকা একটি সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি সম্প্রতি সরকারপন্থি গ্রুপগুলোর আক্রমণের মুখে পড়েছে। এবারই তারা মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের জেরে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা নতুন করে অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

  • থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ

    থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ

    এবিএনএ:  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন চার হাজারেরও বেশি।

    শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়, আর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। থাই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লক্ষ্যভিত্তিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এই হামলাকে “বেপরোয়া ও নৃশংস আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

    থাইল্যান্ডের উবন রাচাথানি ও সুরিন প্রদেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকালে। এই উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে সংঘর্ষ শুরু করার জন্য।

    এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই থাই বেসামরিক নাগরিক। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা গ্রহণ করবে না, বরং কেবলমাত্র দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়।

    চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    থাই সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রোন থেকে বোমা ফেলে পাহাড়ি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, এতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

    এপি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে শত শত পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্থায়ী ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক আশ্রয়প্রার্থী বলেন, “আমরা ভীত। বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি।”

    সীমান্ত সমস্যা এই অঞ্চলে বহু পুরনো। থাইল্যান্ড দাবি করে ফরাসি উপনিবেশ আমলে তাদের এলাকা কম্বোডিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া মনে করে ঐ অঞ্চল তাদেরই প্রাচীন মালিকানাধীন। এই ঐতিহাসিক ক্ষোভ দুই দেশকে নিয়মিত সংঘর্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক থিটিনান পংসুধিরাক বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্যেই ইতিহাসের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে। এবং সেই ইতিহাসই বর্তমানে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।”

    থাইল্যান্ডের অস্ত্রশক্তি ও সেনাসংখ্যা কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    এই চলমান উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও কীভাবে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার ওপর। তবে এখনই একটি মানবিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

  • ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আবার উত্তেজনা, দগদগে আগুনের উপর বসবাস করছে কাশ্মীরের মানুষ

    ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আবার উত্তেজনা, দগদগে আগুনের উপর বসবাস করছে কাশ্মীরের মানুষ

    এবিএনএ:  কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত পাকিস্তানের মাঝে আবারও বাড়ছে সংঘাত। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষকে প্রতিদিনই পার করতে হচ্ছে মৃত্যুভয়, গোলাগুলি ধ্বংসের মধ্যে। পেহেলগাঁও হামলার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ভারতের কমপক্ষে ১৬ জন এবং পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী তাদের দেশে নিহত হয়েছেন ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক।

    এই ডি-ফ্যাক্টো সীমান্তে প্রতিবার উত্তেজনা তৈরি হলে গোলাবর্ষণ শুরু হয়, যার ফলে ধ্বংস হয় বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, হাসপাতাল রাস্তা। গবাদি পশু কৃষিজ সম্পদ হারিয়ে জীবিকাও থমকে যায়। কানাডা প্রবাসী লেখিকা আনাম জাকারিয়া জানান, “এই এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনার বলি হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি মানে এখানে ক্ষণিকের স্বস্তি মাত্র।”

    ৭৪০ কিলোমিটার লম্বা নিয়ন্ত্রণরেখা এবং প্রায় ২৪০০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। ১৯৪৯ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে গঠিত হয় এই সীমান্ত, যার নামকরণ হয় ‘সিমলা চুক্তি’র (১৯৭২) মাধ্যমে।

    দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জেকব বলেন, “এই সীমান্তে সংঘর্ষ কখনোই ছোট থাকে না—ছোট অস্ত্র থেকে শুরু করে ভূমি দখল এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।”

    লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স-এর অধ্যাপক সুমন্ত্র বসু বলেন, “এই যুদ্ধকালীন সীমান্তকে বিশ্বব্যাপী অনেকটা ইসরায়েল-ওয়েস্ট ব্যাংকের ‘গ্রিন লাইন’-এর মতো ধরা যায়, যা প্রতিনিয়ত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।”

    ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতির চুক্তির পর সীমান্তে সাময়িক শান্তি দেখা গেলেও ২০০৮ থেকে আবার শুরু হয় তীব্র সংঘাত। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে কিছুটা স্থিতি ফিরে আসে। তবে ২০২৫ সালে এসে সেই চুক্তিও অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

    ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখাকে ‘সফ্ট বর্ডার’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যার ফলে সীমান্তে সহজে চলাচল এবং বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

    বর্তমানে সীমান্তে আবারও যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, তা শুধু দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সংকটই নয়, সীমান্তবাসীদের জন্য এক নিরব বিস্ফোরণ। তাঁদের প্রতিদিনের জীবন চলছে যুদ্ধ, শঙ্কা সহিংসতার চক্রে বন্দি হয়ে। শান্তি যে কবে আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

  • ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের ছায়া: সক্রিয় হলো সর্বাধুনিক অস্ত্র

    ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের ছায়া: সক্রিয় হলো সর্বাধুনিক অস্ত্র

    এবিএনএ:  ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। দুই দেশের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

    সাম্প্রতিক ঘটনায়, সীমান্তজুড়ে প্রতিরাতেই ভারী গোলাবর্ষণ ঘটছে। গতকাল রাতেও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, গত দুই দিনে ভারতের মোট ৭৭টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাত সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং পাকিস্তানের একটি সামরিক চৌকি ধ্বংস করেছে।

    ভারতীয় সেনার মতে, পাকিস্তান নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। কাশ্মীর সীমান্তে গোলাবর্ষণের ফলে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এক নারী নিহত তিনজন আহত হয়েছেন। উরি অঞ্চলে এই হামলা হয়।

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতরাতে পাকিস্তান ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০০ ড্রোন পাঠিয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো অস্ত্রবিহীন থাকলেও ক্যামেরা যুক্ত ছিল এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান কাশ্মীরের উধমপুর এবং পাঞ্জাবের পাঠানকোটে ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যদিও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। পাকিস্তান এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, ভারতের এসব দাবি ভিত্তিহীন।

    এদিকে পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছে, ভারতের হারপ ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে তাদের বাহিনী। এসব ড্রোন রাওয়ালপিন্ডি, গুজরানওয়ালা, লাহোরসহ বেশ কয়েকটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের লড়াইয়ে প্রায় ২৫ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে এবং পাকিস্তান পক্ষেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে নিহত পাকিস্তানি সেনাদের নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি।

    তীব্র এই উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এখনই সংলাপ শুরু করা ছাড়া বিকল্প নেই এবং আন্তর্জাতিক মহল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

  • কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    এবিএনএ:  কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার জেরে সীমান্তে শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন, যার মধ্যে পাকিস্তানে প্রাণ গেছে ২৬ জনের এবং ভারতে ১৫ জনের।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের চালানো বিমান হামলায় পাকিস্তানের ছয়টি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। তিনি জানান, “ভারতের বর্বরোচিত হামলা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”

    এই হামলার জবাবে বুধবার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং মেন্ধার এলাকায় পাকিস্তান চালায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, ঘটনায় ভারতে মারা গেছেন ১৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং আহত হয়েছেন ৪৩ জন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সারা রাত ধরে গোলার শব্দে আতঙ্কে ঘুমাতে পারেননি তারা। পুঞ্চের একজন স্থানীয় সাংবাদিক জামরুদ মুঘল জানান, “রাতভর বড় বড় বিস্ফোরণ হচ্ছিল। মানুষ ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। হাসপাতাল এখন আহত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ।”

    গোলার আঘাতে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দু’দেশের সেনারা প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

    এই ঘটনাগুলি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কাশ্মীর ইস্যুকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের উত্তপ্ত সম্পর্কের দিকে।