Tag: বাগেরহাট

  • বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পূর্বের মতোই বহাল থাকছে।

    গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায়ে বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইসি আপিল করেছিল।

    আদালতে ইসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। গাজীপুর-৬ আসনের প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদল, মুস্তাফিজুর রহমান খান ও বেলায়েত হোসেন। অন্যদিকে বাগেরহাটের রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

    বাগেরহাটে বহুদিন ধরে চারটি আসনেই নির্বাচন হয়ে আসছে।

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: সদর ও কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির চূড়ান্ত গেজেটে একটি আসন কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। এতে বাগেরহাট-৪ আসনটি বাদ দিয়ে গাজীপুর-৬ আসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং ২০১৮ সালে বাগেরহাট-১ থেকে বিএনপির প্রার্থী মো. শেখ মাসুদ রানা।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই ইসি ও গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

    আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এখন বাগেরহাটে আগের মতো চারটি আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • বাগেরহাটের চার আসন ফিরিয়ে দিয়ে একদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে: হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

    বাগেরহাটের চার আসন ফিরিয়ে দিয়ে একদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে: হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি বাগেরহাটের আসন সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিন করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্গ শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬১ পৃষ্ঠার রায়ে এ নির্দেশ দেন। রায় প্রকাশের পর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

    এর আগে ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী আদেশে আদালত ইসির তিন-আসনের গেজেট বাতিল করে বাগেরহাটের চার আসন আগের মতোই বহাল রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ রায়েও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলো।

    উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটকে চার থেকে তিন আসনে নামিয়ে আনা হয়। সেই গেজেট অনুযায়ী—

    • বাগেরহাট-১: সদর–চিতলমারী–মোল্লাহাট
    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট–রামপাল–মোংলা
    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া–মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা

    তবে আদালতের রায় অনুযায়ী আগের চারটি আসনই বহাল থাকবে—

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী–মোল্লাহাট–ফকিরহাট
    • বাগেরহাট-২: সদর–কচুয়া
    • বাগেরহাট-৩: রামপাল–মোংলা
    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা

    হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে এখনই নতুন করে চার আসনের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

     

  • বাগেরহাটে ব্র্যাক কর্মী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বাগেরহাটে ব্র্যাক কর্মী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটে ব্র্যাক এনজিওর এক নারী কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে জিহাদ শেখ (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রোজিনা আক্তার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
    দণ্ডপ্রাপ্ত জিহাদ শেখ সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বেনেগাতি গ্রামের মৃত লুৎফর শেখের ছেলে।

    ব্র্যাকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফকির মো. নওরেশুজ্জামান লালন জানান, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট দুপুরে এনজিওর মাইক্রোফাইন্যান্স বিভাগের এক নারী কর্মী বেনেগাতি এলাকায় অফিসের কাজ শেষে সার্ভে করছিলেন। ওইসময় সনাতন দাস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তথ্য সংগ্রহের সময় আসামি জিহাদ তাকে অন্য একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায়।

    পথিমধ্যে বৃষ্টির কারণে আশেপাশে কেউ না থাকায় জিহাদ শেখ আকস্মিকভাবে তার গলায় দা ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন জায়গায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাগেরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ধারায় মামলা করেন।

    মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেন। দীর্ঘ শুনানি ও নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর, আদালত আদালত আসামিকে দোষী প্রমাণিত করে এ দণ্ড ঘোষণা করেন।

    রায়ের পর আদালতের বেঞ্চ সহকারী জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ঘটনার বিবরণ বিচার করে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অতিরিক্ত সাজা নিশ্চিত করেছেন।

     

  • বাগেরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ১৪, পলাতক ২

    বাগেরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ১৪, পলাতক ২

    এবিএনএ,মাসুদ রানা : বাগেরহাট জেলায় মাদকচক্রের বিস্তার বেড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেলার ৯টি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও মামলা উভয়ই বেশি।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাঝেই গোপন পথ ধরে নিয়মিত ঢুকছে মাদকের চালান। বাগেরহাট সদর, মোংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট—এই ৯ উপজেলাজুড়ে বেশ সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা।

    ✅ মোংলায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা

    সমুদ্র বন্দর ও শিল্প এলাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস—যা মোংলা উপজেলাকে মাদক বিস্তারের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত করেছে। ফলে এখানে সেবনকারী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিনিয়তই অভিযান চালিয়ে ধরা পড়ছে খুচরা বিক্রেতা, বাহক ও সেবনকারীরা।

    ✅ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ বিস্তার

    এ অঞ্চলের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিশোর-তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে মাদকসেবন। ফলে বাড়ছে কিশোর অপরাধ থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

    ✅ অক্টোবর মাসের বড় অর্জন

    বাগেরহাট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোঃ বুলু শেখ জানান, শুধু অক্টোবর মাসেই ৯ থানা এলাকায় অভিযানে—

    • ✅ গ্রেপ্তার: ১৪ জন

    • ✅ পলাতক: ২ জন

    • ✅ জব্দ: ইয়াবা ৬১০ পিস ও গাঁজা ৯ কেজি ১০০ গ্রাম

    তার ভাষায়—বাগেরহাট সদর থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে—

    • বাগেরহাট সদর: ৯ জন

    • মোল্লাহাট: ২ জন

    • মোংলা: ৩ জন

    • চিতলমারী: ১ জন (পলাতক)

    • মোংলা: ১ জন (পলাতক)

    ✅ আইনি ব্যবস্থা

    অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেকের অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ✅ কিছু এলাকায় অভিযান কম

    রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও কচুয়া উপজেলাগুলোতে কর্মকর্তার সংখ্যা কম থাকায় অক্টোবর মাসে তুলনামূলক কম অভিযান হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে আগামী সময়ে অভিযান আরও জোরদার হবে।

  • বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা: রাকিবসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

    বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা: রাকিবসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

    এবিএনএ: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা দিতে না পেরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগে বলা হয়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বাদেকাড়াপাড়া এলাকার রাকিব নামের এক যুবক ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। পরে কৌশলে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল তার সহযোগী রাহুল ও আলমগীরসহ আরও কয়েকজন

    তারা মেয়েটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। তবে অভিযুক্তদের একজনকে হাতে নাতে ধরা হলেও পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে ছাড়িয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    জানা গেছে, প্রধান আসামি রাকিব বাগেরহাট সদরের বাদেকাড়াপাড়া গ্রামের মৃত জাকারিয়া আলমের ছেলে এবং কাড়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

    মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)–এর ৭, ১০/৩০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী মহল আসামিদের রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

    এ বিষয়ে ফকিরহাট থানার এক কর্মকর্তা বলেন,

    “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি—ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

  • “বাগেরহাটে তিনদিনের আংশিক হরতাল, খোলা থাকবে দোকানপাট ও বাজার, চলবে রিকশাও”

    “বাগেরহাটে তিনদিনের আংশিক হরতাল, খোলা থাকবে দোকানপাট ও বাজার, চলবে রিকশাও”

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে পূর্বঘোষিত টানা তিন দিনের হরতাল কর্মসূচির পরিধি ও সময় আংশিক পরিবর্তন করে নতুন ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম।

    তিনি বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে হরতালের সময় ও আওতা সীমিত করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।”

    🔔 নতুন হরতাল সময়সূচি:

    • সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর): সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা

    • মঙ্গলবার ও বুধবার: সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত

    হরতালের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলবে। তবে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলবে না।

    সর্বদলীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় ছোট সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যান চলাচল হরতালের আওতায় পড়বে না। জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন যেমন—অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরীক্ষার্থীদের পরিবহন ইত্যাদিও থাকবে হরতালের বাইরে।

    🎤 কমিটির নেতাদের বক্তব্য:

    কমিটির সদস্য সচিব শেখ মো. ইউনুস বলেন, “এই আন্দোলন জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন। তাই আমরা তাদের দুর্ভোগ চাই না।”

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দীপু জানান, “আমরা উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে এবং জনগণের দাবির প্রতি সুবিচার হবে।”

    🔄 কর্মসূচির পরিবর্তন:

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় কমিটি হরতালের পাশাপাশি রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে ঘোষিত কর্মসূচির পরিবর্তে তারা ওই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী হরতাল ঘোষণা করেন।

    📜 আন্দোলনের পটভূমি:

    গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে, এলাকাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

    বাগেরহাটবাসী এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নেয়। এরপরও ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন তিনটি আসন রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

    🗺️ বর্তমান আসন বিন্যাস (চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    🗺️ আগের আসন বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনমতের স্পষ্ট অবহেলা, এবং এর বিরুদ্ধে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলমান থাকবে যতদিন না চারটি আসন পুনর্বহাল হয়।

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলাব্যাপী হরতাল পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা সকাল থেকেই শহর ও গ্রামীণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। কিছু এলাকায় বেঞ্চ পেতে বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দূরপাল্লার সব বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

    জেলা সর্বদলীয় ঐক্য কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ১৩০টির বেশি স্থানে স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাগেরহাট কার্যত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এক প্রকার অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

    পণ্য পরিবহনেও ধস:
    বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, ধরাটা না সেতু, ফতেপুর বাজার ও সিএনবি মোড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। চালকরা রাস্তার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ বিলম্বে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    দোকানপাটও বন্ধ:
    হরতালের প্রতি সংহতি জানিয়ে অধিকাংশ দোকান মালিক তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। এতে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।

    রাতেও অবরোধ:
    বুধবার শুরু হওয়া হরতাল রাতেও অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা রাতেও বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ফলে রাতভর কোনো যানবাহন চলেনি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, রাতের সড়ক অবরোধ দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    আন্দোলনের পেছনের কারণ:
    ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ঘোষিত খসড়া অনুযায়ী, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার পরিকল্পনা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাগেরহাটবাসী তীব্র প্রতিবাদ জানায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় এবং তাতে তিনটি আসনই বহাল রাখা হয়।

    বর্তমান আসন বিন্যাস (২০২৫):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    পূর্ববর্তী বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    সর্বদলীয় কমিটির নেতারা বলছেন, এই আসন সংকোচনের সিদ্ধান্ত জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে বাস বন্ধ, ডিসি অফিস ঘেরাও করে উত্তাল বিক্ষোভ

    বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে বাস বন্ধ, ডিসি অফিস ঘেরাও করে উত্তাল বিক্ষোভ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বাগেরহাট শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় ১৬টি রুটের সব ধরনের বাস চলাচল।

    আন্দোলনকারীরা সকালেই বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ডিসি অফিস ও জজ কোর্টের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া, জেলা নির্বাচন অফিসের মূল গেটেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, ফলে অফিস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

    এই হরতালে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। তারা একত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে, সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগানে মুখরিত করেন শহর।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, বাগেরহাট জেলার চারটি আসন দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশনের খসড়া অনুযায়ী একটি আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত এই জেলার মানুষের স্বার্থবিরোধী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী ও রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের চিত্র ছিল স্পষ্ট।

  • ২৮ আসনের ৩০৯ আবেদনের শুনানি শেষ: সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে

    ২৮ আসনের ৩০৯ আবেদনের শুনানি শেষ: সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে

    এবিএনএ:  সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৃতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ঢাকা অঞ্চলের ২৮টি আসনের মোট ৩০৯টি আবেদন শোনা হয়।

    শুনানি শেষে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানান, এসব আবেদনের মধ্যে ২৫৯টি ছিল ইসির প্রকাশিত খসড়ার বিপক্ষে এবং ৫০টি পক্ষে।

    আগামীকাল বুধবার রংপুরের সাতটি, রাজশাহীর ২৩২টি, ময়মনসিংহের তিনটি, ফরিদপুরের ১৮টি এবং সিলেটের দুটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সব দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ইসি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৮৩টি আসন নিয়ে মোট ১ হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তি জমা পড়ে। এগুলোই ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এর আগে ৩০ জুলাই ৩০০ আসনের নতুন খসড়া প্রকাশ করে ইসি। সেখানে ভোটার সংখ্যা ভারসাম্য আনার জন্য গাজীপুরে একটি আসন বাড়িয়ে মোট ছয়টি করা হয়, আর বাগেরহাটে চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    সর্বশেষ খসড়ায় ৩৯টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

    আগে বাগেরহাটে চারটি আসন থাকলেও নতুন খসড়ায় সেটি তিনটিতে সীমিত করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপালকে একত্র করে বাগেরহাট-২, আর মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন বাগেরহাট-৩ আসন। তবে বাগেরহাট-১ আসনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “দেশের ৬৪ জেলার গড় ভোটার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এই হিসাব মেনে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে, আর বাগেরহাটে একটি কমানো হয়েছে। এতে ভোটার সমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।”

  • বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতালে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

    রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে খুলনা থেকে মোড়েলগঞ্জগামী মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় যাত্রা শুরু করলেও হরতালের কারণে বারবার গাড়ি বদল করতে হচ্ছে। কাটাখালি থেকে দশানী পর্যন্ত পৌঁছে আর কোনো পরিবহন পাননি। তার অভিযোগ, আন্দোলন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়িয়ে দিয়েছে।

    একই দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। খুলনা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার জানান, সকাল থেকে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তিনি এখনও বাগেরহাটের বাইরে যেতে পারেননি। পরীক্ষার দিন এমন পরিস্থিতি তাকে দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

    মো. মিজান নামের আরেক যাত্রী জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে আটকে যেতে হচ্ছে। রাস্তার উপর গাছ ফেলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুরোধ করলেও পথ অবরোধকারীরা রাস্তা খুলে দেয়নি, তাই মাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

    অঞ্চলজুড়ে একই দৃশ্য। দূরপাল্লার কোনো বাস চলেনি, অটোরিকশা ও ভ্যানও খুব কম সংখ্যায় চলেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    হরতালের বিষয়ে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চার আসনের পরিবর্তে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে আমরা আন্দোলনে নামি। সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। তাই আজ হরতাল ও অবরোধ ডাকতে হয়েছে।”

    তিনি দাবি করেন, জেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের দাবিকে সমর্থন করেছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, মোংলা বন্দর এলাকার বেশিরভাগ অফিসও তালাবদ্ধ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলন ‘সফল’ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই হরতাল আন্দোলন জেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।