Tag: বাগেরহাট

  • শরণখোলায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    শরণখোলায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    এবিএনএ,শরণখোলা: বাগেরহাটের শরণখোলায় খালে ডুবে লাবিব (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু লাবিব শরণখোলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের পুত্র।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারী) দুপুরের দিকে শিশু লাবিব সবার অলক্ষ্যে উত্তর কদমতলা গ্রামের বাড়ীর সামনের খালে পড়ে ডুবে যায়। প্রতিবেশীরা খালে শিশুটির লাশ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়। পরে স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ তাসনুভা আলম বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

  • বাগেরহাট ৪ আসনে জামায়াত বিএনপিসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

    বাগেরহাট ৪ আসনে জামায়াত বিএনপিসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

    এবিএনএ,শরণখোলা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪, (৯৮ সংসদীয় আসন মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়ে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট ৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ দে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক জেলা রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসারের কার্যালয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

    জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল (জেএসডি) এর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বাগেরহাট জেলা উপদেষ্টা মোঃ ওমর ফারুক নূরী ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাজন কুমার মিস্ত্রী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

    এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ দের সাথে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ, জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ জববার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল, সহ-সভাপতি এফ এম শামীম আহসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মেহেদী হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি শিকদার ফরিদুল ইসমলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  • সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য: তিন ট্রলারসহ ১৩ জেলে আটক, জব্দ জাল ও ডিঙ্গি

    সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য: তিন ট্রলারসহ ১৩ জেলে আটক, জব্দ জাল ও ডিঙ্গি

    এবিএনএ, শরণখোলা: সুন্দরবনের সুপতি অভয়ারণ্যের খালে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় বনরক্ষীদের হাতে তিনটি ট্রলারসহ ১৩ জেলে আটক হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাছ ধরার জাল ও ৬টি ডিঙ্গি নৌকা। আটক জেলেদের আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা শনিবার সন্ধ্যায় সুপতি ষ্টেশনের আওতাধীন বড়কটকা খালে নিয়মিত টহলের সময় একটি ট্রলারের জেলেদের অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেখে এগিয়ে যায়। বনরক্ষীরা ৯ জেলেসহ একটি ট্রলার আটক করে। এ সময় আরও ৬টি ডিঙ্গি ও মাছ ধরার জাল জব্দ করেন বনরক্ষীরা।

    আটক জেলেরা হচ্ছেন, শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামের আলাউদ্দিন পঞ্চায়েত (৩০), রেজাউল হাওলাদার (২৫) ও মোঃ রাকিব হাওলাদার (২৫); বাগেরহাটের গোপালকাঠী গ্রামের লিটন সরদার (৪৮), মিলন সরদার (৩৫) ও জলিল শেখ (৪৫); শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের জাফর হাওলাদার (৩৮) ওরবিউল ইসলাম (২৩); পিরোজপুর জেলার কালিকঠি গ্রামের জালাল হাওলাদার (৩০)।

    অপরদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় বনরক্ষীরা সুপতির পোতারখাল এলাকায় টহলের সময় দুইটি ট্রলারসহ ৪ জেলেকে আটক করেন। আটক জেলেরা হচ্ছেন, পাথরঘাটা জেলার সাহেরাবাদ গ্রামের বিজন হালদার (৩৫), শিশির হালদার (৩৫), ইসা খান (২৬) ও সাত্তার খন্দকার (৪৫)। এ সময় জব্দ করা হয়েছে মাছ ও কাকড়া।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ ফয়সাল আহমেদ বলেন, আটক জেলেরা সুপতি অভয়ারণ্য কেন্দ্রের আওতাধীন খালে অবৈধভাবে মাছ ধরছিলো। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে দুইটি পৃথক বন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামী জেলেদের শনিবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের বাগেরহাট জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

  • ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে দিন কাটছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের: টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে শরণখোলায় মানববন্ধন

    ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে দিন কাটছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের: টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে শরণখোলায় মানববন্ধন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়ন বাংলাদেশের সহযোগিতায় শরণখোলা বাজার সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামবাসীর আয়োজনে তিন কিলোমিটার টেকসই বেরিবাঁধ এর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার শরণখোলা বাজার সংলগ্ন খুড়িয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা যায় , শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের শরণখোলা বাজার সংলগ্ন খুড়িয়াখালী ও তেরাবেকা এলাকায় টেকসই বেরিবাঁধ না থাকায় দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার মানবতার জীবন যাপন করে আসছে। এই দুর্দশা কমাতে তেরাবেকা ও শরণখোলা নদীর তীরবর্তী খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রিংবাঁধ এর উপরে প্রায় তিন শতাধিক গ্রামবাসীর সমন্বয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তাদের একটাই দাবি টেকসই বেরিবাঁধ চাই। সিডর ও আইলার মতো ঘূর্ণিঝড় এর আঘাতে বেরিবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঝড় জলোচ্ছ্বাসে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

    অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে তাদের বাড়ি ঘর তলিয়ে যায় তখন রান্নাবান্না সহ গবাদি পশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। মাঝে মাঝে তাদের রান্না বান্না ও বন্ধ হয়ে যায়। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে টেকসই বেরিবাঁধ এর দাবিতেই মুলত মানবববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আ: মালেক রেজা, বিএনপি নেতা ফরিদ খান, সমাজ সেবক হিরু খান, জাফর খান , পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম ও ওমর ফারুক প্রমূখ। সকলের একটাই দাবি প্রশাসনের কাছে টেকসই বেরিবাঁধ চাই।

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটে প্রার্থী ছড়াছড়ি, মনোনয়ন ফরম নিলেন ২৫ জন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটে প্রার্থী ছড়াছড়ি, মনোনয়ন ফরম নিলেন ২৫ জন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৫ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়।

    বাগেরহাট-১ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কপিল মণ্ডল, বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এম এ এইচ সেলিম, এস এম মুজিবর রহমান ও মাসুদ রানা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মশিউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম এবং এবি পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

    বাগেরহাট-২ আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন বিএনপির শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাত, ইসলামী আন্দোলনের শেখ আতিয়ার রহমান এবং খেলাফত মজলিসের বালী নাছের ইকবাল ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও মো. জুলফিকার আলী, জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান, জাসদ-রবের হাবিবুর রহমান মাস্টার এবং এনসিপির মো. রহমাতুল্লাহ মনোনয়ন নিয়েছেন।

    বাগেরহাট-৪ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন বিএনপির সোমনাথ দে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও কাজী খাইরুজ্জামান শিপন, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল আলীম এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক।

    জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মুখে রাজপথে টিকে থাকা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বাগেরহাটে সদ্য দলবদল করা সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে এমন সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগেও যারা আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ও সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই এখন ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে নির্বাচনের মাঠে। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গ।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক এবং অতীতে চিতলমারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। একসময় জাতীয় পার্টি, পরে আওয়ামী লীগ এবং সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

    এই দুই প্রার্থীর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

    ফেসবুকে চিতলমারীর এক বাসিন্দা লেখেন, “১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ আসা লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা চরম হতাশ।” একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আরও অনেকে, কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও তুলেছেন।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছু করার নেই। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছি।

    জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এটি মেনে নিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা আজ অবহেলিত।

    অন্যদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত কপিল কৃষ্ণ মন্ডল দাবি করেন, তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    সোমনাথ দে বলেন, যারা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তারাই তার মনোনয়নে ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা সাবেক সভাপতি এম এ সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—দাবি না মানা হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।

  • শরণখোলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল এক জনের

    শরণখোলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল এক জনের

    এবিএনএ,শরণখোলা(বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরণখোলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঘটণাটি ঘটেছে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের চাল রায়েন্দা গ্রামে। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের মজিদ মুন্সির ছেলে বাদল মুন্সি (৫৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে জুম’আর নামাজ আদায় করতে নিহত বাদল মুন্সি মসজিদে যাচ্ছিলেন। এ সময় অপরদিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটর সাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে তিনি পুকুরের কিনারে ছিটকে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ায় মোটর সাইকেল আরোহী জান্নাত আকন (২৫) কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মোটর সাইকেল আরোহী জান্নাত আকন একই উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের জলিল আকনের পুত্র।

  • শরণখোলায় আজ হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায় গর্বের দিন

    শরণখোলায় আজ হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথায় গর্বের দিন

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, (শরণখোলা) বাগেরহাট: ১৮ ডিসেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর ১৬ ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশ স্বাধীন হলেও ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব সেক্টরের এই শরণখোলা ছিল হানাদার বাহিনীর দখলে। তৎকালিন থানা সদর রায়েন্দা বাজারে মুক্তিবাহিনী এবং রাজাকারদের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ তখনও চলে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন সম্মুখযুদ্ধে রাজাকারের বুলেটে শহীদ হন – টিপু সুলতান, আসাদুজ্জামান, আলাউদ্দিন,গুরুপদ ও আলতাফ হোসেনসহ পাঁচ বীর যোদ্ধা।
    ১৮ ডিসেম্বর পুরোপৃুরি ভাবে হানাদার মুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টরের শরণখোলার রণাঙ্গন। সকাল ১০টার দিকে থানা ভবনে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করে শরণখোলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত ঘোষনা করেন সুন্দরবন সাব সেক্টরের কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
    এদিন বিকেল চারটার দিকে রায়েন্দা পাইলট হাই স্কুল মাঠে চার শহীদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে রায়েন্দার আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সমাহিত করা হয় চার শহীদকে। প্রথম শহীদ গুরুপদকে সমাহিত করা হয় সুন্দরবন সংগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পানিরঘাট এলাকায়।
    সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারীদের তথ্যমতে, শেষ মুহুর্তে হানাদার বাহিনী নাছির উদ্দিন আকনের রায়েন্দা বাজারস্থ বাসভবন দখল করে। এটিই ছিল রাজাকারদের প্রধান ক্যাম্প। এছাড়া থানা ভবন ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন দখল করে আরো দুটি ক্যাম্প স্থাপন করে শত্রু বাহিনী।
    শরণখোলাকে হানাদার মুক্ত করতে দীর্ঘ ৯ মাসের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল আলম তালুকদার।
    রায়েন্দা বাজারের শেষ যুদ্ধে পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি দল গঠন করা হয়। পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন যুদ্ধকালীন ইয়াং অফিসার ও স্টুডেন্ট ক্যাম্প কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিন বদশা এবং পশ্চিমাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মোরেলগঞ্জের আব্দুল গফ্ফার সুবেদার।
    এই দুটি দলের আট শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা রায়েন্দা বাজারের রাজাকারদের তিনটি ক্যাম্পে আক্রমণ করেন।
    পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, আমরা ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৪৫মিনিটের সময় ফায়ার শুরু করি। রামপালের সহযোদ্ধা শ্যামল ছিলেন এলএমজির কভারিং ফায়ারের দায়িত্বে। শ্যামল ওপর থেকে রাজাকার ক্যাম্প লক্ষ্যকরে ফায়ার করতে থাকেন। আর অগ্রবর্তি দলের ২০-২৫ জন যোদ্ধা নাছির উদ্দিন আকনের বাসভবনের রাজাকার ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হন। প্রথম দিন (১৪ ডিসেম্বর) যুদ্ধ শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় রাজাকারের বুলেটে শহীদ হন গুরুপদ। গুলিতে তার মাথার খুলি উড়ে যায়। এদিন বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে শহীদ হন টিপু সুলতান ও আসাদুজ্জামান। রাতে শহীদ হন আলাউদ্দিন। ১৫ ডিসেম্বর সকালে শহীদ হন আলতাফ হোসেন। ওইদিন থানা ভবন ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের রাজাকার ক্যাম্প দখলে নেই আমরা।
    হেমায়েত উদ্দিন বাদশা আরো বলেন, ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর আক্রমণ চালাই নাছির উদ্দিনের বাসভবনের প্রধান ক্যম্পে। এসময় দিন-রাত সমানতালে ওই ক্যাম্পে মটার শেল ও গুলি বর্ষণ করি। পাল্টা গুলি চালায় রাজাকাররাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনীর গুলির মুখে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ১৭ ডিসেম্বর রাতেই বেশিরভাগ রাজাকার ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। ক্যাম্পসংলগ্ন রায়েন্দা খালের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ গোপন সুড়ঙ্গ পথে পালিয়ে যায় তারা। এর পর ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো পাল্টা আক্রমণ না আসায় ক্যাম্পে ঢুকে যায় মুক্তিবাহিনী। সেখানে ১৭-১৮ জন রাজাকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া য়ায়।
  • মোংলা বন্দরে উন্মুক্ত নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের দুই যুদ্ধজাহাজ, দেখার ভিড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

    মোংলা বন্দরে উন্মুক্ত নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের দুই যুদ্ধজাহাজ, দেখার ভিড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

    এবিএনএ,মোংলা : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মোংলা বন্দরে জনসাধারনের জন্য উন্মক্ত রাখা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দুটি যুদ্ধ জাহাজ। কোস্টগার্ড পশ্চিজোনের সদর দপ্তর (মোংলায়) সংলগ্ন জেটিতে উন্মক্ত রাখা  হয় বিসিজিএস কামরুজ্জামান। একই সময় নৌবাহিনীর দিগরাজ ঘাটিতে উন্মক্ত রাখা হয় বানৌজা আবু বকর।

    মঙ্গলবার(১৬ ডিসেম্বার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাহাজ  দুটি জনসাধারনের জন্য উন্মক্ত থাকে। জাহাজ গুলো দেখতে দুপুরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নানা বয়সের  মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়।

    এসময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এর কর্মকর্তারা উপস্থিত দর্শনার্থীদেরকে তাদের কর্মকান্ড ও জাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সকল জাহাজ গুলোকে সাজানো হয়।

  • পুকুরের পানিতে মিলল নিথর দেহ, শরণখোলায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

    পুকুরের পানিতে মিলল নিথর দেহ, শরণখোলায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

    এবিএনএ(শরণখোলা) বাগেরহাট: শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে সাব্বির হাওলাদার (২৫) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাব্বির হাওলাদার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের ইউনূস হাওলাদারের ছেলে।

    নিহতের বাবা ইউনূস হাওলাদার বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সাব্বির চা খাওয়ার জন্য দোকানে যায়। পরবর্তীতে আর বাড়িতে ফিরে না আসলে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সকালে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে জুতা দেখে পুকুরে নেমে খোঁজা করা হলে সাব্বিরের মরদেহ পাওয়া যায়। পূর্ব শত্রুতার কারণে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেন নিহত সাব্বিরের বাবা। তিনি অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবী জানান।

    নিহত সাব্বিরের পরিবার থেকে জানা যায়, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুর্বশত্রুতার জেরে সাব্বিরকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। নিহত সাব্বিরকে বছর খানেক পূর্বে বাড়ির সামনে বসেই মারাত্মক জখম করে অভিযুক্ত প্রতিবেশী। পরিবারের সদস্যদের দাবি যে অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে সাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে উক্ত ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানায়।

    শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামিনুল হক বলেন, সকালে খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে প্রকৃত কারন জানার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।