Tag: প্রধান উপদেষ্টা

  • সমঝোতার ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    সমঝোতার ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই নির্বাচন হবে সবার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই।

    রোববার বিকেলে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ড. ইউনূস বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

    তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কোনোভাবেই স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। এজন্যই সংস্কার অপরিহার্য। ভবিষ্যতে স্বৈরাচার আসার সব পথ আমরা এ সংস্কারের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে চাই।”

    এর আগে দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’-এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন আস্থার বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার পথকেও আরও সুসংহত করবে।

  • নির্বাচনে বাধা আসবেই, সতর্ক থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    নির্বাচনে বাধা আসবেই, সতর্ক থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে নানা ধরনের বাধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চায়, তারা বিভিন্ন কৌশলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। ইতোমধ্যেই কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং সামনে আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এ কারণে সবারই সতর্ক থাকা জরুরি।

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাতটি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো বাধা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নাগরিকদের জন্য এটি হবে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। অতীতে যারা ভোটের সময় নানা তিক্ততার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদেরও এবার নিরাশ হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।”

    নির্বাচন আয়োজনকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের। তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তোলার নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতি পদে পদে বাধা আসবে, বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তবে সবাইকে স্থির থাকতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা হবে, তবে উৎসবমুখর পরিবেশেই এবারও দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে।

    বৈঠকে এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণফ্রন্ট এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করল জামায়াত, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাল নানা প্রস্তাব

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করল জামায়াত, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাল নানা প্রস্তাব

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, বর্তমান পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। আওয়ামী লীগের মতোই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।”

    তিনি আরও জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন—সংস্কার বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা এবং বিশ্বমানের উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি।

    ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কমিশনে আলোচনা চলছে। অনেক বিষয়ে একমত হলেও কিছু বড় ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ সিদ্ধান্তে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ছিল।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু দল সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। কিন্তু যদি সেটাই হয় তবে এত সময় অপচয় কেন হলো?”

    এছাড়া জুলাইয়ের ঘোষণাকে ঘিরে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন অবাধ হবে। আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”

    প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে জামায়াতের দাবি, সব স্তরে এই পদ্ধতি চালু হওয়া প্রয়োজন। তাহের বলেন, “গত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা নতুন পদ্ধতি চাই। এ বিষয়ে ইসিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

    বৈঠক শেষে জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কাটবে না।

  • “নির্বাচনের বিকল্প চিন্তা জাতির জন্য হুমকি” : সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    “নির্বাচনের বিকল্প চিন্তা জাতির জন্য হুমকি” : সতর্ক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সতর্ক করে দেন, কেউ যদি অন্য কোনো বিকল্প চিন্তা করে তবে সেটি হবে জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যে সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।”

    এসময় বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ জুলাই সনদের অগ্রগতির বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন।

    দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যেন কেউ কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না করে সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রেস সচিব জানান, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন ফখরুল।

    তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। এর পেছনে একটি মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

    অন্যদিকে লন্ডনে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বসেছেন। এটা তার এখতিয়ার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কারও অভিযোগ করার সুযোগ নেই।”

    বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • মাইলস্টোনের তিন শিক্ষক মানবতার আলো ছড়ালেন, জাতির গর্ব হয়ে থাকবেন চিরকাল

    মাইলস্টোনের তিন শিক্ষক মানবতার আলো ছড়ালেন, জাতির গর্ব হয়ে থাকবেন চিরকাল

    এবিএনএ: মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তিন শিক্ষক—মাহেরীন চৌধুরী, মাসুকা বেগম ও মাহফুজা খাতুন—মানবতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এই শোক শুধু আপনাদের নয়, গোটা জাতির। তাঁরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলো দেখাবে।”

    এসময় নিহত শিক্ষকদের পরিবার তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন। মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, “নিজের দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও অন্য শিশুদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়েছেন মাহেরীন।”

    শিক্ষক মাহফুজা খাতুনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “মা অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম মা’কে নিয়ে বাড়ি ফিরব। কিন্তু তিনি চলে গেলেন, আমাকে একেবারে একা করে।”

    মাসুকা বেগমের পরিবার বলেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, ছিলেন সবার অভিভাবক। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনদের দেখাশোনায় তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ।

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “তিনজন শিক্ষক নিজেদের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন মানবতার মহিমা কত উচ্চে। তাঁরা শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা জাতির আদর্শ। তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখতে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।”

    এসময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসীদের অর্থনীতিতে অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের শ্রম ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সমস্যাগুলো শুনেছি এবং সমাধানে কাজ করছি।”

    পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দিতে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারেন।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছি, এ নির্বাচনে আপনাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।”

    সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দূতাবাসে জনবল বৃদ্ধি, গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা, অনিয়মিত প্রবাসীদের নিয়মিতকরণ এবং বাণিজ্য-শিল্প ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রবাসীরা অংশ নেন এবং সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

  • জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—একটি হলো জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্যটি আগামী নির্বাচনের ঘোষণা। বিএনপি উভয় ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “বিগত এক বছরে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেসব শহীদ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”

    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে দেবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতি একটি দোলাচলের অবসান ঘটাল।”

    বিএনপি নেতার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে এবং তা হবে ইতিহাসের অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা আশা করি, জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।”

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই দিনে ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন হয়েছিল। সেই রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামের যে ফসল, এখন তা গণতন্ত্রের শিকড়ে রোপণ করতে হবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হয়েছে এবং জাতির ভবিষ্যতের কাঠামো কীভাবে হবে তা নিয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সই সম্পন্ন হবে এবং তা বাস্তবায়নে বিএনপি সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে।”

    এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের এই ঘোষণার ফলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং নাগরিক জীবন আবার গতিশীল হবে।”

    এভাবেই জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের প্রস্তুতির মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে একটি নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তের দিকে—এই বার্তাই দিচ্ছে বিএনপি।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না: দৃঢ় বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “সন্ত্রাসের বিষয়ে আমাদের নীতি স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেশের মাটিতে স্থান দেওয়া হবে না।”

    সোমবার বিকেলে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

    প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে চলমান শুল্ক আলোচনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সন্ত্রাসবাদ নির্মূল। রাষ্ট্রের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা এদের মুছে ফেলবো।”

    ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই রূপান্তর একটি স্থায়ী রূপ পাবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে যে কমিশন কাজ করছে, তা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার নিয়ে কার্যকর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, “অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। আমি মনে করি, তারা ভালোভাবেই অগ্রসর হচ্ছেন এবং আমরা সামনে একটা ইতিবাচক ফল দেখতে পাব।”

    এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন জটিলতা: বিএনপি-জামায়াত ভোটে রাজি নয়

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন জটিলতা: বিএনপি-জামায়াত ভোটে রাজি নয়

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। তারা বলছে, একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উপদেষ্টা বাছাই করবে, অন্যথায় সাবেক প্রধান বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করা হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংলাপে এই মতামত দেয় দল দুটি। তবে এনসিপিসহ বেশিরভাগ দল ভোটের মাধ্যমে উপদেষ্টা নির্বাচন করতে চায়।

    কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, বিরোধী ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি মিলে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি বিভিন্ন দলের প্রস্তাবিত নামের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে উপদেষ্টা নির্বাচন করবে।

    বিএনপি এই প্রস্তাবে একমত হয়নি। তারা চায়, সর্বসম্মতিতে নির্বাচন হোক, যাতে কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সুবিধা নিতে না পারে। জামায়াতও একই যুক্তি দেখিয়ে বলে, ভোট হলে হর্স ট্রেডিংয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে যেসব দল একমত নয়, তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে যেভাবে সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল, এবারও সে রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হোক।

    জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কেউ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে।

    কমিশনের নতুন একটি প্রস্তাব ছিল, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন। যদিও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এই কমিটির আওতার বাইরে থাকবে।

    সবমিলিয়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও উপদেষ্টা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও পরিষ্কার সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের আপত্তির মুখে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা আপাতত অনিশ্চিত।