Tag: প্রধান উপদেষ্টা

  • জাতির শোকে স্তব্ধ দেশ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি

    জাতির শোকে স্তব্ধ দেশ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি

    এবিএনএ: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) একদিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিমজ্জিত।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারিয়েছে। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং অগণিত অনুসারীর প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    শোক পালনকালে সবাইকে শৃঙ্খলা ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জানাজা ও অন্যান্য ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার সাহস জুগিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় খালেদা জিয়ার অবিচল অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

    শেষে জাতির এই শোকাবহ সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

  • ভোট ও গণভোট ঘিরে ডিজিটাল সতর্কতা: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    ভোট ও গণভোট ঘিরে ডিজিটাল সতর্কতা: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে দমনের বিকল্প নেই।

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার নাগরিক সেবাগুলোকে দ্রুত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। দেশ ও প্রবাসে এসব সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে হলে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি রেটিং পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেন।

    আর্থিক খাতে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ তালিকা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

    তিনি আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

    সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • হাদি আমাদের বিদায় নেয়নি, সে জাতির চেতনায় বেঁচে থাকবে: জানাজায় আবেগঘন বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    হাদি আমাদের বিদায় নেয়নি, সে জাতির চেতনায় বেঁচে থাকবে: জানাজায় আবেগঘন বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: শহীদ ওসমান শরীফ হাদিকে বিদায় জানাতে নয়, বরং তার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতেই মানুষ একত্র হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “হাদি আমাদের বুকের ভেতরেই আছে। বাংলাদেশ যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন সে আমাদের সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে।”

    শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ হাদির জানাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আবেগঘন কণ্ঠে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারা দেশ থেকে ঢেউয়ের মতো মানুষ এখানে এসেছে। শুধু দেশেই নয়, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরাও এই মুহূর্তে হাদির কথা জানতে, তাকে অনুভব করতে চায়।

    ড. ইউনূস বলেন, “আমরা আজ হাদিকে বিদায় জানাতে আসিনি। আমরা তার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি। সে যে স্বপ্ন, যে দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছে—সেগুলো পূরণ করার অঙ্গীকার করতেই আমরা একত্র হয়েছি।” তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও বহন করবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, হাদির মানবিক রাজনীতি, মানুষের সঙ্গে বিনীত আচরণ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংগ্রামী ভাষা আজ সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে। এসব গুণ যেন জাতির চেতনায় স্থায়ীভাবে জাগ্রত থাকে—সে আহ্বান জানান তিনি।

    হাদির রেখে যাওয়া আদর্শকে “জাতির মন্ত্র” আখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “সে আমাদের মাথা উঁচু করে চলার সাহস দিয়ে গেছে। কারও কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়ে গেছে।” এই শিক্ষা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনে প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিতে গিয়ে হাদি একটি শুদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত রেখে গেছে। কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়, কীভাবে কষ্ট না দিয়ে নিজের কথা বলতে হয়, কীভাবে বিনয়ের সঙ্গে রাজনীতি করতে হয়—সবকিছুই সে শিখিয়ে গেছে।

    শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাদি হারিয়ে যায়নি। সে যুগের পর যুগ আমাদের সঙ্গে থাকবে। আজ আমরা তাকে আল্লাহর হাতে আমানত রেখে গেলাম। তার আদর্শ স্মরণ করেই আমরা জাতির অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাব।”

  • বিজয়ের ৫৪ বছরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা, নীরবতায় স্মরণ বীর শহীদদের

    বিজয়ের ৫৪ বছরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা, নীরবতায় স্মরণ বীর শহীদদের

    এবিএনএ:  মহান বিজয় দিবসের সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান জানান।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধান উপদেষ্টা।

    এই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলের করুণ সুর পরিবেশকে আরও আবেগঘন করে তোলে।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    মহান বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়। ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ছয়টি গান থেকে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদান করা হয়।

    প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে, যা স্বাধীনতার চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছে।

  • জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টাকে বিস্তারিত অবহিত করলেন সিইসি

    জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টাকে বিস্তারিত অবহিত করলেন সিইসি

    এবিএনএ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

    সিইসির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদও। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

    বৈঠকে সিইসি জানান, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন—সব পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচনী পরিবেশ ইতোমধ্যেই অনুকূল হয়ে উঠেছে।

    ইসির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “জাতির প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে ইসিই চালকের আসনে আছে। আমাদের লক্ষ্য একটি নিখুঁত নির্বাচন উপহার দেওয়া, যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক নজির তৈরি করবে।”

    এ ছাড়া সিইসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জনগণ ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশে উৎসবমুখর আমেজ তৈরি করেছে।

  • বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, ড. ইউনূস নিয়মিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসার সকল অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

    ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় সবাই দোয়া করুন। তাঁর অসুস্থতা শুধুমাত্র একটি পরিবার বা দলের বিষয় নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রধান উপদেষ্টা সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে এই ভাষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণ প্রদান করবেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

    সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলমান প্রশাসনিক সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি ও জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দেশের জনগণের প্রতি বার্তা দেবেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের অবস্থান ও আগাম করণীয় বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

    জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে সারা দেশের নজর থাকবে বৃহস্পতিবার দুপুরে।

  • জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি বা গণভোটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নেয় দলগুলো।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হবে, যেখানে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হবে। তবে সেই আলোচনায় ইতিবাচক ফল না এলে আট দলের জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    নেতারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিতে জনগণের প্রত্যাশা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তবে সরকারের নীরবতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও কঠোর হবে।

  • গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিল জামায়াতসহ ৮ দল

    গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিল জামায়াতসহ ৮ দল

    এবিএনএ: গণভোট আয়োজন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচটি দফা দাবি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে আট দলের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

    এর আগে সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় জড়ো হন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা। তারা পদযাত্রা করে পল্টন মোড় পর্যন্ত যান এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন।

    তবে মৎস্য ভবন এলাকায় পৌঁছালে পদযাত্রা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে জামায়াত নেতাসহ আট দলের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

    স্মারকলিপিতে যে পাঁচটি দাবি জানানো হয় তা হলো—
    ১. নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ জারি।
    ২. অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ।
    ৩. নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
    ৪. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
    ৫. রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা না দেওয়া।

    এই দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট।

  • প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ঘোষণা: ফেব্রুয়ারিতেই হবে উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ঘোষণা: ফেব্রুয়ারিতেই হবে উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।

    বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে, যেখানে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়, সেখানে তিনি এই নিশ্চয়তা দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা এমন এক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেখানে মানুষ আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে যাবে। এর জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা সেটি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস আরও বলেন, “আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব সেই সনদের ভিত্তিতে একটি উৎসবমুখর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। যদি আমরা সেটি করতে না পারি, তবে সনদটির গুরুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই সনদের মূল লক্ষ্যই ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। তাই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে সেই সনদের নীতি অনুসরণ করা হবে।”