Tag: প্রধান উপদেষ্টা

  • বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ শ্রমিক নেবে জাপান

    বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ শ্রমিক নেবে জাপান

    ক্রমবর্ধমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নিয়োগের কথা জানিয়েছে জাপানি কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জাপানে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে।’ তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও প্রেরণার দিন। এটি শুধু কাজ করার জন্য নয়, বরং জাপানকে জানারও দ্বার উন্মোচন করবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য।

    সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টা দুটি সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী হন। প্রথমটি বাংলাদেশের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস)-এর মধ্যে, যার একটি জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ; দ্বিতীয়টি বিএমইটি ও জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস (জাপানে ৬৫টির বেশি কোম্পানির একটি ফেডারেশন) এবং জেবিবিআরএ (জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি)-র মধ্যে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানটি একটি দ্বার উন্মোচনের প্রতীক।’ তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের দেশ, যার অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে।
    তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ হলো তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া।’

    শিজুওকার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সমবায়ের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থার প্রতিনিধি পরিচালক মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, ‘অনেক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশিদের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি মেধাবীদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা লালন করা আমাদের দায়িত্ব।

    এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা স্মরণ করেন যে প্রায় ১৪ বছর আগে অধ্যাপক ইউনূস জাপানে এসেছিলেন এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীদের সহায়তার গল্প বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফেডারেশন তরুণ ও দক্ষ শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে দেখছে। তারা উভয় দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে আমরা এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’

    ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে জানান, বাংলাদেশে তাদের প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুল প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়, এবং তারা এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা গ্রহণকারীরা জাপানের চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।’

    জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনি অ্যান্ড স্কিল্ড ওয়ার্কার কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (জেইটিসিও) চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে।

    জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএলডব্লিউ) প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি বলেন, ‘জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সে কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।’ তিনি বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাপানের জন্যও একটি আশাব্যঞ্জক দিক হতে পারে।’

    স্বাগত বক্তব্যে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট এক কোটি ১০ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারে

  • আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে: টোকিওতে প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার

    আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে: টোকিওতে প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ,টোকিও, জাপান:


    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের জুনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    ড. ইউনূস বলেন, “কোনো ধরনের অজুহাত বা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আগামী জুনের মধ্যেই দেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এ লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচন প্রস্তুতিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।”

    তিনি আরও জানান, “আমাদের তিনটি অগ্রাধিকার—সংবিধানসম্মত সংস্কার, বিচারহীনতার অবসান এবং একটি সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন আয়োজন। এগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা অগ্রগতি অর্জন করেছি।”

    জাপান সফরে পৌঁছে তিনি আরও বলেন, “গত দশ মাসে জাপান আমাদের পাশে থেকেছে। আমি এ সফরকে কৃতজ্ঞতা সফর হিসেবে দেখছি। জাপানের সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।”

    তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য আবশ্যক উল্লেখ করে বলেন, জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

    এ সময় জাপানি সংসদ সদস্যরা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষর জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। আগামী আগস্টের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সেপ্টেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করা হচ্ছে। এতে জাপান হবে বাংলাদেশে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গারা অন্য দেশে যেতে চাইছে না। তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়, এটাই সংকটের অনন্য দিক।” তিনি তাদের প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় সহায়তা কামনা করেন।

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

  • দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রোডম্যাপ চাইল জামায়াত

    দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রোডম্যাপ চাইল জামায়াত

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ চেয়েছে তার দল। আজ শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং আমাদের পক্ষ থেকে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে। একটি হলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি ও কার্যকরী প্রস্তুতি এবং অন্যটি হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।”

    তিনি বলেন, দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন এবং প্রশাসন—এই দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

    এ বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন আমির ডা. শফিকুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তারা রাত ৮টার দিকে যমুনা ভবনে প্রবেশ করেন।

    প্রসঙ্গত, এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে একই ভবনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিরপেক্ষ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান আসতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছে দলটি।

  • জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    এবিএনএ: 

    জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’জনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে নাহিদ ইসলাম দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যুত্থানের শঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইউনূসের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আপনার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া রাষ্ট্র ও জাতির জন্য নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”

    সাক্ষাতের বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে শুধু অনুরোধ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই সময়ে আরও দৃঢ় থাকার প্রস্তাব দেন নাহিদ ইসলাম।

    উল্লেখ্য, এর আগে ড. ইউনূস তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাঁরা সংযত না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তারা সংযত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও ইউনূস নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানান, যা শুনে উপস্থিত উপদেষ্টারা তাকে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন।

    দেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে এমন এক সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন একটানা নেতৃত্ব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই নাহিদ ইসলামের অনুরোধ অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


  • স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি আনতে দরকার একসাথে কাজ—ড. ইউনূসের বাস্তব পরামর্শ

    স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি আনতে দরকার একসাথে কাজ—ড. ইউনূসের বাস্তব পরামর্শ

    এবিএনএ:  স্বাস্থ্যখাতে চলমান সংকটের পেছনে একে অপরকে দায়ী না করে সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় সিভিল সার্জন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে শুধুমাত্র বাজেট বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করলে হবে না। আমাদের সিস্টেমে যেসব নিয়ম-কানুন বিদ্যমান, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলেই অন্তত ২৫ শতাংশ উন্নয়ন সম্ভব। এটা করতে হলে সিভিল সার্জনদের মন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।”

    ড. ইউনূস আরও বলেন, “মানবসম্পদ বা যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা অজুহাত না করে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে ফাঁকা অভিযোগ না করে।”

    প্রথমবারের মতো সারা দেশের সিভিল সার্জনদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সম্মেলনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এতোদিন এমন সম্মেলন হয়নি, তা বিস্ময়কর। সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান দুই-স্পষ্ট হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ধরনের সম্মেলন ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়োজন করা গেলে তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি বারবার জানিয়ে আসছে বিএনপি: ফখরুলের বিস্ফোরক বক্তব্য

    ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি বারবার জানিয়ে আসছে বিএনপি: ফখরুলের বিস্ফোরক বক্তব্য

    এবিএনএ:   আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী মানবতাবিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র দিয়েছে বিএনপি। আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে দেওয়া চিঠিতে তাদের পক্ষ থেকে এই দাবি স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ, গুম-খুন দমননীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। কারণে দলটিকে বিচারের আওতায় এনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।

    ১৬ এপ্রিল আবারও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে একই দাবি জানিয়ে চিঠি প্রদান করা হয় বলে জানান ফখরুল। সেই চিঠিতে উল্লেখ ছিল—দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করতে ফ্যাসিবাদী দল তাদের সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করা দরকার।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাই একমাত্র যৌক্তিক পদক্ষেপ। তিনি দাবি করেন, আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সরকারকে আজ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

    ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে এবং দেশের স্বার্থে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

  • ঈদুল আজহায় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা, কর্মজীবীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার

    ঈদুল আজহায় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা, কর্মজীবীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার

    এবিএনএ:  পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের মাঝে এসেছে খুশির সংবাদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের ঈদ উপলক্ষে টানা ১০ দিন ছুটি থাকবে।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছুটির ঘোষণা প্রকাশ করেন।

    যদিও ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে কার্যক্রম সচল রাখতে ১৭ মে ২৪ মে শনিবার অফিস খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার। এই দুই দিন অফিস চালু রেখে কর্মঘণ্টা সামঞ্জস্য করা হবে।

    ঈদুল আজহা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কোরবানির এই উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে থাকে কর্মব্যস্ততা, ভ্রমণ পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন। দীর্ঘ ছুটির ফলে এবার সেই প্রস্তুতিতে গতি আসবে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।

    সরকারি এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী প্রবাসফেরত কর্মজীবীরা। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ ভ্রমণ গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের জন্য এটি এক অসাধারণ সুযোগ।

    এছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ছুটির সময় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

  • ঈদে চামড়ার দাম নিয়ে আর জটিলতা নয়, সিন্ডিকেট রোধে কঠোর হবেন প্রধান উপদেষ্টা

    ঈদে চামড়ার দাম নিয়ে আর জটিলতা নয়, সিন্ডিকেট রোধে কঠোর হবেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গঠন করেছেন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রতি বছর দেখা যায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা চামড়া বিক্রির মাধ্যমে সামান্য উপার্জনের আশা করেন, তারা প্রাপ্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং এই অবস্থার অবসান প্রয়োজন।”

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, চামড়ার বাজারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা কৌশলে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এই সিন্ডিকেটকে ভাঙতেই এই উদ্যোগ।

    চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন তিনি। পশুর প্রতি যেন অমানবিক আচরণ না হয়, সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

    📌 গঠিত কমিটি ও সদস্যরা:
    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ আরও অনেকে।

    প্রধান উপদেষ্টা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ইটিপির সঠিক ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    এছাড়াও, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেন নগরবাসীর জন্য সমস্যা না হয়, সেদিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ঈদে চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।