Tag: তারেক রহমান

  • জামায়াতের রাজনীতি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত: বরকতউল্লা বুলুর কঠোর সমালোচনা

    জামায়াতের রাজনীতি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত: বরকতউল্লা বুলুর কঠোর সমালোচনা

    এবিএনএ:  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু অভিযোগ করেছেন, জামায়াত ইসলামী সবসময় মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে এসেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকা এই দলটি বর্তমানে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে এনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ কোনোভাবেই এসব ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না, বরং যথাসময়ে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

    শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বীর সন্তানদের সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করা হয়।

    বরকতউল্লা বুলু আরও বলেন, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন অস্বীকার করেছে, তাদের ভোটে অংশগ্রহণের নৈতিক অধিকার নেই। বর্তমানে তারা নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি। সেই পথ ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু জামায়াত তাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এজন্য দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যারা একাত্তরে স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছিল, তারাই এখন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে প্রচার করছে। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ১৯৭১ সালে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার জন্য একটি মহল সক্রিয়, যাদের মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া সরকার টিকে থাকতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আসলে নির্বাচন চায় না। এমনকি ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হলে শিবির সংশ্লিষ্ট অনেক নেতাকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি এম গিয়াসউদ্দিন খোকন। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুইয়া, লাকী বরকতউল্লাহ, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, শামীমা ইয়াসমীন মিথিলা, শাহজান মিয়া সম্রাট ও কামাল হোসেন প্রমুখ।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা

    এবিএনএ:  বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিলের রায় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম দিনের শুনানি শেষে এ তারিখ ধার্য করা হয়।

    এর আগে বুধবার ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে আসামিপক্ষের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করেন। এ সময় তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, হাইকোর্টে যে খালাস দেওয়া হয়েছিল সেটিই বহাল থাকবে।

    চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এ রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা বাতিল হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যা ১ জুন আপিল বিভাগে গ্রহণযোগ্য হয়।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও জঙ্গি সংগঠনের নেতারা। একই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং আহত হন দলের শতাধিক নেতাকর্মী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ হামলায় গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার রায় নিয়ে এখনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

  • বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    এবিএনএ:  বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “আজ যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে। কিন্তু এ বাস্তবতা ঠেকাতে নানা রকম অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। অতীতে স্বৈরাচারী শাসকদের মতো বর্তমানেও বিএনপিকে রুখে দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

    তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যারা বিজয় ঠেকাতে শর্তের বেড়াজাল তৈরি করছেন, তাদের বলবো রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবিলা করুন।”

    পিআর পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। তবে রাজনৈতিক মতভেদের মধ্যেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য আছে, যা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

    সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন তারা গণতন্ত্রের উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করছেন। গণতান্ত্রিক শক্তির বিরোধ এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যাতে সুযোগ নেয় পলাতক স্বৈরাচার।”

  • একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    এবিএনএ: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। অন্যদিকে আসামি পক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে মঙ্গলবারও একই বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে বিষয়টি আজকের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছিল।

    এ বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত তখন বলেন, মামলাটি আইনগতভাবে টেকসই ছিল না এবং অভিযোগপত্রটি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

    পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ১ জুন আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দেয়।

    উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

    ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে খালাস দেন।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চলছে, যা মামলার ভবিষ্যৎ বিচারিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ যেন কোনোদিন চরমপন্থা বা মৌলবাদের আশ্রয়স্থল না হয়— এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ যেই স্বৈরাচারকে অল্প কিছুদিন আগে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তার পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্রে উত্তরণে কবি সাহিত্যিকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি মিডিয়া সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় কবিতা পরিষদের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করলেই দেশের মালিকানার প্রকৃত দাবিদার হিসেবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার এখনই সময়।

    কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লেখার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সমালোচনার সুযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা অপরিহার্য। এ ছাড়া দেশে জবাবদিহিমূলক অবস্থা তৈরি করাও এখন সময়ের দাবি।

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে সবার অবস্থান এক হওয়া উচিত। যে স্বৈরাচারকে জনগণ বিদায় দিয়েছে, তার পুনর্জাগরণ রোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    সভায় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সভাপতিত্ব করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ রাজনৈতিক ও সাহিত্য অঙ্গনের অনেকে বক্তব্য দেন।

  • তারেক রহমানের ঘোষণা: স্লোগাননির্ভর রাজনীতির যুগ শেষ, এখন লক্ষ্য কর্মসংস্থান

    তারেক রহমানের ঘোষণা: স্লোগাননির্ভর রাজনীতির যুগ শেষ, এখন লক্ষ্য কর্মসংস্থান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্লোগাননির্ভর রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন দেশের মানুষ বাস্তবসম্মত পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হবে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন।

    আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা দেন।

    তারেক রহমান জানান, দেশের অধিকাংশ জনগণ কর্মক্ষম বয়সে রয়েছে। এই জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করাই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য কারিগরি শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যুব সমাজকে দক্ষ করে তুলতে পারলেই তারা দেশের উন্নয়নে আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।”

    তিনি ‘নতুন কুড়ি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে জানান, এবার এতে খেলাধুলার বিষয়ও যুক্ত থাকবে। ক্রীড়া শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি, যাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ রুমি, শরীফুল ইসলাম খান এবং নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ।

  • তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    এবিএনএ:   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে। দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নির্বাচনী মাঠেও এই ঐক্য বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪২টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রস্তুতি, রোডম্যাপ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমাদের এখন লক্ষ্য গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন। এর জন্য সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, মিত্রদের মতামত শোনার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে তাদের সম্পৃক্ত রাখার পরিকল্পনা করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিগত আন্দোলনে অবদান রাখা প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, বিএনপি মোট ৬৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৬৪টি দল পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করেছিল। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এনসিপি-সহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা নির্বাচনী সহযোগিতা, প্রার্থী বাছাই ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে প্রস্তাব দেন। মিত্রদলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু আন্দোলনে নয়, নির্বাচনের ময়দানেও বিএনপির সঙ্গে থেকে তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

    ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, ন্যাপ ভাসানীসহ বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ঐক্য ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন। বিএনপির নেতৃত্বে এই যৌথ প্রচেষ্টা যে নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা চলছে।

  • অতি শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঐক্যের আহ্বান

    অতি শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঐক্যের আহ্বান

    এবিএনএ:  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই তিনি দেশবাসীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। রবিবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে পুনর্গঠনের পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের রমজানের আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হবে। তবে এরপরও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা স্বৈরাচারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছি।”

    বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসন দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেসব ক্ষেত্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার ও তরুণদের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করবে।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। এজন্য দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে।

  • মতবিরোধ থাকবে, রাজনীতিবিদদের মুখ দেখাদেখি যেন বন্ধ না হয়: তারেক রহমান

    মতবিরোধ থাকবে, রাজনীতিবিদদের মুখ দেখাদেখি যেন বন্ধ না হয়: তারেক রহমান

    বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়অরম্যান তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় র‍্যালি শুরুর আগে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বলতে চাই-বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকবে। এসব মতভেদ দূর করতে আমাদের আলোচনা চলবে। জাতীয় কোনো ইস্যুতে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যাতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ আমি বিশ্বাস করি ধর্ম, দর্শন, মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার। এ সময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন চান তিনি।

    গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের আরো সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, নাগরিকদের কাছে আহ্বান রাখছি, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের সময় আমরা নিরাপদ ছিলাম না। আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ছিল না। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। পুরো বাংলাদেশকে বর্বর বন্দিশালা বানানো হয়েছিল। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন না থাকায় এমন হয়েছিল।

    গণতন্ত্র এবং দেশের জনগণের সামনে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের কারণে আসা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করা গেলে; জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলে,ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পাবে না। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। আর কোনো রক্তাক্ত চব্বিশ আমাদের দেখতে হবে না।

    বিজয় মিছিল আয়োজন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্টের আমলে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আজকের বিজয় মিছিল অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা।

  • গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    এবিএনএ:   বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতেই নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় যুবদলের ৭৮ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্র রুদ্ধ করতে

    মির্জা ফখরুল বলেন,
    “আমরা গত ১৭ বছর ধরে এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। এখন যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

    তিনি বলেন,
    “চেষ্টা চলছে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে গণতন্ত্রের উত্তরণ ব্যাহত করতে। হাসিনা সরকারের নির্যাতন অতিক্রম করে আমরা এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ এসেছি। এখন আমাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ—ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি এবং রাজনীতি পুনর্গঠন।”

    বিএনপিই আগেও দেশ পুনর্গঠন করেছে

    বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, অতীতেও যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখন বিএনপিই দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এখন আবার সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত দলটি।

    রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

    সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন,
    “আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে এগিয়ে যাই। এটাই সময় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার। একযোগে কাজ করলেই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”