Tag: ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ইরানের কাছে এখনো অস্ত্রমান ইউরেনিয়াম! ফের হামলার হুমকি ইসরায়েলের

    ইরানের কাছে এখনো অস্ত্রমান ইউরেনিয়াম! ফের হামলার হুমকি ইসরায়েলের

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা হামলার পরও ইরানের কাছে এখনো রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম—এমন দাবি তুলে ফের উত্তেজনা ছড়াল ইসরায়েল। তেল আবিবের আশঙ্কা, এই ইউরেনিয়ামকে কাজে লাগিয়ে তেহরান পরমাণু বোমা তৈরির পথে অগ্রসর হতে পারে।

    বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরানের বহু সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস হলেও, ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ এখনো সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত আছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট। ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এই ইউরেনিয়াম ব্যবহারের চেষ্টা করে, তাহলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া দিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।

    ২০২৪ সালের ২২ জুন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তখন দাবি করা হয় যে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে গেছে।

    তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, তারা ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি অন্তত এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে দিতে পেরেছে—তবে এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

    ইসরায়েলের মতে, ইরানের ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজের অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও, কিছু ইউরেনিয়াম নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছিল। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাসচিব রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান হামলার আগেই তাদের ইউরেনিয়াম মজুত অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছিল।

    ইসরায়েলি কর্মকর্তা এই দাবিকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে বলেন, “সেই পরিমাণ ইউরেনিয়াম অত দ্রুত সরিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব।”

    তেল আবিবের দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন আগের চেয়ে আরও দ্রুত গতিতে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। গত ১০ মাসে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর তেহরান এই কর্মসূচি জোরদার করেছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

    মার্কিন রাজনীতিতেও ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড মনে করেন, ইরান এখনো পরমাণু বোমা তৈরির পর্যায়ে যায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই বিপরীত দাবি করে আসছেন এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    গত ১৩ জুন থেকে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হাইফা ও তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে কিছু স্পর্শকাতর স্থাপনাতেও আঘাত হানে।

    এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ছয় সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট বরখাস্ত, নিরাপত্তা ব্যর্থতায় প্রশ্নচিহ্ন

    ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ছয় সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট বরখাস্ত, নিরাপত্তা ব্যর্থতায় প্রশ্নচিহ্ন

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর পেনসিলভানিয়ায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় হওয়া হামলার ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ে সিক্রেট সার্ভিসের ছয়জন সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

    সিক্রেট সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, সংশ্লিষ্ট ছয়জন কর্মকর্তাকে ১০ থেকে ৪২ দিনের জন্য ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এজেন্টদের নাম বা বরখাস্তের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

    ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই, বাটলার শহরের একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি ছাদ থেকে গুলি চালানো হয়। ঘটনায় ট্রাম্প আহত হলেও তার এক সমর্থক প্রাণ হারান। গুলিবর্ষণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়।

    এই হামলার জেরে সিক্রেট সার্ভিসের বিরুদ্ধে শুরু হয় ব্যাপক তদন্ত। একাধিক খামতির অভিযোগ ওঠে এবং সংস্থার তৎকালীন পরিচালক পদত্যাগ করেন।

    ট্রাম্প এ বিষয়ে ফক্স নিউজে লারা ট্রাম্পের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যদি ঐ ছাদে একজন নিরাপত্তা কর্মী থাকত, তবে এমন ঘটনা ঘটত না। স্থানীয় পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, এটা মারাত্মক ভুল।”

    বর্তমানে সংস্থার পরিচালক পদে থাকা শন কারান জানান, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একাধিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কংগ্রেসের দেয়া ৪৬টি সুপারিশের মধ্যে ২১টি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানান তিনি। বাকি ১৬টি প্রক্রিয়াধীন এবং ৯টি সংস্থার আওতার বাইরে।

    উল্লেখ্য, এই ঘটনার দুই মাস পরই ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্পের একটি গলফ ক্লাবে দ্বিতীয়বার হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। সেবার একজন অস্ত্রধারী ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে। তবে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের তৎপরতায় হামলার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এরপর থেকেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও নির্বাচনী কার্যক্রমের আশেপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গলফ ক্লাবসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত স্থানে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

    এই ঘটনায় মার্কিন রাজনীতিতে আবারও নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্ন নতুনভাবে উঠে এসেছে।

  • মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য! এবার প্রকাশ্যে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গোপন অডিও, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ট্রাম্প গত বছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই কথাগুলো বলেছিলেন। সিএনএনের হাতে এসেছে সেই বৈঠকের রেকর্ড করা অডিও, যা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অডিওতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোয় বোমা ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও হুঁশিয়ারি দেন যে, তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে বেইজিংও সেই একই পরিণতির শিকার হবে।

    এদিকে, এই অডিও ফাঁসের পরই রাশিয়া ফের এক ভয়াবহ হামলা চালায় ইউক্রেনের ওপর। দেশটির বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৮টি ড্রোন১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যদিও কিয়েভ দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও রাশিয়া তা এখনো গ্রহণ করেনি।

    এদিকে, কিছুদিন আগে পেন্টাগনের ইউক্রেন সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প পুনরায় তা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

    এই অডিও ফাঁস এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়ও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

  • ইলন মাস্কের নতুন “আমেরিকা পার্টি”: তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প

    ইলন মাস্কের নতুন “আমেরিকা পার্টি”: তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও টেসলা-স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ক ঘোষণা করেছেন নতুন রাজনৈতিক দলের—‘আমেরিকা পার্টি’। দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দু’দলের বাইরে নিজেকে প্রকাশের ইঙ্গিত দেন মাস্ক। অবশেষে গত শনিবার এক্স (পুরনো টুইটার) পোস্টে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় দলের প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

    আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে “হাস্যকর” আখ্যা দিয়েছেন। রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,

    “আমাদের সবসময় দ্বিদলীয় ব্যবস্থা ভালো করেই চলে এসেছে। তৃতীয় দল গড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনো যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নয়।”

    ট্রাম্পের পরদিন Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে দেখা যায়,

    “ইলন মাস্ক গত পাঁচ সপ্তাহে যেন ‘ট্রেন দুর্ঘটনায়’ আটকে গেলেন—আমি সত্যিই দুঃখিত।”

    সেক্ষেত্রে মাস্কের গাড়ি-বিশ্বে বৈদ্যুতিক যানবাহন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটিকেও ট্রাম্প থেঁতলে দেন। ট্রাম্প দাবি করেন,

    “ইভি ম্যান্ডেট অনুসারে সবাইকে দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার নির্দেশনা দিতেও চাইছিল। যা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার নয়।”

    ট্রাম্পের নতুন কর ও ব্যয়ের আইনেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ট্যাক্সছার কথা তুলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে ক্রেতারা 자유—গ্যাসচালিত, হাইব্রিড কিংবা ইভি, যেকোন গাড়ি কিনতে পারবেন, কারো ওপর বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নেই।

    মাস্ক ও ট্রাম্প একসময় রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাস্ক ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে বড় ব্যাংকআদান করে সাহায্য করেন। পরে ট্রাম্পের প্রশাসনে মাস্ককে সরকারি দক্ষতা দপ্তরের প্রধান করেছিলেন, যা দ্রুত শেষ হয় মতবিরোধের কারণে।

    মাস্কের তৃতীয় দল গঠন ও ট্রাম্পের কথিত দ্বিদলীতন্ত্র রক্ষা নিয়ে বিতর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘আমেরিকা পার্টি’ কতটা জনপ্রিয়তা পায় এবং মার্কিন নির্বাচনী ময়দানে কী প্রভাব ফেলে।

  • ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিকস জোটে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন—যে কোনো দেশ যদি ‘আমেরিকাবিরোধী’ নীতির অংশ হিসেবে ব্রিকসে যোগ দেয়, তাহলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।

    সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন,
    “যে কোনো দেশ ব্রিকসের আমেরিকাবিরোধী নীতিতে অংশ নেবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে চাইলে বাড়তি ১০% শুল্ক গুণতে হবে। কোনও ব্যতিক্রম থাকবে না।”

    যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি ব্রিকসের কোন নীতিকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলে চিহ্নিত করছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি ব্রিকসের বিস্তৃতি ও মার্কিন ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার কিংবা জ্বালানি বাণিজ্যে ডলার নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগই হয়তো ট্রাম্পের উদ্বেগের কারণ।

    ব্রিকস কী ও কেন বিতর্কে?

    ২০০৯ সালে গঠিত ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) সম্প্রতি আরও ছয়টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া। এই সম্প্রসারণকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বিকল্প জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

    বিশেষ করে রাশিয়া-চীন নেতৃত্বাধীন এই জোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্য কমাতে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে ট্রাম্পের এই হুমকি মূলত ব্রিকসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধেই একটি কৌশলগত অবস্থান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখবে—তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আবার ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যদি কঠোর বাণিজ্যনীতি কার্যকর করেন, তাহলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    শেষ কথা:
    ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণ ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—এই অবস্থানে ব্রিকসভুক্ত এবং সম্ভাব্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু! চলছে রাতভর উদ্ধার অভিযান

    টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু! চলছে রাতভর উদ্ধার অভিযান

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্যান অ্যান্টোনিও শহর ও আশপাশের এলাকা। তীব্র বর্ষণে গুয়াদালুপ নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে নদীতীরবর্তী এক খ্রিষ্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে ২৭ শিশু

    স্থানীয় সময় শুক্রবার, স্যান অ্যান্টোনিও শহরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার বা ২৯ ফুট পানি বেড়ে যায়। ক্যাম্প মিস্টিক নামে পরিচিত সেই গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পটিতে অবস্থান করছিল প্রায় ৭৫০ শিশু। আকস্মিক বন্যার ফলে ক্যাম্পটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    কার কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা ল্যারি লেইথা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। শনিবার সকালে পানি নামা শুরু করলে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    কারভিল শহরের নগর ব্যবস্থাপক ডাল্টন রাইস জানান, ক্যাম্পের ২৭ শিশু এখনো নিখোঁজ এবং তাদের খুঁজে পেতে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    এই উদ্ধার অভিযানে ১ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী অংশ নিয়েছেন, যারা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। গাছের উপরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাহায্যে এগিয়ে এসেছে মার্কিন কোস্টগার্ডও।

    এদিকে, জাতীয় আবহাওয়া পরিষদ (NWS) জানায়, যদিও কার কাউন্টিতে আপাতত জরুরি অবস্থা কমে এসেছে, তবে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি রয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে।”

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, উপড়ে গেছে গাছপালা। আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু কের কাউন্টিতে একরাতে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ

    টেক্সাসজুড়ে এই বন্যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, আর নিখোঁজ শিশুদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অধীর অপেক্ষায় গোটা দেশ।

  • সিনেটে এক ভোটে পাস ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’

    সিনেটে এক ভোটে পাস ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’

    এবিএনএ:  মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’ এক ভোটের ব্যবধানে সিনেট পেরিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫১-৫০ ভোটে গৃহীত হয়। পক্ষে-বিপক্ষে ভোট সমান হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স—তিনি টাই ব্রেকিং ভোট দেন বিলটির পক্ষে।

    বিলটির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট দলের ৪৭ জন সদস্য ভোট দেন। একইসঙ্গে তিন রিপাবলিকান সিনেটর—টম টিলিস (নর্থ ক্যারোলাইনা), সুসান কলিন্স (মেইন) ও র‌্যান্ড পল (কেন্টাকি)—বিপক্ষে অবস্থান নেন। ফলে দলের মধ্যেও মতবিরোধ প্রকাশ পায়।

    বিলে মূলত কর ছাড় সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা খরচ কমানো, সেনাবাহিনীর বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ আরও ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এখন বিলটি পাঠানো হয়েছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। তবে কিছু রিপাবলিকান সদস্য ইতিমধ্যে বিলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাইয়ের আগেই বিলটিতে স্বাক্ষর করে আইনে রূপ দিতে আগ্রহী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করতে চান।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কর ছাড় নীতির সম্প্রসারিত রূপই এই বিল। এতে নতুনভাবে অতিরিক্ত সময়ের আয়ে কর ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনা ব্যয় ও সীমান্ত সুরক্ষার খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।

    তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো—মেডিকেইড ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির বাজেট থেকে প্রায় ৯৩০ বিলিয়ন ডলার কমানো হবে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির জন্য বাইডেন সরকারের দেওয়া সুবিধাও বাতিল হবে এই বিলের আওতায়।

    এই বিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়—প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি কতটা সহজে পাশ হয়।

  • নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট মেয়র নির্বাচিত হলে তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট মেয়র নির্বাচিত হলে তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নিউইয়র্ক সিটির সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, যদি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি মেয়র নির্বাচিত হন এবং ‘উপযুক্ত আচরণ’ না করেন, তবে নিউইয়র্ক আর কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ পাবে না।

    ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “মামদানি জিতলে তা হবে অবিশ্বাস্য ঘটনা। কারণ তিনি প্রকৃত অর্থে একজন কমিউনিস্ট। আমি আগেই বলে রাখছি—যদি তিনি মেয়র হন, তবে আমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে নিউইয়র্ক কোনও অর্থ না পায়।”

    তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মামদানি। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি, আমি কোনোভাবেই কমিউনিস্ট নই। ট্রাম্প আমার পরিচয়, চেহারা এবং উচ্চারণ নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। তিনি চান আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই।”

    মামদানি আরও বলেন, “আমি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের আদর্শে বিশ্বাস করি। নিউইয়র্কের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছি এবং কোনও হুমকি আমাকে থামাতে পারবে না।”

    উল্লেখ্য, মামদানি ধনীদের উপর কর বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, “প্রত্যেকের বিলিয়নিয়ার হওয়ার দরকার নেই।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে মামদানির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে তাকে ‘কমিউনিস্ট উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে গত এক বছরে ফেডারেল সরকার ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। তাই এমন হুমকি নগরবাসীর মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

  • ‘বাবা’র মতো শক্ত কথা বলতেই হয়: ট্রাম্পের গালি নিয়ে যা বললেন ন্যাটো প্রধান

    ‘বাবা’র মতো শক্ত কথা বলতেই হয়: ট্রাম্পের গালি নিয়ে যা বললেন ন্যাটো প্রধান

    এবিএনএ:  ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের নেতারা জড়ো হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেগে। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের কড়া ও বিতর্কিত ভাষা নিয়েই উঠে আসে নতুন বিতর্ক।

    মঙ্গলবার ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা এতদিন ধরে লড়ছে যে নিজেরাই জানে না কী করছে।” এ সময় তিনি একটি অশোভন শব্দ ব্যবহার করে হঠাৎই সামনে হাঁটতে শুরু করেন।

    পরদিন বুধবার ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট্টে এ বিষয়ে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “বাবাকে মাঝে মাঝে শক্ত ভাষা ব্যবহার করতেই হয়।” ট্রাম্পও তখন যোগ করে বলেন, “আমাদের মাঝে মাঝে কিছু কঠিন শব্দ ব্যবহার করতেই হয়।”

    ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এটা অনেকটা দুই শিশুকে এক স্কুল মাঠে রেখে দেওয়া— যারা একে অপরের সঙ্গে নরকের মতো লড়াই করে। কিছু সময় তাদের লড়তে দিতে হয়, তারপর থামানো সহজ হয়।”

    এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন ভাষা প্রয়োগ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা লঙ্ঘনের শামিল।

    তবে ট্রাম্পের ভাষার পেছনে ‘ব্যক্তিত্বগত কৌশল’ আছে বলেই মনে করেন তার অনেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ন্যাটো সম্মেলনে তার মন্তব্য নতুন করে প্রমাণ করল যে ট্রাম্প এখনও রাজনৈতিক মঞ্চে তার স্বভাবসুলভ কড়া কণ্ঠেই বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য শুধু একটি মন্তব্য নয়— এটি তার ভবিষ্যৎ কৌশল এবং শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

  • ইরানের বাবলসারে বিস্ফোরণের শব্দ, যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    ইরানের বাবলসারে বিস্ফোরণের শব্দ, যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইরানের উত্তরের শহর বাবলসারে মঙ্গলবার রাতের দিকে আকস্মিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত জোরালো এবং বিস্ফোরণের পর আকাশে অস্বাভাবিক আলো দেখা গেছে। ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা না গেলেও সামরিক তৎপরতার আশঙ্কা বাড়ছে।

    এরই মধ্যে ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকারিভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান ভয়ানকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

    তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি ও ইসনা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর তেহরান থেকে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়নি। ইরানের সামরিক প্রধান আবদুলরহিম মুসাভি দাবি করেন, তারা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং উসকানিতে সাড়া দিচ্ছে না।

    এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, ইরান ও ইসরায়েল পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “উভয় দেশকে বলছি, কেউ এই চুক্তি ভঙ্গ করবেন না।”

    তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্পষ্ট হয়েছে, উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি। ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।