Tag: ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিলে ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক: ‘বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে’

    ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিলে ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক: ‘বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে’

    এবিএনএ :

    মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক বিল নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ জানালেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত এই বিলটি স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে, যা এখন সিনেটের অপেক্ষায় রয়েছে।

    বিলটিতে বিপুল পরিমাণ কর ছাড় এবং প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই বিল বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আমি খুব হতাশ।”

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ৬০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মাস্কের ভাষায়, “একটি বিল বড় এবং সুন্দর হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে দুটো নয়।”

    ইলন মাস্ক পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডিওজিই (ডোজ)-এর প্রধান ছিলেন। এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক খরচে সাশ্রয় আনা। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন বিল সেই উদ্যোগকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন মাস্ক।

    তিনি জানান, তিনি ইতোমধ্যেই ডিওজিই থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার নেতৃত্বে এ প্রকল্প প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করলেও, কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

    মাস্ক বলেন, “আমি যা করেছি, সেটি প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সরকারের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ধরে রাখতে হলে এখনকার বিল সম্পূর্ণ বিপরীত দিকেই যাচ্ছে।”

    এছাড়া মাস্ক ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অনুদান কমিয়ে দেওয়ার এবং অন্তত আরও পাঁচ বছর টেসলার নেতৃত্বে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    ডিওজিই-তে কাজ করার সময় মাস্ক সমালোচনার মুখে পড়েন—বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের সিদ্ধান্তের কারণে। এ সময় টেসলার বিক্রিতে ধস নামে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়।

    তবুও মাস্কের দাবি, “এই সংস্কারগুলি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এখন যে বিলটি পাস হয়েছে, তা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত।”


  • গাজাকে স্বাধীনতা অঞ্চল বানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, ফের বিতর্কিত মন্তব্য ট্রাম্পের

    গাজাকে স্বাধীনতা অঞ্চল বানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, ফের বিতর্কিত মন্তব্য ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কাতারের রাজধানী দোহায় এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে সেখানে ‘স্বাধীনতা অঞ্চল’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সকল মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

    ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় গাজার জন্য কিছু ভালো পরিকল্পনা রয়েছে। চলুন এটিকে একটি স্বাধীনতা অঞ্চলে রূপান্তর করি। যুক্তরাষ্ট্র এতে যুক্ত হোক, আমি গর্বিত হবো যদি আমরা গাজাকে রূপান্তর করতে পারি এমন একটি স্থানে, যেখানে মানুষ নিরাপদ বাড়িতে বাস করতে পারবে। সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি।”

    তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে আগে হামাসকে পরাজিত করতে হবে। তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাস পরিচালিত ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’-এর ঘটনাকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ট্রাম্প বলেন, “হামাসের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন। ইতিহাসে অক্টোবর দিনটি ছিল অন্যতম ভয়ানক। এটি শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই ছিল এক নিষ্ঠুর দিন। আমি মনে করি এমন বর্বরতা আগে কখনো দেখা যায়নি।”

    তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, গাজা উপত্যকা নিয়ে এমন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন গাজাবাসীর অধিকারকে অগ্রাহ্য করে।

  • যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ডলার, তাকেই করমর্দন করলেন ট্রাম্প!

    যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ডলার, তাকেই করমর্দন করলেন ট্রাম্প!

    এবিএনএ:  যে নেতার মাথার দাম ছয় মাস আগেও ছিল কোটি মার্কিন ডলার, সেই আহমেদ আল-শারার সঙ্গেই হাত মেলালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারা আজ আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    সিরিয়ার সাবেক যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী তকমা পাওয়া নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি এখন পরিচিত আহমেদ আল-শারা নামে। তিনি নেতৃত্ব দেন হায়াত তাহরির আল-শামকে—যা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট আল-নুসরা ফ্রন্ট থেকে জন্ম নিয়েছিল।

    ডিসেম্বরে হায়াত তাহরির আল-শাম সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। শারা ক্ষমতায় আসার পরপরই কূটনৈতিকভাবে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে উদ্যোগী হন।

    এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই সিরিয়ার নতুন সরকারকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এবং ‘অ-যুদ্ধমুখী’ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা শুরু করেন শারা। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলস্বরূপ, ডিসেম্বরে দামেস্ক সফরে আসে একটি উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র শারার বিরুদ্ধে জারি করা কোটি ডলারের পুরস্কার বাতিল করে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প শারার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা মিনিটে, যা শেষ হয় ৩৩ মিনিট পর। এই বৈঠককে ট্রাম্প ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একটি নতুন সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    আন্তর্জাতিক মহলে এই বৈঠক সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন নতুন কূটনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে, আবার কেউ একে আখ্যা দিচ্ছেন “অবাক করা কৌশলগত পলিসি শিফট”।

    এক সময় যাকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, এখন সেই নেতার হাতেই বিশ্বশক্তির নেতারা রাখছেন বিশ্বাসের বার্তা।

  • শুল্কযুদ্ধের ধাক্কা: আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি মার্চ মাসে

    শুল্কযুদ্ধের ধাক্কা: আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি মার্চ মাসে

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শুল্কযুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বাণিজ্য দপ্তর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে আমেরিকার মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ দশমিক বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক ১৯৯২ সালের পর থেকে একক মাসে সর্বোচ্চ ঘাটতির রেকর্ড। ফেব্রুয়ারিতে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১২৩.২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাত্র এক মাসেই বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় মার্কিন আমদানিকারকেরা আগেভাগেই পণ্যের জোগান বাড়িয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউস জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর স্থগিত রেখেছে, তবু বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার তাগিদে ব্যবসায়ীরা আগেই পণ্য আমদানি করে ফেলেছেন।

    মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ২৭৮ দশমিক বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতির ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে তীব্র উল্লম্ফন দেখা গেছে। মার্চ মাসে এই খাতে আমদানি বেড়েছে ২২ দশমিক বিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক ঘাটতি বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল মার্চ মাসে ঘাটতি দাঁড়াবে আনুমানিক ১৩৭.৬ বিলিয়ন ডলার। বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি হয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এই নতুন পরিসংখ্যান মার্কিন শুল্ক নীতির ফলাফল বিশ্ববাজারে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • নিজ দেশে ফিরলেই মিলবে ১ হাজার ডলার ও ফ্রি বিমান টিকিট — ট্রাম্প প্রশাসনের চমকপ্রদ প্রস্তাব

    নিজ দেশে ফিরলেই মিলবে ১ হাজার ডলার ও ফ্রি বিমান টিকিট — ট্রাম্প প্রশাসনের চমকপ্রদ প্রস্তাব

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অভূতপূর্ব এক সুযোগ নিয়ে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাবেন, তাদেরকে নগদ এক হাজার ডলার প্রদানের পাশাপাশি বিমানের টিকিটও বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েম।

    মে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যারা নিজ ইচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা গ্রেফতার আটককেন্দ্রের আতঙ্ক ছাড়াই নিরাপদে ফেরার সুযোগ পাবেন। এই বিশেষ সুবিধা নিতে আগ্রহীদের CBP Home অ্যাপএর মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রী নয়েম বলেন, “যদি কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া হবে সবচেয়ে নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী উপায়।”

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতির বাস্তবায়নে সরকার প্রতি অভিবাসী বাবদ গড়ে ৭০ শতাংশ খরচ সাশ্রয় করতে পারবে। বর্তমানে, একজন অভিবাসীকে গ্রেফতার থেকে দেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত খরচ হচ্ছে গড়ে ১৭ হাজার ডলারের বেশি।

    প্রসঙ্গত, বাইডেন প্রশাসনের চালু করা CBP One মোবাইল অ্যাপকে গত মার্চে রূপান্তর করা হয়েছে CBP Homeএ। যদিও এতদিন অ্যাপটির তেমন ব্যবহার হয়নি, তবে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণার পর আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। যদিও পূর্ববর্তী প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় এবার উদ্ভাবনী কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে মিলিয়ন ডলার বিনিময়ে গ্রিনকার্ড প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও তা উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলতে পারেনি।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অনেকের কাছেই নিরাপদ মনে না হওয়ায় অনেকেই স্বেচ্ছায় ফেরার পথ খুঁজছেন বলে মত দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মহল।

  • ট্রাম্পের প্রথম ১০০ দিন: ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে পাল্টাচ্ছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি

    ট্রাম্পের প্রথম ১০০ দিন: ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে পাল্টাচ্ছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি

    আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বজুড়ে শুল্কযুদ্ধ, মিত্র বিচ্ছিন্নতা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সংকট

    এবিএনএ:


    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রথম ১০০ দিন অতিক্রম করেছেন। এই সময়ে তিনি বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন, বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছেন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে নেটো মিত্রদের উপেক্ষা করে রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছেন। এমনকি গ্রিনল্যান্ড, পানামা খাল অধিগ্রহণ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

    ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে ট্রাম্প মিত্রদের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপক্ষদের শক্তিশালী করে তুলেছেন। তার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। সমালোচকরা বলছেন, দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার অবনতি এবং আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপও এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বিশ্বব্যবস্থায় অস্থিরতা

    রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে থেকে যেতে পারে। যদিও নমনীয়তা দেখালে কিছু ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকতেও পারে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তিনি শুল্ক আরোপের সময়সূচি ও মাত্রা কিছুটা নমনীয় করেছেন, বিশ্লেষকরা বলছেন বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। অনেক দেশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

    ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে চীনের সাথে অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়েও চিন্তা শুরু হয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ বলেছেন, ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আলোচনায় এনেছেন, ফেন্টানিল প্রবাহ রোধ করছেন এবং চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে মার্কিন শ্রমিকদের রক্ষা করছেন।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝড়ের আশঙ্কা

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, গত আট দশকে গড়ে ওঠা মুক্তবাণিজ্য, আইনের শাসন এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিশ্বব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। মুক্তবাণিজ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বৈশ্বিক শুল্কনীতি ঘোষণা করেছেন, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ডলারের মূল্য কমেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার শঙ্কা বেড়েছে।

    একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তিনি ন্যাটো-সমর্থিত ইউক্রেনকে ভূখণ্ডের দাবি ছাড়তে বাধ্য করতে পারেন।

    ইউরোপের উদ্বেগ

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ সতর্ক করেছেন, ইউরোপ এখন সংকটময় মুহূর্তের মুখোমুখি। তিনি বলেন, যদি ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ‘আমেরিকা একা’ নীতিতে রূপান্তরিত করেন, তবে ইউরোপের জন্য সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হবে।

    ট্রাম্পের সম্প্রসারণবাদী বক্তব্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও পানামা খাল অধিগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কূটনীতির ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধ

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জার্মানি ও ফ্রান্স প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাবে। কানাডাও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু দেশ চীনের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার দিকেও এগোতে পারে। ইতোমধ্যে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বেইজিং সফর করেছেন।

    ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

    বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার মনে করেন, এখনো সবকিছু হারিয়ে যায়নি। ট্রাম্প চাইলে পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে যদি তিনি কঠোর অবস্থানে অনড় থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে যাবে।

    মিলার বলেন, “বন্ধুদের সাথে সম্পর্কের ক্ষতি এবং প্রতিপক্ষদের সুবিধা গ্রহণের পরিমাণ এখনই পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব হচ্ছে না।”