Tag: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • চার আসনে একযোগে মনোনয়ন সংগ্রহ, বাগেরহাটে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় সিলভার সেলিম

    চার আসনে একযোগে মনোনয়ন সংগ্রহ, বাগেরহাটে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় সিলভার সেলিম

    এবিএনএ,বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আরও একটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সিলভার সেলিম। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বাগেরহাট–৩ সংসদীয় আসনের (রামপাল–মোংলা) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

    সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে তাঁর অনুসারীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই তাঁর মনোনয়ন সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।

    এর আগে তিনি বাগেরহাট–১ (ফকিরহাট–মোল্লাহাট–চিতলমারী), বাগেরহাট–২ (সদর–কচুয়া) এবং বাগেরহাট–৪ (শরণখোলা–মোরেলগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ রামপাল–মোংলা আসন যুক্ত হওয়ায় চার আসনেই তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়েছে।

    মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা চারটি আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা বাগেরহাটের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।” তিনি আরও জানান, সিলভার সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেবেন—সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    এদিকে জেলার কয়েকটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাগেরহাট–১, ২ ও ৪ আসনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, বাগেরহাট–১ ও ৪ আসনে মনোনীত প্রার্থীরা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় তারা এ মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করছেন।

  • বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে একযোগে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের কাছ থেকে তিনি বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লহাট-চিতলমারী), বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বাগেরহাটের তিনটি সংসদীয় আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন তিনি আবারও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পান। তবে মনোনয়নপত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

    এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে-কে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম এবং বাগেরহাট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট বালী নাসের ইকবালের নাম উঠে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ কারণে তারা ওই প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করছেন বলে জানিয়েছেন।

  • দেশে ফেরার দুই দিনের মাথায় ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান, নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় বার্তা বিএনপির

    দেশে ফেরার দুই দিনের মাথায় ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান, নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় বার্তা বিএনপির

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে জানিয়েছে দলটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পরপরই ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি।

    এর আগে বিকেল তিনটার দিকে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে। প্রতিনিধি দলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ অংশ নেন।

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে কারণেই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আগাম আলোচনা করেছে বিএনপি।

    তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও ভোটার হওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির কৌশলগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব তথ্য নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

    এর আগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবও অংশ নেন। এর আগে একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা তফসিল ঘোষণার পর তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ইসির প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

  • সংসদ নির্বাচনের সূচিতে বদল: তফসিলের গুরুত্বপূর্ণ তারিখে আংশিক সংশোধন আনল ইসি

    সংসদ নির্বাচনের সূচিতে বদল: তফসিলের গুরুত্বপূর্ণ তারিখে আংশিক সংশোধন আনল ইসি

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলে আংশিক সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও তথ্য সংশোধন করে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    শনিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে সংশোধিত এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে মূলত তিনটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।

    সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১-এর দফা (১) অনুযায়ী জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন সদস্য নির্বাচনের সময়সূচি সংবলিত গেজেটে সংশোধন আনা হয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ গেজেটের ১৩৩০৫ পৃষ্ঠায় সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের অধীন উল্লেখিত কিছু শব্দ ও চিহ্ন বাতিল করা হয়েছে। একই পৃষ্ঠায় মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত ২১–২৭ পৌষ (৫–১১ জানুয়ারি), সোমবার থেকে রবিবার সময়সীমার পরিবর্তে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১–২৫ পৌষ (৫–৯ জানুয়ারি), সোমবার থেকে শুক্রবার।

    অন্যদিকে, গেজেটের ১৩৩০৬ পৃষ্ঠায় আপিল নিষ্পত্তির তারিখেও সংশোধন আনা হয়েছে। আগে নির্ধারিত ২৮ পৌষ–৪ মাঘ (১২–১৮ জানুয়ারি), সোমবার থেকে রবিবার সময়ের পরিবর্তে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ পৌষ–৪ মাঘ (১০–১৮ জানুয়ারি), শনিবার থেকে রবিবার।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন কার্যক্রমকে আরও সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী করতে এসব সংশোধন আনা হয়েছে।

  • নির্বাচনে বড় পরিবর্তন: ফেরারি আসামি অযোগ্য, বাধ্যতামূলক হলো ‘না ভোট’

    নির্বাচনে বড় পরিবর্তন: ফেরারি আসামি অযোগ্য, বাধ্যতামূলক হলো ‘না ভোট’

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে। সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে নতুন বিধান কার্যকর হবে।

    বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নতুন সংশোধনীতে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি আসামিরা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রার্থী যদি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন বা তথ্য গোপন করেন, কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এমনকি নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে।

    এবার থেকে ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি চাইলে সরাসরি ভোটগ্রহণ বন্ধ বা চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হতো।

    আরেকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হলো ‘না ভোট’ বাধ্যতামূলক করা। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেও তাকে সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে না। প্রার্থীকে অবশ্যই ‘না ভোট’-এর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। যদি দেখা যায় ‘না ভোট’ বেশি পড়েছে, তবে পুনঃতফসিল ঘোষণা হবে।

    সংশোধনীতে আরও যুক্ত হয়েছে—

    • ইভিএম পুরোপুরি বাতিল এবং পোস্টাল ব্যালট চালু। এতে প্রবাসী ভোটার, সরকারি কাজে বাইরে থাকা কর্মকর্তা, কারাগারে থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

    • নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা বা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা (যেটি বেশি হবে)।

    • প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা

    • পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব প্রচার নিশ্চিতকরণ।

    • নির্বাচনি এজেন্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার হতে হবে।

    • প্রার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা সদস্য হলে নির্বাচন করতে পারবেন না।

    এছাড়া সাংবাদিকরা এবার থেকে ভোটগণনার সময় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের আশা, এসব সংশোধনী নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং জনগণের আস্থার উপযোগী করবে।

  • সংসদ নির্বাচনে নতুন ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, ডিসি-এসপি কমিটি বাতিল ও ইভিএম বাদ

    সংসদ নির্বাচনে নতুন ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, ডিসি-এসপি কমিটি বাতিল ও ইভিএম বাদ

    এবিএনএ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার ‘ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি, যেখানে বাদ পড়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ইউএনও এবং ওসির সমন্বয়ে গঠিত পূর্বের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ কমিটি। এবার ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দায়িত্ব থাকবে এককভাবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতে।

    নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ বা পুনর্বিন্যাসে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা থাকছে না। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা।

    পূর্ববর্তী ২০২৩ সালের নীতিমালায় জেলা পর্যায়ে ডিসি ও এসপিদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হতো। তবে সেই প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

    গত ২১ মে, নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশনের পঞ্চম সভায় নতুন এই নীতিমালাটি অনুমোদন পায়। সভা শেষে কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, “কমিটিভিত্তিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের পুরো বিষয়টি এবার নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যেহেতু এবারের নির্বাচনে ইভিএম থাকছে না, তাই ইভিএম সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাতিল করা হয়েছে।”

    নতুন নীতিমালায় নির্ধারিত হয়েছে, প্রতিটি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র এবং গড়ে ৫০০ পুরুষ ও ৪০০ নারী ভোটারের জন্য পৃথক ভোটকক্ষ থাকবে।

    এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

  • রোডম্যাপ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া কঠিন, সরকারকে বিএনপির স্পষ্ট বার্তা

    রোডম্যাপ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া কঠিন, সরকারকে বিএনপির স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ, ঢাকা:

    আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে সরকারের সঙ্গে বিএনপির সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

    মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

    “জুলাইয়ে ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা আজও জনগণের মাঝে জাগ্রত। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক রোডম্যাপই হওয়া উচিত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম এজেন্ডা।
    সেই রোডম্যাপ ঘোষণায় দেরি হলে সরকারকে আর সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ার করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

    সংক্ষিপ্ত দাবিসমূহ:

    • ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ গঠন

    • নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত

    • জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা

    • অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিক

    বিএনপি বারবার দাবি করে আসছে, জনগণের পূর্ণ আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই অবস্থান নির্বাচনপূর্ব আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।