Tag: জাতীয় নির্বাচন

  • জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টাকে বিস্তারিত অবহিত করলেন সিইসি

    জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টাকে বিস্তারিত অবহিত করলেন সিইসি

    এবিএনএ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

    সিইসির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদও। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

    বৈঠকে সিইসি জানান, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন—সব পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচনী পরিবেশ ইতোমধ্যেই অনুকূল হয়ে উঠেছে।

    ইসির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “জাতির প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে ইসিই চালকের আসনে আছে। আমাদের লক্ষ্য একটি নিখুঁত নির্বাচন উপহার দেওয়া, যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক নজির তৈরি করবে।”

    এ ছাড়া সিইসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জনগণ ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশে উৎসবমুখর আমেজ তৈরি করেছে।

  • নির্বাচন প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন, তফসিল কবে—এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি সচিবের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

    নির্বাচন প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন, তফসিল কবে—এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি সচিবের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে ভোটের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, তা এখনো নির্ধারণে আসেনি বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই)-এ সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। কর্মশালাটি আয়োজন করে ইউএনডিপি ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।

    ইসি সচিব বলেন, “সকালে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ মিটিং হয়েছে। সেখানে ভোট আয়োজনের লজিস্টিক, নিরাপত্তা, কর্মকর্তা প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’’
    তিনি আরও বলেন, “ইসি কতটুকু প্রস্তুত—এই প্রশ্নের উত্তর একটাই, আমরা এখন শতভাগ প্রস্তুত।”

    তবে নির্বাচনকালীন সবচেয়ে প্রত্যাশিত অংশ ‘তফসিল’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এখনো পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”

    কর্মশালায় ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২’, ‘আচরণবিধিমালা ২০০৮’ ও ‘নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন ১৯৯১’-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেন আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিসম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

  • আরও ৩৬ আসনে বিএনপির নতুন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রস্তুতিতে গতি

    আরও ৩৬ আসনে বিএনপির নতুন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রস্তুতিতে গতি

    এবিএনএ:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আরও গতি এনেছে। প্রথম দফায় ২৩৭ আসনের প্রার্থীদের নাম প্রকাশের পর এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন প্রার্থী তালিকা তুলে ধরেন।

    ঘোষণা অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ডা. আব্দুস সালাম, দিনাজপুর-৫ এ এ কে এম কামরুজ্জামান, নওগাঁ-৫ এ জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং নাটোর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির হয়ে।

    সিরাজগঞ্জ-১ এ সেলিম রেজা, যশোর-৫ এ এম ইকবাল হোসেন, নড়াইল-২ এ মনিরুল ইসলাম, খুলনা-১ এ আমির এজাজ খান, পটুয়াখালী আসনে মোহাম্মদ শহিদুল আলম তালুকদার, বরিশাল-৩ এ জয়নাল আবেদীন ও ঝালকাঠি-১ আসনে রফিকুল ইসলাম জামাল মনোনয়ন পেয়েছেন।

    টাঙ্গাইল-৫ এ সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ময়মনসিংহ-৪ এ আবু ওহাব আখন্দ ওয়ালিদ, কিশোরগঞ্জ-১ এ মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ এ শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, মানিকগঞ্জ-১ এ এস এ জিন্নাহ কবির এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ এ মো. কামরুজ্জামান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনীত হয়েছেন—ঢাকা-৭ এ হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ এ হাবিরুর রশিদ, ঢাকা-১০ এ শেখ রবিউল আলম এবং ঢাকা-১৮ এ এম এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

    গাজীপুর-১ এ মজিবুর রহমান, রাজবাড়ী-২ এ হারুন অর রশিদ, ফরিদপুর-১ এ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, মাদারীপুর-১ এ নাদিরা আক্তার এবং মাদারীপুর-২ আসনে জাহান্দার আলী খান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে নামবেন।

    এ ছাড়া সুনামগঞ্জ-২ এ নাসির হোসেন চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-৪ এ নুরুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় পর্যায়ের এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

    তালিকা দেখতে ক্লিক করুন…

    https://www.facebook.com/bnpbd.org/posts/1427358545419737?ref=embed_post

  • ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাবনা, ইসির ইঙ্গিত চূড়ান্তের পথে

    ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাবনা, ইসির ইঙ্গিত চূড়ান্তের পথে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভোটগ্রহণের একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও তুলে ধরেন।

    ইসির এই ইঙ্গিত অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে এ সময়ের দু-এক দিন আগে বা পরে তারিখ নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়টিই নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আগামী ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের সভায় তফসিলসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বরের দিকেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।

    একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কারণে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের কথাও ভাবছে নির্বাচন কমিশন। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের সুবিধা বিবেচনায় গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ভোট শুরুর সময় সাড়ে ৭টায় এগিয়ে আনা এবং শেষ হওয়ার সময় সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, একই দিনে দুটি বড় প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে গেলে ভোটারদের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

  • ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জনসম্পৃক্ত না হয়েও ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে—আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ।” তবে তিনি দাবি করেন, ইসলামি দলগুলোর বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেনি।

    সোমবার বিকেলে খুলনা নগরের ঐতিহাসিক শিববাড়ী মোড়ে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আটটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশেষ করে ৩৫ বছরের নিচের তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে যারা ভোট দিতে পারেননি, তারা এবার নিজের অধিকার নিয়ে আপস করবেন না। তিনি বলেন, “তোমাদের ভোট নিয়ে কেউ ছিনিমিনি করলে আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজনে ভোটের অধিকার রক্ষায় রাজপথে লড়াই করব।”

    তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলো যেন তোমরা শুধু চাকরি না করে, চাকরি দেওয়ার মানুষ হও।”

    দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে দুটি ধারায় শিক্ষা চলছে—মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা। তার মতে, মাদ্রাসায় জ্ঞানচর্চা হয়, সহিংসতা হয় না। পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পরিবেশ অনেক সময় অস্থির হয়ে উঠে, যা সভ্য সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের দলীয় পোস্টার-পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হলেও জনগণ এখন আর পোস্টার দেখে ভোট দেয় না। তারা হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি ঘোষণা দেন, আট দলের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য জাতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণজাগরণ ঘটানোর হুঁশিয়ারিও দেন।

  • হিংসার রাজনীতি নয়, শান্তি ও উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে ধানের শীষে ভোট দিন: মির্জা ফখরুল

    হিংসার রাজনীতি নয়, শান্তি ও উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে ধানের শীষে ভোট দিন: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি রাজনৈতিক শক্তি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তবে দেশের মানুষ এখন শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। তারা আর কোনোভাবেই হিংসার রাজনীতি বরদাশত করবে না। মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনের জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া একজন পরীক্ষিত ও সৎ প্রার্থী। ধানের শীষের প্রতীকেই তাঁকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে, যাতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার মাগরিবের নামাজের পর চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর সুইহারীবাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    পথসভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন খানসামা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বিএসসি, সাইদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, সফিকুল ইসলাম, রবিউল আলম তুহিন, সাখাওয়াত হোসেন লিটন, চিরিরবন্দর বিএনপি নেতা নুর আলম সরকার দুলু, আলহাজ্ব মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

    পথসভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ ছাত্রদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রস্তুতি: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা নিশ্চিত করল ইসি

    স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রস্তুতি: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা নিশ্চিত করল ইসি

    এবিএনএ:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই ঘোষণা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান।

    ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “এবারের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কেউ যদি বিচ্যুতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তাকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্ভুল করতে পর্যবেক্ষকদের আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    পর্যবেক্ষকদের সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা পক্ষপাতিত্ব করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তফসিল ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ভুয়া পর্যবেক্ষক চিহ্নিত করতে এবার প্রথমবারের মতো পরিচয়পত্রে কিউআর কোড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি জানান, বিদেশি কেউ দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না। তাদের নিজস্ব আইন ও নিয়ম মেনে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন নিতে হবে।

    সংলাপে উপস্থিত পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ প্রবেশের নিশ্চয়তা, ভোটের তিন দিন আগে পরিচয়পত্র সরবরাহ, পোস্টাল ব্যালট পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

    সবশেষে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, সকল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও কঠোর নজরদারিতে সম্পন্ন করা হবে, যেন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়।

  • গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা এলেও, এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা অধ্যাদেশ জারি হলে তবেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারবে।

    বুধবার নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন। তিনি জানান, গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বারবার প্রশ্ন এলেও, আইন ছাড়া এখন এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

    সংলাপে সিইসির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ও বাসদ মার্কসবাদীসহ ছয়টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এদিনের সংলাপ। চার দিনে মোট ৪৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন।

    সমাপনী বক্তব্যে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে ঘোষণা এলেও, আইন না হলে ইসির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু হয় না। আইনের মাধ্যমে বলা হবে—কী বিষয়ে ভোট হবে, কতগুলো ব্যালট বাক্স লাগবে, কীভাবে ভোট গ্রহণ হবে, এগুলো সবই নির্ধারণ করবে সেই আইন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। তবে আমাদের চলতে হবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার আলোকে। তাই ধীরে সুস্থে, কম কথায় বেশি কাজ করার নীতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’

    সিইসি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসি প্রস্তুত রয়েছে দক্ষতার সঙ্গে যে কোনো নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য, তবে আইনি কাঠামো ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার আলোকে আমরা স্লো অ্যান্ড স্টেডি অগ্রযাত্রায় আছি। এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগোতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ সামনে আরও এগোবো।’

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জামায়াত আমিরের—‘ফাউল গেমে যেন কেউ না জড়ায়’

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জামায়াত আমিরের—‘ফাউল গেমে যেন কেউ না জড়ায়’

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই হামলায় দলের কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন এবং আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

    বৃহস্পতিবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, “চট্টগ্রামে একজন নির্বাচনী প্রার্থী ও তার সহকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া জরুরি।”

    তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে কেউ যেন ‘ফাউল গেম’ খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এমন সুযোগে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা সমাজ ও রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক।”

    জামায়াত আমির মনে করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু বুধবারের এই হামলার ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা: দ্রুত গ্রেফতারের দাবি মির্জা ফখরুলের

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা: দ্রুত গ্রেফতারের দাবি মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালীন দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে নগরীর হামজারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, এ সময় আরও একজন যুবকও গুলিবিদ্ধ হন।

    এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রার্থীর ওপর এই ধরনের হামলা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টা।” তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    বুধবার সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি সমর্থকদের সঙ্গে গণসংযোগে ছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, “আমরা হামলার খবর পেয়েছি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

    উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এরশাদ উল্লাহর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার মাত্র দুই দিন পরই তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।