Tag: জাতীয় নির্বাচন

  • ঢাকার কোন আসনে কত ভোটার স্থানান্তর? নির্বাচন ঘিরে বিএনপি–ইসির মুখোমুখি অবস্থান

    ঢাকার কোন আসনে কত ভোটার স্থানান্তর? নির্বাচন ঘিরে বিএনপি–ইসির মুখোমুখি অবস্থান

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপির দাবি, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ অভিযোগ নাকচ করে বলছে, এই স্থানান্তর সম্পূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী এবং স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে সারা দেশে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলে ভোটার স্থানান্তর করেছেন ৮৬ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন মোট ৪৯ হাজার ৯৯২ জন।

    ঢাকার হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৩ হাজার ৩৯ জন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঢাকা-১১ আসনে ৩ হাজার ১৪১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার।

    ইসির তালিকা অনুযায়ী, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-১ আসনে—৪ হাজার ৭৩২ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-৭ আসনে, যেখানে সংখ্যা মাত্র ৬৭৬ জন।

    ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সাভার, কেরানীগঞ্জ, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা নিয়ে গঠিত ২০টি আসনে ভোটার স্থানান্তরের হার ভিন্ন ভিন্ন হলেও ইসি বলছে, কোথাও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি চোখে পড়েনি।

    এদিকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য চাইলেও প্রাপ্ত তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, কিছু হোল্ডিং নম্বরে ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা ভুয়া ভোটার সংযোজন বা পরিকল্পিত ভোটার মাইগ্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।

    তবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সারা দেশে যে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, তা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কোথাও ব্যাপক বা অস্বাভাবিক হারে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসির হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন।

    ঢাকার বাইরে দেশজুড়ে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে—যা এবারের নির্বাচনে ভোটার বণ্টনের বৈচিত্র্যকেও স্পষ্ট করে।

  • বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলা, বাগেরহাট পৌরসভা ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ সংসদীয় আসনটি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই আসন থেকে বিজয়ী দলের প্রার্থীরাই পরবর্তীতে সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

    তবে বিএনপির ভেতরেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। তিনি জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। শহর রক্ষা বাঁধ, মাজেদা বেগম কৃষি কলেজ, দড়াটানা ও মুনিগঞ্জ সেতু, বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজসহ জেলার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার সময়েই সম্পন্ন হয়। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিজয়ের উপহার দিতে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন।

    এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বয়সে তুলনামূলক তরুণ হলেও নির্বাচনী মাঠে বেশ সক্রিয় ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। সরকারি পিসি কলেজে সাবেক এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ছাত্রশিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল এবং দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমানও সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটাররা।

    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

  • নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    এবিএনএ: নারী সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ইশরাক হোসেন জানান, সম্প্রতি কর্মজীবী কয়েকজন নারী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা। গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামের পথে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রনেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনাও তুলে ধরেন।

    ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হবে কেবল কোনো দল নয়—জয়ী হবে বাংলাদেশ ও এর জনগণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিপক্ষের কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। দেশজুড়ে বিএনপির যে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তা নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। তার মতে, বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

    বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদানের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

    এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ সাহেদ মন্টুসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানালেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে কী ঘটবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

    তার দাবি, কয়েকজন প্রার্থীর আচরণ ও তৎপরতা লক্ষ্য করে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বাস্তবতা উপলব্ধি করা জরুরি। একটি বিশেষ মহল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গেও তিনি নির্বাচন করেছেন, তবে তখন এমন বিষোদগার হয়নি বলে উল্লেখ করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি পক্ষ সারাদিন তার নাম নিয়ে কটূক্তি করছে এবং উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব কৌশলে তিনি বিচলিত নন বলেও জানান। তিনি বলেন, “আমি বহু নির্বাচন মোকাবিলা করেছি। এ ধরনের আচরণে আমি অভ্যস্ত।”

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে যে আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিন দেখা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি ও উন্নয়ন ভাবনার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই নগরীকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি অর্থনীতি, কৃষি, শিল্পায়ন ও পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

    রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে সমাবেশে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান।

    বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এবং এই শহরের সঙ্গেই তার পরিবার ও বিএনপির গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ আবারও পরিবর্তন চায়—যে পরিবর্তনে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

    দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত খাল খননের ওপর জোর দেন।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে ইপিজেড গড়ে উঠেছিল, যা লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিএনপি সরকারে এলে অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অতীতে যেমন দলের পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও তা হবে না।

    এর আগে সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, স্টুডেন্ট লোন চালু এবং পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফর ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • ভোট কারচুপির চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি হবে: সতর্ক বার্তা রুমিন ফারহানার

    ভোট কারচুপির চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি হবে: সতর্ক বার্তা রুমিন ফারহানার

    এবিএনএ:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনে কারচুপির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করার দুঃসাহস যেন কোনো রাজনৈতিক দল না দেখায়। এবার জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করতে দেওয়া হবে না।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, মাঠে থাকার কথা থাকলেও বাধ্য হয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।

    তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। কর্মীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, মারধর, এমনকি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। অনেককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়েছে, অথচ এসব ঘটনায় এখনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বড় রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতে লড়াই করলেও তিনি ভয় পান না। প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সবার ওপরই পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবহিত করবেন। এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা।

    ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দেশের মানুষ বছরের পর বছর সংগ্রাম করেছে। প্রতিকূলতা যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

  • নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমার সরকারি নির্দেশ

    নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমার সরকারি নির্দেশ

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বৈধ অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটবর্তী থানায় জমা দিতে হবে।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ নির্দেশনায় উপসচিব আবেদা আফসারী স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র বহন বা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে পারবেন না।

    তবে নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তাদের অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের ক্ষেত্রে ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই আদেশ অমান্য করলে দ্য আর্ম অ্যাক্ট ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি মহলের মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংখ্যালঘুর অধিকার কেন বারবার উপেক্ষিত হয়?

    আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংখ্যালঘুর অধিকার কেন বারবার উপেক্ষিত হয়?

    এবিএনএ: গণতন্ত্র ও আইনের শাসন দুর্বল হলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার কখনোই পূর্ণতা পায় না—এমন মত দিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রান্তিকীকরণ এখন কেবল একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং পুরো অঞ্চলজুড়েই এটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

    রোববার রাজধানীতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘সবার জন্য গণতন্ত্র: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, যখন বলা হয় অধিকার সবার জন্য, তখন দলিত, আদিবাসী বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা সংগঠনের প্রয়োজন কেন—এই প্রশ্ন উঠে আসে। বাস্তবতা হলো, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। এ অবস্থা কাটাতে সমষ্টিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার মূলত মানবাধিকার। যে রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, সেখানে মানবাধিকার সংকট তৈরি হয় না। তবে ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতি মানবিক মূল্যবোধের বিপরীতমুখী হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

    তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং সংসদে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ সরকারকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

    ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের কথা শোনার মানসিকতা সরকারের মধ্যে নেই। ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে তারা একাধিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন।

    ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, বর্তমানে দেশে যে সহিংসতা ও ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে, তা সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই কি সেই বাংলাদেশ, যার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম?

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, সংখ্যালঘুরা কথা বলতে ভয় পায়, কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের কার্যকর সংযোগ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকেই এই ভয়ের পরিবেশ ভাঙতে এগিয়ে আসতে হবে।

    ‘নিজেরা করি’-এর সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, ‘মাইনরিটি’ শব্দটি একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া, যা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিক করে রাখে। গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলেও সংখ্যালঘুরা এখনো মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।

    সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ থাকলেও সংবিধানে তাদের অধিকার বাস্তবায়নের কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সংখ্যালঘুদের কথা থাকলেও বাস্তবে তার বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

    পল্লব চাকমা ও ইলিরা দেওয়ান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে যদি সংখ্যালঘু অধিকার স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

  • তিন দফা দাবিতে অনড় ছাত্রদল, সোমবার সকালেই ইসির সামনে ফের ঘেরাও কর্মসূচি

    তিন দফা দাবিতে অনড় ছাত্রদল, সোমবার সকালেই ইসির সামনে ফের ঘেরাও কর্মসূচি

    এবিএনএ: ব্যালট পেপারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ছাত্রদল। তবে সোমবার সকাল থেকেই আবারও কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

    রোববার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, সোমবার বেলা ১১টা থেকে পুনরায় ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

    তিনি বলেন, রোববার সকাল থেকে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুরো কর্মসূচি ছিল সুশৃঙ্খল এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    রাকিব আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু মহল আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত। আমাদের মূল তিনটি দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অবগত রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কমিশন সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশন ভবনে এসে একাধিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিষয়টি ইসির নজরে আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন প্রভাব খাটাতে না পারে, সে বিষয়ে কমিশন সতর্ক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

    তিনি জানান, রোববারের মতো ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে শেষ করা হলেও সোমবার আবারও তা শুরু হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, ২২ জানুয়ারির পর যদি কোনো ষড়যন্ত্র বা কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে ছাত্রদল তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

    এর আগে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

    কর্মসূচির কারণে নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সরাসরি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

    ছাত্রদলের উত্থাপিত তিন দফা অভিযোগ হলো—পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে ইসির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি।

  • নির্বাচন ঠেকাতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে—দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা মির্জা আব্বাসের

    নির্বাচন ঠেকাতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে—দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা মির্জা আব্বাসের

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশবিরোধী একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার মতে, নির্বাচন বানচাল করাই এই অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    সোমবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত খতমে কোরআন, দোয়া ও শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা আব্বাস বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধিতাকারী একটি তথাকথিত রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে খুন, সহিংসতা ও নানা ইস্যু সৃষ্টি করছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কায় তারা এই পথ বেছে নিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জামানত হারানোর ভয় থেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিএনপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আজ দেশের মানুষ যে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে, তা তার ত্যাগেরই ফল। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম করেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়। এ অবস্থায় শুধু লাইক-শেয়ারে সীমাবদ্ধ না থেকে যুক্তি দিয়ে অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    ঢাকা-৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, অপরিপক্ক নেতৃত্ব সংসদে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে।