Tag: জাতীয় নির্বাচন

  • চরমোনাই পীর ভণ্ড, জামায়াত জাতীয় বেইমান: লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর তীব্র সমালোচনা

    চরমোনাই পীর ভণ্ড, জামায়াত জাতীয় বেইমান: লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর তীব্র সমালোচনা

    এবিএনএ:  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরপন্থী) এবং জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা আউটডোর স্টেডিয়াম মাঠে সদর পূর্ব বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    চরমোনাই পীরের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “পীর নন, তিনি ভণ্ড। যিনি বারবার শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে স্থায়ী করেছেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সহযোগিতা করে শেখ হাসিনার শাসন দীর্ঘায়িত করেছেন। পাখা প্রতীকের সেই ইসলামী আন্দোলন ছিল জাতির সঙ্গে এক চরম বেইমানি।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আজ তারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছে, কিন্তু গত ১৭ বছর কোথায় ছিল? তখন তো আমরা পাখা প্রতীক পাইনি।”

    জামায়াতের সমালোচনা করে এ্যানী বলেন, “জামায়াত শুধু বিএনপির বিরুদ্ধেই নয়, জাতির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তাদের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, তারা কেবল আওয়ামী লীগকেই টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছে। তারা আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেইমান।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ আবার নতুন নামে, ভিন্ন ছদ্মবেশে তারা মাঠে নামতে চাইছে। কিন্তু জনগণ তাদের আর বিশ্বাস করবে না। আওয়ামী লীগের হাতের লাঠি হয়ে জনগণকে আঘাত করার রাজনীতি এবার বন্ধ করতে হবে।”

    সংখ্যানুপাতিক (পিআর) ভোটের দাবিকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এ্যানী বলেন, “ইসলামের নামে যারা দেশবিরোধী রাজনীতি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কোনো চক্রান্তই সফল হবে না, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করব।”

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূর্ব বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হারুন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. এমরান। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজাম, ভিপি হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান ও বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ অনেকে।

  • জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে এনসিপি, বিএনপিকে সীমিত আসনের পূর্বাভাস দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে এনসিপি, বিএনপিকে সীমিত আসনের পূর্বাভাস দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, বিএনপি সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ আসনের বেশি পাবে না।

    সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নিবন্ধন, প্রতীক ও প্রবাসী ভোটাধিকার নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং শিগগির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

    তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “শাপলা প্রতীক আমাদের পরিচয়, সাদা শাপলা, লাল শাপলা—এ তিনটি প্রতীক নিয়েই নিবন্ধন চাই। এর বাইরে অন্যকিছু মানা হবে না। ষড়যন্ত্র চলছে, তবে ইসি আমাদের দাবি না মানলে কিভাবে আদায় করতে হয় তা আমরা জানি।”

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, জেলায় জেলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মীরা এনসিপির প্রার্থী হবেন। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।

    রাজনীতির মাঠে এনসিপির এমন আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • সমঝোতার ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    সমঝোতার ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই নির্বাচন হবে সবার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই।

    রোববার বিকেলে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ড. ইউনূস বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

    তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কোনোভাবেই স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। এজন্যই সংস্কার অপরিহার্য। ভবিষ্যতে স্বৈরাচার আসার সব পথ আমরা এ সংস্কারের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে চাই।”

    এর আগে দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’-এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন আস্থার বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার পথকেও আরও সুসংহত করবে।

  • ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    এবিএনএ: এক দেশে কীভাবে দুটি সংবিধান থাকতে পারে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আয়কর আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, সংবিধানের যেসব সংশোধনী বা সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেরি করা উচিত নয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—বর্তমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় নতুন সংস্কারের প্রয়োগ হলে দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন কোন সংবিধানের ভিত্তিতে চলবে? আদালতে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ করে বসে, তখন কে বলবে এই পরিবর্তনের অধিকার কার?

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের আলাপ-আলোচনা চলছে, বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তবে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদই উপযুক্ত ফোরাম। তিনি প্রস্তাব দেন, সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে পারে।

    তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা এখনো মন্ত্রিসভায় বিবেচনায় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে গ্রহণযোগ্য সংস্কারগুলো কার্যকর করতে পারে।

    আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন, তাদের জন্য বলছি—দেশ এখন নির্বাচনী আবহে। খুব শিগগিরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, আর তার প্রত্যাবর্তনই হবে নির্বাচনমুখী ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।”

  • ‘রাজনৈতিক নেতাদের তেলবাজি নয়’—পুলিশকে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    ‘রাজনৈতিক নেতাদের তেলবাজি নয়’—পুলিশকে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক নেতাদের তেলবাজি করবেন না, কোনো দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। জনগণের স্বার্থ ও আইনের শাসন রক্ষাই আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।”

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “মনে রাখবেন, পেশীশক্তি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। যদি এখন তেল দেন, নির্বাচনের পর তা শেষ হয়ে যাবে। তাই সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন।”

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়ে বলেন, সামনের দুর্গাপূজায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। তিনি গত বছরের শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান এবং এ বছরও একই সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

  • জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেড় লাখ পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ, জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেড় লাখ পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ, জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে দেড় লাখেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কাজী জিয়া উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেড় লাখেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”

    পুলিশ সদরদপ্তরের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ গত তিন মাসে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের পরামর্শে নয়টি বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি ন্যায়সংগত দায়িত্ব পালনে পুলিশকে দক্ষ করে তোলা হবে।

    ইতোমধ্যে ঢাকায় ১৫০ জন মাস্টার ট্রেইনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে দেশের ১৯টি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আরও ১,২৯২ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে তারাই মাঠপর্যায়ে দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবেন।

    নির্বাচনী প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দুটি প্রামাণ্যচিত্র, একটি ১৫ মিনিটের অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট, ৯ মিনিটের একটি ফিল্ম এবং একটি বুকলেটও তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে বাস্তবমুখী মহড়ারও আয়োজন থাকবে।

    ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রস্তুতি নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে জায়গা করে নেবে।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন ফখরুল।

    তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। এর পেছনে একটি মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

    অন্যদিকে লন্ডনে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বসেছেন। এটা তার এখতিয়ার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কারও অভিযোগ করার সুযোগ নেই।”

    বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুনানির প্রথম দিনে ১৮ আসনে ৮১১ আবেদন নিষ্পত্তি

    সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুনানির প্রথম দিনে ১৮ আসনে ৮১১ আবেদন নিষ্পত্তি

    এবিএনএ: সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে দাবি-আপত্তি শুনানির প্রথম দিনেই ১৮ আসনের ৮১১টি আবেদন নিয়ে শুনানি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    রবিবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ শুনানি হয়।

    শুনানিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের বিষয়টি। এ সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা আহত হন। এমনকি বিএনপির শীর্ষ নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজ দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানান, প্রথম দিনে কুমিল্লা অঞ্চলের ১৮ আসনের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ইসির খসড়ার বিপক্ষে ৪২৯টি এবং খসড়ার পক্ষে ৩৮২টি আবেদন শোনা হয়েছে।

    আগামী ২৫ আগস্ট খুলনা অঞ্চলের ৯৮টি, বরিশাল অঞ্চলের ৩৮১টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২০টি আবেদন শুনানি হবে। পরদিন ২৬ আগস্ট ঢাকার ৩১৬টি আবেদন, ২৭ আগস্ট রংপুরের সাতটি, রাজশাহীর ২৩২টি, ময়মনসিংহের তিনটি, ফরিদপুরের ১৮টি এবং সিলেট অঞ্চলের দুটি দাবি-আপত্তির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসির তথ্যানুসারে, গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১,৭৬০টি দাবি-আপত্তি জমা পড়ে ৮৩টি আসনের সীমানা নিয়ে। এগুলো নিষ্পত্তি করেই চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে কমিশন।

    এর আগে ৩০ জুলাই ইসি ৩০০ আসনের নতুন সীমানার খসড়া প্রকাশ করে। এতে ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য আনার জন্য গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়, আর বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটিতে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    এ ছাড়া আরও ৩৯টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১ ও ২; রংপুর-৩; সিরাজগঞ্জ-১ ও ২; সাতক্ষীরা-৩ ও ৪; শরীয়তপুর-২ ও ৩; ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯; গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫; সিলেট-১ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩; কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১; নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫; চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

    আগে বাগেরহাটে ছিল চারটি আসন:

    • বাগেরহাট-১: মোল্লারহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী

    • বাগেরহাট-২: সদর ও কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা

    খসড়া অনুযায়ী নতুন প্রস্তাবে বাগেরহাট-১ আসন অপরিবর্তিত থাকলেও, সদর–কচুয়া–রামপালকে একত্রিত করে বাগেরহাট-২ এবং মোংলা–মোড়েলগঞ্জ–শরণখোলাকে বাগেরহাট-৩ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “৬৪ জেলার গড় ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ২০ হাজার ৫০০। এ গড় ধরে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানো হয়েছে। ফলে ভারসাম্য এসেছে। মোট ৩৯ আসনে সমন্বয় করা হয়েছে।”

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন, কঠোর অবস্থানে সিইসি

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন, কঠোর অবস্থানে সিইসি

    এবিএনএ:  আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শনিবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এবারের নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে এবং যেকোনো অনিয়মের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনে ভোটগ্রহণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সিইসি আরও জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনী কার্যক্রমে যাদের কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা শুরু হয়েছে এবং সময়মতো তা দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার সংগঠিত হচ্ছে এবং ক্ষমতা ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার আহ্বান—আর বিলম্ব নয়, দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের যে রূপ আমরা অতীতে দেখেছি, সেটি আবার ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের রুখে দিতে হলে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।”

    মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়। তারা ক্ষমতার লোভে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভয়ংকর আকার নিচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা সংস্কারের কথা বলেছি, প্রস্তাবও দিয়েছি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। আর এই দায়িত্ব এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।”

    ফখরুল বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। যদি হাতছাড়া হয়, তবে দেশ আবার অনেক পিছিয়ে যাবে। প্রতিবার আন্দোলনে তরুণদের প্রাণ যাবে, সেটি হতে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন ও আত্মত্যাগে প্রস্তুত।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে যারা আছেন, তারা যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন ব্যবস্থার রূপরেখা দেন। সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে, যেন কোনোভাবেই আর ফ্যাসিবাদের কাছে দেশকে ছেড়ে না দিতে হয়।”