বাংলাদেশ

ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণাকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার

এবিএনএ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো শোনা যাবে—দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সাংগঠনিক এলাকার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।

স্বাধীনতার ঘোষণাকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি—এমন দাবি ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করার অংশ।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের কাছ থেকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা আসাই স্বাভাবিক। তবে দেশের মানুষ সত্য জানে। জনগণ বুঝে গেছে, আজ যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, তা আসলে প্রতারণা ও ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে এনে সাইনবোর্ড দেখানোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জনগণ এ ধরনের নাটক মেনে নেবে না।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তির মোকাবিলা করা জরুরি।

এ সময় তিনি নারীবিষয়ক কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন। তার দাবি, কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব নারীদের কল্যাণের জন্য নয়, বরং নারীর কর্মসংস্থান সংকুচিত করার অপচেষ্টা।

পথসভায় কক্সবাজার জেলা বিএনপিসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button