Tag: রাজনৈতিক বক্তব্য

  • গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    এবিএনএ, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাঙ্খিত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখনজনক। ঐ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায়কে বাতিলের মাধ্যমে সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যােগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলী দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিনতি ভালো হবেনা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ।

    তিনি বলেন, সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছেন। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যুবদল যেভাবে চট্রগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করা, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।

    ১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

    এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সহ সভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, বিডিপি মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ফারুকে আজম, মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল টি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম জিইসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের সঙ্গে তার পরিবারও রক্ত দিয়ে অংশীদার হয়েছে। বাংলাদেশ সবার—এই বার্তা তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদল জনগণের ভোটের মাধ্যমে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে সেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একসময় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্যাতন, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বড় রূপ নেয়। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।

  • ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্ক’—চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা, তদন্তের দাবি

    ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির কপালে কলঙ্ক’—চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা, তদন্তের দাবি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “জাতির কপালে কলঙ্কের দাগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে শনিবার রাজধানীর রামপুরায় দলটির নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে এত ত্যাগ ও আত্মদান সত্ত্বেও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পুরোনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি জাতিকে হতাশ করেছে।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

    নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, অভিযোগগুলোকে পক্ষপাতহীনভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    পর্যালোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সারা দেশ থেকে আসা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও ভোটের দিনকার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ জরুরি।

  • ভোটের মাঠে মিথ্যা নয়, সত্যের রাজনীতি চান মির্জা আব্বাস—ঢাকা-৮ এ কড়া বার্তা

    ভোটের মাঠে মিথ্যা নয়, সত্যের রাজনীতি চান মির্জা আব্বাস—ঢাকা-৮ এ কড়া বার্তা

    এবিএনএ: ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ভিন্নমত বা সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক আচরণ নয়।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় ফ্ল্যাট মালিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সততা ও নৈতিকতায়। ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ থেকেই আমরা রাজনীতি করি। তাই ভোটের মাঠে দাঁড়িয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

    তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের কাজের হিসাব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। অন্য দলের প্রার্থী বা নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কিংবা অশোভন ভাষা ব্যবহারের পথে তারা যাবেন না।

    ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, দেশের মানুষ বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটাধিকার অর্জন করেছে। তাই প্রত্যেক ভোটার যেন নির্ভয়ে ও সঠিকভাবে তাদের অধিকার প্রয়োগ করেন—এটাই তার প্রত্যাশা।

    ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক উপস্থিতি থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতে জড়ানো যাবে না। তবে প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    শেষে এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস ভোটে সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

  • ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো শোনা যাবে—দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সাংগঠনিক এলাকার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।

    স্বাধীনতার ঘোষণাকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি—এমন দাবি ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করার অংশ।

    তিনি আরও বলেন, একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের কাছ থেকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা আসাই স্বাভাবিক। তবে দেশের মানুষ সত্য জানে। জনগণ বুঝে গেছে, আজ যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, তা আসলে প্রতারণা ও ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।

    জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে এনে সাইনবোর্ড দেখানোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জনগণ এ ধরনের নাটক মেনে নেবে না।

    মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তির মোকাবিলা করা জরুরি।

    এ সময় তিনি নারীবিষয়ক কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন। তার দাবি, কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব নারীদের কল্যাণের জন্য নয়, বরং নারীর কর্মসংস্থান সংকুচিত করার অপচেষ্টা।

    পথসভায় কক্সবাজার জেলা বিএনপিসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানালেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে কী ঘটবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

    তার দাবি, কয়েকজন প্রার্থীর আচরণ ও তৎপরতা লক্ষ্য করে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বাস্তবতা উপলব্ধি করা জরুরি। একটি বিশেষ মহল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গেও তিনি নির্বাচন করেছেন, তবে তখন এমন বিষোদগার হয়নি বলে উল্লেখ করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি পক্ষ সারাদিন তার নাম নিয়ে কটূক্তি করছে এবং উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব কৌশলে তিনি বিচলিত নন বলেও জানান। তিনি বলেন, “আমি বহু নির্বাচন মোকাবিলা করেছি। এ ধরনের আচরণে আমি অভ্যস্ত।”

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে যে আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিন দেখা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা আজ বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করছে, তাদেরই দুই নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি তখন এতটাই খারাপ হতো, তবে তারা কেন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসকের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিষয়ে ছিলেন আপসহীন। তিনি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল, আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যারা আজ বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে তাদের মন্ত্রিত্ব বহাল থাকাই প্রমাণ করে তারা এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মিথ্যাচার করছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলে একসঙ্গে কেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রেখে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তারা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশ প্রাঙ্গণ।

  • স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষে। সে সময় তাদের ভূমিকার কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি, বরং সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছি।

    তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন চাওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছেন তারা। বিএনপি কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

    কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষিকার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং নারীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

    এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই একই দেশের নাগরিক। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

    নির্বাচনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে রাজনীতিতে নৌকা ও ধানের শীষ ছিল প্রধান প্রতীক। বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতায় নৌকা নেই, নতুন প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এসেছে। এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    গণসংযোগে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও একটি চক্র আবারও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ব্যালট ছিনতাই, ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন এবং রাতের আঁধারে ভোট গ্রহণের মতো ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গত ১৬ বছরে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই সময়কালে দেশের সার্বভৌমত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—দিল্লি হোক কিংবা অন্য কোনো রাজধানী, কারও কাছে নয়; সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে ভোট ও বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, তারাই বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিখোঁজ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত।

    জনসভায় তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

  • নির্বাচন ঠেকাতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে—দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা মির্জা আব্বাসের

    নির্বাচন ঠেকাতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে—দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা মির্জা আব্বাসের

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশবিরোধী একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার মতে, নির্বাচন বানচাল করাই এই অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    সোমবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত খতমে কোরআন, দোয়া ও শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা আব্বাস বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধিতাকারী একটি তথাকথিত রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে খুন, সহিংসতা ও নানা ইস্যু সৃষ্টি করছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন হারানোর আশঙ্কায় তারা এই পথ বেছে নিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জামানত হারানোর ভয় থেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিএনপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আজ দেশের মানুষ যে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে, তা তার ত্যাগেরই ফল। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম করেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়। এ অবস্থায় শুধু লাইক-শেয়ারে সীমাবদ্ধ না থেকে যুক্তি দিয়ে অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    ঢাকা-৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, অপরিপক্ক নেতৃত্ব সংসদে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে।