Tag: রাজনৈতিক বক্তব্য

  • স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে: মির্জা ফখরুল

    স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে দেশের জনগণ তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

    তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনবে।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। এ কারণেই বিজয় দিবস বিএনপির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    বিজয় দিবসের সকালে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

    প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পুরো জাতি, একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনায় নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে রাজনৈতিক দলগুলো।

  • ১৬ ডিসেম্বর: গৌরবের বিজয়, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও জাতির আবেগের মহাকাব্য: তারেক রহমান

    ১৬ ডিসেম্বর: গৌরবের বিজয়, আত্মত্যাগের ইতিহাস ও জাতির আবেগের মহাকাব্য: তারেক রহমান

    এবিএনএ: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে অহংকার, আনন্দ ও বেদনার এক অনন্য অধ্যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে জাতি বিজয় অর্জন করে। এ উপলক্ষে তিনি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানান এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    তারেক রহমান বলেন, একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রত্যাশা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র সংকুচিত করা হয়েছে এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

    গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ফলে সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বারবার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজয় দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এখন সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বিজয় দিবসে সবাইকে বিভাজন ও সহিংসতা পরিহার করে মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

  • আমরা অনিরাপদ হলে প্রতিপক্ষও নিরাপদ থাকবে না: মাহফুজ আলম

    আমরা অনিরাপদ হলে প্রতিপক্ষও নিরাপদ থাকবে না: মাহফুজ আলম

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, দেশের জনগণকে অনিরাপদ অবস্থায় রাখার চেষ্টা হলে প্রতিপক্ষ শক্তিকেও নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

    মাহফুজ আলম বলেন, অতীতে নিজেদের সংযম ও সহনশীলতার কারণে কিছু গোষ্ঠী সহিংসতায় জড়ানোর সাহস পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, প্রয়োজনে প্রতিরোধের আন্দোলনও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিফলিত হতে পারে।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের নামে একদিকে বিচার প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও অন্যদিকে আইনের ফাঁক গলে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া ও সেখান থেকে সহিংসতা চালানোর ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

    বিদেশি স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ সহযোগীদের প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নই আসে না। দেশের জনগণ নিরাপদ না থাকলে প্রতিপক্ষ শক্তিও নিরাপদ থাকতে পারবে না।

    তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু আদর্শ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক চর্চার কারণে বহু মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছে, তাদের অন্যতম একজন ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

  • শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ আজও অপূর্ণ, গণতন্ত্র বারবার রুদ্ধ হয়েছে: তারেক রহমান

    শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ আজও অপূর্ণ, গণতন্ত্র বারবার রুদ্ধ হয়েছে: তারেক রহমান

    এবিএনএ: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ আজও গড়ে ওঠেনি। তার ভাষায়, দেশে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়েছে এবং একদলীয় শাসনের আবহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করেছে।

    শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় তিনি ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হওয়া শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কলম ধরেছিলেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাদের জীবনাদর্শ আজও জাতিকে প্রেরণা জোগায়।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার উদ্দেশ্য ছিল সদ্যস্বাধীন দেশকে মেধাশূন্য করে ফেলা এবং বিজয়ের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া। সেই ক্ষত আজও জাতির স্মৃতিতে গভীর বেদনার জন্ম দেয়। তবে জ্ঞানচর্চা, মুক্ত চিন্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে আদর্শ তারা রেখে গেছেন, তা একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনের শক্তি জোগায়।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লেখালেখি ও ভিন্নমতের সুযোগ এখনও নানা সংকটে আবদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর যদি আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তাহলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে।

    শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

  • তারেক রহমানের কঠোর বার্তা: “যারা বলছে এবার আমাদের দেখুন, মানুষ তাদের ১৯৭১ সালে দেখেছে”

    তারেক রহমানের কঠোর বার্তা: “যারা বলছে এবার আমাদের দেখুন, মানুষ তাদের ১৯৭১ সালে দেখেছে”

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, “যারা বলছেন এবার আমাদের দেখুন, মানুষ তাদের ১৯৭১ সালে দেখেছে—কিভাবে তারা লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে বেহেশত বা দোজখ দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর হাতে। এ বিষয়ে যারা মন্তব্য করছে তারা শিরক করছে। পরকালের বিচার ও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার।

    তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসলে বিএনপি দুর্নীতি দমন করবে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করবে এবং দেশের ক্ষতি রোধ করবে। তিনি সতর্ক করেন, অরাজকতা এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেশের জন্য হুমকি, তাই নেতৃত্বের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা অপরিহার্য।

    বিগত সময়ে দেশ সংকটের মধ্যে দিয়ে গেলে বিএনপি ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নত করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার জন্য লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, সেই দেশকে আবারও গড়তে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে।”

    তারেক রহমান স্বৈরাচার ও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “একই ধরনের অপপ্রচার এখনও চলছে। বিএনপির নেতারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান রেখেছেন এবং শেষ পর্যন্ত আস্থা বজায় রেখেছেন।”

    তিনি প্রত্যেককে সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হলে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা বিপজ্জনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা বিপজ্জনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়, যা দেশের জন্য অকল্যাণকর। তিনি বলেন, ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম, একে ক্ষমতা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।

    শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কাসেমী পরিষদের আয়োজনে ‘আজমাতে সাহাবা’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মদিনার ইসলামের অনুসারী, মওদুদীর নয়। যারা বিভেদ সৃষ্টি করে সমাজে ফেতনা ছড়ায়, তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলামকে রাজনীতির অস্ত্র বানানো যাবে না।”

    তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যার পরিণতিতে তাদের পতন ঘটেছে। তাই আমাদের উচিত নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলা, যাতে অপরাজনীতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মাওলানা মনির কাশেমী। এসময় হেফাজতে ইসলামের খলিল আহমাদ কুরাইশী, জমিয়তে ওলামা ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাসিরউদ্দিন মনিরসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজশাহীতে এনসিপি নেতার বিতর্কিত হুমকি: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বক্তব্য

    রাজশাহীতে এনসিপি নেতার বিতর্কিত হুমকি: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বক্তব্য

    এবিএনএ,রাজশাহী :
    রাজশাহীতে এক রাজনৈতিক পদযাত্রা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার রাতে রেলগেট থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হওয়া এনসিপির এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি ওই বক্তব্য দেন।

    জিরো পয়েন্টে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন মিডিয়া যেভাবে খুনি হাসিনার পক্ষ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তা জাতি ভুলে যাবে না। আজ আবারও তারা মাঠে নেমেছে এক-এগারোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে। আমরা সাংবাদিক নামধারী এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করব। জনগণ তাদের ছাড় দেবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলন চলবে জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আমাদের এই লড়াই শেষ হবে তখনই, যখন গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থেই ফিরে আসবে।”

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ ধরনের মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে দেখছেন। তবে এই বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    পদযাত্রা ও সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান, পোস্টার এবং ব্যানার ব্যবহার করা হয়।

    এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং অবিলম্বে দুঃখপ্রকাশ ও ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছে।

    এনসিপি’র এই বক্তব্য শুধু বিতর্কই নয়, রাজনৈতিক পরিবেশকেও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে, মিডিয়া ও রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

  • নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনের নামে নাটক করছে সরকার: নতুন বাংলাদেশের ডাক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “আমরা কখনোই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু সরকার নাটক করে পদত্যাগ দেখিয়ে পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ সরকার, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এজন্য সবাইকে একসাথে হতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে এক নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ।”

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে “তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। কিন্তু সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিরোধী ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দুর্নীতি আমরা ভুলে যাচ্ছি। অথচ গণতন্ত্রের জন্য আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখনই সময় একজোট হওয়ার।”

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সালাহউদ্দিন বলেন, “ব্রিটিশ আমলে ২০০ বছরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যত সম্পদ লুট করেছে, আওয়ামী লীগ তার চেয়েও বেশি লুটপাট করেছে। তারা ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, ব্যাংক থেকে ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে, এবং বিদ্যুৎ ও ব্যাংক খাতেও ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে ৩৬টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে তারা নাকি বিদেশি এজেন্ট। আসলে এসব কথা বলছে তারাই, যারা গণতন্ত্র ও পরিবর্তনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    তারুণ্যের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
    বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

    এই সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে একটাই বার্তা—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

  • বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    এবিএনএ: 

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অতীতের কিছু মন্তব্য ও শব্দচয়নের জন্য গভীর অনুশোচনার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।

    তিনি লেখেন, “ব্যক্তিগত আদর্শ কিংবা আবেগের চেয়ে দেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে। অতীতের কিছু বক্তব্য যদি বিভাজনের জন্ম দিয়ে থাকে, তবে আমি তা নিয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

    তিনি আরও বলেন, “যতদিন সরকারে আছি, ততদিন সকল মত ও শক্তির প্রতি সম্মান বজায় রেখে সংবেদনশীলভাবে কাজ করতে চাই।” সেইসঙ্গে তিনি অতীতের বিভেদমূলক স্লোগান ও তকমা ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলেন, এসব উপেক্ষা করে আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে, কারণ আক্রমণাত্মকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে দেশের শত্রুরা। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি সেই সব দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একসঙ্গে ছিলেন— “এই মুহূর্তে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঐক্য ও ধৈর্যের। এবং এই পরীক্ষায় আমাদের সফল হতেই হবে।”

    এমন বার্তা দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে— বিভেদের বদলে সংহতির পথেই যে ভবিষ্যত নিরাপদ, সেটিই যেন বোঝাতে চাইলেন উপদেষ্টা মাহফুজ।