Tag: সালাহউদ্দিন আহমদ

  • ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো শোনা যাবে—দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সাংগঠনিক এলাকার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।

    স্বাধীনতার ঘোষণাকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি—এমন দাবি ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করার অংশ।

    তিনি আরও বলেন, একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের কাছ থেকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা আসাই স্বাভাবিক। তবে দেশের মানুষ সত্য জানে। জনগণ বুঝে গেছে, আজ যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, তা আসলে প্রতারণা ও ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।

    জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে এনে সাইনবোর্ড দেখানোর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জনগণ এ ধরনের নাটক মেনে নেবে না।

    মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তির মোকাবিলা করা জরুরি।

    এ সময় তিনি নারীবিষয়ক কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন। তার দাবি, কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব নারীদের কল্যাণের জন্য নয়, বরং নারীর কর্মসংস্থান সংকুচিত করার অপচেষ্টা।

    পথসভায় কক্সবাজার জেলা বিএনপিসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা বিপজ্জনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনের আগে ইসলামকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা বিপজ্জনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়, যা দেশের জন্য অকল্যাণকর। তিনি বলেন, ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম, একে ক্ষমতা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।

    শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কাসেমী পরিষদের আয়োজনে ‘আজমাতে সাহাবা’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মদিনার ইসলামের অনুসারী, মওদুদীর নয়। যারা বিভেদ সৃষ্টি করে সমাজে ফেতনা ছড়ায়, তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলামকে রাজনীতির অস্ত্র বানানো যাবে না।”

    তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যার পরিণতিতে তাদের পতন ঘটেছে। তাই আমাদের উচিত নৈতিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলা, যাতে অপরাজনীতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মাওলানা মনির কাশেমী। এসময় হেফাজতে ইসলামের খলিল আহমাদ কুরাইশী, জমিয়তে ওলামা ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাসিরউদ্দিন মনিরসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে’— মন্তব্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের

    ‘একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে’— মন্তব্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর আয়োজনে “চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের যে স্রোত তৈরি হয়েছে, সেটি দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছে দিতে হবে। এখন সময় এসেছে মানসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমাদের দেশে এমন একটি দল আছে যারা জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পথ খুঁজছে। তাদের কিছু শর্ত ও দাবি রয়েছে, তবে আমি আশাবাদী— আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসবে। জুলাই সনদকে আইনি কাঠামো দিতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এটি বাতিলের দাবি তুলতে না পারে।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পরিবর্তনের মূল শিক্ষা হলো জ্ঞান, মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও গবেষণামুখী করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য শিক্ষকদের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    বিএনপি নেতা আরও যোগ করেন, “কর্মসংস্থান শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং তরুণদের আত্মনির্ভর হতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণ যেভাবে পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, সেই স্পৃহা বজায় রাখতে হবে।”

    ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও বিএনপি নেতা ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর প্রমুখ।

    সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন সংস্কারের প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সময়োপযোগী কারিকুলাম ও কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    এবিএনএ:  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে তারা সম্মত, তবে এতে দলের আপত্তিগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।

    বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানে এটি সঙ্গে সঙ্গে আইনি কাঠামো পাবে—এমন নয়। পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেই সনদটির আইনি বৈধতা দিতে হবে। কারণ এই সনদের আইনি ভিত্তি সংসদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সনদে স্বাক্ষর করব, তবে আমাদের মতবিরোধ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো অবশ্যই নথিভুক্ত থাকতে হবে। সবাই যদি একমত হতো, তাহলে আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না।”

    বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। পরে ঐকমত্য কমিশন সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেবে বলে জানান তিনি।

  • একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব, ব্যয় ও সময় বাঁচাবে—সালাহউদ্দিন আহমদ

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব, ব্যয় ও সময় বাঁচাবে—সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে বা আরপিও সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, আইনগতভাবে এমন কোনো বাধা নেই যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা যাবে না। বরং একই দিনে আয়োজন করলে প্রশাসনিক ব্যয়, সময় ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ অনেক কমে যাবে।

    সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আগামী নির্বাচন গুণমানসম্পন্ন ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক যুব ঐক্য এই আলোচনার আয়োজন করে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হলে ব্যয় কমবে, ভোটারদের জন্যও সুবিধা হবে। একই ব্যালট বক্স, একই ভোটকেন্দ্র, একই প্রশাসনিক ব্যবস্থা—সবকিছু একসঙ্গে ব্যবহৃত হতে পারে। আলাদা দিনে আয়োজন করলে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগবে।”

    তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ বলছেন আগে গণভোট, পরে নির্বাচন—এটি অপ্রয়োজনীয় জটিলতা। এসব অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন।”

    অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আগে যেখানে মানুষ নির্বাচনের বিষয়ে সন্দিহান ছিল, এখন তা কেটে গেছে। নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনেই সব পক্ষের নজর দেওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের কোনো আইনি বাধা নেই। মূল বিষয় হলো প্রার্থীদের নীতি, কর্মসূচি ও জনগণের আস্থা অর্জন করা। ভোটাররা এখন শুধু ‘মার্কা’ নয়, প্রার্থীর যোগ্যতাও বিবেচনা করছেন।”

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাইফুল হক, তানিয়া রব, মুজিবর রহমান মঞ্জু, রাশেদ খান ও হাসনাত কাইয়ুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

  • কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    এবিএনএ: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র কিছু আসনের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাওয়ার চেষ্টা হলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তার মতে, দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং স্বৈরাচারী শক্তিগুলো সুযোগ নেবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা একটি পরীক্ষিত প্রক্রিয়া। এর বাইরে গিয়ে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা আসনের লোভে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবি তোলে, তা হবে জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব নেই। তবুও যদি কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলনে নামে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই তার মোকাবিলা করবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়মতো নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বৈধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে যে কোনও সংশোধন এলে বিএনপি তা সমর্থন করবে। তবে এমন কোনও প্রক্রিয়া তারা সমর্থন করবে না যা ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

    তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব, সংঘাত বা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপে নয়।

  • জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    জুলাই ঘোষণাপত্র ও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে বিএনপির স্বাগত, জানাল রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

    তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—একটি হলো জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্যটি আগামী নির্বাচনের ঘোষণা। বিএনপি উভয় ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “বিগত এক বছরে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেসব শহীদ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”

    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে দেবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতি একটি দোলাচলের অবসান ঘটাল।”

    বিএনপি নেতার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে এবং তা হবে ইতিহাসের অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা আশা করি, জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।”

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই দিনে ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন হয়েছিল। সেই রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামের যে ফসল, এখন তা গণতন্ত্রের শিকড়ে রোপণ করতে হবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হয়েছে এবং জাতির ভবিষ্যতের কাঠামো কীভাবে হবে তা নিয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সই সম্পন্ন হবে এবং তা বাস্তবায়নে বিএনপি সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে।”

    এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের এই ঘোষণার ফলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং নাগরিক জীবন আবার গতিশীল হবে।”

    এভাবেই জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের প্রস্তুতির মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে একটি নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তের দিকে—এই বার্তাই দিচ্ছে বিএনপি।

  • জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    এবিএনএ:  ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এমন নীতিগত চুক্তি করা অনুচিত।

    সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “এ ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছাড়া অগ্রসর হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো ইস্যুতেও ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।”

    সালাহউদ্দিন আরো বলেন, “গাজা, আরাকান, প্যালেস্টাইনের মতো জায়গায় মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও জাতিসংঘ সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। অথচ বাংলাদেশে এমন একটি অফিস খোলার প্রয়োজন দেখা গেল।”

    তিনি জানান, এই চুক্তির মেয়াদ তিন বছর হলেও এক বা দুই বছরের মাথায় তা পর্যালোচনা হতে পারে। পরবর্তী সরকার চুক্তি নবায়ন করবে কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে সবকিছু পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে এগোনো।

    এসময় তিনি জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, যিনি আসছেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি আহ্বান জানান, সরকার যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।

    হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “আমরা দেশের স্বার্থে কথা বলবো, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানকে চোখ বন্ধ করে স্বাগত জানানো ঠিক হবে না। দেশ ও ইসলামবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর মতে, “সরকার রাজনৈতিক আলোচনায় না গিয়েই একতরফাভাবে চুক্তি করেছে। এই চুক্তির নীতিমালার বাইরে কমিশন কাজ করলে আমরা রাজপথে নামবো।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, “পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই মিশন স্থাপিত হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও হুমকির মুখে পড়বে।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে, যার মধ্যে ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাহফুজুল হক, সালাউদ্দিন নানুপুরী, জাতীয় ওলামা পরিষদের মহাসচিব রেজাউল করিম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক প্রমুখ।

  • গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, হয়ে যাচ্ছে মবতন্ত্র: নয়াপল্টনে সালাহউদ্দিনের হুঁশিয়ারি

    গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, হয়ে যাচ্ছে মবতন্ত্র: নয়াপল্টনে সালাহউদ্দিনের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  “আমরা ডেমোক্রেসি চেয়েছিলাম, কিন্তু দেশে যেন এখন মবক্রেসি চলছে”—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, “জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজ তা ভেঙে পড়ছে। সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতায় গোটা দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক অরাজক পরিস্থিতি।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরও আমরা আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু এখন সেই গণআন্দোলনের শক্তিকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে দমন করা হচ্ছে।”

    সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চক্রান্ত করছে, তাদের যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় মদত না দেওয়া হয়। সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে ফেরার।”

    এই বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    নয়াপল্টনের রাজপথে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীরা হাতে পোস্টার, ব্যানার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো ঘুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের মন্তব্য ও আন্দোলন আগাম দিনগুলোতে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই সমালোচনার কী ধরনের জবাব দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে রক্ষা করা হয়।

  • “যাদের ভোটে হার নিশ্চিত, তারাই আনুপাতিক নির্বাচনের বুলি কপচায়” — সালাহউদ্দিন আহমদ

    “যাদের ভোটে হার নিশ্চিত, তারাই আনুপাতিক নির্বাচনের বুলি কপচায়” — সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তারাই সংখ্যানুপাতিক বা পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন চায়— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার কৌশল হিসেবে পিআর নির্বাচনের দাবিকে আখ্যায়িত করেন।

    তিনি বলেন, “যারা বলছে নির্বাচন করবো না, কমিশন ঠিক না, পরিস্থিতি ঠিক না—তারা আসলে নির্বাচন নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ জামানত নিয়ে চিন্তিত। আমরা যখন বলি বিচার চাই, সংস্কার চাই—তারা তখন বলে, বিচার বিলম্বিত করছো। অথচ তারাই নির্বাচনে এলে জামানত রাখার অবস্থায় নেই।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ এনসিপি নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, “এই পিআর নির্বাচনের ধুয়ো যারা তুলে, তারা কি আদৌ জানেন সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন কীভাবে কাজ করে? শুধু বলছেন জনগণ নাকি তা চায়—আসলে নিজেরাই জানেন না এর প্রকৃতি।”

    তিনি আরও বলেন, “চেতনার কথা এখন আর বিক্রি করে লাভ নেই। চেতনা শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাষ্য ছিল। এখন সময় গণতন্ত্রের। জুলাইয়ে স্বাধীনতার জন্য শুধু আপনারা নন, বিএনপির নেতাকর্মীরাও জীবন দিয়েছে।”

    আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত অনেকেই এখন সংস্কারের নাম করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়—এমন মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, “দিনশেষে খেয়ে-দেয়ে সন্ধ্যায় বিদায় নেয়, আর আমাদের ওপর খোঁটা দেয়। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে বিনা ভোটে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যাবে না।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যতই দেরি হোক, গণতন্ত্রের পথে ফিরতেই হবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলন হবে, দাবি একটাই—সংস্কার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করুন।”

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি স্পষ্ট করে দিল যে, আনুপাতিক নয়—তারা জনগণের ভোটে নির্ভর করে প্রকৃত নির্বাচন চায়, যেখানে প্রতিযোগিতা হবে স্বচ্ছ, আর ফলাফল নিরপেক্ষ।