ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে র্যাবের অভিযান, লাখ লিটার মজুত চিহ্নিত—জরিমানা ও জব্দ
ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা; অবৈধ মজুত, বোতলজাত ও লেবেল জালিয়াতির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা


এবিএনএ: ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ এবং অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দ করা হয়েছে।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও টঙ্গী কাঁচাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৪২ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ২২ হাজার ৬৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয়।
এর আগে ৭ এপ্রিল পটুয়াখালী সদর এলাকায় র্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া খোলা তেল বোতলজাত করা, বিভিন্ন কোম্পানির লেবেল ব্যবহার এবং মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।
এছাড়া নাসিরাবাদ এলাকায় একটি গোডাউনে ৯ হাজার ৬০০ লিটার এবং কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকার আরেকটি গুদামে ১২ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




