Tag: র‍্যাব

  • ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ‘মঈন বাহিনী’ নামে একটি চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে এই চক্রটি এলাকায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেছে। শুধু হাসপাতালই নয়, সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বাহিনী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা দখলের হুমকি দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক জানান, আগে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। পরে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশ ও প্রতিষ্ঠান দখলের ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    চক্রটির বিরুদ্ধে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মোড়ে তাদের সদস্যরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

    গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মঈনের সঙ্গে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সক্রিয়ভাবে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় র‍্যাব অভিযান চালিয়ে প্রথমে কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে। পরে পৃথক অভিযানে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবশেষে মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্তের ভিত্তিতে একাধিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঈন বাহিনীর চাঁদাবাজির শিকার কেউ থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শেরেবাংলা নগর থানায় মঈন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আরও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে র‍্যাবের অভিযান, লাখ লিটার মজুত চিহ্নিত—জরিমানা ও জব্দ

    ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে র‍্যাবের অভিযান, লাখ লিটার মজুত চিহ্নিত—জরিমানা ও জব্দ

    এবিএনএ: ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ এবং অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দ করা হয়েছে।

    র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও টঙ্গী কাঁচাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৪২ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ২২ হাজার ৬৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

    এর আগে ৭ এপ্রিল পটুয়াখালী সদর এলাকায় র‍্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    একই দিনে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া খোলা তেল বোতলজাত করা, বিভিন্ন কোম্পানির লেবেল ব্যবহার এবং মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।

    এছাড়া নাসিরাবাদ এলাকায় একটি গোডাউনে ৯ হাজার ৬০০ লিটার এবং কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকার আরেকটি গুদামে ১২ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

    র‍্যাব জানিয়েছে, ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ: সুন্দরবন জুড়ে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে সাগর ও নদীঘেঁষা জনপদে জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের দাবিতে নিপীড়নের খবরে গত কয়েক দিনে বহু জেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রাণভয়ে সাগরে নামা বন্ধ করায় উপকূলজুড়ে কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা ঘাটে নোঙর করে আছে। স্থানীয় মহাজনদের দাবি, এতে শেষ মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যু দমনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বনের ভেতরে বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু হয়েছে। দুবলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ দুর্গম খাল ও চ্যানেলে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার বা দস্যু আটক সম্ভব না হলেও অভিযান থামছে না। অপহৃতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং বনাঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করাই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    জেলে প্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্ধার ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাগরে নামতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

  • অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    অভূতপূর্ব নিরাপত্তা: ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সারা দেশে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে রাত পোহালেই। দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনী সমন্বয়ে ভোটের মাঠ নিরাপদ করছে।

    প্রায় ৮ হাজার ৭৭০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ ও আনসার সদস্য নির্বাচনের নিরাপত্তায় কাজ করছে। কেন্দ্রে স্থির, ভ্রাম্যমাণ এবং স্ট্রাইকিং টিম হিসেবে বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে, যেমন সিসি ক্যামেরা, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন।

    নির্বাচনে লাইসেন্সধারী অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া হাজারেরও বেশি অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে “মশারির মতো” নিরাপদ করার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধী বা নাশকতাকারী সুযোগ না পায়।

    ডিএমপি ২৬,৫১৫ জন সদস্য, র‍্যাব ৮ হাজার সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপি ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিজিবি দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টার, বিশেষ টহল ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে নিরাপত্তা দেবে। সেনা ও নৌবাহিনীও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে।

    নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করতে সকল বাহিনী ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত। সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে—এটি নিশ্চিত করার জন্য মাঠে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রবাসী ও ভোটারদের মনিটরিং, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং তফসিল অনুসারে নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠু রাখার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

  • ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশেষ রোবাস্ট ও মোবাইল টহলের পাশাপাশি ফুট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছে; যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে না পারলে যানবাহন জব্দও করা হচ্ছে।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল কিংবা ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহিংসতায় জড়াতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হলে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঠেকাতে মাঠে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিজিবির টহল চোখে পড়ছে—সামনে পিকআপ, পেছনে এপিসি নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে টহল দল। সেনাবাহিনীও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিয়মিত টহল চলছে, যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নেই। তবু আগাম সতর্কতায় প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেল বলছে, চেকপোস্টের পাশাপাশি মোবাইল ও ফুট পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি চলছে।

    ভোটারদের উদ্দেশে ডিএমপি আশ্বস্ত করেছে—নিরাপত্তা বাহিনী পাশে আছে। নাগরিকরা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

  • ভোটে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর জবাব—নাশকতার দায় নেবে অভিযুক্তরাই, হুঁশিয়ারি র‍্যাব ডিজির

    ভোটে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর জবাব—নাশকতার দায় নেবে অভিযুক্তরাই, হুঁশিয়ারি র‍্যাব ডিজির

    এবিএনএ: ভোটকেন্দ্রে নাশকতা, জালভোট বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে কোনো ঝুঁকি নেয় না; ঝুঁকি বহন করতে হবে আইন ভাঙতে আসা ব্যক্তিদেরই।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব ডিজি জানান, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করবে, ফলাফল মেনে না নিয়ে সহিংসতায় জড়াবে কিংবা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে—তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রয়োগ করা হবে।

    তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারে জোরালো তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

    নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে তিন ধাপে সাজানো হয়েছে—নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়। নির্বাচনের দিন র‍্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় র‍্যাবের টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    র‍্যাব ডিজি আরও বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের স্থানীয় ইউনিটের সঙ্গেও সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।

    ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত স্থির ফোর্স বসানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে—অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি, পুলিশের বডি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তুতিও আছে।

    বহিরাগতদের অযৌক্তিক উপস্থিতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কেন্দ্রে পরিস্থিতি অবনতি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    র‍্যাব ডিজি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো জঙ্গি হুমকি নেই; তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

  • বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ৬ ককটেল উদ্ধার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

    বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ৬ ককটেল উদ্ধার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কার মধ্যে বাগেরহাটে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। সদর উপজেলার হাড়িখালি সুইচগেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে এসব ককটেল উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ২৩ আরই ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত ভবনের পাশের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতি থেকে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে এসব ককটেল মজুত করে রাখতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগের দিন কিংবা ভোটের দিন নাশকতার উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।

    ঘটনার পরপরই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশের একটি টহল দল মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল (বিডি) ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

  • জঙ্গল সলিমপুরে রক্তাক্ত অভিযান: র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হলেও দুদিনে নেই মামলা, গ্রেপ্তার শূন্য

    জঙ্গল সলিমপুরে রক্তাক্ত অভিযান: র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হলেও দুদিনে নেই মামলা, গ্রেপ্তার শূন্য

    এবিএনএ: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। একই সঙ্গে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতেও পারেনি।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ।

    পুলিশ ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি অভিযানে অংশ নেয় র‍্যাবের একটি দল। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন। তাকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামের একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা র‍্যাব সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে এবং জিম্মি করে রাখে।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও সরকারি খাসজমি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। হাজার কোটি টাকার জমির আধিপত্য নিয়ে সেখানে বিভিন্ন প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটনা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ইয়াসিন ও রুকন নামের দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। ওই বিরোধের জেরেই অভিযানের সময় এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • জঙ্গল সলিমপুরে ভয়াবহ অভিযান: হামলায় প্রাণ গেল র‍্যাব কর্মকর্তার, থমথমে চট্টগ্রাম

    জঙ্গল সলিমপুরে ভয়াবহ অভিযান: হামলায় প্রাণ গেল র‍্যাব কর্মকর্তার, থমথমে চট্টগ্রাম

    এবিএনএ: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়েছে র‍্যাব। এ ঘটনায় মো. তওহীদ নামে চট্টগ্রাম র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিজিবি থেকে ডেপুটেশনে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হাতে র‍্যাবের একাধিক কর্মকর্তা ও সদস্য গুরুতর আহত হন। আহত চারজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয় এবং পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি র‍্যাব দল আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান শুরু করে। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা র‍্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে মারধর ও হামলা চালায়। পরে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় জিম্মি অবস্থায় থাকা সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, হামলার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে।

    জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‍্যাব এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর ধরে সলিমপুর ইউনিয়নের এই পাহাড়ি এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে হাজার হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের এই এলাকা বর্তমানে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

    লিংক রোডসংলগ্ন এই অঞ্চলের প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা হওয়ায় দখলকৃত জমির মোট মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, খুন ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলমান।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছর থেকে এই সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গোলাগুলি, হত্যাকাণ্ড ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে অভিযানের খবর আগেই সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে তারা অভিযান প্রতিহত করে।

    উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমিতে কারাগার, আইটি পার্কসহ অন্তত ১১টি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে জমি উদ্ধার না হওয়ায় কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

  • র‍্যাব বিলুপ্তি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত সরকারের: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুত ডিজি

    র‍্যাব বিলুপ্তি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত সরকারের: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুত ডিজি

    এবিএনএ:   সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তি নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে, বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, র‍্যাব এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করছে না।

    ১১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিন বিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা এখন ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দস্যুতা বা অপহরণের মতো অপরাধ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তিনি আরও জানান, বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী হত্যা, গাজীপুরের সাংবাদিক হত্যা এবং আট টুকরা লাশের রহস্য উদ্ঘাটনসহ একাধিক ঘটনায় দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

    কক্সবাজার এলাকায় চলমান মাদক বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ডিজি জানান, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। নির্বাচনের জন্য সরকারের বা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পেলে র‍্যাব প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।

    পলিথিন বিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ নিয়ে এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, “পলিথিন শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, বরং পুরো পরিবেশ ও প্রাণীজগতের জন্য ক্ষতিকর। আমরা উৎপাদন, পরিবহন ও খুচরা পর্যায়ে পলিথিন ব্যবহারে বাধা দিচ্ছি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি।”

    তার মতে, জনগণ সচেতন হলে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে, যা পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।