ইরানে হামলা নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের: উত্তেজনা কমাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান

এবিএনএ:ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বেইজিং থেকে জানানো হয়েছে, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়া জরুরি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়—ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু ইস্যুতে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ভোররাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। অভিযানে রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেলেও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সংলাপ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানায় বেইজিং।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার খবর আসে। কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানানো হয়। এসব ঘটনায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

এদিকে, এই সংঘাতের নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া পরিস্থিতিকে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের পথে ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে। মস্কোর মতে, সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে।

ইউরোপীয় পর্যায়েও উদ্বেগের সুর শোনা যাচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *