Tag: বিশ্ব রাজনীতি

  • ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ১৮ লাখ কোটি টাকা, ধ্বংস হাজারো অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি

    ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ১৮ লাখ কোটি টাকা, ধ্বংস হাজারো অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি

    এবিএনএ: মাত্র ৪০ দিনের সংঘাতে ইরানের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির দাবি উঠেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, শিল্পকারখানা ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে দেশটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে বহু বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প এলাকা, সেতু এবং বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানান, সংঘাতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি রয়েছে, যেগুলোর কিছু আংশিক এবং কিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    এছাড়া প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে— ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    শিক্ষা খাতেও ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রেডক্রসের ২০টি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

    এছাড়া ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান অন্তর্ভুক্ত। বেসামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি সামরিক স্থাপনাগুলোরও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ইরানের চারটি বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র— খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ ও শারাউদ— গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের, ‘কার ওপর ভরসা করা যায়’ নতুন করে ভাবছে আবুধাবি

    মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের, ‘কার ওপর ভরসা করা যায়’ নতুন করে ভাবছে আবুধাবি

    এবিএনএ: ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলছে, ভবিষ্যতে কোন দেশের ওপর নির্ভর করা যাবে— তা এখন নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে, যার প্রভাব পড়ে কয়েকটি আরব দেশে।

    এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় কোন দেশগুলো প্রকৃত সহযোগী— তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরাত এখন এমন একটি অর্থনৈতিক ও আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যা দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আবুধাবি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশ স্বাগত জানালেও আমিরাত এ বিষয়ে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ও ভিত্তি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে না।

    পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে আমিরাত, যাতে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও না বাড়ে।

  • “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানকে কেন্দ্র করে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, “আজ রাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, যা একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার অবসান ডেকে আনবে—যা আর কখনও ফিরে আসবে না।”

    তবে একইসঙ্গে তিনি এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অনিবার্য বলে উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন পরিণতি চান না, যদিও পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ ও কম উগ্র মনোভাবের ব্যক্তিরা সামনে আসছেন। এ পরিবর্তন ইতিবাচক কিছু ঘটার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তার ভাষায়, বিশ্ব এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানা যাবে। তিনি এটিকে দীর্ঘ ও জটিল বৈশ্বিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশক ধরে ইরানে দুর্নীতি, সহিংসতা ও চাঁদাবাজির রাজত্ব চলছে, যার অবসান হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি ইরানের জনগণের কল্যাণ কামনা করেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    এবিএনএ:হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রসিকতার সুরে তারা বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, তারা নাকি ‘চাবি হারিয়ে ফেলেছে’। একই ধরনের পোস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন মন্তব্য করে, ‘চাবি ফুলের টবের নিচে রাখা—শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।’ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি চালু না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও মিলছে।

    এদিকে ইরান পাল্টা সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।

    চলমান উত্তেজনায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় তারা জানায়, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেই সব স্থান ভবিষ্যৎ হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে জনগণকে ওইসব এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই সংঘর্ষ ক্রমেই জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগতভাবে সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে তাদের উচিত সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেওয়া। অন্যথায় যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই সংঘাতের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানে হামলা নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের: উত্তেজনা কমাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান

    ইরানে হামলা নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের: উত্তেজনা কমাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান

    এবিএনএ:ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বেইজিং থেকে জানানো হয়েছে, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়া জরুরি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়—ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু ইস্যুতে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ভোররাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। অভিযানে রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেলেও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সংলাপ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানায় বেইজিং।

    ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার খবর আসে। কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানানো হয়। এসব ঘটনায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

    এদিকে, এই সংঘাতের নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া পরিস্থিতিকে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের পথে ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে। মস্কোর মতে, সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে।

    ইউরোপীয় পর্যায়েও উদ্বেগের সুর শোনা যাচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • বিশ্ব অস্থিরতার অজুহাতে সামরিক বাজেটে ইতিহাস গড়তে চান ট্রাম্প, প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি

    বিশ্ব অস্থিরতার অজুহাতে সামরিক বাজেটে ইতিহাস গড়তে চান ট্রাম্প, প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ অর্থবছরের জন্য তিনি প্রতিরক্ষা বাজেট এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা কংগ্রেস অনুমোদিত ২০২৬ সালের বাজেটের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।

    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্র বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ‘ড্রিম মিলিটারি’ গড়ে তুলতে পারবে। এতে দেশটি শুধু নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, বরং প্রতিপক্ষদের কাছেও শক্ত বার্তা পৌঁছাবে।

    আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদার ও শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ এবং নতুন উৎপাদন স্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থ প্রদানে কঠোর নজরদারির কথাও জানান তিনি।

    এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান ও রেথিয়নের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে অর্থনীতিবিদরা আগেই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। এসব আশঙ্কা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, শুল্ক ও অন্যান্য রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

  • ইসরায়েলের স্বীকৃতিতে পাল্টে গেল সমীকরণ—হঠাৎ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কেন সোমালিল্যান্ড?

    ইসরায়েলের স্বীকৃতিতে পাল্টে গেল সমীকরণ—হঠাৎ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কেন সোমালিল্যান্ড?

    এবিএনএ: হর্ন অব আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতির একটি উত্তপ্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে সোমালিল্যান্ডের নাম। আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং কৌশলগত অবস্থান ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের কারণে স্বঘোষিত এই রাষ্ট্র এখন বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে সোমালিল্যান্ড একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এতদিন জাতিসংঘসহ কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। দীর্ঘ তিন দশক কার্যত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বাইরে থাকা এই অঞ্চল শুক্রবার ইসরায়েলের স্বীকৃতি ঘোষণার পর হঠাৎ বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

    ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সৌদি আরব ও মিশর স্পষ্ট করে জানায়, তারা সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পক্ষে এবং কোনো বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে না। তুরস্ক এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু এখন আর কেবল আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে নতুন কৌশলগত উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

    ভৌগোলিকভাবে সোমালিল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত এই অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। গাজা যুদ্ধ, ইয়েমেন সংঘাত এবং হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে এই নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    এই বাস্তবতায় সোমালিল্যান্ডকে একটি সম্ভাব্য স্থিতিশীল নৌ ও সামরিক ঘাঁটির জন্য উপযোগী এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিজস্ব প্রশাসন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে অঞ্চলটি নিজেকে সোমালিয়ার তুলনায় বেশি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরছে।

    আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই ইস্যুকে জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের স্বার্থে সোমালিল্যান্ডে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে চীন ঐতিহ্যগতভাবে বিদ্যমান রাষ্ট্রসীমার পক্ষে থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রাশিয়াও সামরিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার দিক থেকে অঞ্চলটির দিকে নজর রাখছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করলেও অতীতে তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক প্রকাশ্যে সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য ইসরায়েলের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একতরফা স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

    সবকিছু মিলিয়ে, সোমালিল্যান্ড এখন আর শুধু একটি স্বঘোষিত অঞ্চল নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরাশক্তির কৌশলগত প্রতিযোগিতার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে এই অঞ্চল বিশ্ব রাজনীতির একটি সংবেদনশীল পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

  • বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে—এমন এক নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোর-৫’ নামে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা করছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

    মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নথিতে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত এই জোট কার্যত ইউরোপপ্রধান জি৭ এবং আদর্শভিত্তিক প্রচলিত পশ্চিমা জোটগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কোর-৫ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাকবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। জি৭-এর আদলে নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। প্রাথমিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিকল্প বা গোপন নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে—এই ধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপকে এই জোটের বাইরে রাখার ভাবনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোর-৫ বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত চীন নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।

    সব মিলিয়ে, কোর-৫ জোট আপাতত আলোচনার স্তরেই থাকলেও, এই ধারণা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে আন্তর্জাতিক মহলকে।