Category: লাইফ স্টাইল

  • শীত আসছে, যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

    শীত আসছে, যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

    এবিএনএ: শীত কড়া নাড়ছে। দিনে গরম থাকলেও রাতের দিকে শীত তার আগমনী বার্তা দিচ্ছে। এই সময় ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা ধরনের অসুখ বাঁধার ভয় থাকে। শীত আসার আগেই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হয়। কারণ শীতের দিনগুলো বছরের অন্যান্য সময়ের মতো নয়। এসময় শীতের পোশাক, কাঁথা-কম্বল থেকে শুরু করে ত্বকের পরিচর্যার উপাদান- দরকার পড়ে অনেককিছুর। এক নজরে দেখে নিন শীতের আগে কোন প্রস্তুতিগুলো নিয়ে রাখবেন-

    প্রসাধনী সামগ্রী কিনে রাখুন

    শীত আসার আগেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করে আমাদের ত্বকে। চামড়ার উপরিভাগ ফেটে যায়, ফাটে ঠোঁটও। এসময় ত্বকে রুক্ষভাব দেখা দেয়। তাই ত্বক ভালো রাখতে শীতের আগে বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী কিনে রাখা দরকার। ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, স্নো, পেট্রোলিয়াম জেলি, অলিভ অয়েল, বডি লোশন, লিপজেল, গ্লিসারিন, গোলাপজল ইত্যাদি কিনে হাতের কাছে রাখুন।

    অসুখ থাকুক দূরে

    শীত এলে তার হাত ধরে আসে নানা অসুখ। এসময় ঠান্ডাজনিত জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, সর্দি-কাশি দেখা দিতে পারে। এসব অসুখ থেকে দূরে থাকার জন্য নিতে হবে প্রস্তুতি। এসম তরল ও গরম জাতীয় খাবার বেশি খাবেন। প্রতিদিন চা, হালকা গরম পানি, আদা, লেবু, মধু ইত্যাদি রাখবেন খাবারের তালিকায়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানির সঙ্গে এক চা চামচ মধু ও এককোয়া রসুন মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। এসময় ঠান্ডা পানিতে গোসল করলেও ঠান্ডাজনিত নানা অসুখ দেখা দিতে পারে। তাই গোসলের পানি হালকা গরম থাকাই ভালো।

    ঘর পরিষ্কার

    শীতের সময় ধুলোবালির পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়। এসময় শুষ্ক আবহাওয়া এর বড় কারণ। এই ধুলোবালির কারণে বাড়িঘর অপরিষ্কার হতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, ধুলোবালির মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে দেখা দিতে পারে অসুখও। তাই এসময় বাড়িঘর পরিষ্কার রাখাও সমান জরুরি। ধুলোবালি পরিষ্কারের জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। জানালা ও দরজায় ভারী পর্দা লাগাতে পারেন তাতে ঘরে ধুলোবালি কম প্রবেশ করবে। বাড়ির মেঝে, আসবাব, কার্পেট সব নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

    শীতের পোশাক

    শীতের প্রস্তুতির একটি বড় অংশ হলো শীতের পোশাক পরিষ্কার করা। কারণ সারা বছর ব্যবহার না করার কারণে তাতে নানা ধরনের জীবাণু জন্ম নিতে পারে। তাই শীত শেষে গুছিয়ে রাখার সময় ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখলেও শীতের শুরুতে আরেকবার ধুয়ে নিন। যেহেতু শীতের শুরু কদিন পরেই তাই এখনই তুলে রাখা শীতের পোশাক ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। প্রয়োজন হলে শীতের পোশাক যেমন সোয়েটার, কার্ডিগান, জ্যাকেট, স্যুট, প্যান্ট, মাফলার, মোজা, কানটুপি ইত্যাদি কিনে রাখুন।

  • ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি মেটায় যেসব ফল

    ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি মেটায় যেসব ফল

    মানব শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে ভিটামিন ও খনিজ। এ উপাদানগুলোর অভাব হলে তা আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করে। আমাদের সবারই উচিত স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আগেই সচেতন হওয়া। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সবারই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ও খনিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দুটির ঘাটতি মেটাতে পারে হাতের কাছের কিছু ফল।  আসুন জেনে নিই সেই সম্পর্কে—

    ১. কমলা
    করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে। আর এর জন্য ভিটামিন ‘সি’ বেশি খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আর এ কারণে কমলার জনপ্রিয়তা গত এক বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কমলায় থাকা ভিটামিন ‘সি’ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া কমলা ভিটামিন ‘সি’ এবং ফোলেটের গুণাগুণে ভরপুর তা আমাদের জন্য দৈনিক পুষ্টির একটি নিখুঁত ঘাটতি মিটিয়ে দিতে পারে।

    ২. ডালিম
    ডালিম হচ্ছে ভিটামিন সি, এ ও ই’তে ভরপুর। আর এ কারণে এটি আপনার শরীরে ভিটামিনের ঘাটতির অনেকটাই সরবরাহ করতে পারে। এ ছাড়া ডালিমের লাল দানার বীজ শরীরে আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর প্রতি ১০০ গ্রামে শূন্য দশমিক ৩ মিলিগ্রাম পর্যন্ত আয়রন থাকতে পারে। আর আয়রন সমৃদ্ধ এ ফলটি রক্তশূন্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করতেও অনেক কার্যকরী।

    ৩. কলা
    কলা এতই পরিচিত একটি ফল যে, আমাদের দেশের যে কোনো জায়গায় কলা খুঁজে পেতে পারেন এবং এটি তাত্ক্ষণিকভাবে আপনার ক্ষুধা মেটাতে পারে। সুমিষ্ট এ ফলটিতে পটাশিয়াম, ভিটামিন ‘বি’ এবং ফোলেটের পরিমাণ বেশি থাকায় কলাকে সুপারফুড বলা হয়। আর এটি শরীরে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

    ৪. আপেল
    পুষ্টিকর ফল হিসেবে আপেলের অনেক খ্যাতি রয়েছে। এ ফলটি আয়রনের অন্যতম একটি ভালো উৎস এবং এটি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে অনেক কার্যকরী। এটি অ্যামিনিয়া রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে চিনির পরিমাণ কম থাকার কারণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী।

    ৫. স্ট্রবেরি
    যদিও আমাদের দেশে এই ফলটি তেমন বেশি প্রচলিত না, কিন্তু তার পরও এই ফলটি ভিটামিন ও খনিজের অনেক ভালো একটি উৎস। এখন আমাদের দেশেও অনেক চাষ করা হচ্ছে এ ফলটি। এটিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন ‘সি’ থাকে, যা আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে অনেক কার্যকরী হিসেবে কাজ করে।

    তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • খুললো স্কুল, সন্তানের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেভাবে সচেতন থাকবেন

    খুললো স্কুল, সন্তানের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেভাবে সচেতন থাকবেন

    এবিএনএ: করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে দেশে দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পর খুললো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে স্কুল-কলেজে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অভিভাবকদের মাঝে কাজ করছে শঙ্কা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। কারণ কোভিড তো হাওয়ায় মিলিয়ে যায়নি। খানিকটা অসাবধান হলেই আছে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি। পাশপাশি অন্যান্য বয়সীদের মত শিশুদেরও ভর করেছে কোভিড ফোবিয়া। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন, জেন নিন তেমন কিছু বিষয়।

    সন্তানকে আশ্বস্ত করুন

    প্রথমত, আপনার আদরের সোনামনিকে আশ্বস্ত করুন, কোভিড নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে গেলে ও ক্লাস করলে সংক্রমণের ভয় নেই। স্কুলে থাকাকালীন সময়টাতে মাস্ক পরলে ও সহপাঠী-শিক্ষক থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কম থাকে। পাশপাশি মনে করে দিন, নিয়মিত সাবান পানিতে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার গুরুত্বের কথা। তাদেরকে আরো বুঝাতে হবে অনলাইন ক্লাস থেকে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করলে অনেক বেশি জানতে ও বুঝতে পারবে। এছাড়া দীর্ঘসময় পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে দেখা হলে ভালো লাগবে, মনও খুশি হবে।

    মানিসক পরিবর্তনে নজর রাখুন

    অতিমারীতে সবরাই জীবনযাপনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এর বাইরে যেমন আপনি নন, তেমনি আপনার সন্তানও নয়। তাই আপনার সন্তান স্কুল যেতে শুরু করলে তার স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য, আচার-আচরণের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন। খেয়াল করবেন, স্কুল থেকে ফেরার পর সে যেনো মনমরা হয়ে না থাকে। কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়। তার মাঝে কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে কিনা, হুটহাট রেগে যাওয়া কিংবা খেলায় অনীহা বা হোমওয়ার্ক করতে অনীহা হচ্ছে কিনা- এসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন। যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে ধৈর্য ধরে সন্তানের পাশে থাকুন। ইতিবাচক কিছু শোনান। বুঝাতে চেষ্টা করুন, নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে সবারই নিরাপদ দূরত্বে থাকা উচিত।

    ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন

    দেড় বছরেরও বেশি সময়ে লাগাতার লকডাউন ও অনলাইন পড়াশোনার ফলে সন্তানের ঘুমের অভ্যাসে বদল হওয়াটি ছিল খুব স্বাভাবিক। এর ফলে স্কুল-কলেজের নিয়মিত রুটিনে ফিরতে সমস্যা হতে পারে।বিশেষ করে রাতে দেরিতে ঘুমানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আগে স্কুল চলাকালীন ঘুমের অভ্যাস যেমন ছিল তাতে ফিরে যেতে হবে এবং মনে রাখতে হবে, আপনার সন্তান যদি পর্যাপ্ত না ঘুমায়, তাহলে ক্লাসে সহজেই দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পড়াশোনাতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে বেশিক্ষণ টিভি দেখা, স্মার্টফোন ও অন্যান্য স্ক্রিন জাতীয় ডিভাইস ব্যবহার থেকে তাদের বিরত রাখুন।

    সবসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

    • অধিকাংশ শিশুরাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বড়দের মতো সচেতন নয়। তাই তাদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলতে হবে। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পর নিয়মিত সাবান পানিতে হাত ধোয়ার কথা যেনো তারা না ভুলে যায়। পাশপাশি বন্ধুদেরকেও নিয়মিত হাত ধুতে মনে করিয়ে দিতে হবে।
    • শিশুকে কাশি-হাঁচির শিষ্টাচারও মেনে চলতে বলুন। অর্থাৎ কাশি বা হাঁচি আসলে কনুইর ভাঁজ ব্যবহার করতে হবে। সবসময় মাস্ক পরতে বলুন। দূরত্ব বজায় রেখে অন্যের সাথে কথা বলতে বলুন।
    • স্কুলের বাইরে থেকে ঝালমুড়ি, ফুচকা কিংবা ফাস্ট ফুড জাতীয় কিছু যাতে কিনে না খায়, সে বিষয়ে সচেতন করুন।
      • শিশুর ব্যাগে আলাদা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে দিন। পানির বোতল অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা ভাগাভাগি করে খেয়ে থাকে। একজনের পানির বোতল আরেকজন যেনো শেয়ার না করে সে বিষয়টি বলে রাখুন।
      • পেন্সিল, কলম কিংবা লেখার খাতা থেকে শুরু করে বইয়ের ক্ষেত্রেও বন্ধুর সঙ্গে ভাগাভাগি না করার বিষয়টি বুঝাতে চেষ্টা করুন। এতে করে শিশু একদিকে যেমন সচেতন হবে, আবার বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যাতে বন্ধুরা মন খারাপ না করে তার দিকেও লক্ষ্য রাখতে পারবে।
      • শিশু স্কুল থেকে ফিরলে গোসল করাবেন। এতে সে জীবাণুমুক্ত হবে। খাদ্যতালিকায় যথাসম্ভব পুষ্টিকর খাবার রাখুন এবং বিশ্রামে থাকতে দিন।
  • ধূমপান করেন, দাঁতের যত্নে যা করবেন

    ধূমপান করেন, দাঁতের যত্নে যা করবেন

    এবিএনএ : যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। শরীরের অন্য অঙ্গগুলোও সমান ভাবে ক্ষতির শিকার হয়। ধূমপানের সুদূরপ্রসারী কুপ্রভাবে চোখ, চুল থেকে দাঁত কোনো কিছুই রেহাই পায় না। ধূমপায়ীরা দাঁতের যত্নে উদাসীন হলে চলবে না, কারণ শেষে বড় বিপদে পড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে আপনারই ক্ষতিটা বেশি হবে। তাই ধূমপায়ীদের জেনে রাখা ভালো কীভাবে তারা দাঁতের যত্ন নেবেন।

    দাঁত ব্রাশ করা

    দাঁতের যত্নের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত মাজতে হবে। সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ অভ্যাস প্রায় নিয়মের মধ্যেই পড়ে। তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আরো একবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম পালন করা ভীষণ জরুরি।

    টুথপেস্ট বাছাইয়ে সর্তক হোন

    টেলিভিশনে টুথপেস্টের চটকদারি বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না। দাঁত ভালো রাখার জন্য যে টুথপেস্টটা দরকার সেটাই বেছে নিন। আর টুথপেস্ট বাছার সময়ে অবশ্যই মাথায় রাখুন তাতে যেনো ফ্লুওরাইড থাকে।

    মাউথওয়াশ

    প্রতিদিন দুইবার ব্রাশ করলেই হবে না। চেষ্টা করুন দিনে এক বা দুইবার কোনো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে। এতে মুখে দুর্গন্ধ হয় না, আর দাঁতের ওপর জমে থাকা জীবাণুর স্তরও সরে যায় সহজেই। যা ধূমপায়ীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন

    মিষ্টি জাতীয় খাবারে অ্যাসিড থাকার করণে খাওয়া শেষ হলেও মুখে থেকে যায় অনেকক্ষণ। এই অ্যাসিড দাঁতের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। তা ধীরে ধীরে দাঁতের ক্ষয় করতে থাকে। তাই যতোটা সম্ভব এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

  • কোরবানির মাংস বেশি খেলে যা করণীয়

    কোরবানির মাংস বেশি খেলে যা করণীয়

    এবিএনএ : ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ বা উদযাপন। তেমনি কোরবানির ঈদে অন্য সময়ের চেয়ে মাংস বেশি খাওয়া হয়ে থাকে। যদিও অতিরিক্ত মাংস খাওয়া মোটেও ঠিক নয়; যা শারীরিক অস্বস্তি ও অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন মাংস খেতে হবে পরিমাণমতো। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাংস যদি খেয়েই ফেলেন, তবে কিছু কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

    আসুন জেনে নিই বেশি মাংস খাওয়ার পর কী করবেন-

    লাল মাংস প্রচুর জিংকসমৃদ্ধ, যা আমাদের রক্তশূন্যতা পূরণ করে। তবে এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। লাল মাংসে (রেডমিট) প্রচুর পরিমাণে সাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, গ্যাস্টিক ও কোলেস্টেরলের সমস্যা হতে পারে।

    ১.  যেদিন মাংস একটু বেশি খাওয়া হবে, সেদিন অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশি হাঁটুন। ২০-৩০ মিনিট হাঁটুন। এমনভাবে হাঁটতে হবে যেন গা থেকে ঘাম ঝরে। এতে বাড়তি ক্যালোরি পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

    ২. প্রতিদিন মাংস খাওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন মেন্যুতে মাংস বা মাংসজাতীয় খাবার না রাখাই শ্রেয়। ভর্তা, ভাজি, ডাল-ভাতের মতো সাধারণ খাবারই হবে সঠিক মেন্যু।

    ৩. মাংস বেশি খাওয়ার পর অস্বস্তি বোধ হলে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার পান করলে উপকার পাবেন। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ এসিভি মিশিয়ে পান করুন।

    ৪. খেতে পারেন পুদিনাপাতার চা। এক মুঠো পুদিনাপাতা কুঁচি করে গরমপানিতে মিশিয়ে পান করুন। স্বাদের জন্য এতে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

    ৫. মাংস খাওয়ার পর অস্বস্তি বোধ হলে লেবু, কমলালেবু ও মাল্টা ফল খেতে পারেন।

    ৬. হলুদ হল সবচেয়ে শক্তিশালী, যা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধর্ম সম্পন্ন একটি প্রাকৃতিক উপাদান। কুসুম গরমপানিতে হলুদ গুঁড়া, লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

    ৭. মাংস বেশি খেলে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

  • ব্যস্তদিনে দশ মিনিটের অনুশীলনে ফিট রাখুন শরীর

    ব্যস্তদিনে দশ মিনিটের অনুশীলনে ফিট রাখুন শরীর

    দৈনন্দিন জীবনে মানুষের ব্যস্ততা সর্বদা লেগেই আছে। কাজের চাপে অন্য কোনোদিকে মন দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে শারীরিক অনুশীলনের যে কোনো বিকল্প নেই! তাহলে কী করা? চিন্তার কোনো কারণ নেই। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১০ মিনিট অনুশীলন করে নিজের শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে পারেন আপনি। দূর করতে পারে মনের হতাশা, ক্ষোভসহ শরীরের ছোটখাটো জটিলতা। তেমনই পরামর্শ দিয়েছেন ১০ জন বিশেষজ্ঞ। চলুন জেনে নিই।

    ১. গতিশীলতা এবং মূল কাজ

    মহামারির এই সময়ে এখন অনেক মানুষকে বাসায় বসেই অফিসের কাজ করতে হয়। সারাক্ষণ জুম মিটিংয়ে থাকতে হয়। বাইরে যাওয়ার তেমন সুযোগ নেই। সারাক্ষণ বসে থাকতে থাকতে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। এমন সময়ে শরীর ফিট রাখার জন্য বাসায় বসেই ১০ মিনিট অনুশীলন করা যেতে পারে। শারীরিক প্রশিক্ষক সিভান ফ্যাগান বলছেন, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যায়ামে আপনি শরীরের পেশিগুলো সচল করে নিতে পারেন। তাতে আপনার মধ্যে ক্লান্তি দূর হবে এবং কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে। এক্ষেত্রে আপনি ট্রেডমিলে দৌঁড়াতে পারেন কিংবা বাসার ছাদে হাত পা ছুঁড়ে ব্যায়াম করতে পারেন।

    ২. কার্যকরী ব্যায়াম

    আপনার হয়তো বিকালে বা সন্ধ্যায় একটু সময় আছে। এক্ষেত্রে আপনি বাইরে বের হয়ে ১০ মিনিট দৌঁড়ে নিতে পারেন বা জিমে গিয়ে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করে আসতে পারেন। রানিং, ওয়েটলিফটিং করা যেতে পারে। শারীরিক প্রশিক্ষক কলিন্স এজেখ বলেছেন, ১০ মিনিটে নির্দিষ্ট একটি ব্যায়ামের উপর মনোযোগ দিয়ে শরীর-মনকে চাঙ্গা রাখা যায়। এর মধ্যে বিশ্রাম নেয়ার দরকার নেই। হৃৎপিণ্ড ভালো রাখার জন্য ১০ মিনিটের ব্যায়ামও কার্যকরী।

    ৩. মেডিটেশন

    নিউইয়র্কের শারীরিক প্রশিক্ষক অ্যালিসিয়া জেমিসন বলেছেন, ফিটনেস মানে শুধু শরীরকে ভালো রাখা বুঝায় না। ফিটনেসের মধ্যে মনও জড়িত। মাত্র ১০ মিনিটেও নিজের মনের গভীরে প্রবেশ করা যায়। তার মতে, ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য অল্প সময় হলেও একাগ্রচিত্তে মেডিটেশন জরুরি। মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য এটি জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

    ৪. ওয়ার্ম-আপ ও হাঁটা

    শারীরিক প্রশিক্ষক আন্না হার্টম্যান বলছেন, ১০ মিনিটের মধ্যে শুরুতে একটু ওয়ার্ম-আপ করে শরীর গরম করে কিছু সময় হাঁটা যায়। তাতে শরীরের ছোটখাটো সমস্যা দূর হয়ে যায়। শরীরের মধ্যে সতেজ ভাব কাজ করে।

    ৫. ফর্ম ওয়ার্ক

    ফিটনেস বিশেষজ্ঞ অ্যাভা ফ্যাগিন বলছেন, কারো হাতে যদি ১০ মিনিট সময় থাকে তাহলে তার জন্য ফর্ম ওয়ার্ক ভালো অপশন। শুরুতে ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের কিছু ভিডিও দেখে তারপ পুশ-আপ, স্কোয়াট, কেটলিবেল সুইং করা যেতে পারে।

    ৬. ভারোত্তোলন

    ট্রেনার জ্যাসন প্যাক ভারোত্তোলনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যখন তিনি ব্যায়ামের জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পান তখন ভারোত্তোলনের শুধু প্রধান অংশটি অনুশীলন করেন। তিনি শরীরে শক্তি বাড়ানোর উপরে নজর দেন। তার মতে, তিনি নিয়মিত এমন কিছু করার চেষ্টা করেন যাতে করে তার শরীরে নিয়মিত উন্নতি হয়।

    ৭. মেল্ট বল ও মেল্ট রোলার

    তারা নিকোলার নামের একজন প্রশিক্ষক বলেছেন, যখন তিনি কম সময় পান তখন মেল্ট বল ও মেল্ট রোলার বের করে আনেন। রোলার তিনি পিঠে ব্যবহার করেন। এতে করে পেশিগুলো সতেজ হয়। কিছু সময় তিনি মেল্ট বল ব্যবহার করে ব্যায়াম করেন।

    ৮. বডিওয়েট মোবিলিটি ও স্ট্রেংথ ফ্লো

    নাদিয়া রুইজ নামের একজন ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ১০ মিনিটে সিংগেল-লেগ নি হাগস, হাই নি’স, গ্লুট ব্রিজেস, বাইসাইকেল ক্রান্সেস ব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে করে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে, রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে ও আঁটসাঁট জায়গা আলগা হয়ে যায়।

    ৯. বারপিস

    ক্রিশ্চিয়ান অ্যাশে নামক একজন ফিটনেস বিশেষজ্ঞ স্বল্প সময়ের জন্য বারপিস ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন। এই ব্যায়ামে পুরো শরীরের নড়াচড়া হয় এবং এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যায়ামও।

    ১০. সমস্ত শরীরের ওয়ার্কআউট

    নোম্যান তামির নামক একজন বিশেষজ্ঞ ইন্টারনাল অ্যান্ড এক্সটারনাল হিপ রোটেশন, স্কোয়াট গ্লুট ব্রিজ, রেনিডেগড রো, পুশ-আপ ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শরীর ফিট রাখার জন্য এসব ব্যায়াম নিয়মিত ১০ মিনিট করে করাই যথেষ্ট।

    সূত্র: সেলফ

  • যে ৫ সবজি বেশি খেলে হতে পারে বিপদ

    যে ৫ সবজি বেশি খেলে হতে পারে বিপদ

    এবিএনএ : সুস্থ থাকতে শাক-সবজি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শাক-সবজি খাওয়া জরুরি। সচেতন মানুষ মাত্রই খাবারের তালিকায় শাক-সবজি রাখেন। তাজা শাক-সবজি ও ফল নানা উপকার বয়ে আনে। তবে কিছু সবজি আছে যেগুলো উপকার করে ঠিকই কিন্তু বেশি খেলে হতে পারে বিপদের কারণ। জেনে নিন এমন ৫ সবজির কথা যা বেশি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে-

    ১. ফুলকপি

    ফুলকপির রয়েছে অনেক উপকারিতা। তবে এই সবজি বেশি খেলে বাড়তে পারে পেটের সমস্যা। অ্যাসিডিটির মতো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে ফুলকপির কারণে। এই সবজিতে থাকে প্রচুর পুষ্টি যা সুস্থ থাকার জন্য সহায়ক। কিন্তু এতে থাকে রাইফনোজ নামক এক ধরনের কার্বস। এই যৌগটি আমাদের শরীর পুরোপুরি হজম করতে পারে না। তাই ফুলকপি বেশি খেলে পেটে ব্যথা বা পেটের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি কাঁচা খাওয়া আরও বেশি ক্ষতিকর।

    ২. মাশরুম

    মাশরুম বেশ জনপ্রিয় একটি সবজি। এটি সবজির আমিষ হিসেবে পরিচিত। এই সবজির খাদ্যগুণও প্রচুর। যারা আমিষ খান না তাদের শরীরে আমিষের প্রয়োজনীয়তাগুলো মেটাতে সাহায্য করে আমিষ। তবে সব ধরনের মাশরুম কিন্তু খাওয়া যায় না। এমনকী সব ধরনের মাশরুম হাত দিয়ে ধরার জন্যও নিরাপদ নয়। ভক্ষণযোগ্য মাশরুমে আছে ভিটামিন ডি। তবে এটি বেশি খেলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের মাশরুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

    ৩. বিট

    বিট উপকারী একটি সবজি। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান তাদের খাবারের তালিকায় থাকে বিট। তবে এই সবজি বেশি খেলে প্রস্রাবের রং গোলাপি বা লাল হতে পারে। বিটরুটে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কারণে এমনটা হতে পারে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে বিট পরিমিত খাওয়াই উত্তম।

    ৪. গাজর

    গাজর খেতে যতই পছন্দ করুন না কেন, এর পরিমাণের দিকে নজর দিন। আপনি যদি খুব বেশি গাজর খেতে থাকেন তবে আপনার ত্বকের রং পরিবর্তন হয়ে কমলা বা হলুদ হতে শুরু করবে। কারণ গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন শরীরে অতিরিক্ত প্রবেশ করে এবং এটি রক্তে প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে ত্বকে জমা হয়। অতিরিক্ত কুমড়া বা মিষ্টি আলু খেলেও এমনটা হতে পারে।

    ৫. লেবু

    ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীয়তা সবারই জানা। এই ভিটামিনের সবচেয়ে ভালো উৎস মনে করা হয় লেবুকে। ভিটামিন সি ত্বক, হাড়, দাঁত ভালো রাখলেও এটি অতিরিক্ত গ্রহণে দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। লেবুতে থাকা সাইট্রিস অ্যাসিডের কারণে দাঁত ক্ষয় হতে পারে। মুখের ভেতরে ফোঁড়া বা ঘা দেখা দিতে পারে। খালি পেটে বেশি লেবু খেলে তা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই বেশি ভিটামিন সি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত লেবু খাবেন না; খেতে হবে পরিমিত।

  • স্মার্টফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

    স্মার্টফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

    এবিএনএ : করোনাভাইরাস নিত্যজীবনে প্রভাব ফেলেছে। অনেকের সঙ্গী এখন আইপ্যাড, ই-বুক, ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ। হাতে হাতে স্মার্টফোন তো রয়েছেই। বেশিরভাগ সময় ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ বেড়ে গেছে মানুষের। অনেকে স্মার্টফোনে নাটক-সিনেমা, ওয়েব সিরিজও দেখেন। আবার কেউ অনলাইন গেমস-এ মেতেছেন। অর্থাৎ দিনের অধিকাংশ সময় স্মার্টফোনের পর্দায় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থী থেকে পেশাজীবী সবাই।

    এখন আর বিষয়টি অজানা নয় যে, স্মার্টফোনে স্ক্রিন টাইম বেড়ে গেলে শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সংসার হতে পারে প্রেমশূন্য, বাড়তে পারে অশান্তি। বিশেষ করে শিশুদের স্মার্টফোনে গেম খেলার অভ্যাস ডেকে আনে অন্য বিপদ। গেমের মতো মজার দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার পর পড়াশোনার মতো নীরস বিষয়ে আগ্রহ কমে যেতে পারে। এছাড়া গেম খেলার সময় মন এতো একাগ্র থাকে যে চোখের পলক পড়া কমে যায়। তাই অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, দিনে স্ক্রিন টাইম দুই ঘণ্টার বেশি যেন না হয়।

    যদি ইতোমধ্যেই স্মার্টফোনের ক্লান্তি, স্ট্রেস বা চাপে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে হঠাৎ করে এখনই বন্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু সময়টা যাতে কমিয়ে আনা যায় সে চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন, বিশ মিনিট অন্তর মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে বিশ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে বিশ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন এবং বিশবার চোখ পিটপিট করুন। এতে চোখে চাপ কম পড়ে। গদি আঁটা চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে হবে। পা যেনো মাটিতে পৌঁছায়। এতে ঘাড়ে ও কোমরে চাপ কম পড়বে। চোখের ক্ষতি কমাতে ল্যাপটপ, টিভি, স্মার্টফোনের উজ্জ্বলতা ও কন্ট্রাস্ট কমিয়ে রাখতে হবে। ঘরের আলো স্মার্টফোনের আলোর চেয়ে যেনো কম উজ্জ্বল হয় লক্ষ্য রাখতে হবে। দরকার হলে দু’একটা আলো নিভিয়ে দিতে হবে। তবে একদম অন্ধকার ঘরে স্মার্টফোন ব্যবহার করা অনুচিত।

    খোলা জানালা বা চড়া আলো পেছনে না রেখে, যেনো পাশে থাকে, বাঁ-দিকে থাকে, তাহলে বেশি ভালো হয়। না হলে পর্দায় তা প্রতিফলিত হয়ে সমস্যা বাড়ায়। কম্পিউটারে বসলে মনিটর যেনো বিশ থেকে বাইশ ইঞ্চি দূরে চোখের সমান্তরালে দশ ডিগ্রি হেলে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চোখের লেভেল থেকে স্ক্রিন একটু নিচে থাকলেও চোখে কম চাপ পড়ে। তাই এক ফুট দূরে রেখে স্মার্টফোন দেখার অভ্যাস করা দরকার। অর্থাৎ বই পড়ার সময় যে দূরত্ব থাকে সে দূরত্ব থাকা দরকার। আর হ্যাঁ, আধ ঘণ্টার বেশি এক জায়গায় টানা বসে থাকা উচিত নয়।

    রাতে ঘুমানোর সময় বিছানায় ফোন রাখবেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মেসেঞ্জার বক্স চেক করবেন না। অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এলে বুঝতে পারবেন। এ জন্য ঘনঘন ফোন দেখার দরকার নেই।

    লেখক: বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ঘরের কাজই হয়ে উঠুক ব্যায়ামের বিকল্প

    ঘরের কাজই হয়ে উঠুক ব্যায়ামের বিকল্প

    এবিএনএ : কোভিডের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থেকে মুটিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। খাচ্ছেন যে খুব বেশি তাও নয়, কিন্তু দিনকে দিন ওজন বেড়েই চলছে! এর কারণ, এখন অফুরন্ত অবসর। খুব বেশি কাজ করতে হচ্ছে না। তার উপর বাসার খাবারে থাকছে উচ্চ প্রোটিন ও ক্যালরি। অতিমারিতে যেখানে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ ভর করে থাকে শরীর-মনে সেখানে ব্যায়াম করা তো দিবাস্বপ্ন।

    এদিকে ঘরদোরের কাজ করতে করতে কখন বেলা চলে যায় টেরই পাচ্ছেন না। আলাদা করে কাজ সামলে এক্সারসাইজের জন্য সময় বার করাটাই মুশকিল। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে সেরে নেওয়া যেতে পারে কিছু ব্যায়াম। যেগুলো হয়তো আমরা ভাবতেই পারি না যে এগুলোও ব্যায়াম কিংবা শরীরচর্চার বিকল্প হতে পারে!

    ১.মোড়কজাত গুঁড়া মসলা এবং মসলা বাটার আধুনিক যন্ত্রপাতি দখল করে নিয়েছে শিলপাটার জায়গা। আধুনিক নাগরিক জীবনে শিলপাটার ব্যবহার দিনকে দিন কমছে। যারা নিয়মিত ব্লেন্ডারে মশলা পেষার কাজটি করে থাকেন তারা ব্যায়ামের জন্য শিলপাটার সেই আগের ব্যবহারে ফিরে যেতে পারেন। এতে কিন্তু হাত ও পেটের ভালো ব্যায়াম হয়।

    ২.ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া থেকে বিরত থাকুন আপাতত। নিজের কাপড় নিজেই ধুয়ে নিন। এতে শারীরিক পরিশ্রম হবে। ভেজা কাপড় নিঙরানোর ফলে হাতের পেশিতে যে চাপ পড়ে, তা থেকেও হাতের ভালো ব্যায়াম হতে পারে।

    ৩.ঘরের কাজ করতে করতেই সেরে নিতে পারেন এই ব্যায়ামটা। মাটিতে পড়ে থাকা জিনিস তোলার জন্য ঝুঁকে না পরে উবু হয়ে বসে তুলতে পারেন। এতে পায়ের ও পেটের ব্যায়াম হবে। যতবারই কোনো জিনিস তুলবেন ততবার উবু হয়ে বসে তুলবেন। এতে স্কোয়াটের উপকারিতা পাবেন।

    ৪.করোনাকালে ঘর মোছা সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। এর জন্য খুব ভালো হয় মাটিতে বসে হাত দিয়ে ঘর মুছলে। এতে হাত, পা ও পেটের পেশিতে চাপ পরে। একান্তই অসুবিধে হলে দাঁড়িয়ে মোছার সরঞ্জাম ব্যবহার করুন, সেক্ষেত্রে হাতের ব্যায়ামটা খুব ভালো হবে।

  • মধ্যবয়সে ২০ মিনিট প্ল্যানের ম্যাজিক

    মধ্যবয়সে ২০ মিনিট প্ল্যানের ম্যাজিক

    এবিএনএ : মধ্যবয়সে এসে মানুষের শরীরের তেজ কমতে থাকে। হারাতে থাকে তারুণ্যের শক্তি। এই বয়সে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিশেষ করে শারীরিক নানা পরিবর্তন শুরু হয় ঠিক শিশুকালের বিপরীতে।

    শৈশবে যেমন দেহের মাংসপেশি, হাড়, মস্তিষ্ক, শারীরিক শক্তি বাড়ন্ত থেকে তারুণ্যে পৌঁছায়, তেমনি মধ্যবয়সের পর শরীরের এগুলো ক্ষীয়মাণ হতে হতে বার্ধক্যের দিকে এগোয়। তবে আপনি চাইলে এই বয়সেও আপনার তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন, যদি প্রতিদিন ২০ মিনিটের একটি সুষম পরিকল্পনা মেনে চলেন।

    প্রতিদিনের ২০ মিনিটের এই পরিকল্পনা অনুসরণ আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে সব সময়। তবে আগে বুঝে নিতে হবে আপনার দেহ সেই ভার সইবে কি না। এমন অনেক ২০ মিনিটের ব্যয়াম আছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য ভালো, সহজ এবং কার্যকর। আপনার শরীরকে সুস্থ ও তারুণ্যময় করতে সক্ষম।

    আপনি কোথা থেকে শুরু করবেন? চলুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ থেকে দেখে নিই।

    কর্মক্ষম মাংসপেশি

    ভারোত্তলন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা কসরত। চিকিৎসক বা পরামর্শকের নিয়ম মেনে জিমে বা ঘরোয়াভাবে পানির বোতল বা ডাম্বেল দিয়ে মাংসপেশির সঞ্চালন ও প্রসারণ অনুশীলন করতে পারেন।

    বেশি স্ট্রেচ

    বয়স চল্লিশে পৌঁছালে যেকোনো ব্যায়ামের আগে বেশি করে ‘স্ট্রেচিং’ এবং ‘ওয়ার্ম-আপ’ করাটা আবশ্যক। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশি শক্ত আর হাড় নরম হতে থাকে। তাই শরীরের নমনীয়তা ও নড়াচড়ার স্বাচ্ছন্দ্য আনতে স্ট্রেচিং ও ওয়ার্ম-আপের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। পেশির নমনীয় ভাব আর শরীরে রক্তসঞ্চালন ভালো রাখতে ব্যায়ামের সময় ‘ফোম রোলার’ ব্যবহার করতে পারেন।

    বাড়তি শক্তিবর্ধক ব্যায়াম

    বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ভার কমতে থাকে, ফলে পেশি সরু হতে থাকে, বিপাকের হার কমতে থাকে। তাই পেশি বাড়াতে বুকডন, উঠবস, ঘাড়ের ব্যায়াম ইত্যাদি সাধারণ শরীরচর্চা দিয়ে শুরু করতে হবে। এমন ওজন ব্যবহার করতে হবে যা শরীরের জন্য চ্যালেঞ্জিং, তবে অতিরিক্ত নয়। এতে পেশি শক্তিশালী হবে, ক্যালরিও পুড়বে।

    তীব্রতা কমাতে

    ব্যায়ামের সময় ব্যথা অনুভূত হলে বুঝতে হবে সেটা শরীরের জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কার্ডিও ব্যায়ামের রুটিনের বদলে হাঁটাহাঁটি, সাঁতার কাটা ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যায়াম হালকা করে নিতে পারেন। এ বয়সে পেশি ও হাড়ের ওপর বাড়তি চাপ দেওয়া যাবে না।

    ভারসাম্য বাড়ান

    ব্যায়াম করতে গিয়ে শরীরের ভারসাম্য হারানো এই বয়সে খুবই স্বাভাবিক। এ জন্য চাই শরীরের ভারসাম্য বজার রাখার ব্যায়াম। ‘পিলাটেস’, ‘তাই চি’ ইত্যাদি অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরের ভারসাম্য এবং নড়াচড়ার ক্ষমতা বাড়াতে পারেন।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম

    ব্যায়ামের পাশাপাশি বিশ্রাম ও পর‌্যাপ্ত ঘুমও এই বয়সে অত্যন্ত জরুরি। কারণ ঘুমের সময়ে শরীর নিজেকে মেরামত করে পরবর্তী দিনের জন্য। প্রতিদিন শরীরকে সাত থেকে আট ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দিন।

    ২০ মিনিটের চক্র

    প্রতিদিন ২০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম হয় এ রকম কাজ করুন। যেমন ১০ মিনিট শারীরিক অঙ্গভঙ্গির অনুশীলন করুন, দুপুরের খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, ১০ মিনিট বাগানে কাজ করা ইত্যাদি। এতে আপনার শরীর ও মন চাঙা থাকবে।

    মনের প্রশান্তি

    মনকে সুস্থির বা প্রশান্ত রাখতে নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা যোগ অনুশীলন করতে পারেন। এতে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

    আর্থিক পরিকল্পনা

    নিজেকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে গিয়ে অর্থের প্রসঙ্গ চলেই আসে। ঘরোয়াভাবে স্বল্প খরচে নিজ উদ্যোগে কাজগুলো করা যায়। যেমন আপনি টিভি-রেডিও স্টেশন থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ-ব্যায়াম অনুসরণ করতে পারেন। মেডিটেশনের জন্য ইউটিউব আপনাকে সাহায্য করতে পারে, বাজারে এ-সংক্রান্ত সিডিও কিনতে পাওয়া যায়। বাস্তব সত্য হলো-হাঁটাহাঁটি, জগিং, নাচ এসবের জন্য বিশেষ কোনো সামগ্রী দরকার হয় না।

    বিশ্রাম

    সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে বিশ্রাম ও ঘুমেরও প্রয়োজন আছে, যা আপনার মন ও মস্তিষ্ককে পুনরায় সচল রাখতে সহায়তা করে। মাঝেমধ্যে কাজে বিরতি নিন। ছুটিতে বেড়াতে যান। এগুলো আপনার ফিটনেস ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

    স্বাস্থ্যপরীক্ষা

    নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর অভ্যাস গড়তে হবে। আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য জেন্ডার, বংশের প্রভাব, ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে কোন পরীক্ষাগুলো করতে হবে।

    খাদ্যাভ্যাস

    এই বয়সে খাবারে প্রচুর আঁশ থাকা চাই। এতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে, মলত্যাগ নিয়মিত হবে, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় থাকবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    কার্ডিও ব্যায়াম

    চল্লিশে পৌঁছানোর পর সপ্তাহ তিন দিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা কার্ডিও ব্যায়াম করতে হবে। তবে যেকোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সেই ব্যায়াম আপনার জন্য নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত হতে হবে।

    পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ

    রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ‘ট্রাইগ্লিসেরাইডস’য়ের মাত্রার দিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কোমরের মাপ, বডি ম্যাস ইনডেক্স এবং ওজন নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই পরিমাপে গরমিল দেখা দিলে তা হতে পারে মারাত্মক কোনো রোগের লক্ষণ।