Category: লাইফ স্টাইল

  • কখন থেকে সন্তানকে যৌনশিক্ষা দেওয়া উচিত?

    কখন থেকে সন্তানকে যৌনশিক্ষা দেওয়া উচিত?

    এবিএনএ : একদিন আপনার শিশু সন্তান একজন গর্ভবতী নারীর দিকে আঙুল তুলে বলতে পারে, ‘এই মহিলার পেটে বাচ্চা ঢুকলো কীভাবে?’ এরকম প্রশ্নের জবাবে প্রকৃত কথা গোপন করে মনগড়া কিছু বলাকে আপনি শ্রেয় মনে করতে পারেন, কারণ আপনি হয়তো ভাবছেন যে স্কুলে যাওয়ার পূর্বেই একটা শিশুকে যৌনশিক্ষা দেয়া উচিত নয়। প্রকৃতপক্ষে কিছু গবেষক এমনটা মনে করেন না। তাদের মতে, শিশুকে ডায়াপার পরার বয়স থেকেই যৌনশিক্ষা দেয়া উচিত।

    রুটগার্স ইউনিভার্সিটির যৌনশিক্ষা বিষয়ক সংস্থা আনসার’র কার্যনির্বাহী পরিচালক ড্যান রাইস বলেন, ‘শিশু বয়স থেকেই যৌনশিক্ষার সূচনা হওয়া উচিত। বিকাশসাধনের শুরু থেকে শিশুরা সবকিছু বোঝার চেষ্টা করে এবং তাদের শরীর হলো এসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    শিশুকে যৌনশিক্ষা দেয়ার মানে কেবল এটা নয় যে, শারীরিক বিকাশসাধন ও বাচ্চা তৈরির প্রক্রিয়া বোঝাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, শারীরিক স্পর্শের সীমা সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলা। কারা স্পর্শ করতে পারবে এবং কারা পারবে না তা সম্পর্কে জানাতে হবে।

    অনেক অভিভাবক এটা বুঝতে ব্যর্থ হন যে, আত্মীয়স্বজনকে জড়িয়ে ধরা, শিক্ষকের সঙ্গে হাই ফাইভ করা এবং পিতামাতার সুড়সুড়ি সবকিছু শিশুর মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে। যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ক গ্রুপ সেক্সুয়ালিটি এডুকেশন ফর অ্যাডভোকেটস ফর ইয়ুথের পরিচালক নোরা জেলপারিন বলেন, ‘শিশুরা শরীরের বিভিন্ন অংশ ও অনুভূতি সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করে।’ তাই বিশেষজ্ঞদের মত হলো, শিশুকালে বয়সানুসারে যৌনশিক্ষা দিতে পারলে আত্মীয়স্বজন বা বাইরের মানুষের দ্বারা নিপীড়নের সম্ভাবনা কমে যাবে। এখানে কোমলমতি শিশুদের যৌনশিক্ষা দেয়ার কিছু কৌশল উল্লেখ করা হলো।

    * জীবাণু ছড়াতে নিষেধ করুন
    স্কুলে ভর্তির আগে পিতামাতারা শিশুদেরকে ভালো বন্ধুর গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান দিতে শুরু করেন। এটা শিশুদেরকে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে সুস্থ সম্পর্কে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু কেবল সুন্দর সুন্দর শব্দ ব্যবহারে এরকম উপদেশে সীমাবদ্ধ না থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে জ্ঞানদানেরও গুরুত্ব রয়েছে। রাইস বলেন, ‘যখন আপনার শিশুকে কনুইতে কাশি বা হাঁচি দিতে বলেন, তখন তারা রোগপ্রতিরোধের উপায় শিখছে এবং অন্যদের মাঝে জীবাণু ছড়াতে অনুৎসাহিত হচ্ছে। এভাবে শিশুরা সহজেই বুঝতে পারে যে কেউ কাছে আসলে জড়িয়ে ধরা উচিত নয়, এমনকি পরিচিত কোনো মানুষ হলেও। এটা শিশুদের জন্য একটা কৌশলী বার্তা যে নিজের শরীরকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় এবং কেউ জড়িয়ে ধরতে বা চুমু দিতে চাইলে অনুমতি দেয়া উচিত নয়।’

    অধিকাংশ পিতামাতাই শিশুদেরকে যৌনাঙ্গের সঠিক পরিভাষা বলতে অস্বস্তিবোধ করেন, তাই তারা এই অঙ্গের অদ্ভুত পরিভাষা ব্যবহার করেন। উদাহরণস্বরূপ, শিশু আশ্চর্য হয়ে পেনিসের নাম জিজ্ঞেস করলে তাকে বলা হয় যে এটা হলো মানিক! কিন্তু এভাবে ইউফেমিজম (প্রকৃত শব্দের শ্রুতিমধুর পরিভাষা) ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদেরকে এই বার্তা দেয়া হয় যে যৌনাঙ্গের আসল পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় এবং শরীরের এসব অংশ নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত। শিশুদেরকে শরীরের গোপনাঙ্গের মিথ্যে পরিভাষা না বলে সঠিক পরিভাষা জানানো ভালো। সেইসঙ্গে তাদেরকে এটাও বোঝাতে হবে যে এগুলো হলো ব্যক্তিগত অঙ্গ, যেখানে অনুমতি ছাড়া অন্য কারো স্পর্শ করার অধিকার নেই।

    ডা. রাইস বলেন, ‘আপনি যেমন নাককে নাক ও কনুইকে কনুই বলেন, তেমনি ভ্যাজাইনাকে ভ্যাজাইনা ও পেনিসকে পেনিস বলা উচিত। আপনার শিশু কথা বলতে পারলেই এসব পরিভাষা শেখাতে পারেন। জেলপারিনের মতে, শেখানোর জন্য ডায়াপার পরিবর্তন ও গোসল করানোর সময়টা উত্তম। অল্প বয়সেই শিশুকে এসব পরিভাষা শেখালে তারা আরেকটু বড় হলে সেখানকার কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ করবে না, যার ফলে সঠিক সময়ে ফলপ্রসূ চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।

    শিশুদেরকে শারীরিক অংশের সঠিক নাম শেখালে যৌন নিপীড়নও প্রতিরোধ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, গোপনাঙ্গ সম্পর্কে সঠিক তথ্য শিশু নিরাপত্তার অন্যতম পরিমাপক হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায়ক্ষেত্রে নিপীড়কেরা সেসব শিশুকে টার্গেট করে যারা ভ্যাজাইনা বা পেনিস কি তা জানে না। জেলপারিন বলেন, যেসব শিশু যৌনাঙ্গের সঠিক নাম বলতে পারে না তাদের মধ্যে নিপীড়নের হার বেশি।

    জেলপারিন জানান, ‘শিশুকে গোপনাঙ্গের বিশদ বর্ণনা দেয়ার দরকার নেই। কেবল সঠিক নামটা বলুন এবং জানান যে এগুলোও শরীরের অন্যান্য অংশের মতো স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক। এটাও অবহিত করুন যে এসব অঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন করাতে লজ্জা বা দ্বিধার কিছু নেই।’

    * বিশ্বস্ত মানুষ শনাক্ত করুন
    শিশুদের জন্য বিশ্বস্ত বয়স্ক মানুষ শনাক্ত করার গুরুত্বকেও অস্বীকারের উপায় নেই। শিশুদের জীবনে এমনও পরিস্থিতি আসতে পারে যখন পিতামাতার অনুপস্থিতিতে বিশ্বস্ত কারো সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমে পিতামাতাকে বিশ্বস্ত মানুষ শনাক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে বয়সকেও প্রাধান্য দেয়া উচিত, বিশেষ করে এমন কাউকে নির্বাচনের চেষ্টা করুন যার বয়স ৫০ পেরিয়েছে। কেউ শরীরে হাত দিলে, খারাপ কিছু বললে অথবা কঠিন প্রশ্ন থাকলে ওই বিশ্বস্ত মানুষকে জানাতে বলুন। জেলপারিনের মতে, প্রকৃতিগতভাবে শিশুদের মনে কৌতূহল খেলা করে। এই কৌতূহলের একটি অংশ হলো যৌনতা। এই বিষয়টা কেবল পিতামাতা ও শিশুদের মধ্যে সীমিত থাকলে তারা প্রয়োজনের সময় সাহায্য নাও পেতে পারে। শিশুরা পিতামাতার সঙ্গে যেভাবে দ্বিধা ছাড়াই যৌনতা বিষয়ক কথাবার্তা বলেন সেভাবে যেন বিশ্বস্ত মানুষটার সঙ্গেও বলেন। এর ফলে তাদের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা থাকলে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য পেতে পারে।

    * ছেলেমেয়ের বৈষম্য দূর করুন
    লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন নিপীড়নের অন্যতম কারণ ছেলেমেয়ের মধ্যে পারিবারিক বৈষম্য। একারণে শৈশব থেকেই সন্তানদের এটা মনস্থ করা গুরুত্বপূর্ণ যে ছেলেমেয়ে সকলেই সমান। কিন্তু পরিবার ছেলেমেয়েদের মধ্যে আদর-সোহাগ বা কিছু বণ্টনে বৈষম্য করলে অবুঝ মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, যা কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মহত্যা বা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এছাড়া পারিবারিক বৈষম্য ছেলে শিশুকে উদ্ধত আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। এটা সময় পরিক্রমায় মেয়েদের সঙ্গে খারাপ আচরণে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে এই বৈষম্য মেয়ে শিশুকে এটা ভাবতে প্ররোচনা জোগায় যে সে একটা নগণ্য কিছু ও তার সঙ্গে খারাপ কিছু হওয়া স্বাভাবিক। এভাবে সময় পরিক্রমায় নারীরা দুর্বল হিসেবে বেড়ে ওঠে ও তাদের সঙ্গে অন্যায্য কিছু ঘটলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। জেলপারিন বলেন, ‘ছেলেমেয়ে উভয়েই সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা শিশুমনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে একটা আদর্শ প্রজন্মের আশা করা যায়।’ বৈষম্য দূরীকরণের একটি উদাহরণ হলো- ছেলের রঙ ও মেয়ের রঙ বলতে কিছু নেই, যেকেউ যেকোনো রঙকে পছন্দ করতে পারে, অন্যের পছন্দকে উপহাসের পরিবর্তে সম্মান করতে হয়। খেলনা, পোশাক বা কস্টিউম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এভাবে শিক্ষা দেয়া যায়। এটা শিশুকে ইতিবাচক ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করবে।

    * আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান ও আত্মমূল্যায়নের শিক্ষা দিন
    ডা. রাইসের মতে, যৌনশিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমূল্যায়নের শিক্ষা। গভীরভাবে না ভাবলে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে মনে হবে না, কিন্তু একটা শিশুকে তার গুরুত্ব বোঝাতে পারলে সে নিজেকে অন্যের হাতের পুতুল ভাববে না। তার সঙ্গে কেউ অমানবিক আচরণ করতে চাইলে তার চেতনা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জেগে ওঠবে। তার প্রতি অপরের অশোভনীয় আচরণকে তার সম্মানে আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবে। কীভাবে একটা শিশুকে আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমূল্যায়ন শেখানো যায় তা সম্পর্কে ধারণা পেতে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন অথবা অনলাইনে প্রতিবেদন পড়তে পারেন বা ভিডিও দেখতে পারেন।

  • দাঁড়িয়ে পানি পানে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

    দাঁড়িয়ে পানি পানে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

    এবিএনএ : মানুষের দেহের ওজনের ২/৩ অংশই পানির ওজন। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে পানি থাকা বা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা উচিত। এতে রক্ত সঞ্চালনে অসুবিধা হয় না। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা মতে, শুধু বেশি পরিমাণে পানি পান নয়, পানি পানের ধরনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি মানুষের শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তাই পানি এমন ভাবে পান করা উচিত, যাতে শরীরের যথেষ্ট পরিমাণ পানি থাকে। আপনি কীভাবে পানি পান করবেন, তার উপরে নির্ভর করে সারা দিন আপনার শরীর কেমন থাকবে। পানি পানের সময়ে ঠান্ডা না গরম তার উপরে নজর দেওয়া হয়। কিন্তু পিপাসার চোটে অনেক সময়েই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঢকঢক করে পানি পান করে ফেলেন। দাঁড়িয়ে পানি পানের সময়ে স্নায়ু অনেক বেশি উত্তেজিত থাকে। শুধু দাঁড়িয়ে পানি পানই নয়, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে কী গতিতে পানি পান করবেন তার উপরও নির্ভর করছে আপনার স্বাস্থ্য। আমাদের শরীরে এমন অনেক ছাঁকনি রয়েছে যা পানির ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে শুষে নেয়। দাঁড়িয়ে থাকলে এই ছাঁকনিগুলো সংকুচিত হয়ে থাকে। ফলে তা কাজ করতে পারে না। তাই দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করলে পানির ক্ষতিকারক উপাদানগুলো সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে।

    দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা তীব্র বেগে খাদ্যনালীর মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে সোজা নিম্ন পাকস্থলীতে ধাক্কা মারে। এর ফলে পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে হজমের সমস্যা তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে এই কাজ করলে ভবিষ্যতে যা বড় আকার নিতে পারে। পানি কিডনিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। একথা ঠিক। তবে একথাও ঠিক যে দাঁড়িয়ে পানি পান করা কিডনি পক্ষেও ক্ষতিকর। প্রবল বেগে যাওয়া পানির মধ্যে যে দূষিত পদার্থ থাকে তা কিডনি পরিস্রুত করতে পারে না। ফলে তা রক্তের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে।

    দাঁড়িয়ে পানি পান করলে অর্থ্রারাইটিস পর্যন্ত হতে পারে। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন। কারণ দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আর দীর্ঘদিন ধরে এমনটা করলে অর্থ্রারাইটিসের সমস্যা দেখা যায়। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে ভবিষ্যতে নার্ভের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর ফলে একাধিক নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে। যা শরীরের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়।

    আমাদের শরীরে প্রায় দেড় লিটার পর্যন্ত পানি জমতে পারে। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকলে একবারে বেশি পানি পান সম্ভব হয় না। ফলে দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। বারবার তৃষ্ণা পায়। সবসময় তো আর হাতের কাছে পানি থাকে না। তাই সারাদিন পানি কম পান করা হয়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পানের গতি অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে বাতের ব্যথা হতে পারে। আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক খাবারই ধীর গতিতে খাওয়া উচিত। এতে খাবার সহজে হজম হয়। ধীর গতিতে পানি পান না করলে খাদ্যনালীতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া বা ফুসফুসের রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। দৌড়ে এসে, বা খুব পরিশ্রম করার পরে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করলেও ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে। তাই এবার থেকে পানি পানের আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।

  • রাতে ত্বকের যে ৫ যত্ন নেয়া জরুরি

    রাতে ত্বকের যে ৫ যত্ন নেয়া জরুরি

    এবিএনএ : ত্বকের যত্ন নেয়ার জন্য সেরা সময়টি হলো রাত। আমাদের ত্বকের কোষগুলো দিনশেষে ফের সতেজ করতে কিছু যত্ন নেয়া জরুরি। টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে রাতে ত্বকের যত্নের পাঁচটি ধাপ, যা ত্বককে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে রাতে মেনে চলতে পারেন। যদি চান ত্বকে তারুণ্যের দীপ্তি ঝলমল করুক, এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:

    রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হলো, দিনের বেলায় ব্যবহৃত যেকোনো মেক-আপ পরিষ্কার করে ফেলা। মেক-আপ পরিষ্কার করার জন্য মাইকেলার ওয়াটার ব্যবহার করুন, যা মেক-আপ পরিষ্কার করার পাশাপাশি আপনার ত্বককে হাইড্রেটেড রাখবে।

    ক্লিনজিং
    মেকআপ পরিষ্কারের পর অতিরিক্ত ময়লা এবং সিবাম দূর করতে ক্লিনজার ব্যবহার করুন। যেকোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে ত্বক পরিষ্কার করা আবশ্যক, কারণ এটি এটি আরও ভালোভাবে শোষণ করতে সহায়তা করবে।

    টোনার ব্যবহার
    রাতের ত্বকের যত্নে টোনার এড়িয়ে যাবেন না। ত্বক পরিষ্কারের পরে, টোনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে।

    মুখ পরিষ্কার শেষে এই ধাপে আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই যেকোনো সুনির্দিষ্ট ক্রিম এবং সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। আঙুল দিয়ে আলতো করে ত্বকে মেশান।

    ময়েশ্চারাইজার
    রাতে ত্বকের যত্নে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এটি সিরামকে লক করবে এবং আপনার ত্বককে আর্দ্র ও নরম রাখতে সহায়তা করবে।

  • সুস্থ থাকতে সকালে কী খাবেন

    সুস্থ থাকতে সকালে কী খাবেন

    এবিএনএ : সুস্থ দেহের জন্য সকালের নাস্তার কোনো বিকল্প নেই। যারা ডায়েট করেন, ডাক্তাররা তাদেরকেও সকালে নাস্তা বন্ধ করতে মানা করেন। সকালের নাস্তার ওপর নির্ভর করে আপনার সারাদিন কতটা সতেজ কাটবে। এজন্য দরকার সকালে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।

    আপনার দিন সুন্দরভাবে শুরু করার জন্য প্রতিদিন বিরক্ত হয়ে একই খাবার খাওয়ার কোনো দরকার নেই। মাঝে মাঝে পরিবর্তন করুন। তবে চেষ্টা করুন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কিছু স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা সম্পর্কে যা আপনাকে দিনের শুরু থেকে শেষ অবধি সতেজ রাখবে। গ্রিন স্মুথি: আপনার দিনের শুরুটা শুরু করতে পারেন এই পানীয়টি দিয়ে। যা ভিটামিনে ভরপুর এবং আপনাকে রাখবে সারাদিন সতেজ। আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে খুবই কম ননিযুক্ত দুধ আধা কাপ নিয়ে দিন ব্লেন্ডারে। শসা, লেটুস পাতা, সবুজ ক্যাপসিকাম, গাজর মিলিয়ে ২ কাপ দিন। এরপর একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। ভিটামিন পুষ্টিতে ভরপুর সকালের স্বাস্থ্যকর নাস্তায় রাখুন এই পানীয়।

    অ্যাভোকাডো টোস্ট: একটি ব্রেড বেক করে টোস্ট করে নিন। তার ওপর অ্যাভোকাডো দিয়ে একটি ক্রিমি প্রলেপ তৈরি করুন। এরপর একটি ডিম পোচ করে ওপরে দিয়ে দিন। পরিবেশনের আগে ডিমের ওপর একটু গোলমরিচের গুঁড়া এবং টমেটো টুকরা ছড়িয়ে দিন। এই খাবারটি দেখতেও যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।

    মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু একইসঙ্গে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের উৎস। তাই সকালের নাস্তায় মিষ্টি আলু নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর। বড় মিষ্টি আলু মাঝখান থেকে কেটে তাতে লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে বেক করে নিন। বেক করা হয়ে গেলে একটু ঠান্ডা করে এর ওপর টক দই দিয়ে দিন। তার ওপর স্লাইস করে কাটা কলা দিয়ে দিন। দারুচিনির টুকরা (খুবই ছোট ছোট) ছড়িয়ে দিন ওপর থেকে। আপনি চাইলে একটু মধু ও দিতে পারেন তবে পরিমাণে অল্প।

    দইয়ের পারফ্রেইট: দই নিঃসন্দেহে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দই রাখা উচিত সবার। কিন্তু কাজের চাপে সময় না পেলে বা সারাদিন বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল থাকলে সকালের নাস্তায় খেয়ে নিতে পারেন দইয়ের পারফ্রেইট। পারফ্রেইট মূলত ফল ও বাদামের মিশ্রণ। তাই আপনি এক কাপ দইয়ের সঙ্গে পছন্দের ফল মিশিয়ে নিতে পারেন। এর ওপর বাদামের কুচি দিতে পারেন। তারপর ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে বের করে রাখুন।

    শস্যদানার প্যানকেক: আপনি যদি স্বাস্থ্যকর এবং ভেজ জাতীয় সকালের নাস্তা চান তাহলে খেতে পারেন শস্যদানার প্যানকেক। কয়েক ধরনের শস্যদানা মিলিয়ে শুকিয়ে তা গুঁড়া করে রাখুন। আধা কাপ শস্যদানার গুঁড়া, সামান্য আদা গুঁড়া, টালা মরিচ, ১/৪ চা-চামচ বেকিং সোডা, আধা কাপ পানি ভালোভাবে মেশান। ফ্রাইপ্যানে সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে তাতে পুরো মিশ্রণটি দিয়ে দিন। খাওয়ার আগে উপরে কিছু ফল এবং সবজি কেটে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

    বুরিটো: বুরিটো খাবারটি আমাদের এখানে অনেকে শর্মা বললে ভালো বুঝবেন। এটা আপনার সকালের নাস্তার জন্য একটি ভালো খাবার হতে পারে। বাসাই হাতে বানানো রুটি, এর মাঝে সামান্য হাড়ছাড়া মুরগির মাংস (রান্না) এবং পছন্দমতো সবজি দিয়ে মুড়িয়ে খেতে পারেন। তবে বেশি ভালো হয় যদি আপনি মাংস না দিয়ে পুরোটা সবজি দিয়ে খান।

    ওটমিল: সকালের নাস্তায় ওটমিলের কোনো বিকল্প হয় না। এটি সুগার ফ্রি। স্বাভাবিক মানুষ এবং সব ধরনের রোগের রোগীরা সকালের নাস্তায় ওটমিল খেতে পারেন। গরম দুধে ওটমিল মিশিয়ে আর কিছু ফলের টুকরা দিয়ে খেতে পারেন। অথবা ওটমিল দিয়েই বানাতে পারেন অন্য কোনো রেসিপি। ডায়াবেটিকস না থাকলে চিনি যোগ করতে পারেন।

  • এ,বি,এন,এ চেয়ারম্যান শেখ শিমুলের মেয়ে ফাইমার আজ শুভ জন্মদিন

    এ,বি,এন,এ চেয়ারম্যান শেখ শিমুলের মেয়ে ফাইমার আজ শুভ জন্মদিন

    এবিএনএ : আমেরিকা বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সির চেয়ারম্যান শেখ শওকত আলী শিমুলের মেঝ মেয়ে সাওদা শিমুল ফাইমার আজ ৫ তম জন্মদিন ।
    ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা এ্যালিফ্যানট রোডের নিজ বাসভবনে ফাইমা জন্ম নেন।ফাইমার জন্মদিন উপলক্ষে ফকিরহাট, বাগেরহাট -খুলনা, ঢাকা – নারায়ণগন্জ,ইন্ডিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরা,লন্ডন, কোরিয়া, কানাডা ও আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় দোয়া মাহফিল ও কেক কাটা হয়।ফাইমার বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাট সদরের বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে।
    বর্তমানে আমেরিকার নিউজাসী আটলান্টিক সিটিতে বাবা-মার সাথে নিজ বাড়িতে বস-বাস করেন ।ফাইমারা তিন বোন, বোনদের মধ্যে সে মেঝো। জন্মদিন উপলক্ষে ফাইমার পিতা শেখ শওকত আলী শিমুল ও মাতা নারগিস আক্তার সকলের কাছে ফাইমার জন্য দোয়া কামনা করেছেন ।

     

  • গৃহিণীদের যেসব কথা বলা উচিত নয়

    গৃহিণীদের যেসব কথা বলা উচিত নয়

    এবিএনএ : একজন নারীর বাইরে কাজ করা অথবা গৃহিণী হওয়ার সিদ্ধান্তটি নিতান্ত তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবুও বেশ কিছু এমন মানুষ আছেন যারা তাদের এসব বিষয়ে নাক গলাতে ছাড়েন না। গৃহিণীরা শুনতে অপছন্দ করেন এমন কিছু কথা নিয়ে এ প্রতিবেদন।

    আপনার কপাল খুব ভালো
    অনেকেই আছেন যারা মনে করেন যে বাড়িতে থাকা মহিলাদের প্রচুর সময় এবং তারা মনের সুখে টিভি দেখে, গান শুনে, খোশগল্পে সময় পার করে থাকেন। তাদের পরিবার সামলে অনেক সময় বেঁচে যায় এবং তারা প্রচুর অলস সময় পার করেন; এমন ধারণা অনেকেরই। আসলে এসকল ধারণার কতটুকুই বা সত্য? কোনো মহিলা কতটুকু ব্যস্ত তা আমরা বাইরে থেকে দেখে বিচার করতে পারব না এবং মহিলারা তাদের এসব ব্যাপারগুলো ব্যক্তিগত রাখতেই বেশি পছন্দ করেন। অনেক মহিলা আছেন যাদের স্বামী ১২ ঘণ্টার বেশি বাইরে থাকেন কাজের স্বার্থে এবং অনেকেই মনে করেন পুরুষটির তুলনায় নারীটি কম কাজ নিয়ে থাকেন। আসলে পরিবার বাচ্চা-কাচ্চা সামলে খুব কম সময়টুকু নারীরা নিজের জন্য দিতে পারেন, যা আমাদের সংকীর্ণতাবশত আমরা বুঝতে পারিনা বা বুঝতে চাই না। তাছাড়া বাড়ি পরিষ্কার রাখার মতো গুরুদায়িত্ব মহিলাদের পালন করতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। এছাড়াও বাচ্চাদের পরিপূর্ণ সময়টুকু একজন মাকে সঠিকভাবেই দিতে হয় যার ফলে দিনশেষে গৃহিণীদের ব্যস্ততার হিসাবনিকাশ করাটা আসলে অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। অনেকে মনে করেন ঘরে থাকা মানেই প্রচুর সময় হাতে থাকা এবং তা ইচ্ছামত নিজের জন্য খরচ করা যায়। আসলে আমরা যারা এমন ধারণা রাখি তারা আসলে বাস্তবতাটা বুঝিনা; এটাই আসল সত্যি।

    আপনার কী কখনো বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না?
    বাড়িতে থাকা একজন মায়ের ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকতে হয়। তাদের আসলে খাওয়া-দাওয়া বা অবসর কাটানোর মতো তেমন একটা সময় থাকে না বললেই চলে। অনেকেই বাচ্চার দেখাশোনা করার জন্য আলাদা করে লোক রাখা বা চাইল্ড কেয়ারে বাচ্চাকে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন মায়েদের। গৃহিণী মায়েরা তাদের বাচ্চার দেখাশোনা নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হন। যারা সাধারণত প্রশ্নগুলো করেন তাদের আসলে সূক্ষ চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা কম।

    আপনাকে এতো ক্লান্ত দেখায় কেন?
    গৃহিণী মায়েদের কাজগুলো আসলে ধরাবাধা সময়ের কোনো কাজ নয়, তাই তাদের ক্লান্ত দেখানোর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। একজন মা সকালে ঘুম থেকে জেগে তার বাচ্চা সামলানো থেকে শুরু করে তার সমস্ত সাংসারিক কাজ সম্পন্ন করেন; এমনকি রাতে ঘুমের মধ্যেও মাঝে মাঝে জেগে তার বাচ্চার খেয়াল রাখতে হয়। তাদের কাজের ব্যস্ততা আসলে বুঝে ওঠা খুবই কঠিন। তারপরও অনেকে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হন যে, কেন তাদের এতোটা ক্লান্ত দেখায়। অনেক পুরুষের ধারণা তারা যেহেতু বাড়ির মধ্যেই সারাদিন থাকে তাই তাদের এতো ঘুমের দরকার নেই, কেননা তারা তো প্রচুর অলস সময় বাড়িতে বসে বসে পার করে।

    সংসারই কী আপনার সব?
    অনেক মহিলাই আছেন যারা ঘরের কাজের পাশাপাশি বাইরেও কাজ করেন। তারা অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি পেশাজীবীত্ব ধরে রাখার জন্য সংসারের পাশাপাশি বাইরের কাজ করে থাকেন। তবে যারা বাইরের কাজ করেন না বা একসময় করতেন কিন্তু এখন করেন না, তারা বেশ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হন প্রায়শই। তারা কেন কাজ করেন না, কবে থেকে আবার বাইরের কাজ শুরু করবেন এরকম নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকেন নারীরা।

    শিক্ষিত গৃহিণী মানেই শিক্ষার জলাঞ্জলি
    এমন অনেক গৃহিণী আছেন যারা উচ্চশিক্ষিত। তাদের সম্বন্ধে এমন একটি ধারণা পোষণ করা হয় যে, তারা গৃহিণী হয়ে সমস্ত পড়াশোনাটাকে জলাঞ্জলি দিয়ে বসে আছেন। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ডিগ্রি অর্জন করতে সময়, ত্যাগ, অর্থের প্রয়োজন হয় এবং শিক্ষিত নারীদের গৃহিণী হওয়া মানে ধরেই নেওয়া হয় যে তাদের ডিগ্রিটাই বৃথা গেছে; ওই পড়াশোনার আর কোনো মূল্য নেই। অনেকেই নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হন যে, তারা পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করে কেন সংসার, বাচ্চাকাচ্চা সামলাতে শুরু করেছেন; তাদের কি লজ্জা লাগে না যে এতো কষ্ট করে পড়াশোনা করে শেষ পরিণতি এই হলো। অনেক মহিলা এমন আছেন যারা হয়তো আগে চাকরিজীবী ছিলেন কিন্তু সংসার আর বাচ্চার দেখাশোনা করতে গিয়ে চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে আছেন। তাদেরও অনেক প্রতিকূলতা পার করতে হয়। এক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে আসলে তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপারটা সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখেন না।

    সারাদিন বাড়িতে আবদ্ধ কী থাকা যায়?
    বাড়িতে আবদ্ধ থাকা কারো পছন্দ না হতেই পারে; কিন্তু যে নারী তার নিজের সিদ্ধান্তবশত এবং বাড়ির প্রয়োজনে বাড়িতে আবদ্ধ থাকেন, পাশাপাশি তার সাংসারিক জীবন আরো সুন্দর এবং গোছালো করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার পক্ষে এমন কথা সহ্য করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া অধিকাংশ গৃহিণী কাছে এমন কথা সবচেয়ে বেশি বিরক্তির কারণ হতে পারে।

    সংসার চলে কীভাবে?
    সমাজে অনেকেই আছেন যারা মনে করেন একজনের রোজগারে সংসার চলে না এবং বাড়ির মহিলাদের বাইরে কাজ করা উচিত, যাতে পরিবারের আয়ের উৎস একটু বর্ধিত হয়। আসলে সবসময় ব্যাপারটি ঘটেনা; কেননা একজনের রোজগারে প্রায়ই সমঝোতার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী তাদের সংসারটা ঠিকমতোই চালিয়ে নেন। অনেক নারীই আছেন যারা বিলাসিতার চেয়ে তার সংসারের সুখ বেশি পছন্দ করেন। তাই তাদের এমন প্রশ্ন করলে তারা বিরক্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

    আপনার সন্তানরা আপনার সম্বন্ধে কী ভাববে?
    সকল মা নিজেকে তার সন্তানদের কাছে ভালো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে চান। অনেকেই আছেন যারা নানান প্রশ্ন তুলে বসেন। তাদের ধারণা এমন যে, একজন গৃহিণী কেমন করে নিজেকে তার সন্তানের কাছে ভালো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবেন। এটা একজন মায়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক; কেননা তিনি তার সন্তানের জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু নিঃসংকোচে বিলিয়ে দেন। একটু ভালো করে ভেবে দেখুন তো? গৃহিণী মায়েরা কি সত্যিই নিজের সন্তানের কাছে ভালো উদাহরণ হবার যোগ্য নন?

  • ফুসফুস পরিষ্কার করবেন যেভাবে

    ফুসফুস পরিষ্কার করবেন যেভাবে

    এবিএনএ : ‌শিরোনাম দেখে হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে আসলেই ফুসফুস পরিষ্কার করা সম্ভব কিনা। সুখবর হচ্ছে, সম্ভব। একজন মানুষের সমগ্র স্বাস্থ্যের জন্য ফুসফুসের স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুস হচ্ছে আত্ম-পরিষ্কারক অঙ্গ, অর্থাৎ এটির সংস্পর্শে দূষণকারী পদার্থ আসা বন্ধ হলে নিজে নিজে সেরে ওঠতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ ধূমপান ছেড়ে দিলে ফুসফুস নিজেই নিরাময় প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। ক্ষতিকারক পদার্থ (যেমন- সিগারেটের ধোঁয়া) ফুসফুসের সংস্পর্শে আসলে বুকে ভার ভার অনুভূতি অথবা প্রদাহ হতে পারে। ফুসফুসে শ্লেষ্মা জমে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বসতি গড়ে ওঠে, যা ভার ভার অনুভবে অবদান রাখে।

    আপনার বুকে ভারী অনুভূত হলে অথবা অন্যান্য অস্বস্তিকর অনুভূতি হলে হতাশ হবেন না। প্রথম করণীয় হলো, ধূমপানের মতো বাজে অভ্যাসগুলো ছেড়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। চিকিৎস প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসা করবেন। এছাড়া ফুসফুস পরিষ্কার করতে কিছু ঘরোয়া টেকনিকও অনুসরণ করতে পারেন। এসব মেথডে ফুসফুস পরিষ্কারের পাশাপাশি বাতাস চলাচলের পথ খুলতে পারে, ফুসফুসে বাতাস ধারণের ক্ষমতা বাড়তে পারে ও প্রদাহ কমতে পারে। এখানে ফুসফুস পরিষ্কারের তিনটি ঘরোয়া পদ্ধতি দেয়া হলো। এর পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করলে, গ্রিন টি পান করলে ও প্রদাহনাশক খাবার খেলে আরো ভালো ফল পাবেন।

    গরম পানির ভাপ নেয়া: গরম পানির ভাপ নেয়াকে স্টিম থেরাপি বা স্টিম ইনহেলেশনও বলা হয়। গরম পানির ভাপ নিলে ফুসফুসে বাতাস চলাচলের পথ খুলে ও শ্লেষ্মা বের হয়ে যেতে পারে। যা শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করে তোলে। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগে যারা শ্বাসক্রিয়ার কাঠিন্যতায় ভুগেছেন তারা গরম পানির ভাপ নেয়াতে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা কমেছে। কিন্তু ভাপ নিলে দীর্ঘস্থায়ী উপকার পাওয়া যায় কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না, আরো গবেষণার অপেক্ষা করতে হবে।

    কৃত্রিম কাশি দেয়া: কাশি হলো শ্লেষ্মায় আটকে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে শরীরের প্রাকৃতিক উপায়। কৃত্রিম কাশিতেও ফুসফুসের অতিরিক্ত শ্লেষ্মা আলগা হয়ে বের হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস রোগীদের ফুসফুস পরিষ্কারে এই এক্সারসাইজ করতে পরামর্শ দেন:

    একটি চেয়ারে বসে কাঁধকে শিথিল করুন।

    পা দুটিকে মেঝেতে সমতলে রাখুন।

    উভয় বাহুকে ভাঁজ করে পেটের ওপর রাখুন।

    নাকের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন।

    সামনের দিকে ঝুঁকে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এসময় বাহুগুলোকে পেটের সঙ্গে চেপে ধরুন।

    শ্বাস ছাড়ার সময় ২-৩ বার কাশি দিন। এ সময় মুখ একটু খোলা রাখুন।

    বিশ্রাম নিয়ে আবারও প্রয়োজনানুসারে রিপিট করুন।

    মাধ্যাকর্ষণের সাহায্যে শ্লেষ্মা দূর করুন: মাধ্যাকর্ষণের সাহায্যে শ্লেষ্মা বের করতে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে শুতে হয়। এ প্রক্রিয়াকে পস্টুরাল ড্রেনেজ বলে। এ চর্চায় শ্বাসক্রিয়া উন্নত হয় ও ফুসফুসের সংক্রমণ প্রশমিত বা প্রতিরোধ হয়। পজিশনের ওপর ভিত্তি করে পস্টুরাল ড্রেনেজ ভিন্ন হয়ে থাকে।

    পদ্ধতি ১
    মেঝে বা বিছানায় চিৎ হয়ে শুতে হবে। নিতম্বের নিচে বালিশ রাখুন যেন বুক নিতম্বের তুলনায় নিচে থাকে। ধীরে ধীরে নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিন ও মুখের মাধ্যমে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময়কাল শ্বাসগ্রহণের দ্বিগুণ হবে, যাকে ১:২ ব্রিদিং বলে। কিছু মিনিট চালিয়ে যান।

    পদ্ধতি ২
    মাথাকে একটি বাহু বা বালিশের ওপর রেখে এক কাতে শুতে হবে। নিতম্বের নিচে বালিশ রাখুন। ১:২ ব্রিদিং প্যাটার্ন চর্চা করুন। কিছু মিনিট অব্যাহত রেখে অন্য কাতে রিপিট করুন।

    পদ্ধতি ৩
    মেঝের ওপর বালিশের একটি স্ট্যাক রাখুন। এবার পেটকে বালিশগুলোর ওপর রেখে শুতে হবে। এ সময় বুক নিতম্বের তুলনায় নিচে থাকবে। মাথাকে সাপোর্ট দিতে দুই বাহু ভাঁজ করে কপালের নিচে রাখুন। কিছু মিনিট ধরে ১:২ ব্রিদিং প্যাটার্ন চর্চা করুন।

    তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে

  • ঠান্ডা-সর্দি-জ্বর ঠেকায় নিম পাতা

    ঠান্ডা-সর্দি-জ্বর ঠেকায় নিম পাতা

    এবিএনএ : ‌নিম পাতা যে কতটা উপকারি তা সকলেরই জানা। চর্মরোগ ঠেকাতে একাই একশো এই পাতা। আয়ুর্বেদের একেবারে গোড়ার দিক থেকেই নিম পাতার পানিতে গোসল করার রীতি রয়েছে। মূলত ঋতুসন্ধির সময় অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনের সময় নিম পাতার পানিতে গোসল করলে তা শরীরে একটি ঢাল তৈরি করে যা আমাদের কমন ফ্লু কিংবা ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা করে। দেহের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিতেও অবদান আছে নিম পাতার। শরীরের যেকোনো চর্ম রোগ সারাতে ব্যবহার করতে পারেন নিমপাতা।

    উপকারিতা

    নিম পাতার পানিতে গোসল করলে ব্রণ, দাগ ও ব্ল্যাকহেডের সমস্যা থেকে মেলে রেহাই। শীতকালে উলের টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহারের ফলে চুলের সমস্যাতেও কার্যকরী নিম পাতা যুক্ত পানি। এমনকি খুসকির সমস্যার সমাধানও এই পাতা। চোখের অ্যালার্জি প্রতিরোধ করতে পারে নিম পাতা।

    ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

    প্রথমে বালতিতে দুটি নিম পাতা রাখুন। তারপর তাতে গরম পানি ঢালুন। তারপর পানি ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে নিম পাতা সরিয়ে দিন। তারপর ব্যবহার করুন।

  • যে চারটি বিষয় অবশ্যই সন্তানকে শেখাবেন

    যে চারটি বিষয় অবশ্যই সন্তানকে শেখাবেন

    যে চারটি বিষয় অবশ্যই সন্তানকে শেখাবেন

    বড় হয়ে সন্তান যখন সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চ স্বরে কথা বলে, তখন অনেক মা-বাবাই অবাক হন। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের। ভাবেন, আমার সন্তান কীভাবে এমন ব্যবহার করছে!

    আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, যখন সে ছোট ছিল, সাধারণ আদবকেতাগুলো তাকে শেখানো হয়নি। আপনার পরিবারে যদি কোনো শিশু থাকে, তাকে কিছু সাধারণ ভদ্রতা শেখানো জরুরি। ভবিষ্যতে সন্তানের ভালোর কথা ভেবে চারটি বিষয় অবশ্যই তাকে শেখাবেন।
    # প্লিজ

    অনেকে মনে করেন, কারও কাছ থেকে কোনো কিছু নেওয়ার জন্য বা চাওয়ার জন্য ‘প্লিজ’ বলতে হয়। বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। প্লিজ না বলেও আপনি হয়তো কিছু নিতে পারেন। তবে তাতে অনেক সময় বিনয় প্রকাশ পায় না। আদবকেতা বিশেষজ্ঞ সাজিদা রেহমান বলেন, শিশুদের শেখাতে হবে কখন,

    কোথায় প্লিজ বলতে হবে। বলার সময় গলার স্বর কেমন থাকবে, সেটাও শেখাতে হবে। ‘তোমার খেলনাটি আমাকে দাও‍’—এটা যেমন বলা যায়। তেমনি ‘প্লিজ, তোমার খেলনাটি আমাকে দেবে?’ বললে অন্য রকম শোনাবে। তাতে বিনয় প্রকাশ পাবে।
    # ধন্যবাদ

    কোনো বিষয়ে সৌজন্য প্রকাশ করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো ধন্যবাদ বলা। এটা সাধারণ ভদ্রতা। ছোট ছোট বিষয়ে ধন্যবাদ বলানোর অভ্যাস করাতে হবে সন্তানকে। পরিবারের মধ্যে, খেলার সঙ্গীদের মধ্যে শিশুকে শেখাতে হবে কীভাবে অন্যকে ধন্যবাদ বলতে হয়।

    # দুঃখিত
    দুঃখিত বললেই কেউ ছোট হয়ে যায় না। কেউ কেউ ভাবেন, দুঃখিত বললে অন্যের কাছে ছোট হয়ে গেলাম। তাই মা-বাবা নিজেরাও বলেন না, সন্তানকেও শেখান না। মা-বাবা ভুল কথা বললে, সঠিক আচরণ না করলে সন্তানকেও দুঃখিত বলতে পারেন। সন্তানও শিখবে।

    # অনুমতি নেওয়া
    খুব কাছের কারও কোনো জিনিস না বলে নেওয়া ঠিক নয়। আবার কথার মধ্যে উঠে যাবে কি না, এমন অনেক ক্ষেত্রে আমরা অনুমতি নিই না। একদম পাঁচ বছর বয়স থেকে সন্তানকে অনুমতি নেওয়া শেখাতে হবে। শিষ্টাচার শিখলে ব্যক্তিজীবন তো বটেই, পেশাগত জীবনেও খুব কাজে আসবে।

    শিশুরা মাকে কিভাবে শনাক্ত করে : শিশুরা জন্মের পর থেকেই অনেক রকম প্রতিক‚লতার মুখোমুখি হয়। এগুলো হতে বেরিয়ে আসারও অনেক ¯^ভাবসিদ্ধ পদ্ধতি আছে। এর শুরুতেই আছে আপনজনকে চিনতে পারা।

    প্রতিক‚ল পৃথিবীতে ছোট্ট শিশুর প্রথম ও প্রধান ভরসাস্থল হলো তার মা। সে জন্য সে প্রথমেই যে মানুষটিকে শনাক্ত করতে শিখে সে হলো তার গর্ভধারিণী। অবুঝ শিশুটি কীভাবে তার মাকে শনাক্ত করেÑ এ নিয়ে শিশুর অনুসন্ধান চলছে, অনেকে অনেকে রকম মতামতও দিয়েছেন।
    অতিস প্রতি স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন যে, মানুষ জন্মগতভাবেই চেহারা চেনার ক্ষমতা অর্জন করে। তারা মস্তিষ্কের একটি বিশেষ এলাকা (ফিউজিকম ফেস এরিয়া এফএফএ) আবিষ্কার করেছেন। এটি সবচেয়ে দ্রুত এবং প্রথমে মায়ের চেহারা ধারণ করে। আর মায়ের আবেগাপ্লুত মুখখানি তাকেও ভেতর থেকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।
    মায়ের চেহারা তাকে আরও আকৃষ্ট করে কেন না, সে তার জীবনধারণের প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ পাচ্ছে তার কাছ থেকে। যে কোন কষ্টকর পরিবেশ থেকে তাকে রক্ষা করছে মা। মানুষ বাদে অন্যান্য প্রাণীও একইভাবে তাদের মায়েদের চেহারা চিনতে পারে কি না তা এখনও জানা যায়নি

  • যেসব খাবারে জিংক বেশি পাবেন

    যেসব খাবারে জিংক বেশি পাবেন

    এবিএনএ : জিংক খুব গুরুত্বপূর্ণ এক পুষ্টি উপাদান। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসকরা তাই এখন জিংক সমৃদ্ধ খাবার বা জিংক ক্যাপসুল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা জিংক বা অন্য পুষ্টি উপাদান দ্রুত শরীরে কাজ করে, তেমনটা বলে আসছেন পুষ্টিবিদরা। আমাদের শরীরে যে ৩০০টির বেশি এনজাইম আছে, তাদের ওপর জিংক ভালোভাবে কাজ করে।

    দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, দেহকোষ বৃদ্ধি ও বিভাজন, প্রোটিন ও ডিএনএ উৎপাদনে ভূমিকা রাখে জিংক। শরীরের জন্য এই পুষ্টি উপাদান খুব জরুরি হলেও বিশ্বের অসংখ্য মানুষ এখনো জিংক ঘাটতি জনিত সমস্যায় আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ পর্যাপ্ত জিংক গ্রহণ করে না।

    আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের তথ্যমতে, ১৪ বছরের উপরে সব পুরুষকে প্রতিদিন অন্তত ১১ মিলিগ্রাম জিংক অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। আর ১৪ বছরের বেশি নারীকে অন্তত ৮ মিলিগ্রাম জিংক গ্রহণ করা জরুরি। তবে সন্তান জন্ম দেয়া ও সন্তানকে দুধ পান করানো নারীদের প্রতিদিন ১২ মিলিগ্রাম জিংক গ্রহণ করতে হবে। আর ডাক্তাররা প্রতিদিন ১১ মিলিগ্রাম জিংক ক্যাপসুল সেবনের পরামর্শ দেন।

    করোনার সংক্রমণ এড়াতে কোন কোন খাবার খেলে জিংক বেশি পাবেন, তা জেনে নিন এবার।

    রেডমিট: রেড মিট অর্থাৎ গরু ও খাসির মাংসে পরিমাণ মতো জিংক থাকে। গরুর মাংসে ভিটামিন বি টুয়েলভও থাকে প্রচুর। ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ৩.২৪ মিলিগ্রাম এবং একই পরিমাণ খাসির মাংসে ৪.৮ মিলিগ্রাম জিংক থাকে। কিন্তু রেডমিটে যেহেতু কোলেস্টেরল বেশি থাকে, সে কারণে তা বেশি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    ঝিনুক: ঝিনুকে কম ক্যালরি ও বেশি জিংক থাকে। কাঁকড়া, চিংড়ি এসবে জিংক থাকলেও যেকোনো খাবারের তুলনায় ঝিনুকে জিংক থাকে বেশি। ৫০ গ্রাম ঝিনুকে ৮.৫ মিলিগ্রাম জিংক থাকে।

    মুরগির মাংস: প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে মুরগির মাংসে, যা মাংসপেশী গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে মুরগির মাংসে জিংকও আছে। নিয়মিত মুরগির মাংস খেলে হাড়, হৃদপিন্ড উন্নত হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ৮৫ গ্রাম মুরগির মাংসে ২.৪ মিলিগ্রাম জিংক থাকে।

    সবজি: উদ্ভিদ জাতীয় কিছু খাবার আছে, যেগুলোতে জিংক থাকে পরিমাণ মতো। ডাল, ছোলা ও শিমে জিংক থাকে। এসব খাবারে কম ক্যালরি, কম ফ্যাট থাকে এবং প্রোটিন ও আঁশ থাকে। ১০০ গ্রাম ডালে ৪.৭৮ মিলিগ্রামের মতো জিংক থাকতে পারে। ১৮০ গ্রাম শিমে ৫ মিলিগ্রাম ও ১৮৪ গ্রাম ছোলায় ২.৫ মিলিগ্রাম জিংক থাকে।

    কাজু বাদাম: কাজু বাদামে প্রচুর পরিমাণে জিংক, কপার, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং ফোলেট থাকে। ২৮ গ্রাম কাজু বাদামে ১.৬ মিলিগ্রাম জিংক থাকে।

    ওট: সকালের নাস্তায় অনেকেই ওটমিল খেতে পছন্দ করেন। এতে প্রচুর আঁশ, বেটা গ্লুকেন, ভিটামিন বি সিক্স ও ফোলেট থাকে। এক বাটি ওটে ১.৩ মিলিগ্রাম জিংক থাকে।

    মাশরুম: ভিটামিন এ, সি, ই ও আয়রন সমৃদ্ধ মাশরুমের ২১০ গ্রামে জিংক পাওয়া যায় ১.২ মিলিগ্রাম। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ মাশরুমে ক্যালরি থাকে কম।

    মিষ্টি কুমড়ার বিচি: দারুণ পুষ্টিগুণে ভরা মিষ্টি কুমড়ার বিচিতে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও কপার থাকে। আর ২৮ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার বিচিতে জিংক থাকে ২.২ মিলিগ্রাম।

    দুগ্ধজাত খাবার: দুধ ও দই এর মতো দুগ্ধজাত খাবারে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি জিংকও থাকে। ২৫০ মিলিলিটার লো ফ্যাট দুধে ১.০২ মিলিগ্রাম জিংক থাকে। আর ২৫০ মিলিলিটার দইয়ে থাকে ২.৩৮ মিলিগ্রাম জিংক।

    ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট যতো ডার্ক হবে, তাতে জিংকের পরিমাণ ততো বেশি থাকবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সক্ষম ডার্ক চকলেট। ১০০ গ্রামের ডার্ক চকলেটে জিংক থাকে ৩.৩ মিলিগ্রাম।